📄 ইস্তিহাযার রক্ত
الإستحاضة বা ইস্তিহাযা: রক্তক্ষরণের রগ হতে অসময়ে রক্ত প্রবহিত হওয়াকে استحاضة বলা হয়। এই রগটিকে عاذل ও বলা হয়।
হুকুম এবং গুণাবলির দিক বিচারে ইস্তিহাযার রক্ত হায়েযের রক্তের বিপরীত। হায়েযের সময় বা অন্য সময় জরায়ুর ভিতরের একটি রগ ফেটে গেলে এই রক্ত বের হয়। যা সলাত, রোজা, এবং সহবাসে বাধা দেয় না। কেননা এই রক্ত পবিত্র। এর দলীল হলো ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন:
يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي امْرَأَةٌ أَسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ. أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ؟ فَقَالَ : لَا ، إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِالْخَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْخَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِيلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلَّي.
“হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি কখনও পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সলাত ছেড়ে দেব? তিনি বললেন: না, এ হলো এক ধরনের রগ থেকে নির্গত বিশেষ রক্ত, হায়েযের রক্ত নয়। তোমার হায়েয শুরু হলে সলাত ছেড়ে দাও। আর হায়েয শেষ হলে রক্ত ধুয়ে সলাত আদায় করো।” ১৫৭
সুতরাং হায়েযা মহিলা তার নির্ধারিত দিন শেষে গোসল করবে আর মুস্তাহাযা মহিলা ইস্তেহাযার শেষে লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং রক্ত বের হওয়ার স্থানে তুলা জাতীয় কিছু রাখবে যা রক্ত প্রবাহিত হওয়াকে বাধা প্রদান করবে। তুলা জাতীয় জিনিস শক্ত করে রাখবে, যাতে পড়ে না যায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ এই সময়ে যথেষ্ট হবে। অতঃপর সে প্রত্যেক সলাতের জন্য ওযু করবে।
মুস্তাহাযা মহিলার তিন অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: অভ্যাসগতভাবে কোনো কোনো মহিলার ইস্তেহাযা হয়। আর সে তার ইস্তেহাযা হওয়ার পূর্বেকার হায়েযের নির্ধারিত সময় জানে। এই শ্রেণির মহিলা তার হায়েযের নির্ধারিত সময় নামায-রোজা থেকে বিরত থাকবে এবং এই রক্তকে হায়েযের রক্ত মনে করবে। যখন হায়েযের নির্ধারিত সময় শেষ হবে তখন সে গোসল করবে এবং সলাত আদায় করবে এবং তার পরে প্রবাহিত রক্তকে ইস্তিহাযার রক্ত মনে করবে। এই মর্মে আল্লাহর রসূল উম্মু হাবীবা কে বলেন:
اُمْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحْبِسُكِ حَيْضَتُكِ ، ثُمَّ اغْتَسِلِيْ وَصَلَّي
“তোমার হায়েয যে কয়দিন হয়, সে কয়দিন পরিমাণ তুমি অপেক্ষা করো। তারপর গোসল করো এবং সলাত আদায় করো।” ১৫৮
দ্বিতীয় অবস্থা: কোনো মহিলার অভ্যাসগত ভাবে ইস্তেহাযা হয় না। তবে তার প্রবাহিত রক্তের বৈশিষ্ট্য দেখে হায়েযের রক্ত পার্থক্য করা সম্ভব; কালো রং বিশিষ্ট অথবা ঘন হওয়া অথবা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া। আর ইস্তেহাযার রক্তের বৈশিষ্ট্য দেখে চেনা যায়; লাল রং, দুর্গন্ধ না থাকা। এমতাবস্থায় ঐ মহিলা প্রবাহিত রক্তের পার্থক্য নিরূপণ করে হায়েয ও ইস্তিহাযা গণনা করবে। এই প্রসঙ্গে নাবী ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ কে বলেন:
إِذَا كَانَ دَمُ الْخَيْضَةِ فَإِنَّهُ أَسْوَدُ يُعْرَفُ ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلَاةِ ، فَإِذَا كَانَ الْآخَرُ فَتَوَضّئِي وَصَلَّي فَإِنَّمَا هُوَ عِرْقُ
“হায়েযের রক্ত কালো হয়ে থাকে, তা চেনা যায়। যদি এ রক্ত বের হয় তাহলে সলাত থেকে বিরত থাকবে। আর যদি অন্য রকম হয় তাহলে ওযু করে সলাত আদায় করবে। কারণ তা রগ থেকে নির্গত রক্ত।”১৫৯
তৃতীয় অবস্থা: যদি কোনো মহিলার অভ্যাসগত ভাবে ইস্তেহাযা না হয়, আর তার প্রবাহিত রক্তের মাঝে এমন কোনো গুণ না পাওয়া যায়, যার দ্বারা হায়েয এবং ইস্তেহাযার রক্তের মাঝে পার্থক্য করা যায়, তাহলে সে মহিলা অধিকাংশ মহিলার হায়েযের সময়সীমা ছয়দিন বা সাত দিন নামায-রোজা থেকে বিরত থাকবে। ছয় বা সাত দিন পরে ঐ মহিলা গোসল করবে এবং সলাত-সওম আদায় করবে। এই প্রসঙ্গে আল্লাহর রসূল হামনা বিনতে জাহশকে বলেন:
إِنَّمَا هَذِهِ رَكْضَةٌ مِنْ رَكَضَاتِ الشَّيْطَانِ فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ ... ، ثُمَّ اغْتَسِيلي ... فَإِذَا اسْتَنْقَاتِ فَصَلِّي ... وَصُومِي، فَإِنَّ ذَلِكَ يُجْزِيكِ .
“এটা শয়তানের লাথি বা আঘাত। কাজেই তুমি নিজেকে ছয় অথবা সাতদিন ঋতুমতী ধরে নেবে।... তারপর গোসল করবে।... যখন তুমি নিজেকে পাক-পবিত্র মনে করবে, তখন সলাত আদায় করবে... ও সিয়াম পালন করবে। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।”১৬০ ركضة من الشيطان এর অর্থ: ধাক্কা দেওয়া, আঘাত করা। অর্থাৎ শয়তান এই রক্তকে ধাক্কা দেয়, আঘাত করে।
টিকাঃ
১৫৭. সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৬, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৩৩৪।
১৫৮. সহীহ মুসলিম, হা. ৬৪৬, ফুআ. ৩৩৪।
১৫৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৬।
১৬০. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৭, তিরমিযী, হা. ১২৮।