📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হায়েয শুরু এবং শেষ হওয়ার সময়

📄 হায়েয শুরু এবং শেষ হওয়ার সময়


নয় বছর বয়সের পূর্বে হায়েয শুরু হয় না। 'নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোনো মহিলার হায়েয হয়েছে' একথা প্রমাণিত নয়। এই মর্মে আয়িশাহ বলেন: إِذَا بَلَغَتِ الْجَارِيَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَهِيَ امْرَأَةٌ.
"যখন কোনো বালিকার বয়স ৯ বছর হবে, সে মহিলা হয়ে যাবে। "১৪২
সঠিক তথ্যমতে অধিকাংশ মহিলাদের পঞ্চাশ বছরের পরে হায়েয হয় না। এই প্রসঙ্গে আয়িশাহ থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন:
إِذَا بَلَغْتَ الْمَرْأَةُ خَمْسِينَ سَنَةٌ خَرَجَتْ مِنْ حَدَّ الْحَيْضِ "কোনো মহিলার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেলে, সে হায়েয হওয়া থেকে মুক্ত হয়ে যায়।”১৪৩

টিকাঃ
১৪২. তিরমিযী ৩/৪১৮।
১৪৩. মুগনী: ১/৪০৬।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হায়েযের সর্বোচ্চ এবং সর্ব নিম্ন সময়সীমা

📄 হায়েযের সর্বোচ্চ এবং সর্ব নিম্ন সময়সীমা


সঠিক তথ্যমতে হায়েযের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন কোনো সময়সীমা নেই। এটা মহিলাদের শরীর এবং স্বভাবের উপর নির্ভর করে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হায়েযের অধিকাংশ সময়সীমা

📄 হায়েযের অধিকাংশ সময়সীমা


বেশির ভাগ মহিলাদের হায়েযের স্থায়ীত্বের সময়সীমা: বেশির ভাগ মহিলাদের হায়েযের সময়সীমা ছয় বা সাত দিন। আল্লাহর রসূল হামনা বিনতে জাহশকে বলেছিলেন:
تحيضي في علم الله ستة أيام، أو سبعة، ثم اغتسلي وصلي أربعة وعشرين يوما، أو ثلاثة وعشرين يوما، كما يحيض النساء ويَطهُرْنَ لِمِيقَاتِ حَيْضِهِنَّ وَطُهْرِهِنَّ "তুমি ছয় অথবা সাতদিন ঋতুমতী গণ্য করো, প্রকৃত বিষয় আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর তুমি গোসল করো এবং সলাত পড়ো চব্বিশ অথবা তেইশদিন। যেমনভাবে মহিলারা ঋতুস্রাব ও পবিত্রতা গণ্য করে থাকে। "১৪৪

টিকাঃ
১৪৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৭, তিরমিযী, হা. ১২৮, ইবনু মাজাহ, হা. ৬২৭ ইরওয়াউল গালীল ১৮৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হায়েয এবং নিফাসের কারণে যা হারাম

📄 হায়েয এবং নিফাসের কারণে যা হারাম


১. লজ্জাস্থানে যৌন সঙ্গম করা: এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ "অতএব ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।" [সূরা বাক্বারাহ: ২২২]
উক্ত আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয় তখন আল্লাহর রসূল বলেছিলেন: اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النَّكَاحَ "তোমরা (সে সময় তাদের সাথে) শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ করো।”১৪৫
২. তালাক দেওয়া: এই মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ) "তাদেরকে তালাক দিলে তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিও।" [সূরা তালাক: ১] আব্দুল্লাহ বিন উমার যখন তার স্ত্রীকে হায়েযা অবস্থায় তালাক দেন তখন আল্লাহর রসূল উমার বিন খাত্তাবকে বলেছিলেন: مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا "তাকে ফিরিয়ে আনার আদেশ দাও।”১৪৬
৩. সলাত আদায় করা: আল্লাহর রসূল ফাতিমা বিনতে হুবাইশ কে এই প্রসঙ্গে বলেন: إِذَا أَقْبَلَتِ الحَيْضَةُ، فَدَعِي الصَّلاةَ "যখন হায়েয শুরু হবে, সলাত ছেড়ে দিবে। "১৪৭
৪. রোজা রাখা: এই মর্মে আল্লাহর রসূল মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلُّ وَلَمْ تَصُمْ ؟ "আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সলাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না?”১৪৮
৫. বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা: বিদায় হাজ্জে আয়িশাহ যখন হায়েযা হয়ে যান তখন আল্লাহর রসূল তাকে বলেন:
افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي
"তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মতো সকল কাজ করে যাও, কেবল কা'বার তাওয়াফ করবে না।" ১৪৯
৬. কুরআন পাঠ করা: সাহাবী, তাবেঈ, তাবে তাবেঈদের অধিকাংশের মতে হায়েয অবস্থায় কুরআন পাঠ করা হারাম। তবে যদি পাঠ করা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়; (যেমন- ভুলে যাওয়ার ভয়ে রিভাইজ করা, মহিলা মাদরাসায় পাঠ দান করা, মাদরাসায় পড়া বলে দেওয়া) তাহলে জায়েয। যদি একান্ত প্রয়োজনীয় না হয়, তাহলে পড়া যাবে না। এই মতটি কোনো কোনো আলেম ব্যক্ত করেছেন। ১৫০
৭. কুরআন মাজীদ স্পর্শ করা: আল্লাহ তা'আলা এই প্রসঙ্গে বলেন:
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ
"যারা পুতঃ পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।" [সূরা ওয়াকিয়াহ : ৭৯]
৮. মসজিদে প্রবেশ এবং তাতে অবস্থান করা: নাবী এই মর্মে বলেছেন:
لَا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحَائِضِ وَلَا جُنُبٍ
"ঋতুমতী মহিলা ও নাপাক ব্যক্তির জন্য মসজিদে যাতায়াত আমি হালাল করি না।"১৫১
এই কারণে নাবী তার মাথা আয়িশাহ এর দিকে বাড়িয়ে দিতেন। আর আয়িশাহ তার কামরায় থেকে হায়েযাবস্থায় আল্লাহর রসূল এর মাথা চিরুনী করে দিতেন। এমতাবস্থায় নাবী মসজিদের মধ্যে আয়িশাহ এর কামরার নিকটবর্তী থাকতেন। ১৫২ অনুরূপভাবে যদি মসজিদ দুষিত হওয়ার আশংকা করে, তবে হায়েযা মহিলার জন্য মসজিদের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করাও হারাম। যদি দুষিত হওয়া থেকে নিরাপদ হয়, তাহলে মসজিদের মাঝ দিয়ে অতিক্রম হারাম নয়।

টিকাঃ
১৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৮১, ফুআ. ৩০২।
১৪৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫২৫১, সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৭১।
১৪৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩২০, সহীহ মুসলিম, হা. ৩৩৩।
১৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৪।
১৪৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৫, সহীহ মুসলিম, হা. ১১৯।
১৫০. اشرح الممتع ۵/۲۵۵-۲۵۹
১৫১. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৩২, নায়লুল আওতার: ১/২৮৮।
১৫২. সহীহুল বুখারী, হা. ২৯৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00