📄 মুস্তাহাব গোসলসমূহ
ওয়াজিব গোসলের আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এ পর্যায়ে সুন্নাত এবং মুস্তাহাব গোসলের আলোচনা করা হবে। সেগুলো হলো:
১. প্রত্যেক সহবাসের সময় গোসল করা। রাফি বিন খাদিজ থেকে বর্ণিত।
«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى نِسَائِهِ، يَغْتَسِلُ عِنْدَ هَذِهِ وَعِنْدَ هَذِهِ ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: يَا رَسُولَ الله، أَلَا تَجْعَلُهُ غُسْلًا وَاحِدًا ، قَالَ: «هَذَا أَزْكَى وَأَطْيَبُ وَأَطْهَرُ»
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর স্ত্রীদের নিকট গেলেন এবং প্রত্যেক স্ত্রীর নিকটই গোসল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সবশেষে একবার গোসল করলেই তো পারতেন? তিনি বললেন: এরূপ করাই অধিকতর পবিত্রতা, উৎকৃষ্টতা ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক।”১২১
২. জুমআর দিনে গোসল করা। আল্লাহর রসূল বলেন:
إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ، فَلْيَغْتَسِلْ
"তোমাদের মধ্যে কেউ জুমুআর সলাতে আসলে সে যেন গোসল করে।”১২২
এটা মুস্তাহাব গোসলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দুই ঈদের সলাতের জন্য গোসল করা।
৪. হাজ্জ-উমরাহ ইহরামের সময় গোসল করা। আল্লাহর রসূল এ সময়ে গোসল করতেন।
৫. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে গোসল করা। আল্লাহর রসূল বলেন:
مَنْ غَسَّلَ مَيْتًا، فَلْيَغْتَسِلْ
“যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দিবে, সে যেন নিজে গোসল করে।” ১২৩
টিকাঃ
১২১. সুনান আবু দাউদ, হা. ২১৯, ইবনু মাজাহ, হা. ৫৯০।
১২২. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৭৭।
১২৩. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৩।
📄 গোসল ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হুকুমসমূহ
সুবিন্যস্ত আহকামের সার সংক্ষেপ নিম্নরূপ: ১. মুসাফির না হলে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েয নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا جُنَّبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا "গোসল জরুরি হলে তা সমাপ্ত না করে সলাতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ো না। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র।"[সূরা নিসা: ৪৩]
মুসাফির যদি ওযু করে তাহলে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েয। এই বিষয়ে আল্লাহর রসূল এর যুগে কিছু সাহাবী হতে একথা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ওযু অপবিত্রতাকে হালকা করে। আর ওযু হলো দুটি পবিত্রকারীর একটি। ২. তার জন্য মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) স্পর্শ করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ "যারা পুত ও পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।” [সুরা ওয়াকিয়াহ : ৭৯] আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا يَمَسُّهُ المصحف إلا طاهر "পবিত্রতা ব্যতীত কেউ মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করে না। "১২৪ ৩.তার জন্য কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়। সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তি গোসল না করা পর্যন্ত কুরআন পাঠ করবে না। আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كان عليه السلام لا يمنعه من قراءة القرآن شيئ الا الجنابة "নাবী কে অপবিত্রতা ব্যতীত আর কিছুতেই কুরআন পড়তে নিষেধ করেননি।”১২৫ কুরআন পাঠ নিষেধের কারণ হলো, দ্রুত গোসলের প্রতি উৎসাহিত করা এবং কুরআন পাঠের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করা। এ ছাড়াও তার উপর হারাম হলো: ৪. সলাত আদায় করা। ৫. বায়তুল্লার তাওয়াফ করা। যার আলোচনা ইতোমধ্যে ওযুর পঞ্চম অধ্যায়ে চলে গেছে।
টিকাঃ
১২৪. মুয়াত্তা মালেক: ৪৬৮, মুসতাদরাকে হাকিম: ৩/৪৮৫; আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১২২। কুরআন শব্দ রয়েছে।
১২৫. আহমাদ: ১০১৪, ইবনু মাজাহ, হা. ৫৯৪, তিরমিযী, হা. ১৪৬, ইমাম তিরমিযি হাসান সহীহ বলেছেন।