📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 গোসলের বর্ণনা এবং পদ্ধতি

📄 গোসলের বর্ণনা এবং পদ্ধতি


জুনুবী অবস্থায় (অপবিত্র অবস্থা) গোসলের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। ১. كيفية استحباب তথা (মুস্তাহাব পদ্ধতি)। ২. كيفية إجزاء তথা (যথেষ্ট পদ্ধতি)
كيفية استحباب )মুস্তাহাব পদ্ধতি): প্রথমে দুই হাত এবং লজ্জাস্থানে থাকা ময়লা ধৌত করা। অতঃপর সলাতের ওযুর মতো ওযু করা। এরপর হাতে পানি নিয়ে মাথার চুলের গোড়ায় খিলাল করা যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। অতঃপর তিন চুল্লু পানি মাথায় দিয়ে সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করা। এটা বর্ণিত হয়েছে আয়িশাহ এর হাদীসে।
كيفية إجزاء )যথেষ্ট পদ্ধতি): মায়মুনা এর হাদীসানুপাতে প্রথমে নিয়তের সাথে সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করা। তিনি (মায়মুনা) বলেন:
وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضُوءًا لِجَنَابَةِ، فَأَكْفَاً بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، ثُمَّ غَسَلَ فَرَجَهُ، ثُمَّ ضَرَبَ يَدَهُ بِالأَرْضِ أَوِ الحَائِطِ، مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى رَأْسِهِ المَاءَ، ثُمَّ غَسَلَ جَسَدَهُ، ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ» قَالَتْ: «فَأَتَيْتُهُ بِخِرْقَةٍ فَلَمْ يُرِدْهَا، فَجَعَلَ يَنْفُضُ بِيَدِهِ
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাবাতের গোসলের জন্য পানি রাখলেন। তারপর দুইবার বা তিনবার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তারপর তাঁর হাত মাটিতে বা দেওয়ালে দুইবার বা তিনবার ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও দুই হাত ধৌত করলেন। তারপর তাঁর মাথায় পানি ঢাললেন এবং তাঁর শরীর ধুলেন। অতঃপর একটু সরে গিয়ে তাঁর দুই পা ধৌত করলেন। মাইমুনাহ বলেন: অতঃপর আমি একখণ্ড কাপড় দিলে তিনি তা নিলেন না, বরং নিজ হাতে পানি ঝেড়ে ফেলতে থাকলেন।” ১১৮
এমন বর্ণনা আয়িশাহ বর্ণিত হাদীসেও এসেছে। তিনি বলেন, ثُمَّ يُخَلِّلُ شَعَرَهُ بِيَدِهِ، حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّهُ قَدْ أَرْوَى بَشَرَتَهُ، أَفَاضَ عَلَيْهِ المَاءَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ
"অতঃপর তাঁর হাত দিয়ে চুল খিলাল করলেন। চামড়া ভিজেছে বলে যখন তিনি নিশ্চিত হতেন, তখন তাতে তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীর ধুয়ে ফেলতেন। "১১৯
অপবিত্রতার গোসলে মহিলাদের চুলের ঝুটি খোলা ওয়াজিব নয় অনুরূপ ভাবে হায়েযের গোসলেরও তা খোলা ওয়াজিব নয়। উম্মু সালামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল কে জিজ্ঞেস করলাম: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي فَأَنْقُضُهُ لِغُسْلِ الْجَنَابَةِ؟ قَالَ: «لَا. إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْتِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَثِيَاتٍ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَيْكِ الْمَاءَ فَتَطْهُرِينَ
“হে আল্লাহর রসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন: না। বরং তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিবে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে।”১২০

টিকাঃ
১১৭. كيفية إجزاء : যার মধ্যে শুধু ওয়াজিব গোসল অন্তর্ভুক্ত থাকে। كيفية اسحباب والكمال: যার মধ্যে ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব উভয় গোসল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
১১৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৬২৮, ফুআ. ৩১৭।
১১৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৭২; সহীহ মুসলিম, হা. ৬১৭, ফুআ. ৩১৬।
১২০. সহীহ মুসলিম, হা. ৬৪৫, ফুআ. ৩৩১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মুস্তাহাব গোসলসমূহ

📄 মুস্তাহাব গোসলসমূহ


ওয়াজিব গোসলের আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এ পর্যায়ে সুন্নাত এবং মুস্তাহাব গোসলের আলোচনা করা হবে। সেগুলো হলো:
১. প্রত্যেক সহবাসের সময় গোসল করা। রাফি বিন খাদিজ থেকে বর্ণিত।
«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى نِسَائِهِ، يَغْتَسِلُ عِنْدَ هَذِهِ وَعِنْدَ هَذِهِ ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: يَا رَسُولَ الله، أَلَا تَجْعَلُهُ غُسْلًا وَاحِدًا ، قَالَ: «هَذَا أَزْكَى وَأَطْيَبُ وَأَطْهَرُ»
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর স্ত্রীদের নিকট গেলেন এবং প্রত্যেক স্ত্রীর নিকটই গোসল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সবশেষে একবার গোসল করলেই তো পারতেন? তিনি বললেন: এরূপ করাই অধিকতর পবিত্রতা, উৎকৃষ্টতা ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক।”১২১
২. জুমআর দিনে গোসল করা। আল্লাহর রসূল বলেন:
إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ، فَلْيَغْتَسِلْ
"তোমাদের মধ্যে কেউ জুমুআর সলাতে আসলে সে যেন গোসল করে।”১২২
এটা মুস্তাহাব গোসলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দুই ঈদের সলাতের জন্য গোসল করা।
৪. হাজ্জ-উমরাহ ইহরামের সময় গোসল করা। আল্লাহর রসূল এ সময়ে গোসল করতেন।
৫. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে গোসল করা। আল্লাহর রসূল বলেন:
مَنْ غَسَّلَ مَيْتًا، فَلْيَغْتَسِلْ
“যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দিবে, সে যেন নিজে গোসল করে।” ১২৩

টিকাঃ
১২১. সুনান আবু দাউদ, হা. ২১৯, ইবনু মাজাহ, হা. ৫৯০।
১২২. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৭৭।
১২৩. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 গোসল ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হুকুমসমূহ

📄 গোসল ওয়াজিব হওয়া ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হুকুমসমূহ


সুবিন্যস্ত আহকামের সার সংক্ষেপ নিম্নরূপ: ১. মুসাফির না হলে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েয নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا جُنَّبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا "গোসল জরুরি হলে তা সমাপ্ত না করে সলাতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ো না। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র।"[সূরা নিসা: ৪৩]
মুসাফির যদি ওযু করে তাহলে তার জন্য মসজিদে অবস্থান করা জায়েয। এই বিষয়ে আল্লাহর রসূল এর যুগে কিছু সাহাবী হতে একথা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ওযু অপবিত্রতাকে হালকা করে। আর ওযু হলো দুটি পবিত্রকারীর একটি। ২. তার জন্য মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) স্পর্শ করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ "যারা পুত ও পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।” [সুরা ওয়াকিয়াহ : ৭৯] আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَا يَمَسُّهُ المصحف إلا طاهر "পবিত্রতা ব্যতীত কেউ মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করে না। "১২৪ ৩.তার জন্য কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়। সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তি গোসল না করা পর্যন্ত কুরআন পাঠ করবে না। আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كان عليه السلام لا يمنعه من قراءة القرآن شيئ الا الجنابة "নাবী কে অপবিত্রতা ব্যতীত আর কিছুতেই কুরআন পড়তে নিষেধ করেননি।”১২৫ কুরআন পাঠ নিষেধের কারণ হলো, দ্রুত গোসলের প্রতি উৎসাহিত করা এবং কুরআন পাঠের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করা। এ ছাড়াও তার উপর হারাম হলো: ৪. সলাত আদায় করা। ৫. বায়তুল্লার তাওয়াফ করা। যার আলোচনা ইতোমধ্যে ওযুর পঞ্চম অধ্যায়ে চলে গেছে।

টিকাঃ
১২৪. মুয়াত্তা মালেক: ৪৬৮, মুসতাদরাকে হাকিম: ৩/৪৮৫; আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১২২। কুরআন শব্দ রয়েছে।
১২৫. আহমাদ: ১০১৪, ইবনু মাজাহ, হা. ৫৯৪, তিরমিযী, হা. ১৪৬, ইমাম তিরমিযি হাসান সহীহ বলেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00