📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ ভঙ্গকারী বিষয়াবলী

📄 মাসাহ ভঙ্গকারী বিষয়াবলী


নিম্নোক্ত কারণে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে-
১. গোসল আবশ্যককারী কোনো কাজ সংগঠিত হলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। সফওয়ান বিন আস্সালের হাদীসে এসেছে। তিনি বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَلَّا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ
“রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন, আমরা যেন নাপাকির গোসল ব্যতীত তিন দিন তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি। এমনকি মলত্যাগ-প্রস্রাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযু করার সময়ও (মোজা না খুলি)। ১০৬
২. ঢেকে রাখা আবশ্যক এমন স্থান প্রকাশ পেলে অথবা পায়ের কিছু অংশ প্রকাশ পেলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে।
৩. মোজা দ্বয় খুলে ফেললে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। অধিকাংশ আলেমের মতে একটি মোজা খোলা দুটি মোজা খোলার মতোই।
৪. মাসাহ এর সময় অতিক্রান্ত হলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। কারণ শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে মাসাহ এর সময় নির্ধারিত।
সুতরাং হাদীসের বুঝ অনুপাতে নির্ধারিত সময়ের উপরে অতিরিক্ত করা জায়েয হবে না।

টিকাঃ
১০৬. আহমাদ: ৪/২৩৯, নাসাঈ ১/৮৪, তিরমীযী: ৯৬

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ এর সময় শুরু হওয়া

📄 মাসাহ এর সময় শুরু হওয়া


অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হয়ে মোজা পরিধান করার পরে মাসাহ করার সময় শুরু হবে। যেমন: কেউ ফজরের নামাজের জন্য ওযু করে মোজা পরিধান করল। সূর্য উদিত হওয়ার পরে সে অপবিত্র হলো কিন্তু ওযু না করে একেবারে যোহরের সলাতের পূর্বে ওযু করল। সুতরাং তার মাসাহ করার সময় শুরু হবে সূর্য উদিত হওয়ার পরে অপবিত্র হওয়ার সময় থেকে। তবে কিছু কিছু আলেম বলেন: যোহরের সলাতের ওযু করার সময় তার মাসাহ করার সময় শুরু হবে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ভাংগা হাড় যথাস্থানে বসানোর জন্য বেঁধে রাখা কাঠ, পাগড়ি এবং মহিলাদের ওড়নার উপর মাসাহ করা

📄 ভাংগা হাড় যথাস্থানে বসানোর জন্য বেঁধে রাখা কাঠ, পাগড়ি এবং মহিলাদের ওড়নার উপর মাসাহ করা


الجبيرة : কাঠ বা এ জাতীয় জিনিস। যেমন- ভাঙ্গা হাড় যথাস্থানে বসানো এবং জোড়া লাগাতে কাঠ বা তার সমজাতীয় জিনিস দ্বারা মযবুত করে প্লাস্টার করা। এর উপর মাসাহ করা হয়। অনুরূপভাবে ব্যান্ডেজ এবং ক্ষত স্থানের উপর দেওয়া পট্টির উপরও মাসাহ করা হয়। এই সকল কিছুর উপর মাসাহ করা শর্ত সাপেক্ষে জায়েয হবে। শর্ত হলো প্রয়োজন অনুপাতে হতে হবে। যদি প্রয়োজনের বেশি হয় তাহলে অতিরিক্ত অংশ খুলে ফেলতে হবে।
ছোটো অপবিত্রতা অথবা বড়ো অপবিত্রতা যাই হোক না কেন উভয় অবস্থাতেই এগুলোর উপর মাসাহ করা যাবে। এগুলোর উপর মাসাহ করার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। বরং এগুলো না খোলা পর্যন্ত এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর উপর মাসাহ করা যাবে। এর প্রমাণ: جبيرة এর উপর মাসাহ করা একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। আর প্রয়োজন তার পরিমাণ নির্ধারণ করে। অতএব দুই অপবিত্রতার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে পাগড়ির উপর মাসাহ করা বৈধ। আর عمائم হলো: যার দ্বারা মাথায় পাগড়ি পরানো হয় এবং মাথায় কাপড় পেঁচানো হয়। এর প্রমাণ হলো মুগীরা বিন শু'বা এর বর্ণিত হাদীস।
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَعَلَى الْعِمَامَةِ وَعَلَى الْخُفَّيْنِ .
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযু করলেন। মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ি ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। "১০৭
অপর হাদীসে এসেছে:
أَنَّهُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْحِمَارِ
"নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ উভয় মোজা ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন। "১০৮
পাগড়ির উপর মাসাহ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যদি কেউ সতর্কতা অবলম্বন করে, তাহলে সে পাগড়ি পরিধান করার সময় মাসাহ করবে এবং মোজার উপর মাসাহ করার নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে পাগড়ির উপর মাসাহ করবে, সেটাই সুন্দর হবে।
মহিলাদের ওড়না যা দ্বারা মাথা ঢেকে রাখা হয়, উত্তম হলো তার উপর মাসাহ না করা, তবে যদি ওড়না খুলতে কষ্ট হয় অথবা মাথায় কোনো অসুখ থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করা যাবে।
কেউ মাথায় মেহেদি বা এ জাতীয় কিছু লাগায় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। মাথা পবিত্র করার ক্ষেত্রে আল্লাহর রসূল এর কাজে ব্যাপকতা রয়েছে। আর এই ব্যাপকতায় এই উম্মতের জন্য সুবিধা এবং সহজতা রয়েছে।

টিকাঃ
১০৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৫২৪; ফুআ. ২৭৪।
১০৮. সহীহ মুসলিম, হা. ৫২৫; ফুআ. ২৭৫/৮৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00