📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মোজার উপর মাসাহ করার শর্তসমূহ এবং তার স্থলাভিষিক্ত

📄 মোজার উপর মাসাহ করার শর্তসমূহ এবং তার স্থলাভিষিক্ত


শর্তসমূহ:
১. পবিত্রাবস্থায় পরিধান করা: মুগীরা বিন শু'বা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ ، فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ ، فَقَالَ: «دَعْهُمَا، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» . فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
“আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোনো এক সফরে ছিলাম। (ওযু করার সময়) আমি তাঁর মোজা দুটি খুলতে চাইলে তিনি বললেন : ‘ও দুটো থাক, আমি পবিত্র অবস্থায় পরেছিলাম। (এই বলে) তিনি তার উপর মাসাহ করলেন।” ১০২
২. আবশ্যকীয় স্থান ঢেকে রাখা: অর্থাৎ পায়ের যে অংশ ধৌত করা আবশ্যক তা ঢেকে রাখা। যদি আবশ্যকীয় অংশের একটুও প্রকাশ পায় তাহলে মাসাহ করা শুদ্ধ হবে না।
৩. মোজা বৈধ হওয়া : সুতরাং ছিনতাই করা বা চুরি করা মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ হবে না। অনুরূপভাবে পুরুষের জন্য রেশমের মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ নয়। কেননা সেটা তার জন্য পরিধান করা পাপ। সুতরাং এর দ্বারা ছাড় গ্রহণ করা বৈধ নয়।
৪. মোজা পবিত্র হওয়া: সুতরাং অপবিত্র মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ নয়। যেমন- গাধার চামড়া দিয়ে তৈরী করা মোজা।
৫. শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে মাসাহ করা : আর তা মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দাদের) জন্য একদিন এক রাত ও মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত।
মোজার উপর মাসাহ করা শুদ্ধতার জন্য আলেমগণ এই পাঁচটি শর্ত নাবী এর হাদীস এবং সাধারণ নীতিমালা হতে চয়ন করেছেন। সুতরাং মাসাহ করার সময় এগুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা আবশ্যক।

টিকাঃ
১০২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২০৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৫১৪, ফুআ. ২৭৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ করার পদ্ধতি এবং তার বর্ণনা

📄 মাসাহ করার পদ্ধতি এবং তার বর্ণনা


শরীয়ত সম্মত মাসাহ হলো- মোজার উপরিভাগ মাসাহ করা। এ ক্ষেত্রে আবশ্যক হলো, মাসাহ এমনভাবে করতে হবে যাকে মাসাহ বলা হয়। মাসাহ করার পদ্ধতি: মোজার উপরি ভাগের বেশির ভাগে মাসাহ করা। মুগীরা বিন শু'বা ওযুতে রসূল এর মাসাহ করার পদ্ধতি হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى ظَاهِرِهِمَا
“আমি নাবী -কে তার মোজা দুটির উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি।” ১০৩
পায়ের নিচে বা গোড়ালিতে মাসাহ করা যথেষ্ট হবে না। আর সুন্নাতও নয়। আলী বলেন:
لَوْ كَانَ الدِّيْنُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ، وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرٍ خُفَّيْهِ
"দ্বীনের মাপকাঠি যদি রায়ের (মানুষের মনগড়া অভিমত ও বিবেক-বিবেচনার) উপর নির্ভরশীল হতো, তাহলে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নীচের (তলার) দিক মাসাহ করাই উত্তম হতো। অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর (পায়ের) মোজাদ্বয়ের উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি।"১০৪
যদি কেউ উপর এবং নিচ উভয়টায় মাসাহ করে তাহলে সেটা মাকরূহ হবে।

টিকাঃ
১০০. তিরমিযী, হা. ৯৮, সহীহ তিরমিযী, হা. ৮৫。
১০৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৬২, বাইহাকী: ১/২৯২。

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ করার সময়কাল

📄 মাসাহ করার সময়কাল


মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) এবং যে মুসাফিরের জন্য সলাত কসর করা বৈধ নয়, তাদের মাসাহ করার সময়কাল হলো এক দিন এক রাত। আর যে মুসাফিরের জন্য সলাত কসর করা বৈধ, তার মাসাহ করার সময়কাল হলো তিন দিন তিন রাত। আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةٌ لِلْمُقِيمِ
"রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরকারীর জন্য তিন দিন তিন রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং বাড়িতে অবস্থানকারীদের জন্য এক দিন এক রাত।"১০৫

টিকাঃ
১০৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৫২৬, ফুআ. ২৭৬/৮৫।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ ভঙ্গকারী বিষয়াবলী

📄 মাসাহ ভঙ্গকারী বিষয়াবলী


নিম্নোক্ত কারণে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে-
১. গোসল আবশ্যককারী কোনো কাজ সংগঠিত হলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। সফওয়ান বিন আস্সালের হাদীসে এসেছে। তিনি বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَلَّا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ
“রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন, আমরা যেন নাপাকির গোসল ব্যতীত তিন দিন তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি। এমনকি মলত্যাগ-প্রস্রাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযু করার সময়ও (মোজা না খুলি)। ১০৬
২. ঢেকে রাখা আবশ্যক এমন স্থান প্রকাশ পেলে অথবা পায়ের কিছু অংশ প্রকাশ পেলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে।
৩. মোজা দ্বয় খুলে ফেললে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। অধিকাংশ আলেমের মতে একটি মোজা খোলা দুটি মোজা খোলার মতোই।
৪. মাসাহ এর সময় অতিক্রান্ত হলে মাসাহ বাতিল হয়ে যাবে। কারণ শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে মাসাহ এর সময় নির্ধারিত।
সুতরাং হাদীসের বুঝ অনুপাতে নির্ধারিত সময়ের উপরে অতিরিক্ত করা জায়েয হবে না।

টিকাঃ
১০৬. আহমাদ: ৪/২৩৯, নাসাঈ ১/৮৪, তিরমীযী: ৯৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00