📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মোজার উপর মাসাহ করার হুকুম এবং দলীল

📄 মোজার উপর মাসাহ করার হুকুম এবং দলীল


আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐকমত্যে মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ। এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে বান্দাদের উপর এক বিশেষ ছাড়, জটিলতা নিরসন এবং উম্মতের ইজমা এর বৈধতার উপর প্রমাণ করে।
সুন্নাহ থেকে দলীল: মোজার উপর মাসাহ করা ব্যাপারে রসূল এর কর্ম, আদেশ এবং ছাড় দেওয়া সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এই প্রসঙ্গে নাবী থেকে ৪০ টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমাদের কথা:
ليس في قلبي من المسح شيئ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আমার অন্তরে মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই।
হাসান বাসরী বলেন, রসূল এর সত্তরজন সাহাবী আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূল মোজার উপর মাসাহ করেছেন। ঐ হাদীসগুলোর একটি জাবির বিন আব্দুল্লাহ এর হাদীস। তিনি বলেন,
رَأَيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَالَ، ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ
"আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি প্রস্রাব করেছেন। তারপর ওযু করেছেন এবং তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করেছেন। "১০১
ইবরাহীম থেকে আমাশ বর্ণনা করে বলেন, এই হাদীস মুহাদ্দিসদের আশ্চর্য করতো। কারণ জাবির ইসলাম গ্রহণ করেছেন সূরা মায়িদাহ অর্থাৎ ওযুর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে।
ইজমা: আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সকল আলেম মুকীম এবং মুসাফির, প্রয়োজনে অথবা অন্য কারণে মোজার উপর মাসাহ করা শরীয়ত সম্মত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
অনুরূপভাবে সুতার মোজার উপরেও মাসাহ করা জায়েয। আর সেটা (সুতার মোজা) চামড়ার মোজা ছাড়া অন্য যে মোজা পায়ে পরা হয়, যেমন: কাপড়ের তেনা বা এ জাতীয় কিছু। বর্তমানে এটাকে شراب বলা হয়। এগুলো চামড়ার মোজার মতো মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
আর উভয়ের মধ্যকার বা বা মূল কারণও একই। বর্তমান চামড়ার মোজার চেয়ে সুতার মোজার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সুতার মোজা যদি পা ঢেকে রাখতে সক্ষম হয় তাহলে তার উপরেও মাসাহ করা বৈধ।

টিকাঃ
১০১. সহীহ মুসলিম, হা. ৫১০, ফুআ. ২৭২, সহীহুল বুখারী, হা. ২০০।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মোজার উপর মাসাহ করার শর্তসমূহ এবং তার স্থলাভিষিক্ত

📄 মোজার উপর মাসাহ করার শর্তসমূহ এবং তার স্থলাভিষিক্ত


শর্তসমূহ:
১. পবিত্রাবস্থায় পরিধান করা: মুগীরা বিন শু'বা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كُنتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ ، فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ ، فَقَالَ: «دَعْهُمَا، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» . فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
“আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোনো এক সফরে ছিলাম। (ওযু করার সময়) আমি তাঁর মোজা দুটি খুলতে চাইলে তিনি বললেন : ‘ও দুটো থাক, আমি পবিত্র অবস্থায় পরেছিলাম। (এই বলে) তিনি তার উপর মাসাহ করলেন।” ১০২
২. আবশ্যকীয় স্থান ঢেকে রাখা: অর্থাৎ পায়ের যে অংশ ধৌত করা আবশ্যক তা ঢেকে রাখা। যদি আবশ্যকীয় অংশের একটুও প্রকাশ পায় তাহলে মাসাহ করা শুদ্ধ হবে না।
৩. মোজা বৈধ হওয়া : সুতরাং ছিনতাই করা বা চুরি করা মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ হবে না। অনুরূপভাবে পুরুষের জন্য রেশমের মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ নয়। কেননা সেটা তার জন্য পরিধান করা পাপ। সুতরাং এর দ্বারা ছাড় গ্রহণ করা বৈধ নয়।
৪. মোজা পবিত্র হওয়া: সুতরাং অপবিত্র মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ নয়। যেমন- গাধার চামড়া দিয়ে তৈরী করা মোজা।
৫. শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে মাসাহ করা : আর তা মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দাদের) জন্য একদিন এক রাত ও মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত।
মোজার উপর মাসাহ করা শুদ্ধতার জন্য আলেমগণ এই পাঁচটি শর্ত নাবী এর হাদীস এবং সাধারণ নীতিমালা হতে চয়ন করেছেন। সুতরাং মাসাহ করার সময় এগুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা আবশ্যক।

টিকাঃ
১০২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২০৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৫১৪, ফুআ. ২৭৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ করার পদ্ধতি এবং তার বর্ণনা

📄 মাসাহ করার পদ্ধতি এবং তার বর্ণনা


শরীয়ত সম্মত মাসাহ হলো- মোজার উপরিভাগ মাসাহ করা। এ ক্ষেত্রে আবশ্যক হলো, মাসাহ এমনভাবে করতে হবে যাকে মাসাহ বলা হয়। মাসাহ করার পদ্ধতি: মোজার উপরি ভাগের বেশির ভাগে মাসাহ করা। মুগীরা বিন শু'বা ওযুতে রসূল এর মাসাহ করার পদ্ধতি হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى ظَاهِرِهِمَا
“আমি নাবী -কে তার মোজা দুটির উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি।” ১০৩
পায়ের নিচে বা গোড়ালিতে মাসাহ করা যথেষ্ট হবে না। আর সুন্নাতও নয়। আলী বলেন:
لَوْ كَانَ الدِّيْنُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ، وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرٍ خُفَّيْهِ
"দ্বীনের মাপকাঠি যদি রায়ের (মানুষের মনগড়া অভিমত ও বিবেক-বিবেচনার) উপর নির্ভরশীল হতো, তাহলে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নীচের (তলার) দিক মাসাহ করাই উত্তম হতো। অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর (পায়ের) মোজাদ্বয়ের উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি।"১০৪
যদি কেউ উপর এবং নিচ উভয়টায় মাসাহ করে তাহলে সেটা মাকরূহ হবে।

টিকাঃ
১০০. তিরমিযী, হা. ৯৮, সহীহ তিরমিযী, হা. ৮৫。
১০৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৬২, বাইহাকী: ১/২৯২。

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মাসাহ করার সময়কাল

📄 মাসাহ করার সময়কাল


মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) এবং যে মুসাফিরের জন্য সলাত কসর করা বৈধ নয়, তাদের মাসাহ করার সময়কাল হলো এক দিন এক রাত। আর যে মুসাফিরের জন্য সলাত কসর করা বৈধ, তার মাসাহ করার সময়কাল হলো তিন দিন তিন রাত। আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةٌ لِلْمُقِيمِ
"রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরকারীর জন্য তিন দিন তিন রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং বাড়িতে অবস্থানকারীদের জন্য এক দিন এক রাত।"১০৫

টিকাঃ
১০৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৫২৬, ফুআ. ২৭৬/৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00