📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা ওয়াজিব

📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা ওয়াজিব


নিম্নোক্ত কাজগুলোর জন্য শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপরে ওযু করা ওয়াজিব:
১. সলাতের জন্য: এই প্রসঙ্গে ইবনু উমার হতে মারফু সুত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ
“পবিত্রতা ব্যতীত সলাত কবুল হয় না। খিয়ানতের সম্পদ থেকে সাদকা কবুল হয় না।”৯০
২. বায়তুল্লাহয় তাওয়াফ করার জন্য: চাই সেটা ফরয অথবা নফল হোক। আল্লাহর রসূল তাওয়াফের সময় ওযু করতেন। হাদীসে এসেছে:
فَإِنَّهُ تَوَضَّأَ ، ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ
"তিনি ওযু করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।”৯১
অপর হাদীসে আল্লাহর রসূল বলেন:
الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ صَلَاةٌ إلا أن الله أباح فيه الكلام
"বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা সলাতই। তবে পার্থক্য হচ্ছে এতে আল্লাহ কথা বলার বৈধতা দিয়েছেন।”৯২
এমনকি তিনি হায়েযা মহিলাদেরকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছেন।
৩. কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ করার জন্য। আল্লাহ তা'আলা এই মর্মে বলেন:
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ
"যারা সম্পূর্ণ পবিত্র তারা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।" [সুরা ওয়াকিয়া: ৭৯] আল্লাহর রসূল বলেছেন: لا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرُ : "পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।"৯৪

টিকাঃ
৯০. সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৩, ফুআ, ২২৪।
৯১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৬১৪, সহীহ মুসলিম, হা. ১২৩৫।
৯২. ইবনু হিব্বান: ৩৮৩৬, হাকিম ১/৪৫৯ এবং তিনি সহীহ সানাদে; ইমাম যাহাবী, বায়হাকী ৫/৮৭ এবং অন্যান্যরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১২১।
৯৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৫, সহীহ মুসলিম, হা. ১২১১।
৯৪. মুয়াত্তা মালিক: ১/১৯৯, দারাকুতনী: ১/১২১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা মুস্তাহাব

📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা মুস্তাহাব


নিম্নোক্ত অবস্থাগুলোতে ওযু করা মুস্তাহাব:
১. আল্লাহর যিক্র এবং কুরআন পাঠের সময়।
২. প্রত্যেক সলাতের সময়। আল্লাহর রসূল নিরবচ্ছন্নভাবে প্রত্যেক সলাতের জন্য ওযু করতেন। যেমন আনাস হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক সলাতের সময় ওযু করতেন।”৯৫
৩. যে অপবিত্র ব্যক্তি পুনরায় সহবাস করতে চায় অথবা খেতে চায়, অথবা ঘুমাতে চায় অথবা পান করতে চায় তার জন্য ওযু করা মুস্তাহাব। আবু সাঈদ খুদরী হতে এই মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ، فَلْيَتَوَضَّأْ "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে তারপর আবার মিলিত হবার ইচ্ছা করবে সে যেন ওযু করে নেয়।”৯৬ আয়িশাহ হতে বর্ণিত।
أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ، وَهُوَ جُنُبٌ ، تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ، قَبْلَ أَنْ يَنَامَ "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাপাকী অবস্থায় যখন ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন ঘুমানোর আগে সলাতের জন্য যেমন ওযু করতে হয় তেমন ওযু করতেন।"৯৭ অণ্য বর্ণনায় এসেছে:
فَأَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَنَامَ "তখন কিছু খেতে অথবা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে।”৯৮
৪. গোসলের পূর্বে ওযু করা। আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ، ثُمَّ يُفْرِغُ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ
“রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন প্রথমে দুই হাত ধুতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুতেন। তারপর সালাতের ওযুর মতো ওযু করতেন।”৯৯
৫. ঘুমের সময়: বারা বিন আযিব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ ، فَتَوَضَّأَ وُضُوءَكَ لِلصَّلاةِ، ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقَّكَ الْأَيْمَنِ
"যখন তুমি বিছানায় যাবে সালাতের ওযুর মতো ওযু করে নিবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে পড়বে।”১০০

টিকাঃ
৯৫. সহীহুল বুখারী, হা. ২১৪।
৯৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৯৪, ফুআ, ৩০৮।
৯৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৮৬, ফুআ. ৩০৫।
৯৮. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৮৭, ফুআ. ৩০৫।
৯৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৬০৫, ফুআ. ৩১৬।
১০০. সহীহুল বুখারী, হা. ২৪৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00