📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ওযুর ফরযসমূহ (মোট ৬টি)

📄 ওযুর ফরযসমূহ (মোট ৬টি)


১. পরিপূর্ণভাবে চেহারা ধৌত করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ “যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো।” [সূরা মায়িদাহ: ৬] কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, চেহারার অন্তর্ভুক্ত। মুখ এবং নাক চেহারার অন্তর্ভুক্ত।
২. কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন : ﴾وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ﴿ “কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো।” [সূরা মায়িদাহ: ৬]
৩. দুই কানসহ পুরো মাথা মাসাহ করা। আল্লাহ বলেন : ﴾وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ﴿ “তোমাদের মাথা মাসাহ করো।” [সূরা মায়িদাহ: ৬] আল্লাহর রসূল বলেন: »الْأُذْنَانِ مِنَ الرَّأْسِ« “দুই কান মাথার অন্তর্ভুক্ত।”৬৮ সুতরাং মাথার কিছু অংশ বাদ দিয়ে মাসাহ করলে ওযু হবে না।
৪. টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধৌত করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন : ﴾وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ﴿ "পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো।”[সূরা মায়িদাহ: ৬]
৫. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। কারণ আল্লাহ এগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। রসূল আল্লাহ তা'আলার বর্ণনা অনুপাতে ধারাবাহিকভাবে ওযু করেছেন। আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ ও অন্যান্যদের হাদীসে রসূল-এর ওযুর পদ্ধতি এমনভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
৬. মুওয়ালাত : কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই একটি অঙ্গ ধোয়ার পরে আরেকটি অঙ্গ ধৌত করা। এভাবেই আল্লাহর রসূল একের পর এক অঙ্গ ধৌত করে ওযু করতেন। খালিদ বিন মা'দান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
عَنْ بَعْضٍ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا يُصَلِّى وَفِي ظَهْرِ قَدَمِهِ لمُعَةٌ قَدْرُ الدَّرْهَمِ ، لَمْ يُصِبْهَا المَاءُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُعِيدَ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ
“নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু সাহাবী সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন, এক ব্যক্তি সালাত আদায় করছে, অথচ তার পায়ের উপরিভাগে এক দিরহাম পরিমাণ স্থান শুকনো, (ওযুর সময়) তাতে পানি পৌঁছায়নি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পুনরায় ওযু করে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন।”৭০
যদি একের পর এক অঙ্গ বিলম্ব ছাড়াই ধৌত করা শর্ত না হতো তাহলে তিনি তাকে ছুটে যাওয়া স্থানটুকু ধোয়ার নির্দেশ দিতেন। কিন্তু তিনি তাকে এমন নির্দেশ প্রদান করেননি বরং তাকে পুনরায় ওযু করার আদেশ দিয়েছেন।
আল্লুমআতুল্লুমআহ হলো: ওযু অথবা গোসলে ছুটে যাওয়া স্থান যেখানে পানি পৌঁছায়নি।

টিকাঃ
৬৮. তিরমিযী, হা. ৩৭, ইবনু মাজাহ, হা. ৪৪১。
৬৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৪৩, ফুআ. ২৩৫。
৭০. আহমাদ ৩/৪২৪, আবু দাউদ, হা. ১৭৫, ইরওয়াউল গালীল: ১/১২৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সুন্নাহসমূহ

📄 সুন্নাহসমূহ


এখানে এমন কিছু কাজ নিয়ে আলোচনা করা হবে যেগুলো ওযু করা মুস্তাহাব। যদি কোনো ব্যক্তি এই কাজগুলো করে, তাকে সওয়াব দেওয়া হবে। আর যদি কেউ ছেড়ে দেয়, তবে তার কোনো সমস্যা নেই। এই কাজগুলোকে سنن الوضوء বা ওযুর সুন্নাত বলা হয়।
১. শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। আল্লাহর রসূল বলেন: «لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ»
“যে ব্যক্তি (ওযুতে) আল্লাহর নাম নেয় না, তার ওযু হয় না।” ৭১ ২. মিসওয়াক করা। আল্লাহর রসূল বলেন: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وضوء
"আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে আমি প্রত্যেক ওযুতে তাদেরকে মিসওয়াক করার হুকুম করতাম।”৭২ ৩. ওযুর শুরুতে তিনবার হাত ধৌত করা। আল্লাহর রসূল এমনটা করতেন। আল্লাহর রসূল এর ওযুর বর্ণনায় বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, তিনি তার দুই হাত তিনবার ধৌত করতেন।
৪. ভালোভাবে কুলি করা এবং নাকে পানি প্রবেশ করানো। তবে রোজাদার এক্ষেত্রে বিরত থাকবে। রসূল এর ওযুর বর্ণনায় এসেছে: فمضمض واستنشر "কুলি করতেন ও নাকে পানি দিতেন।" অপর হাদীসে এসেছে-
وبالغ في الإِسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا "তুমি উত্তমরূপে নাকে পানি দিয়ে তা পরিস্কার করো, যদি তুমি সওম পালনের অবস্থায় না থাকো।"৭৩
৫. ওযুর অঙ্গগুলো ঘষাঘষি করা এবং ঘন দাড়ি পানি দিয়ে খিলাল করা যাতে ভিতরে পানি পৌচ্ছায়। রাসূল এমনটি করতেন।
كَانَ إِذَا تَوَضَّأَ يدلك ذِرَاعَيْهِ "তিনি ওযু করার সময় কনুই ঘষে ধৌত করতেন।"৭৪
كان يدخل الماء تَحْتَ حَنَكِهِ وَ يَخَلَّلَ بِهِ لِحيتَهُ "পানি নিয়ে চোয়ালের নিম্নদেশে (থুতনির নীচে) প্রবেশ করাতেন ও দাড়ি খিলাল করতেন।"৭৫
৬. হাত এবং পা ধৌত করার ক্ষেত্রে ডানকে অগ্রগামী করা। আল্লাহর রসূল كَانَ يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ، فِي تَنَعَلِهِ، وَتَرَجُلِهِ، وَطُهُورِهِ، وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ এমনটি করতেন।
"জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক হতে আরম্ভ করতে পছন্দ করতেন।"৭৬
৭. চেহারা, দুই হাত ও দুই পা তিনবার করে ধৌত করা। ওয়াজিব হলো একবার ধৌত করা আর তিনবার ধৌত করা হলো মুস্তাহাব। এই মর্মে আল্লাহর রসূল থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
أنه تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً ، مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ، وَثَلَاثًا ثَلَاثًا "নিশ্চয়ই তিনি একবার একবার, দুইবার দুইবার, তিনবার তিনবার ওযুর অঙ্গগুলো ধৌত করতেন।" ৭৭
৮. ওযুর পরে বর্ণিত দুআ পড়া। আল্লাহর রসূল বলেন: مِنْكُمْ مِّنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ، فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يَقُولُ : أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ، يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ
"তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি উত্তম ও পূর্ণরূপে ওযু করে এ দুআ পড়বে 'আশহাদু আল্ল'- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রসূলুহু।' তারজন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।" ৭৮

টিকাঃ
৭১. আহমাদ: ১/৪১৮, সুনান আবু দাউদ, হা. ১০১, হাকিম: ১/১৪৭, ইমাম আলবানী এটাকে হাসান বলেছেন। ইরওয়াউল গালীল: ১/১২২
৭২. ইমাম বুখারী মারুফ সিগাহ দিয়ে তালিকভাবে তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল বারী: ৪/১৫৯।
৭৩. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৩৬৬, সুনান নাসাঈ ১/৬৬, হাদীস নং: ৮৭。
৭৪. ইবনু মাজাহ, হা. ১০৮২; সুনানুল কুবরা: ১/১৭৬, মুসতাদরাক: ১/২৪৩。
৭৫. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৪৫, ইরওয়াউল গালীল: ৯২。
৭৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৬৮, সহীহ মুসলিম, হা. ৫০৪, ফুআ. ২৬৮。
৭৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫৭, ১৫৮, ১৫৯; সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৬, ফুআ. ২২৬。
৭৮. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৪১, কুআ, ২৩৪, ইমাম তিরমিযী, হা. من اللهم اجعلقى من الطوابين واجعلنى من المططهرين বৃদ্ধ করেছেন: ৫৫।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ

📄 ওযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ


النواقض বা ভঙ্গকারী বলতে বুঝায় যে সমস্ত জিনিস ওযুকে বাতিল করে এবং তা নষ্ট করে এগুলো হলো মোট ছয়টি:
১. প্রস্রাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু নির্গত হওয়া। নির্গত হওয়া জিনিসটি হতে পারে প্রস্রাব অথবা পায়খানা অথবা বীর্য, অথবা মযি, অথবা ইস্তেহাযার রক্ত অথবা বায়ু নির্গমন হওয়া, কম বা বেশি হোক। এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغََابِطِ "অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা হতে আগমন করে।" সূরা নিসা: ৪৩
لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ "বায়ু বের হলে ওযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সলাত কবুল করবেন না।”৭৯
অপর হাদীসে এসছে: وَلَكِنْ مِنْ غَائِطِ وَيَوْلٍ وَنُوْمٍ “এমনকি মলত্যাগ-প্রস্রাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযু করার সময়ও (মোজা না খুলি)।"৮০
বায়ু নির্গত হয়েছে কিনা এ ব্যপারে যে সন্দেহ করে, তার ব্যাপারে আল্লাহর রসূল বলেন: فَلَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا، أَوْ يَجِدَ رِيحًا “যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা দুর্গন্ধ পায় সে যেন ফিরে না যায়।”৮১
২. শরীরে অন্যান্য অঙ্গ থেকে অপবিত্র জিনিস বের হওয়া। যদি সেটা প্রস্রাব বা পায়খানা হয় তাহলে পূর্বের হাদীসের বক্তব্যের মধ্যে প্রবেশের কারণে সাধারণভাবে ওযু ভেঙে যাবে। যদি প্রস্রাব পায়খানা ব্যতীত অন্যকিছু হয়, যেমন: রক্ত, বমি আর যদি সেটা নোংরা এবং পরিমাণে বেশি হয় তাহলে ওযু করা উত্তম, সতর্কতামূলক। আর যদি পরিমাণে কম হয় তাহলে সকলের ঐকমত্যে ওযু করতে হবে না।
৩. অজ্ঞান হওয়া, অথবা ঘুম এবং তন্দ্রার কারণে সজ্ঞাহীন হওয়া। আল্লাহর রসূল বলেন: وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ “এমনকি মলত্যাগ-প্রস্রাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযু করার সময়ও (মোজা না খুলে)। "৮২ তিনি অপর হাদীসে বলেন: الْعَيْنُ وِكَاءُ السَّهِ ، فَمَنْ نَامَ، فَلْيَتَوَضَّأُ "চক্ষুদ্বয় হচ্ছে পশ্চাৎদ্বারের সংরক্ষণকারী। কাজেই যে ব্যক্তি (চোখ বন্ধ করে) ঘুমায়, সে যেন ওযু করে।"৮৫
তবে পাগলামী, সংজ্ঞাহীনতা, নেশাগ্রস্থতা এবং এ জাতীয় কাজের কারণে ওযু ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ওযু ভঙ্গকারী নিদ্রা হলো: যে নিদ্রার কারণে ব্যক্তির অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে না। সেটা যে প্রকারের নিদ্রাই হোক না কেন।
তবে যদি নিদ্রা কম হয় তাহলে তা ওযু ভঙ্গ করবে না। কেননা সাহাবীদেরকে সলাতের জন্য অপেক্ষায় রেখে তন্দ্রা পেয়ে বসতো। অতঃপর তারা দাড়াতেন, সলাত আদায় করতেন কিন্তু ওযু করতেন না। ৮৬
৪. কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই লজ্জাস্থান স্পর্শ করা। এই মর্মে বুসরা বিনতে সাফওয়ান বলেন, নাবী বলেছেন: مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّا “কেউ নিজ পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে যেন ওযু করে।”৮৭ অপর হাদীসে আবু আইয়ুব এবং উম্মু হাবীবা বলেন: রসূল বলেছেন: مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ : “যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করল সে যেন ওযু করে নেয়।”৮৮
৫. উটের গোশত খাওয়া: এই প্রসঙ্গে জাবির বিন সামুরা হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল কে জিজ্ঞেস করলেন: أَأَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ؟ قَالَ : إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ، وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَوَضَّأ، قَالَ أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ؟ قَالَ: نَعَمْ فَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِيلِ. "আমি কি বকরির গোশত খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা ওযু করতে পারো আর নাও করতে পারো। সে বলল, আমি কি উটের গোশত খেয়ে ওযু করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খেয়ে তুমি ওযু করবে।"৮৯
৬. মুরতাদ হওয়া বা ইসলাম পরিত্যাগ করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন: مَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ﴾ “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে কুফরী মিশ্রিত করবে তার 'আমল নিস্ফল হয়ে যাবে।” [সূরা মায়িদাহ : ৫] এ ছাড়াও যে সমস্ত কাজ গোসল ফরয করে সেগুলো ওযুও ফরয করে তবে মৃত্যু ব্যতীত।

টিকাঃ
৭৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৯৫৪।
৮০. আহমাদ ২/২৩৯, নাসাঈ ১/৮৩, তিরমিযী, হা. ১৬।
৮১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৭, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৩৬১।
৮২. তিরমিযী, হা. ৯৬।
৮৩. যে রশি দিয়ে ম্যাপ এবং মশক বাধা হয়।
৮৪. الريد اله তথা নিতম্ব এর অর্থ হলো জাগ্রত অবস্থা, চোখন্বয় হলো ঐ রশির মত যার দ্বারা বাধা হয়। সুতরাং যখন অজ্ঞান হয়ে যায় তখন এই বন্ধনও খুলে যায়।
৮৫. সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৩, ইবনু মাজাহ, হা. ৪৭৭, ইরওয়াউল গালীল: ১/১৪৮।
৮৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৭১৯, ফুআ, ৩৭৬।
৮৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৮১, নাসাঈ, হা. ১৬৩, তিরমিযী, হা. ৮২।
৮৮. উন্মু হাবীবার হাদীস; ইবনু মাজাহ, হা. ৪৮১।
৮৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৬৮৮, ফুআ. ৩৬০।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা ওয়াজিব

📄 যে সকল কাজের জন্য ওযু করা ওয়াজিব


নিম্নোক্ত কাজগুলোর জন্য শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপরে ওযু করা ওয়াজিব:
১. সলাতের জন্য: এই প্রসঙ্গে ইবনু উমার হতে মারফু সুত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ
“পবিত্রতা ব্যতীত সলাত কবুল হয় না। খিয়ানতের সম্পদ থেকে সাদকা কবুল হয় না।”৯০
২. বায়তুল্লাহয় তাওয়াফ করার জন্য: চাই সেটা ফরয অথবা নফল হোক। আল্লাহর রসূল তাওয়াফের সময় ওযু করতেন। হাদীসে এসেছে:
فَإِنَّهُ تَوَضَّأَ ، ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ
"তিনি ওযু করে তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।”৯১
অপর হাদীসে আল্লাহর রসূল বলেন:
الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ صَلَاةٌ إلا أن الله أباح فيه الكلام
"বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা সলাতই। তবে পার্থক্য হচ্ছে এতে আল্লাহ কথা বলার বৈধতা দিয়েছেন।”৯২
এমনকি তিনি হায়েযা মহিলাদেরকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছেন।
৩. কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ করার জন্য। আল্লাহ তা'আলা এই মর্মে বলেন:
لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ
"যারা সম্পূর্ণ পবিত্র তারা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।" [সুরা ওয়াকিয়া: ৭৯] আল্লাহর রসূল বলেছেন: لا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرُ : "পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।"৯৪

টিকাঃ
৯০. সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৩, ফুআ, ২২৪।
৯১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৬১৪, সহীহ মুসলিম, হা. ১২৩৫।
৯২. ইবনু হিব্বান: ৩৮৩৬, হাকিম ১/৪৫৯ এবং তিনি সহীহ সানাদে; ইমাম যাহাবী, বায়হাকী ৫/৮৭ এবং অন্যান্যরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১২১।
৯৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৫, সহীহ মুসলিম, হা. ১২১১।
৯৪. মুয়াত্তা মালিক: ১/১৯৯, দারাকুতনী: ১/১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00