📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সৃষ্টিগত স্বভাবসমূহ

📄 সৃষ্টিগত স্বভাবসমূহ


এটাকে الفطرة-সৃষ্টিগত خصال বৈশিষ্ট্যও বলা হয়। কারণ একজন ব্যক্তি সৃষ্টির ঐ সমস্ত গুণাবলিতে গুণান্বিত থাকেন যে গুণাবলিতে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য ঐ গুণাবলিকে পছন্দ করেছেন। যাতে তারা সর্বোত্তম গঠন এবং পরিপূর্ণ আকৃতির অধিকারী হতে পারে। আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: الاسْتِحْدَادُ، وَالْخِتَانُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ
"পাঁচটি বিষয় ফিতরতের অন্তর্ভুক্ত: ১. ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নিম্নাংশে); ২. খাতনা করা; ৩. গোফ খাটো করা; ৪. বগলের পশম উপরে ফেলা; ও ৫. নখ কাটা." ৫৯
১. استحداد বা নাভীর নিচের চুল মুণ্ডন করা: এগুলো হলো লজ্জাস্থানের চারপাশে গজিয়ে ওঠা চুল। এটাকে استحداد বলে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ এই কাজে লোহা তথা ক্ষুর (ব্লেড) ব্যবহার করা হয়। এই চুল দূর করার মাঝে রয়েছে সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা, মুণ্ডন ছাড়াও এগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব। যেমন: উৎপাদিত পরিষ্কার করার জিনিসপত্র (ক্রিম জাতীয় জিনিস)।
২. الختان বা খতনা করা: পুরষাঙ্গের মাথা ঢেকে রাখে এমন চামড়া কেটে ফেলা, যাতে পুরুষের মাথা উম্মোচিত হয়ে যায়। এই বিধান হলো পুরুষের ক্ষেত্রে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বিধান হলো: মিলনস্থানের উপরের অতিরিক্ত গোশত কেটে ফেলা। একথা বলা হয় যে, এই জায়গাটা মোরগের ঝুটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে সঠিক কথা হলো: খাতনা করা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব আর মহিলদের জন্য সুন্নাত।
পুরুষদের খাৎনা করার তাৎপর্য হলো: লিঙ্গের অগ্রের ত্বকে জমে থাকা অপবিত্রতা থেকে লজ্জাস্থানকে পবিত্র করা। এ ছাড়াও খাৎনায় অনেক উপকার রয়েছে। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে খাৎনা করাটা তাদের উত্তেজনাকে প্রশমিত করে দেয়। শিশু জন্ম লাভের সপ্তম দিনে খাৎনা করা মুস্তাহাব। খাৎনা দ্রুত আরোগ্য নিয়ে আসে এবং ছোটো শিশু পরিপূর্ণ রূপে বেড়ে ওঠে।
৩. قص الشارب واخفائه বা গোফ খাটো করা ও দাড়ি ছেড়ে দেওয়া। গোফ ছোটো করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ এতে রয়েছে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা এবং কাফেরদের বৈপরিত্য।
গোফ খাটো করা, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া, লম্বা করা এবং দাড়িকে সম্মান করার প্রসঙ্গে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মাঝে রয়েছে সৌন্দর্য এবং পুরুষত্বের প্রতিচ্ছবি। অথচ অনেক মানুষ এই বিষয়ের বিপরীত করে। তারা গোফ রাখে আর দাড়ি মুণ্ডন করে অথবা দাড়ি ছেটে ছোটো করে ফেলে।
এ সকল কাজ সুন্নাহর বিপরীত এবং এই প্রসঙ্গে বর্ণিত আদেশ দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব এর বিপরীত। তা হচ্ছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : جُرُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللَّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ
"আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: তোমরা মোচ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা করো। আর অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করো।”
ইবনু উমার হতে বর্ণিত হাদীস।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ: وَفَرُّوا اللَّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ.
“ইবনু উমার সূত্রে নাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো; দাড়ি লম্বা রাখো, গোঁফ ছোটো করো।”৬৩
সুতরাং মুসলিমের উপর আবশ্যক হলো, নাবী এর দিকনির্দেশনা আকড়ে ধরা, শত্রুদের বিপরীত করা এবং মহিলার সাদৃশ্য হওয়া থেকে বেঁচে থাকা।
৪. تَقْلِيْمُ الْأَظَافِرِ বা নখ কাটা: এমনভাবে নখ কর্তন করা যাতে নখ লম্বা না হয়। নখ কর্তন করলে নখগুলো সুন্দর হয় এবং তাতে জমে থাকা ময়লাগুলো দূর হয়ে যায়। কিছু মুসলিম এই সৃষ্টিগত স্বভাবের বিপরীত করে। তারা তাদের নখগুলো লম্বা করছে এবং হাতের নির্দিষ্ট কোনো আঙ্গুলের নখ তারা লম্বা করছে। এসকল কাজ হলো শয়তানের সৌন্দর্যমণ্ডিত করা এবং আল্লাহর শত্রুদের অন্ধ অনুসরণ।
৫. نَتْفُ الْإِبِطِ বা বগলের চুল উপড়ে ফেলা: অর্থাৎ বগলে গজানো চুল অপসারণ করা। উপড়ানো, মুণ্ডানো বা অন্য কোনো মাধ্যমে এই চুল বগল থেকে অপসারণ করা হলো সুন্নাত। এই কাজে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং অপছন্দনীয় গন্ধ হতে মুক্তি যা এই চুলগুলোর কারণে জমা হয়ে থাকে। এটাই হলো আমাদের একনিষ্ঠ ধর্ম। যে ধর্ম আমাদেরকে এই সকল কাজের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, কারণ তাতে সৌন্দর্য, পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতা রয়েছে। যাতে মুসলিম সর্বোত্তম অবস্থায় থাকে, কাফের, জাহেলদের অন্ধ অনুসরণ থেকে দুরে থাকে, তাদের ধর্ম নিয়ে গর্বিত থাকে, তার রবের আনুগত্যশীল থাকে এবং তার নাবী এর সুন্নাতের অনুসারী হয়। এই পাঁচটি স্বভাবের সাথে মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া কুলি করা, আঙ্গুলের গিঠসমূহ ধৌত করা, (আঙ্গুলের গিটসমূহে ময়লা জমা হয়) এবং ইস্তিনজা করাকেও সম্পৃক্ত করা হয়। আর এটা বর্ণিত হয়েছে আয়িশাহ এর হাদীসে।
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللَّحْيَةِ، وَالسَّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ المَاءِ، وَقَصُّ الْأَطْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ. وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ يَعْنِي الاسْتِنْجَاءَ. قَالَ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ احد رواة الحديث : وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمُضْمَضَةَ.
"আয়িশাহ হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া, নখ কাটা এবং আঙ্গুল গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভীর নীচের পশম মুণ্ডন করা এবং পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা।
انْتِقَاصُ الْمَاءِ অর্থাৎ ইস্তিনজা করা।
হাদীসের রাবী মুসআব বলেন, দশমটির কথা আমি ভুলে গেছি। সম্ভবতঃ সেটি হবে কুলি করা। ৬৪

টিকাঃ
৫৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮৮৯, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৮৫, ফুআ. ২৫৭।
৬০. الحشفة : পুরুষাঙ্গের মাথা।
৬১. যে চামড়া পুষাঙ্গের মাথা ঢেকে রাখে এবং যাকে খাৎনায় কেটে ফেলা হয়।
৬২. মুসলিম, হা. ৪৯১; (২৬০), الجز : কাটা الرخاء: ছেড়ে দেওয়া এবং হস্তক্ষেপ না করা।
৬৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮৭২, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৮৭, ফুআ, ২৫৮, শব্দ বুখারীর।
৬৪. মুসলিম, হা. ফুআ. ৪৯২; (২৬১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00