📄 তার বিধান
সর্বদা মিসওয়াক করা সুন্নতি সম্মত। এমন কি রোজাদার যদি রোজাবস্থায় মিসওয়াক করে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। চাই সময়টা সকাল হোক বা বিকাল। কারণ নাবী ﷺ মিসওয়াক করার ব্যাপারে সাধারণভাবে উৎসাহিত করেছেন। তিনি কোনো সময়কে নির্ধারণ করেননি। এমনকি তিনি বলেছেন:
السَّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ
“মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।” ৫২
তিনি অন্যত্র আরও বলেন:
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
"আমার উম্মাতের উপর যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সলাতে তাদেরকে মিসওয়াক করার আদেশ করতাম।"৫৩
টিকাঃ
৫২. সহীহুল বুখারী, হা. ২/৪০, আহমাদঃ ৬/৪৭, নাসাঈ, হা. ৫।
৫৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৭, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৭৭, ফুআ. ২৫২।
📄 কখন মিসওয়াক করবে?
ওযুর সময়, ঘুম থেকে ওঠার সময়, মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হলে, কুরআন তিলাওয়াতের সময়, সালাতের সময়, অনুরূপভাবে মাসজিদে এবং বাড়িতে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করা প্রয়োজন। এই মর্মে মিকদাদ বিন শুরাই তার বাবা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
سَأَلْتُ عَائِشَةَ، فُلْتُ: بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ: بِالسَّوَاكِ
"আমি আয়িশাহকে জিজ্ঞেস করে বললাম, নাবী ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কী করতেন? তিনি বললেন, মিসওয়াক করতেন।”৫৪
অনুরূপভাবে দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকার পরে এবং দাঁত বিবর্ণ হলেও মিসওয়াক করা প্রয়োজন।
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ، يَشُوصُ فَاهُ بِالسَّوَاكِ.
"নাবী রাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) ওঠে মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিস্কার করতেন।”৫৬
মুসলিম এই বিষয়ে আদিষ্ট যে, ইবাদতের সময় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সময় সে পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার সবচেয়ে সুন্দর অবস্থা গ্রহণ করবে।
টিকাঃ
৫৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৭৮, ফুআ. ২৫৩।
৫৫. الشوص: ঘষা, মাজা।
৫৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৪৫, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৮৩, ফুআ, ২৫৫।
📄 কী দ্বারা মিসওয়াক করবে?
কাঁচা ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা সুন্নাত, তবে সেটা যেন টুকরো টুকরো না হয় এবং যাতে মুখে আঘাত না লাগে। কেননা নাবী আরাক গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতেন। তিনি ডান এবং বাম হাত দিয়েও মিসওয়াক করতেন। এই বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে।
যদি কারো কাছে ওযু করার সময় মিসওয়াক না থাকে, তাহলে তার জন্য আঙ্গুল দ্বারা মিসওয়াক করা যথেষ্ট হবে। এটা আলী আল্লাহর রসূল এর ওযুর পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন।৫৮
টিকাঃ
* الأراك: شجر من الحمض يستاك بقضيانه، واسمه الكبات
৫৮. আহমাদ: ১/১৫৮, আত তালখীসুল কাবীর: ১/৭০।
📄 মিসওয়াকের উপকারিতা
পূর্বের হাদীসে মিসওয়াকের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। তা হলো দুনিয়াতে মুখ পবিত্রকারী আর পরকালে রবের সন্তুষ্ট অর্জনকারী।
সুতরাং, মুসলিমদের জন্য উচিত এই সুন্নাতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং এর মাঝে ব্যাপক উপকার নিহিত থাকার কারণে পরিত্যাগ না করা। কিছু মুসলিম এমন আছেন যারা একমাস দুই মাস চলে যায় কিন্তু অলসতাবশত অথবা অজ্ঞতাবশত মিসওয়াক করেন না। এই সুন্নাত পরিত্যাগ করার কারণে এই লোকেরা বড়ো পুরষ্কার এবং অনেক কল্যাণ হারিয়ে ফেলেছে। যে সুন্নাত স্বয়ং আল্লাহর রসূল সংরক্ষণ করতেন। যদি তিনি তার উম্মতের উপর এটা কঠিন মনে না করতেন, তাহলে এটাকে তার উম্মতের উপর ওয়াজিব করে দিতেন।
এ ছাড়াও ডাক্তারগণ মিসওয়াকের নানা উপকারের কথা আলোচনা করে থাকেন। যেমন- দাঁত শক্তিশালী করে, মাড়িকে শক্ত করে, আওয়াজকে পরিষ্কার করে, ব্যক্তিকে কর্মঠ করে ইত্যাদি।