📄 মলমূত্র ত্যাগকারীর জন্য যে কাজগুলো করা হারাম
আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা হারাম। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: انه نَهَى عَنِ الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ "নিশ্চয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করছেন।"৪৩
প্রস্রাব/পায়খানা করা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান ধরবে না এবং ডান হাতে ইস্তিনজাও করবে না। (কারণ এগুলো হারাম) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَأْخُذَنَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَسْتَنْجِي بِيَمِينِهِ “যখন তোমাদের কেউ প্রস্রাব করে তখন সে যেন ডান হাতে লজ্জাস্থান না ধরে এবং ডান হাতে ইস্তেন্ন্জা না করে।"৪৪
অনুরূপভাবে ছায়াতে, বাগানে, ফলদায়ক গাছের নীচে, পানির ঘাটে প্রস্রাব-পায়খানা করা হারাম। মুয়ায বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
اتَّقُوا المَلَاعِنَ الثَّلَاثَةَ الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ، وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ، وَالظُّلْ "তোমরা তিনটি অভিশপ্ত কাজ থেকে বিরত থাক। সেগুলো হলো: মানুষের অবতরণ স্থলে, চলাফেরার পথে এবং ছায়া বিশিষ্ট স্থানে পায়খানা করা।”৪৫
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী বলেছেন: اتَّقُوا اللَّعَانَيْنِ قَالُوا: وَمَا اللَّعَانَانِ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ، أَوْ فِي ظِلْهِمْ "তোমরা দুটি অভিশপ্ত কাজ থেকে বিরত থাকো। সাহাবিগণ বললেন: হে আল্লাহর রসূল! সে দুটি অভিশপ্ত কাজ কি? তিনি বললেন: মানুষের চলা-ফেরার রাস্তায় এবং তাদের ছায়ায় পায়খানা করা।”৪৬
অনুরূপভাবে টয়লেটে কুরআন পাঠ করা এবং গোবর, হাড় ও সম্মানিত খাবারের দ্বারা ইস্তিজমার করাও হারাম। জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَمَسَّحَ بِعَظْمٍ، أَوْ بِبَعْرٍ "নাবী হাড্ডি এবং গোবর দ্বারা ইস্তিজমার করতে নিষেধ করেছেন। "৪৭
মুসলিমদের কবরস্থানেও পায়খানা করা হারাম। নাবী বলেছেন: وَمَا أُبَالِي أَوَسْطَ الْقُبُورِ قَضَيْتُ حَاجَتِي، أَوْ وَسْطَ السُّوقِ "কবরস্থানে পায়খানা করা আর বাজারে পায়খানা করার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না।'৪৮
টিকাঃ
৪৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৪২, ফুআ, ২৮১, সহীহুল বুখারী, হা. ২৩৯, الراكد: নিশ্চল, আবদ্ধ পানি।
৪৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫৬৪, সহীহ মুসলিম, হা. ৫০১, ফুআ. ২৬৭।
৪৫. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৬, ইবনু মাজাহ, হা. ৩২৮।
৪৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৫০৩, ফুআ. ২৬৯।
৪৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৯৫, ফুআ. ২৬২।
৪৮. ইবনু মাজাহ, হা. ১৫৬৭।
📄 প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণকারীর জন্য অপছন্দনীয় কর্মসমূহ
কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বাতাসের প্রবাহমুখী হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করা (যাতে তার দিকে প্রস্রাব ফিরে না আসে) মাকরূহ। এমনিভাবে প্রকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করা অবস্থায় কথা বলা মাকরূহ। নাবী প্রস্রাব করা অবস্থায় তার পাশ দিয়ে একজন লোক অতিক্রম করলেন এবং তাকে সালাম দিলেন। নাবী তার সালামের জবাব দিলেন না। ৪৯
গর্ত এবং এমন স্থানে প্রস্রাব করা হারাম। আবু ক্বাতাদা আব্দুল্লাহ বিন সারজিস থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন-
أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي الْجُحْرِ قيل لِقَتَادَةَ: مَا بَالَ الْجُحْرِ؟ قَالَ : يُقَالُ إِنَّهَا مَسَاكِنُ الْجِنِّ
"নাবী গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। আবু কাতাদাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কি কারণে গর্তে প্রস্রাব করা নিষেধ? তিনি বললেন, বলা হয়, গর্তে জিনেরা বসবাস করে।”৫০
কারণ গর্তে কোনো প্রাণী থাকতে পারে, ফলে সে প্রাণী কষ্ট পাবে, অথবা সেটা জিনদের বাসস্থান হতে পারে, ফলে তারা কষ্টের স্বীকার হবে।
প্রয়োজন ছাড়া আল্লাহর নাম রয়েছে এমন কোনো জিনিস নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা মাকরূহ। কারণ নাবী যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন তার আংটি রেখে যেতেন। ৫১
যদি প্রয়োজন এবং জরুরি হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যেমন: এমন টাকা নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা, যাতে بسم الله রয়েছে। যদি এটা বাইরে রেখে যায় তাহলে চোরের লক্ষবস্তু হয় অথবা ভুলে রেখে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মুসহাফ (কুরআন কপি) নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা হারাম। চাই সেটা প্রকাশ্য হোক অথবা গোপন। কারণ মুসহাফ হলো আল্লাহর বাণী, সর্বশ্রেষ্ঠ বানী। মুসহাফ নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা মুসহাফকে অপমানের নামান্তর বৈ অন্য কিছু নয়।
টিকাঃ
৪৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৭২২, ফুআ. ৩৭০।
৫০. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৯, সুনান নাসাঈ, হা. ৩৪।
৫১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৯, তিরমিযী, হা. ১৭৪৬, সুনান নাসাঈ, হা. ৫২২৮, ইবনু মাজাহ, হা. ৩০৩।