📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 পানিতে যদি কোনো পবিত্র জিনিস মিশ্রিত হয়

📄 পানিতে যদি কোনো পবিত্র জিনিস মিশ্রিত হয়


পানিতে যদি কোনো পবিত্র জিনিস মিশ্রিত হয়, যেমন গাছের পাতা, সাবান, ক্ষার, বরই পাতা; এছাড়া অন্য কোনো পবিত্র জিনিস, আর মিশ্রিত পবিত্র জিনিসটা যদি পানিতে প্রভাব বিস্তার না করে তাহলে সঠিক কথা হলো সে পানি পবিত্র। তার দ্বারা নাপাকি, অপবিত্রতা, আবর্জনা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
﴿وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ﴾
“যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ করো এবং পানি না পাও, তাহলে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো। সুতরাং তোমরা তেমাদের চেহারা ও হাত মাসাহ করো।” [সূরা নিসা: ৪৩]
আয়াতটিতে ماء শব্দটি نكرة (অনির্দিষ্ট), ফলে সকল প্রকার পানি এর অন্তর্ভুক্ত। বিশুদ্ধ পানি আর মিশ্রিত পানির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এর প্রমাণ হলো, আল্লাহর রসূল তার কন্যাকে গোসল দানকারিণী মহিলাদেরকে বললেন:
اغْسِلْنَهَا ثَلاثًا ، أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، إِنْ رَأَيْتُنَّ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ ، وَاجْعَلْنَ فِي الْآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ
“তোমরা তাকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষ বারে কপূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কপূর ব্যবহার করো।”

টিকাঃ
* এটা হলো এক প্রকার এসিড, যার দ্বারা হাত ধোয়া হয়, এটা আরবীতে اشنان বলা হয়। اشنان শব্দটিতে আলিফের নিচে যের দিয়েও পড়া হয়।
* মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৫৩, ১২৫৮, ১২৫৭; সহীহ মুসলিম, হা. ২০৫৭, ফুআ, ৯৩৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানির বিধান

📄 পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানির বিধান


ওযু এবং গোসলের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে ঝরে পড়া পানিকে ব্যবহৃত পানি বলা হয়। সঠিক মত অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। সে পানি অপবিত্রতাকে অপসারণ করে এবং নাপাকি দূর করে যতক্ষণ না তার তিনটি গুণাবলির একটি পরিবর্তিত হয়: গন্ধ, স্বাদ, রঙ। ব্যবহৃত পানি পবিত্র হওয়ার দলীল:
أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُونِهِ “নাবী যখন ওযু করতেন তখন তার ব্যবহৃত পানির উপর সাহাবীগণ যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।”
এ ছাড়াও জাবির যখন অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন তখন তিনি তাঁর ওযুর পানি তাঁর শরীরে ঢেলে দিয়েছিলেন।”
যদি ব্যবহৃত পানি নাপাক হতো তাহলে সাহাবীদের ওযুর পানি নিয়ে কাড়াকাড়ি করা, জাবির এর শরীরে ওযুর পানি ঢেলে দেওয়া বৈধ হতো না।
এছাড়াও নাবী ; তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর স্ত্রীগণ পেয়ালা ও পানি পান করার পাত্রে ওযু করতেন এবং গামলায় গোসল করতেন। যে পাত্রগুলোতে তারা ওযু গোসল করতেন সে পাত্রগুলো ব্যবহৃত পানির ছিটা-ফোঁটা পড়া থেকে মুক্ত নয়।
এ ছাড়া নাবী আবু হুরায়রা কে একদিন বলেছিলেন (আবু হুরায়রা তখন অপবিত্র ছিলেন) : إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ "মুমিন অপবিত্র হয় না।”১২
যেহেতু মুমিন নাপাকই হয় না, সেহেতু মানুষ শুধুমাত্র পানি স্পর্শ করার কারণেই পানি তার পবিত্রতা হারাবে না।

টিকাঃ
* সহীহুল বুখারী, হা, ১৮৯।
১১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৬৫১, সহীহ মুসলিম, হা. ৪০৩৭, ফুআ. ১৬১৬।
* এটা تور এর বহু বচন, অর্থ: পানি পান করার পাত্র।
* এর এক বচন হলো جفنة। অর্থ: গামলা।
১২. সহীহ মুসলিম, হা. ৭১০, ফুআ, ৩৭১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তুর উচ্ছিষ্ট

📄 মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তুর উচ্ছিষ্ট


পানকারীর পান করার পর যা পাত্রে অবশিষ্ট থাকে তাকে উচ্ছিষ্ট বলে। মানুষ পবিত্র, তার উচ্ছিষ্টও পবিত্র চাই সে মুসলিম হোক বা কাফের হোক, অনুরূপ সে অপবিত্র হোক বা হায়েযা হোক। সহীহ সূত্রে একথা সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রসূল বলেছেন : إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ "মুমিন অপবিত্র হয় না।”১৩
আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হায়েযা অবস্থায় তিনি পাত্র থেকে পানি পান করতেন অতঃপর আল্লাহর রসূল পাত্রটি নিতেন এবং যে স্থানে আয়িশাহ মুখ রেখে পান করেছেন সেখানে মুখ রেখে তিনিও পান করতেন। ১৪
চতুষ্পদ জন্তু এবং অন্যান্য প্রাণীদের মাঝে যেগুলোর গোশত খাওয়া হয়, তাদের উচ্ছিষ্ট পবিত্র; এই বিষয়ে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর যাদের গোশত খাওয়া হয় না যেমন- হিংস্র প্রাণী, গাধা, অন্যান্য প্রাণী; সেগুলোর ব্যপারে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো: তাদের উচ্ছিষ্টও পবিত্র। তাদের উচ্ছিষ্ট পানিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। বিশেষ করে যখন পানি বেশি থাকে। তবে পানি কম থাকে এবং সেসব প্রাণী পান করার কারণে পানির গুণাবলী পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাহলে পানি অপবিত্র।
এর প্রমাণ হলো পূর্বের হাদীস। তাতে বলা হয়েছে: নাবী কে ঐ পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যেখানে পানি পান করার জন্য বন্য প্রাণী ও হিংস্র জন্তু আসা যাওয়া করে। তিনি এর জবাবে বলেছিলেন: إِذَا كَانَ المَاءُ قُلْتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الخبث "পানির পরিমাণ দুই মটকা হলে তা অপবিত্রতা বহন করে না।”
এছাড়াও বিড়াল সম্পর্কে আল্লাহর রসূল এর বাণী, যে বিড়াল পাত্র থেকে পান করে ফেলে। إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسِ، إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ "বিড়াল অপবিত্র নয়। এটা তো তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী বা বিচরণকারিণী প্রাণী। "১৮
এর কারণ হলো, সাধারণত বিড়াল থেকে সতর্ক থাকা কষ্টকর। যদি আমরা বলি যে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র তাহলে পাত্রগুলো ধোয়া আবশ্যক হয়ে যাবে। আর এটা অবশ্যই কষ্টকর। আর এই কষ্টকে এই উম্মাতের উপর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
কুকুরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র। অনুরূপ শুকুরের উচ্ছিষ্টও অপবিত্র। কুকুরের উচ্ছিষ্ট অপবিত্র হওয়া প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ ، أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولَا هُنَّ بِالتُّرَابِ "তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন (সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হলো) সাত বার তা ধুয়ে ফেলো। তবে প্রথম বার মাটি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।”২০
শুকরের উচ্ছিষ্ট: শুকর নাপাক, নোংরা ও অপরিষ্কার হওয়ার কারণে তার উচ্ছিষ্ট অপবিত্র। আল্লাহ তা'আলা বলেন: فإنه رجس "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র।" [সূরা আনআম: ১৪৫]

টিকাঃ
১৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৭১০, ফুআ. ৩৭১।
১৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭৯, ফুআ. ৩০০।
১৮. আহমাদ: ৫/২৯৬, সুনান আবু দাউদ, হা. ৭৫, তিরমিযী, হা. ৯২ তিনি বলেন: হাসান সহীহ, ইরওয়াউল গালীলে আলবানী (রহ:) এটা সহীহ বলেছেন: ২৩।
*: পাত্র থেকে মুখ দিয়ে পান করা।
২০. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৭২, সহীহ মুসলিম, হা. ৫৩৫, ফুআ, ২৭৯, শব্দ মুসলিমের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00