📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 আত্মীয় বিবাহ

📄 আত্মীয় বিবাহ


বর্তমানে আমাদের সমাজে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ-শাদির বিষয়ে রব উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ-শাদির দ্বারা সুস্থ ও মেধাবী সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ কমে যায়।১ প্রকৃত প্রস্তাবে, এ বিষয়ে পূর্ব থেকেই মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন, কেউ কেউ করেন অনুৎসাহিত। যারা উদ্বুদ্ধ করেন, তাদের কিছু যুক্তি হলো,

১. আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ-শাদি নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সংহত করে।
২. আত্মীয় ছেলে-মেয়ে পারস্পরিক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা এবং সাংসারিক অস্বচ্ছলতা ও অপ্রশস্ততায় তুলনামূলকভাবে বেশি ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে পারে।
৩. নিজেদের স্থাবর, অস্থাবর অর্থসম্পদের হেফাজত হয়। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্যদের হাতে চলে যায় না।
৪. আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ-শাদি বংশীয় সংহতি নিশ্চিত করে। পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিবাহ-শাদি বিষয়টি সহজ হয়। ছেলেমেয়ের আইবুড়ো থাকার পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়।

পক্ষান্তরে, যারা নিজেদের মধ্যে বিবাহ-শাদির বিষয়ে অনুৎসাহিত করেন, তাদের চিন্তাধারা হলো আত্মীয়দের বাইরে বিবাহ-শাদিই ভালো। কেননা—

১. এতে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২. বিবাহের পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ইতিবাচক। কেননা, অনেক জায়গা দেখে মনমতো ভালো ছেলেমেয়ে নির্বাচন করা সম্ভব হয়।
৩. গোত্রীয় সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামি থাকে না।
৪. বংশে নতুন ধারার সংযোজন হয়।
৫. নতুন প্রজন্ম হয় মেধাবী, শক্তিশালী, সুস্থ, সুঠাম।

ধর্মীয় জ্ঞানে আমরা যা পাই, তাতে আত্মীয় বিবাহ নিষিদ্ধও নয়, আবশ্যিকও নয়। সুতরাং ঢালাওভাবে আত্মীয় বিবাহের উৎসাহ কিংবা অনুৎসাহ কোনোটাই ভারসাম্যপূর্ণ নয়। তবে অভিজ্ঞতার আলোকে প্রমাণিত হয়েছে যে, আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ-পুনর্বিবাহ বংশধারাকে দুর্বল করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে,

لَا تَنكِحُوا الْقَرَابَةَ الْقَرِيبَةَ فَإِنَّ الْوَلَدَ يُخْلَقُ ضَاوِيًا

অর্থ : তোমরা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহশাদি দিও না। এভাবে সন্তান দুর্বল হয়।২

হযরত উমর রাযি. থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি বনু সায়েব বংশের ছেলেমেয়েদের দুর্বলতা দেখে বললেন,

مَا لِي أَرَى ابْنَ السَّائِبِ قَدْ ضَوِيَ؟ غَرِّبُوا النِّكَاحَ لَا تُضْوُوا

অর্থ : কী ব্যাপার, বনু সায়েবের লোকেরা, তোমরা দেখি দুর্বল হয়ে পড়ছ? তোমরা নিজ বংশের বাইরেও বিবাহশাদি করো, তা হলে দুর্বল হবে না।

ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. লিখেছেন,

الْعَشِيرَةُ أَنَّ الْوَلَدَ بَيْنَ الْقَرِيبَيْنِ يَكُونُ أَخْوَقَ

অর্থ : অভিজ্ঞতা বলে, আত্মীয় দম্পতির ছেলেমেয়ে সাধারণত নির্বোধ হয়।৩

মুসলমানদের এ দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয় বিধান নয়। এটা সাধারণ অভিজ্ঞতার আলোকে সাধারণ উৎসাহ-অনুৎসাহের ব্যাপার। যদি চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনো আত্মীয়যুগলের মধ্যে বিবাহশাদির দ্বারা বংশধারায় কোনো দুর্বলতা আসবে না, তা হলে অনুৎসাহের বিষয়টি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তারা বিবাহশাদি করতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষানিরীক্ষা যদি জানান দেয় যে, তাদের বংশধারায় কোনো কুপ্রভাব পড়তে পারে, তা হলে তাদের নিজেদের মধ্যে বিবাহশাদি না করাই কাম্য।

টিকাঃ
১. এখানে আত্মীয়-নিকটাত্মীয় বলতেও হারাম হওয়া ছাড়া সাধারণ আত্মীয় ও বংশীয় ছেলেমেয়েদের কথা বলা হচ্ছে। কেননা মাহরাম ছেলেমেয়েরা বিবাহশাদি ইসলামে সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে।
২. ইবনে হিব্বান (সনদ : সহীহ)।
৩. ফাতহুল বারী শরহে বুখারী।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 তালাক

📄 তালাক


যদিও কখনো এমন হয় যে, দাম্পত্যজীবনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা অসম্ভব, কোনো প্রকারেই সমাধান হচ্ছে না, সমঝোতার সকল প্রয়াস ব্যর্থ, এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক তথা মুক্তি ও বিচ্ছেদের বিধান দিয়েছেন। তবে কিছু কারণে নারীকে নয়, তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুরুষকে। কারণগুলো এই :

১. পুরুষই বিবাহে প্রস্তাবকারী। সেই প্রার্থী। নারী প্রার্থিত। পুরুষকেই মোহর পরিশোধ করতে হয়। স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করতে হয়। এই বিষয়গুলো পুরুষকে একটু ভাবাবে। ঝট করে তালাক প্রদান করা থেকে বিরত রাখবে। সে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের বিষয়ে যৌক্তিক ছাড় দিতে পারলে, হতে পারে শেষে তালাকের মতো গুরুতর পরিস্থিতি কেটে যাবে।

২. তালাক নিস্পাদনের একটি গুরুতর বিষয়। এতে অনেক ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন আছে। আবেগ-অনুভূতির স্পর্শকাতরতা এবং প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া গ্রহণের প্রবণতায় নারীর চাইতে পুরুষের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা বেশি। নারীর সহজাত প্রবৃত্তি তাকে একটুতেই রাগান্বিত ও নিরাশ করে। সে হালকা আঘাতেই ভেঙে পড়ে। মনোমালিন্যের বিষয়ে স্বামীকে ছাড় দিতে ততটা উদারতা দেখাতে পারে না, যতটা পুরুষ পারে। সুতরাং নারীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দিলে তালাক বেড়ে যাবে।

বাস্তবতাই এর প্রমাণ। আজকাল অনৈসলামিক আইনের আওতায় নারীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়ার ফলে তালাক অনেক বেড়ে গেছে। একের পর এক ঘর ভাঙছে। হাজার হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবারের ছায়া না থাকার কারণে অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে পুরুষকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে যাচ্ছেতাইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করবে। কোনো রকম শর্ত ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তালাক প্রদান করার নৈতিক অধিকার তাকে দেওয়া হয়নি। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا

অর্থ : তোমরা তাদের সাথে ন্যায় ও উত্তমভাবে বসবাস করো। যদি তাদের অপছন্দ হয়, তবে হতে পারে, তোমরা কিছু অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে তোমাদের জন্য রেখেছেন প্রভূত কল্যাণ। —সূরা নিসা : ১৯

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ

অর্থ : আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় বৈধ বিষয় হলো তালাক।১

লক্ষ করুন, মাসিকের সময় তালাক প্রদান করতেও ইসলাম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইসলামের বিধান অনুসারে তালাক প্রদান করতে হবে পবিত্র অবস্থায়। এ সময় স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পূর্ণ আকর্ষণ থাকে। কিন্তু তালাক প্রদান করতে হলেও চাইতে হবে এমন সময়ে তালাক করতে হবে এবং দূরে থাকতে হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. মাসিকের সময় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন :

‘সে যখন পবিত্র হবে, তখন যেন তালাক দেয়।'

ইসলাম পুরুষকে এই অধিকার দেয়নি যে, সে নারীকে যত খুশি তালাক দিতে থাকবে আর ইদ্দত মতো ঘোরাতে থাকবে। যেমনি জাহেলী যুগের বর্বর জাতিদের মাঝে ছিল। আবার এত বেশি সংকীর্ণতাও করেনি যে, আত্মসংশোধন ও প্রত্যাবর্তনের সুযোগই থাকবে না। ইসলাম বিপরীতমুখী দুই প্রান্তিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে অবলম্বন করেছে মধ্যপন্থা। ইসলাম তালাকসংখ্যা নির্ধারণ করেছে তিনটি। যেন মধ্যবর্তী সময়গুলো দম্পতিদের আত্মসংশোধন ও পারস্পরিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে নতুন করে পূর্ব দাম্পত্যজীবনে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ থাকে। আবার নারীকে তামাশার পুতুল বানিয়ে অমূল্য মুক্তিকে আটকে রাখার পথও রুদ্ধ হয়।

একটি হলো তালাকে রজয়ী। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর্যন্ত স্বামীর সুযোগ থাকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু ইদ্দত শেষ হয়ে যাওয়ার পর এটি তালাকে বাঈনে সুগরায় রূপ লাভ করে। এখানেও নতুন চুক্তি এবং নতুন মোহর দিয়ে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এরপর ওই তালাকটি হলে, সেটি তালাক বাঈনে কুবরা বা মুগাল্লাযা। এরপরে পর পর তিন তালাক হলে বিবাহের নিগূঢ় সম্পর্ক খুলে যায়। এরপর আর এই স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার কোনো অধিকার স্বামীর থাকে না। তবে যদি স্ত্রীর অন্য কোথাও বিয়ে হয়, নতুন স্বামীর সাথে ঘরসংসার-সহবাস হয়, তারপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দেয়, তা হলেই কেবল পূর্ববর্তী-তিন-তালাককারী-স্বামী-জনার জন্য নতুন করে বিবাহ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পবিত্র কুরআনে এসেছে,

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيহゅう بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٢٩﴾ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

অর্থ : তালাক দুবার (মুখে উচ্চারণ করা যেতে পারে); এরপর হয় ন্যায়সঙ্গতভাবে তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, অথবা সহৃদয়তার সাথে তাকে চলে যেতে দিতে হবে। তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, যা কিছু তোমরা নারীদের দিয়েছ তা তাদের থেকে ফিরিয়ে নেবে।

তবে স্বামী-স্ত্রী যদি আশঙ্কা করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না এবং তোমরাও আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, তা হলে স্ত্রী স্বামীকে যে বিনিময় দিয়ে বিচ্ছেদ গ্রহণ করবে তাতে স্বামী-স্ত্রীর অপরাধ থাকবে না। এটা হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। একে অতিক্রম করো না। যারা আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা অতিক্রম করে, তারা সুস্পষ্ট জালেম।

এরপর যদি সে তাকে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তা হলে এই স্ত্রী যতক্ষণ অন্য কোনো স্বামী গ্রহণ না করবে ততক্ষণ সে আর (তিন তালাক প্রদানকারী) স্বামীর জন্য বৈধ হবে না। তবে যদি (দ্বিতীয়) স্বামী নিয়মমাফিক তাকে তালাক দেয় এবং তারা (অর্থাৎ স্ত্রী এবং আগের তিন তালাক প্রদানকারী স্বামী) মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে তা হলে তারা পুনর্বারও করতে অসুবিধা নেই। এটাই আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা। তিনি তা স্পষ্টাকারে ব্যক্ত করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য। —সূরা বাকারা : ২২৯-২৩০

নারীবাদীতার নামে যারা আন্দোলন করেছেন, তারা তালাক প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তা এই যে, তালাকের বিধান তো খুবই যুক্তিপ্রসূত। কিন্তু তালাক প্রদানের ক্ষমতা তো শুধু স্বামীরই থাকছে। এভাবে আর কতটুকু স্ত্রীর অধিকার রক্ষা হয়। স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা না দেওয়াটা তো অন্যায়। কেননা, এতে সে অনেক জটিলতার মুখে পড়ে। অনেক সময় স্ত্রী না স্ত্রীর মর্যাদা পায়, না অত্যাচারী স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। যেমন, স্বামী স্বেচ্ছাচারিতা করে, নির্যাতন ও সীমালংঘন করে; কিন্তু স্ত্রীকে ছাড়ে না। অনেক স্বামী নপুংশক। অনেক স্বামী ভরণপোষণ অক্ষম। অনেক স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে বছরের পর বছর থাকে বাইরে। এমতাবস্থায় যদি স্ত্রীর জন্য মুক্তির কোনো পথ না থাকে, তা হলে ওকে ছুঁড়ে মারা ছাড়া তার তো কোনো উপায় থাকে না। সুতরাং স্বামীর সাথে সাথে স্ত্রীকেও তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া উচিত। যাতে তার সাথে সত্যিকারের সাম্যটুকু করা হয়।

এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য এই যে, তালাকের বিধান দেওয়া হলেও তালাক ইসলামে কাম্য নয়। এ জন্যই তালাককে বলা হয়েছে, ইসলামের নিকটতম বৈধ বিষয়। সুতরাং অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া তালাক যেন না হয়, অন্তত তালাকের সংখ্যা যেন কিছুটা হলেও লাগামবদ্ধ হয়, সেজন্যই নারীকে না দিয়ে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুরুষকে। যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। আবার স্বামী যেন তালাকপ্রদানের ক্ষমতাকে যথেচ্ছভাবে কাজে লাগাতে না পারে, সেই জন্য ইসলামে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তাও তুলে ধরেছি। কিন্তু ইসলামী শরীআতের প্রত্যাশা হলো, পারস্পরিক ভালোবাসা, মতৈক্য ও আন্তরিকতার ওপর পরিবারের ভিত্তিস্থাপন। অন্যায়, অত্যাচার, সীমালংঘন ইসলাম বরদাশত করে না। সুতরাং নারীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা না দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে উপযুক্ত বিষয়গুলোর মতো বিবিধ জটিলতার মুখেও নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, দুঃখিত, মানবেতর জীবন কাটাবে। বরং সে যদি অত্যাচারিত হয়, অথবা তার কোনো অধিকার লঙ্ঘিত হয় যার কারণে স্বামীর সাথে ঘরসংসার করা তার পক্ষে দুষ্কর, তা হলে সে মামলা দায়ের করবে এবং প্রমাণ উপস্থাপন করবে। বিচারক সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ইসলামী বিধান মোতাবেক রায় দেবেন। মহান আল্লাহ আলোচ্য আয়াতে বলেছেন,

أَنْ يُخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অর্থ : তবে স্বামী স্ত্রী যদি আশঙ্কা করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না এবং তোমরাও আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, তা হলে স্ত্রী স্বামীকে যে বিনিময় দিয়ে বিচ্ছেদ গ্রহণ করলে তাতে স্বামী স্ত্রীর অপরাধ থাকবে না। এটা হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। একে অতিক্রম করো না। যারা আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা অতিক্রম করে, তারা সুস্পষ্ট জালিম। —সূরা বাকারা : ২২৯

ইমাম বুখারী রাহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। লক্ষ্য করুন, হাদীসটির বক্তব্য এই,

جَاءَتِ امْرَأَةُ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي مَا أَعْتِبُ عَلَيْهِ فِي خُلُقٍ وَلَا دِينٍ وَلَكِنِّي أَكْرَهُ الْكُفْرَ فِي الْإِسْلَامِ فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ؟ قَالَتْ : نَعَمْ , فَقَالَ : اقْبَلِ الْحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً

অর্থ : সাবেত বিন কায়েসের স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে (সাবেত সম্পর্কে) আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি না তার স্বভাব-চরিত্রের বিষয়ে আপত্তি করছি, না তার ধার্মিকতার বিষয়ে। তবে আমি ইসলামের ছায়ায় থেকে কুফরি করতে চাই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তাকে (মোহর হিসেবে গৃহীত) বাগানটি ফেরত দিতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাবেতকে) বললেন, বাগান গ্রহণ করো এবং তাকে একটি তালাক প্রদান করো।

এই হলো সম্পূর্ণরূপে এমন একজন স্ত্রীর উদাহরণ যিনি স্বামীর হক আদায় করতে পারবেন না মর্মে অপারগতা প্রকাশ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মোহর ফেরত দেওয়ার অনুমতি দিলেন; বিনিময়ে তার স্বামী তাকে তালাক প্রদান করলেন। ইসলামী শরীআতে একে বলা হয় খুলআ। এটাই প্রমাণ করে যে, ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতা অবশ্যই সম্মানের সাথে মূল্যায়িত। সুতরাং ইসলাম নারীর জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্রে তালাকের দাবি করার অধিকার দেয়।

তবে মনে রাখতে হবে, খুলআর বিধান দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, সাধারণ মনোমালিন্য বা ঠুনকো অজুহাতে কথায় কথায় স্ত্রী তালাকের দাবি করবে। ইসলামের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী নারী সাধারণ ছোটখাটো বিষয়ে ধৈর্য ধরবে। যাতে পরিবারের ভিত্তি না নড়ে। তবে যখন আপনাআপনি ব্যক্তিপর্যায়ে এগুলোর সংশোধন ও সমাধান সম্ভব হবে না, তখন মুত্তাকী পরহেজগার দায়িত্বশীলদের শরণাপন্ন হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,

وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِن بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا ۚ وَالصُّلْحُ خَيْرٌ ۗ وَأُحْضِرَتِ الْأَنفُسُ الشُّحَّ ۗ وَإِن تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ কَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا

অর্থ : যদি কোনো নারী স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার বা অবজ্ঞার আশঙ্কা করে তা হলে তারা নিজেদের মাঝে মীমাংসা করে নিতে পারে। এতে সমস্যা নেই। মীমাংসা উত্তম। মূলত প্রতিটি মানুষকেই নিজের স্বার্থের প্রতি আগ্রহ দান করা হয়েছে। তবে তোমরা যদি সদাচার কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, তা হলে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ নিশ্চয়ই সম্যক অবগত আছেন। —সূরা নিসা : ১২৮

সুতরাং একতরফা তালাক সংঘটিত হওয়া ইসলামী শরীআতের প্রত্যাশার পরিপন্থী। কেননা, ইসলামী শরীআত চায় পরিবার গড়তে; পরিবার ভাঙা অনিবার্যতাবশত। অথচ আজকালকার তথাকথিত উন্নত বিচারব্যবস্থায় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুনলে অবাক হতে হয়। প্রকাশ্যে ভরা মজলিসে স্বামী স্ত্রী একে অপরের দোষারোপ করতে থাকে। একে অপরের কুৎসা বলতে থাকে। রায় কী আসে, কীভাবে আসে সে কথা বাদই দিলাম। কিন্তু এমন অশালীন অশোভন আচরণের পর মনের মিল কী করে সম্ভব? অথচ পবিত্র কুরআনের নির্দেশ,

وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

অর্থ : তোমরা কখনো একে অপরের প্রতি দয়া ও সহৃদয়তা দেখাতে ভুলো না, কারণ তোমরা যে কী কর, আল্লাহ তার সবই পর্যবেক্ষণ করেন। —সূরা বাকারা : ২৩৭

তবে দেখুন, যেখানে ইসলামের দাবি হলো, বিচ্ছেদের পরও একে অপরের প্রতি দয়া ও সহৃদয়তার কথা স্মরণ রাখা এবং একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকা; সেখানে কী হচ্ছে? আজকে বিচ্ছেদ যেন বিরহ থাকে না, চরম বিদ্বেষে রূপ নেয়। এমনকি, মামলায় একে অপরেরকে পরাস্ত করতে দাম্পত্যজীবনের অন্তরঙ্গতা ও গোপনীয়তাও খুলে খুলে তুলে ধরে। আমাদের সমাজের কী হলো? কোন প্রাণসংহারক ব্যাধিতে পেয়ে বসল? কোথায় চলেছি আমরা?

দুঃখের ঘন তারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে যখন শুনি, মুসলিম নারীরা বিচ্ছেদের পর স্বামীদের কাছে পাশ্চাত্য আইন অনুসারে এমন এমন দাবি করে ইসলামী শরীআতে যার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা দেখি, অনেক মুসলিম নারী পশ্চিমা ভাবধারায় চলা অনৈসলামিক আদালতগুলোতে মামলা করে। উদ্দেশ্য থাকে স্বামীর স্থাবর অস্থাবর অর্থের অর্ধেক সম্পত্তি এবং বিচ্ছেদ ও ইদ্দতের পরও আমৃত্যু ভরণপোষণ।

মুসলিম ভাই বোনেরা জেনে রাখুন, খোদাভীতির উপর কোনো বিধান নেই। মানবপ্রবৃত্তি-গড়া আইন কখনোই সার্বিক বিচারে নির্ভুল হবে না। তাই মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে নারীবাদীদের দ্বারস্থ হয়ে কখনোই দাম্পত্যজীবনের প্রকৃত সফলতা পাবেন না। যদি সফলতা পেতে চান, তা হলে ভাঙ্গার নয়, গড়ার মানসিকতা অর্জন করুন। শুধু পবিত্র হৃদয়ে আন্তরিক ও একনিষ্ঠ চিত্তে রাগ অভিমান ভুলে নতুন করে দাম্পত্যজীবন শুরু করুন। হীনমন্যতা, আত্ম-অহংকার বর্জন করুন। কখনোই একগুঁয়ে ও একরোখা হবেন না। মনে রাখবেন—আপনার একটু ধৈর্য, একটু সহনশীলতা, একটু ছাড় দেওয়ার মানসিকতা একটি পরিবারকে রক্ষা করতে পারে, যা প্রকারান্তরে রক্ষা করে একটি সমাজকে। সর্বোপরি, আপনার একটু ত্যাগ, একটু বিসর্জন আপনার সন্তানের পক্ষে কতটুকু উপকারি।

টিকাঃ
১. আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 নারীর কর্ম

📄 নারীর কর্ম


বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর কর্মজীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এক্ষেত্রে মুসলিম গবেষকগণের চিন্তাধারা মোটামুটি দু-রকম। এক পক্ষ ঘরের বাইরে নারীর কাজ করাকে সমর্থন করেন; কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। অপর পক্ষ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেন; কিন্তু অপারগতার অবস্থায় শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেন। উভয় পক্ষেরই যুক্তি আছে, প্রমাণ আছে。

তবে মুসলিম গবেষকগণ প্রত্যেকেই এখানে একমত যে, নারীর প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো স্বামী-সংসার, সন্তান-লালনপালন ও পরিবার দেখাশোনা। অর্থাৎ তার মূল কর্মক্ষেত্র ও অবস্থানক্ষেত্র তার ঘর। কেননা, নারীই পরিবারের মূল ভিত্তি। আর পরিবারই সমাজের ভিত্তি। আর সমাজই একটি দেশ ও জাতির ভিত্তি। সুতরাং নারীর ঘরে অবস্থান ও পারিবারিক দায়িত্বপালনকে সাধারণভাবে দেখলে এবং তাকে সমাজের অচল অংশ ভাবার কোনো সুযোগ নেই। নারীজীবনের চরম ও পরম সার্থকতা এবং দেশ ও জাতির চূড়ান্ত সফলতা মূলত এখানেই নিহিত। পরিবারেই শিশু প্রকৃত ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে এবং তার মানে মানবীয় গুণ ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে এবং তার সার্বিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হয়। পরিবারে নারীর যথাযোগ্য উপস্থিতি ও দায়িত্বপালন একদিকে যেমন বর্তমান সময় ও সমাজকে রক্ষা করে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ-প্রজন্মকেও যোগ্য করে গড়ে তোলে।

কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যখন নারীর কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যেমন কোনো বিধবা, কিংবা তালাকপ্রাপ্তা নারী যাদের ভরণপোষণ করার কেউ নেই। বিশেষত বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেহেতু ইসলামী আইনের প্রয়োগ নেই, এবং ইসলামী মূল্যবোধও প্রায় অনুপস্থিত, সেহেতু যেসব দূরবর্তী মাহরামদের ওপর ভরণপোষণের আবশ্যকতা আছে তারা দায় এড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। অথবা তারা দায়িত্ব পালন করলেও বিষয়টা খুব একটা সম্মানজনক হয় না। অনেক সময় নারী এমন পরিবারের সদস্য হয় যেখানে অভাব-অনটন অনেক বেশি। ছোট ভাই-বোনের খরচপাতি যোগাতে মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। অনেক মেয়ের স্বামীর আয়-উপার্জন কম হয়। পরিবারের সব দায় মেটে না। মিটলেও সুখেই টানাটানি করে। স্বামীর কষ্ট লাঘব করার জন্য নারীরও কিছু একটা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অধিকাংশের চাকরিজীবী হওয়ার নেশা। আবার নারীর প্রতি সমাজেরও প্রয়োজন পড়ে। যেমন চিকিৎসার কথাই ধরি। সমাজের নারীশ্রেণি অত্যন্ত চিকিৎসায় মেয়ে ডাক্তারদের প্রতিই আস্থা বোধ করে। বিশেষত মেয়েলি বিষয়গুলোতে। যদিও ইসলাম প্রয়োজনের কারণে মেয়ে-ডাক্তার না থাকলে পুরুষ-ডাক্তার দেখানোয়, এমনকি সতর খোলারও অনুমতি দিয়েছে।

আমি যেহেতু জীবনের শুরুতে একজন কর্মজীবী নারী ছিলাম, সেহেতু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, কোনো নারী যদি ঘরে একজন স্ত্রী ও মা হিসেবে তার প্রথম ও প্রধান মৌলিক দায়িত্বটি পালন করতে পারেন, পাশাপাশি ঘরের বাইরেও কাজ করতে পারেন, তা হলে মনে হয় না কেউ আপত্তি করবে।

কিন্তু এটা আদৌ সম্ভব কি না—বাইরে কাজ করেও কি নারী স্বামী-সন্তানকে যথাযথ সময় দিতে পারবে? কাজের সময় তার অনুপস্থিতিতে তার সন্তান দেখাশোনা ও লালনপালন করবে কে? বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কেননা, এটিই নারীর প্রথম ও প্রধান মৌলিক দায়িত্ব। যেমন তেমন যুক্তি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া অবশ্যই ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।

তবে যদি এমন কোনো কোল পেয়ে যান যাতে শিশুর অযত্ন না হয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক সব দাবি ও অধিকারই রক্ষিত হবে, তা হলে তার অনুপস্থিতির সময়টুকু উপযুক্ত কোলদাত্রীকেই সে অর্পণ করে যাওয়ায় কোনো বাধা থাকার কথা নয়। কেননা, আমি মনে করি, সন্তানকে কী পরিমাণ সময় দেওয়া হলো সেটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়া হলো কীভাবে দেওয়া হলো এবং তাতে তার তালিম তরবিয়ত কতটুকু হলো। অনেক নারীই আছেন, যাদের এক মুহূর্তের জন্যও বাইরে যেতে হয় না; অথচ সন্তানের তালিম তরবিয়তে এমন কিছু করেন না যা তার মানসিক বিকাশ, আচার-ব্যবহার ও ধর্মীয় বিকাশে কোনো রকম প্রশংসাযোগ্য। আবার অনেক কর্মজীবী নারী আছেন, যাদের অনেক বাইরে যেতে হয়; কিন্তু সন্তানের তালিম তরবিয়তের ব্যাপারে তিনি এমন কিছু করতে পারেন যা তাকে প্রশংসিত করে। তা হলে মূল বিষয়টি হলো মায়ের সচেতনতা এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা। বিচক্ষণ নারী তার প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবেন। এক একটি মিনিট হিসাব করে কাজ করবেন। খুচরা সময়গুলোকেও কাজে লাগাবেন। এভাবে তিনি যদি জীবনটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নেন, এবং সুপরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালিত করেন, তা হলে ইনশাআল্লাহ পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে প্রাপ্য অধিকার প্রদান করতে পারবেন। সেই সাথে সময়সূচি অনুযায়ী সুপরিকল্পিতভাবে নিয়মিত কাজ করার অভ্যাস গঠন করার মাধ্যমে চাইলেই পরিবারের কাজের পাশাপাশি বাইরের কাজও করতে পারবেন।

কিন্তু এটা আদৌ সম্ভব কি না—একজন নারী এভাবে দ্বিমুখী দায়িত্বপালন করতে গিয়ে জীবনে বড় ক্ষতির মুখেও পড়ে। অনেকেরই তাতে দৈহিক ক্ষতির শিকার হন। তাই ভেবেচিন্তে কাজ করা উচিত। তবে এটাও ঠিক যে, প্রকৃত অর্থে কোনো কঠিন কাজও সহজে হয়ে যায়। শরীরের ক্লান্তি সে আর এমন কী! একটু বিশ্রামেই কি যথেষ্ট নয় শরীরের অবসাদ দূর করার জন্য? কিন্তু অলস মনের অবকাশ—সে তো আরামে আরামে ঘুমিয়েও পূর্ণ হয় না।

যাই হোক, আমরা নারীকে কর্মের ময়দানে নামতে উৎসাহিত করছি না। কিন্তু ভাগ্য যাদের কাজে নামিয়েছে বা নামানোর বন্দোবস্ত করে ফেলেছে, তাদেরকে তাদের মৌলিক দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেন সময় ও সামর্থ্যের দায় মেটাতে গিয়ে নিজের মৌলিক দায়িত্বের কথা ভুলে না বসেন; বরং প্রয়োজনে মূলকেই প্রাধান্য দিয়ে সুস্থ ও সঠিক জীবনে ফিরে আসার ব্যাপারে উৎসাহী হন।

মনে রাখতে হবে, নারীর কর্মজীবন ও ধর্মজীবন যেন পরস্পর বিরোধী না হয়। কর্মজীবন অবশ্যই ধর্মজীবনের অনুগত হবে। ধর্মজীবন কখনোই কর্মজীবনের অনুগত হবে না। এই মূলনীতিকে সামনে রেখে আমরা নারীর কর্ম ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত কিছু শর্তাবলি উপস্থাপন করছি। আশা করি, আমার মুসলিম ভগ্নীগণ তাদের কর্মজীবনে এই শর্তাবলি অনুসরণ করে মুসলিম নারীসমাজের স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য অক্ষত রাখবেন:

১. স্বামীর স্বতন্ত্র কর্তৃত্বকে সম্মান জানিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁর অনুমতি ও সমর্থন ছাড়া কাজ করা যাবে না। কেননা, তিনি আপনার অভিভাবক। সাধ্যমতো আপনার ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁর।

২. অবশ্যই নারীকে নারীর প্রথম ও প্রধান মৌলিক দায়িত্ব (অর্থাৎ সন্তান লালনপালন, ঘর দেখভাল, স্বামীসেবা ইত্যাদি) এবং কর্মজীবনের দায়ের মধ্যে সমন্বয় করার সক্ষমতা রাখতে হবে। তিনি যদি একজন আদর্শ মা হিসেবে সন্তান লালনপালন, একজন আদর্শ নারী হিসেবে পরিবার-পরিচালনা এবং একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে স্বামীর যাবতীয় হক আদায় করতে পারেন; এবং এ সবকিছুর ঠিক রেখেও বাইরের কাজে সময় দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তা হলেই কেবল কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার অনুমতি থাকবে। নয়তো ঘরে অবস্থান করে নারীর মৌলিক দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করাই হবে সুবিবেচনার পরিচায়ক। বিশ্বাস করুন, আপনার দ্বারা দেশ ও জাতি এটাই অধিক উপকৃত হবে। আপনার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সৌভাগ্য অনিশ্চিত হবে না।

৩. নারী যে কাজটা করবেন, তা অবশ্যই শরীয়াহ-অনুমোদিত হতে হবে—যেমন: শিক্ষকতা, ডাক্তারি ইত্যাদি। যা শরীয়াহ-অনুমোদিত নয়, তাতে কিছুতেই কখনোই জড়ানো যাবে না—যেমন: অভিনয়, নৃত্য, শরাব পান করানো ইত্যাদি।

৪. নারী যে কাজ করবেন, তা অবশ্যই এমন হতে হবে যাতে ইসলামের ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্দাব্যবস্থার ব্যাঘাত ঘটবে না।

৫. নারী অবশ্যই এমন কোনো কাজে নিজেকে জড়াবেন না যাতে পুরুষদের সাথে মিশতে হয়। কিংবা একান্তে পুরুষদের সাথে কাজ করতে বা কথা বলতে হয়।

৬. অবশ্যই পর্দার সাথে কাজে যেতে হবে, পর্দার সাথে কাজ করতে হবে। কখনোই নারী সহজাত লজ্জাশীলতা ও গাম্ভীর্যকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না। মাথায় রাখতে হবে, যেন তার দ্বারা কিছুতেই তার প্রতি কোনো পুরুষের দৃষ্টি বা মনোযোগ আকর্ষণ না হয়। নয়তো আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে; সমাজে চারিত্রিক ফেতনা ও পারিবারিক ধ্বংস নামিয়ে একটি সমাজকে যারা নষ্ট করছে, সেই অপরাধীদের কাতারেই দাঁড়াতে হবে। যাদের পরিণাম হলো—'দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক আজাব'।

৭. কাজ অবশ্যই নারীর প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ নির্মাণকাজে শ্রমিক হওয়া অবশ্যই নারীর প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৮. সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী-সন্তানের প্রতি কার্পণ্য না করা। এ কথা না বলা যে, আমার টাকা আমি যেভাবে খুশি সেভাবে খরচ করব। কেননা, স্বামী-সন্তানের সমস্তটুকু নিয়েই আপনি কাজ করছেন। তাদের প্রতি আপনার হিতাকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। যথাসম্ভব উপার্জন থেকে সংসারে অবদান রাখুন। সাধ্যমতো দান-সদকা করুন। হয়তো এর উসিলায় আল্লাহ আপনার ত্রুটিগুলোর মোচন ও মার্জনা করবেন।

দম্পতিরা পারস্পরিক মতৈক্যের ভিত্তিতে যদি কর্মজীবন বেছে নেয়, পরিবার ও সন্তানের দেখাশোনায় একে অপরের সহযোগিতার মানসিকতা পোষণ করে, তা হলে স্ত্রীর কর্ম—আশা করা যায়—পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সৌভাগ্যর কারণ হবে। দুঃখ, দুর্দশা ও ভাঙনের কারণ হবে না। যেমনটি শোনা যায় যে, অনেক পরিবারের দাম্পত্যকলহের একমাত্র কারণ হচ্ছে—নারীর কর্ম। যা একপর্যায়ে বিচ্ছেদের সৃষ্টি করে। কোনো পরিবারে যদি এমন আশঙ্কা থাকে, তা হলে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। যার যে বিষয়ের ধারণক্ষমতা নেই, তার সে বিষয়ে হাত দেওয়া মোটেই বিচক্ষণতার কথা নয়—নিরেট নির্বুদ্ধিতা।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ


আরব বিশ্বে অসংখ্য প্রচারমাধ্যম এবং অসংখ্য প্রোপাগান্ডা উক্তি মানুষকে অনেক আগে থেকেই। বিশেষত জায়নবাদের প্রচারস্রোত চলছে জোরেশোরে। বড় চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিমায়, বাগাড়ম্বর ভাষায় চলছে অনবরত বক্তৃতা ও বিবৃতির ফুলঝুরি। দেখানো হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী ও একটি সন্তান দ্বারা গঠিত ছোট ছোট পরিবারের নিখুঁত সুন্দর চিত্র। স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, সন্তান একটি হলে দুটি নয়, দুটি হলে আর নয়। বোঝানো হচ্ছে, এরকম ছোট ছিমছাম পরিবারে জীবন কত সহজ হয়, সুখের হয়। দাম্পত্যজীবন কত মধুময় লাগে, সুসময় লাগে। পক্ষান্তরে যদি সন্তান বেশি হয়, যদি পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে যায়, তা হলে জীবনে সেই স্বাচ্ছন্দ্য, সেই সুসময়তা ও মধুময়তা থাকে না। আর জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনকারী নারীদের স্তুতি তো মাথা হেঁট করার মতো। কিন্তু যত প্রোপাগান্ডাই হোক, চাইলেই তো প্রকৃতিকে উল্টে দেওয়া যায় না। মা ও শিশুর ভালোবাসা যে প্রকৃতিজাত বিষয়।

মূলত পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণেই এইসব প্রোপাগান্ডার প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণকে পক্ষ বলা হয়, এভাবে যদি উদ্দাম গতিতে জনসংখ্যা বাড়তে থাকে, তা হলে অচিরেই এমন দিন আসবে, যেদিন ভূগর্ভস্থ উপায়ই মানুষের প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থ হবে। অথচ তারা ভুলে যান যে, আল্লাহই এই পৃথিবীর স্রষ্টা। যিনি যতদিন পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখবেন, ততদিন পৃথিবীর যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করবেন। রিজিক একমাত্র আল্লাহ্র হাতে। আল্লাহ্র ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করার অধিকার ও ক্ষমতা কারো নেই। তিনি এই ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান প্রতিটি জীবের রিজিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ্ই ইরশাদ করেছেন,

فِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ

অর্থ : আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক, তোমাদের সাথে কৃত যাবতীয় প্রতিশ্রুতি। সুতরাং আসমান ও জমিনের রবের কসম, এই কুরআন বাস্তব সত্য —ঠিক যেমন তোমরা এখন কথা বলছ। —সূরা যারিয়াত, আয়াত : ২২-২৩

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন,

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

অর্থ : পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণী নেই যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি (যেমন) তার আবাস সম্পর্কে অবগত, (তেমনি মৃত্যুর পর) তাকে যেখানে সোপর্দ করা হবে তাও তিনি জানেন। সবই লিপিবদ্ধ সুস্পষ্ট কিতাবে। —সূরা হুদ, আয়াত : ৬

কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঢালাও জন্মনিয়ন্ত্রণের নির্দেশ জারি করা বা এর পক্ষে জনমত গঠনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে মোটেই সুখবর হবে না। বরং রাষ্ট্রের উচিত হবে, এমন যৌক্তিক নীতিমালা ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাতে জনসংখ্যা জনসমস্যা নয়, বরং জনশক্তিতে পরিণত হয়। দেশের এক একটি সন্তান যেন অন্তত এক একটি অঙ্গনের এক একটি শূন্যতা দূর করতে পারে। আমরা মনে করি, জন্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশ ও জাতির শক্তি খর্ব করার চাইতে এইদিকে মনোযোগী হওয়াই বেশি ভালো হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে অনেকে যুক্তি দেন, বেশি সন্তান হলে মা বাবার ওপর চাপ হয়ে যায়। তাদের সঠিক লালনপালন না হলে সামাজিকভাবে ধস নামে। সামাজিক অবক্ষয়, অধঃপতনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে নারীর মৌলিক দায়িত্ব হলো ঘরে বসে সন্তান লালনপালন করা, সে নারীকে যদি নানা প্রোপাগান্ডায় টেনে হেঁচড়ে রাস্তায় নামানো হয় এবং বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার নামে পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করানোর ছোল পেঁচানো হয়, তা হলে একটি বা দুটি সন্তানকেও যথাযথ প্রতিপালন সম্ভব নয় যা সামাজিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে ইতিবাচক। বরং একধরনের মা-বাবার জন্য দুটি কেন, একটি সন্তানও মানুষ করতে পারা কঠিন —তাই পলেফিক্সমির মতো কোনো শিশুপ্রতিপালন সংস্থায়ও সহায়তা নিতে হতে পারে।

তবে ইসলামের সরল সঠিক পথ সব সময়ই মধ্যমতা অবলম্বন করে। একদম বাড়াবাড়ি বা একেবারে ছাড়াছাড়ির মতো দুই প্রান্তিকতাকে ইসলাম কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। সুতরাং মা যেন প্রতিটি শিশুকে যথাযথ আদর সোহাগ ও অধিকার দিতে পারে, সার্বিকভাবে প্রত্যেকের লালনপালন করতে পারে, সেজন্য ইসলাম স্বামী-স্ত্রীকে এই দুই গণ্ডিরঘরের মাঝে যৌক্তিক ব্যবধান রাখার সুযোগ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন,

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

অর্থ : আমি মানুষকে উপদেশ দিয়েছি পিতা-মাতার প্রতি সদাচারের। কেননা, তার মা তাকে গর্ভে কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছেন। তার দুধ ছাড়ানোর সময়কাল ছিল দুই বছর। আমি মানুষকে উপদেশ দিয়েছি এই মর্মে যে, তুমি আমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। মনে রেখো, আমার কাছেই তোমাকে ফিরে আসতে হবে। —সূরা লুকমান : ১৪

অনুরূপভাবে যদি এমন হয় যে, মা পরপর প্রত্যেক সন্তানের প্রয়োজন পূরণ সক্ষম নন, যাতে তাদের দেখাশোনা ও লালনপালনে ঘাটতি দেখা দেয়, যা তাদের জীবনকে সুখময় শান্তিময় করতে ব্যর্থ হয়, তা হলে তো একথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ্ কাউকেই তার সামর্থ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না। তা ছাড়া, দায়িত্বপূর্ণ দেখাশোনা ও অর্থপূর্ণ লালনপালনই ইসলামে কাম্য। নিছক সন্তানের আধিক্য কখনোই ইসলামে কাম্য নয়। আবার এই কথাটাকে আইনের ফাঁকফোকর হিসেবে গ্রহণ করাও কোনো মুসলমানের সাজে না। কেননা, আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাত। তিনি গুপ্ত ও ব্যক্ত সবেরই অবগত। কোনো কিছুই তার কাছে গোপন থাকে না।

অনুরূপভাবে যদি এমন হয় যে, সন্তান নিতে গেলে নারীর জীবনের ঝুঁকি দেখা দেয়, তা হলেও তার জন্য সন্তানগ্রহণ থেকে বিরত থাকার বৈধতা ইসলামে আছে। কেননা, শরী'আতের মানশা হলো মায়ের জীবন রক্ষা করা। মা-ই তো আসল। মা বেঁচে থাকলেই না সন্তান জন্ম নেবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px