📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৯. হালের কথা জানুন

📄 ৯. হালের কথা জানুন


দায়িয়াকে অবশ্যই সমসাময়িক আলোচিত সমালোচিত বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। পত্রপত্রিকাতেও এখন ইসলাম-বিরোধী অনেক লেখালেখি চলছে। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ইসলাম-বিদ্বেষ অনেক লেখক ও পত্রিকারই অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। অনেক চিন্তাকর্ষক নিরীহ শব্দের ছদ্মাবরণে এসব লেখালেখি চলে। তাদের ভুলভাল ব্যাখ্যা, মনগড়া বিশ্লেষণ, স্পষ্ট মিথ্যাচার ও প্রকাশ্য ধর্মবিদ্বেষ সরলপ্রাণ মুসলমানের ঈমান ও আকীদার জন্য একএকটা মরণফাঁদ রচনা করছে। ইসলাম সম্পর্কে যাদের তেমন ধারণা নেই, বা ধর্মীয় ব্যাপারে অনভিজ্ঞ, তারা প্রায়ই এসব দূষিত চিন্তা-চেতনার দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। দায়িয়া যদি এসব বিষয়ে উদাসীন থাকেন তা হলে দাওয়াতি কার্যক্রম সফলতা লাভ করা কঠিন। বিশেষত শিক্ষিতমহলে, শিক্ষাঙ্গন-পরিবেশে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বিভিন্ন মাদরাসা, জামিয়া, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় দাওয়াতের কাজ চালু রাখতে হবে। মুসলিম মেয়েদের ঈমান আকীদার হেফাজতের জন্য দায়িয়াদের অবিরাম সাধনার প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাগুলো সব সময় তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এটাকে কোনো মৌসুমি কাজ বানানো যাবে না। এটা সব সময়ের কাজ। নির্দিষ্ট কোনো সময়ে দাওয়াতের কাজ হলো, অন্য সময় বন্ধ থাকল এমনটা হলে চলবে না। সবকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ সব সময় সবখানে থাকতে হবে।

বিভিন্ন মুসলিম ও আরব দেশে দেখা যায়, শুধু নির্বাচনী সময় ও এলাকাতে দাওয়াতী কাজ হয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দাওয়াত সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপর থেমে যায়। যেন দাওয়াত শুধু ওই সময় ও ওই এলাকার সাথে সীমাবদ্ধ। দাওয়াতের জন্য সার্বক্ষণিক তৎপরতা চাই। সাময়িক তৎপরতার সুফলও সাময়িক।

আপনি যদি দাওয়াতের কাজে সফল হতে চান, তা হলে অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তী দাইয়াদের সাথে কথা বলুন, সময় দিন। তাদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই আপনার উপকারে আসবে। বিশেষত উলামামহল ও ধর্মীয় স্কলারদের সাথে যোগাযোগ ও দিক-নির্দেশনা অবশ্যই কাম্য। সরাসরি তাদের দ্বারা পরিচালিত কোনো উদ্যোগ থাকলে তো খুবই ভালো। তা না হলে, অন্তত তাদের লিখিত দাওয়াত ও তাবলীগের উসুল ও আদাব সম্পর্কিত লেখাগুলোকে পাঠ করে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

আপনি যেসব ছাত্রীদের ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেবেন, তাদের প্রত্যেকের অন্তরে ঈমানী জাগ্রত ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা মুসলিম উম্মাহর সফলতার অপরিহার্য উপাদান। মহান আল্লাহ ইরশাদ করছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٠২﴾ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٠৩﴾ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ : হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো—সত্যিকারের ভয় করা। তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা আল্লাহ্র রজ্জুকে আকড়ে ধরো সকলে। তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। স্মরণ করো আল্লাহ্র অনুগ্রহের কথা, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তখন তিনিই তোমাদের মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করলেন। তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহে হয়ে গেলে পরস্পর ভাই ভাই। তোমরা ছিলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করেন। হয়তো তোমরা দিশা পাবে। তোমাদের মধ্য থেকে একটি দল যেন এমন থাকে যারা সৎ কাজের আদেশ করে, অসৎ কাজের নিষেধ করে। আর তারাই সফলকাম। —সূরা আলে ইমরান : ১০২-১০৪

তাহলে প্রথমে অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি ঈমান স্থাপন করতে হবে। তারপর আল্লাহ্র সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। তারপর মুমিনদের মধ্যে ঈমানের বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। এই তিনটি কাজ পূর্ণ হলে ন্যায় ও সত্যের ওপর এক অপরের সহযোগিতার ভিত্তিতে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। মুমিন মুমিনের জন্য মজবুত দুর্গের মতো। একে অপরকে শক্তি যোগাবে। এ বন্ধন অটুট থাকবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করার পরও। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আল্লাহ্র জন্য, যারা এক অপরকে ভালোবাসে তাদের অন্তরকে প্লাবিত রাখে। তাদের জন্য সময় ও স্থানের দূরত্ব কোনো বাধা হতে পারে না।

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় আল্লাহ্র বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নবীও নয় শহীদও নয়; কিন্তু নবী ও শহীদগণও তাদের মর্যাদার প্রতি ঈর্ষাবোধ করবে। বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমাদের বলুন, তারা কারা? আমরা যদি তাদেরকে ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন, এরা এমন কিছু মানুষ যারা একে অপরকে ভালোবাসে শুধু আল্লাহ্র জন্য। না আত্মীয়তার বন্ধন তাদের মধ্যে রাখে, না তাদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়। আল্লাহ্র কসম, এরা আলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। যখন মানুষ ভয়ে ভীত থাকবে তখনও এরা ভীত হবে না। যখন মানুষ দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকবে তখনও এরা চিন্তিত হবে না। অতঃপর তিনি এই এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ : শোনো, আল্লাহ্র বন্ধুদের না কোনো ভয় থাকবে, আর না তারা চিন্তিত হবে। —সূরা ইউনুস : ৬২' ১

টিকাঃ
১. তিরমিযী (হুসনাদ, সহীহ)।

দায়িয়াকে অবশ্যই সমসাময়িক আলোচিত সমালোচিত বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। পত্রপত্রিকাতেও এখন ইসলাম-বিরোধী অনেক লেখালেখি চলছে। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ইসলাম-বিদ্বেষ অনেক লেখক ও পত্রিকারই অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। অনেক চিন্তাকর্ষক নিরীহ শব্দের ছদ্মাবরণে এসব লেখালেখি চলে। তাদের ভুলভাল ব্যাখ্যা, মনগড়া বিশ্লেষণ, স্পষ্ট মিথ্যাচার ও প্রকাশ্য ধর্মবিদ্বেষ সরলপ্রাণ মুসলমানের ঈমান ও আকীদার জন্য একএকটা মরণফাঁদ রচনা করছে। ইসলাম সম্পর্কে যাদের তেমন ধারণা নেই, বা ধর্মীয় ব্যাপারে অনভিজ্ঞ, তারা প্রায়ই এসব দূষিত চিন্তা-চেতনার দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। দায়িয়া যদি এসব বিষয়ে উদাসীন থাকেন তা হলে দাওয়াতি কার্যক্রম সফলতা লাভ করা কঠিন। বিশেষত শিক্ষিতমহলে, শিক্ষাঙ্গন-পরিবেশে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বিভিন্ন মাদরাসা, জামিয়া, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় দাওয়াতের কাজ চালু রাখতে হবে। মুসলিম মেয়েদের ঈমান আকীদার হেফাজতের জন্য দায়িয়াদের অবিরাম সাধনার প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাগুলো সব সময় তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এটাকে কোনো মৌসুমি কাজ বানানো যাবে না। এটা সব সময়ের কাজ। নির্দিষ্ট কোনো সময়ে দাওয়াতের কাজ হলো, অন্য সময় বন্ধ থাকল এমনটা হলে চলবে না। সবকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ সব সময় সবখানে থাকতে হবে।

বিভিন্ন মুসলিম ও আরব দেশে দেখা যায়, শুধু নির্বাচনী সময় ও এলাকাতে দাওয়াতী কাজ হয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দাওয়াত সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপর থেমে যায়। যেন দাওয়াত শুধু ওই সময় ও ওই এলাকার সাথে সীমাবদ্ধ। দাওয়াতের জন্য সার্বক্ষণিক তৎপরতা চাই। সাময়িক তৎপরতার সুফলও সাময়িক।

আপনি যদি দাওয়াতের কাজে সফল হতে চান, তা হলে অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তী দাইয়াদের সাথে কথা বলুন, সময় দিন। তাদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই আপনার উপকারে আসবে। বিশেষত উলামামহল ও ধর্মীয় স্কলারদের সাথে যোগাযোগ ও দিক-নির্দেশনা অবশ্যই কাম্য। সরাসরি তাদের দ্বারা পরিচালিত কোনো উদ্যোগ থাকলে তো খুবই ভালো। তা না হলে, অন্তত তাদের লিখিত দাওয়াত ও তাবলীগের উসুল ও আদাব সম্পর্কিত লেখাগুলোকে পাঠ করে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

আপনি যেসব ছাত্রীদের ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেবেন, তাদের প্রত্যেকের অন্তরে ঈমানী জাগ্রত ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা মুসলিম উম্মাহর সফলতার অপরিহার্য উপাদান। মহান আল্লাহ ইরশাদ করছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٠২﴾ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٠৩﴾ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ : হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো—সত্যিকারের ভয় করা। তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা আল্লাহ্র রজ্জুকে আকড়ে ধরো সকলে। তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। স্মরণ করো আল্লাহ্র অনুগ্রহের কথা, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তখন তিনিই তোমাদের মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করলেন। তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহে হয়ে গেলে পরস্পর ভাই ভাই। তোমরা ছিলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করেন। হয়তো তোমরা দিশা পাবে। তোমাদের মধ্য থেকে একটি দল যেন এমন থাকে যারা সৎ কাজের আদেশ করে, অসৎ কাজের নিষেধ করে। আর তারাই সফলকাম। —সূরা আলে ইমরান : ১০২-১০৪

তাহলে প্রথমে অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি ঈমান স্থাপন করতে হবে। তারপর আল্লাহ্র সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। তারপর মুমিনদের মধ্যে ঈমানের বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। এই তিনটি কাজ পূর্ণ হলে ন্যায় ও সত্যের ওপর এক অপরের সহযোগিতার ভিত্তিতে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। মুমিন মুমিনের জন্য মজবুত দুর্গের মতো। একে অপরকে শক্তি যোগাবে। এ বন্ধন অটুট থাকবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করার পরও। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আল্লাহ্র জন্য, যারা এক অপরকে ভালোবাসে তাদের অন্তরকে প্লাবিত রাখে। তাদের জন্য সময় ও স্থানের দূরত্ব কোনো বাধা হতে পারে না।

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় আল্লাহ্র বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নবীও নয় শহীদও নয়; কিন্তু নবী ও শহীদগণও তাদের মর্যাদার প্রতি ঈর্ষাবোধ করবে। বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমাদের বলুন, তারা কারা? আমরা যদি তাদেরকে ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন, এরা এমন কিছু মানুষ যারা একে অপরকে ভালোবাসে শুধু আল্লাহ্র জন্য। না আত্মীয়তার বন্ধন তাদের মধ্যে রাখে, না তাদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়। আল্লাহ্র কসম, এরা আলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। যখন মানুষ ভয়ে ভীত থাকবে তখনও এরা ভীত হবে না। যখন মানুষ দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকবে তখনও এরা চিন্তিত হবে না। অতঃপর তিনি এই এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ : শোনো, আল্লাহ্র বন্ধুদের না কোনো ভয় থাকবে, আর না তারা চিন্তিত হবে। —সূরা ইউনুস : ৬২' ১

টিকাঃ
১. তিরমিযী (হুসনাদ, সহীহ)।

দায়িয়াকে অবশ্যই সমসাময়িক আলোচিত সমালোচিত বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। পত্রপত্রিকাতেও এখন ইসলাম-বিরোধী অনেক লেখালেখি চলছে। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ইসলাম-বিদ্বেষ অনেক লেখক ও পত্রিকারই অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। অনেক চিন্তাকর্ষক নিরীহ শব্দের ছদ্মাবরণে এসব লেখালেখি চলে। তাদের ভুলভাল ব্যাখ্যা, মনগড়া বিশ্লেষণ, স্পষ্ট মিথ্যাচার ও প্রকাশ্য ধর্মবিদ্বেষ সরলপ্রাণ মুসলমানের ঈমান ও আকীদার জন্য একএকটা মরণফাঁদ রচনা করছে। ইসলাম সম্পর্কে যাদের তেমন ধারণা নেই, বা ধর্মীয় ব্যাপারে অনভিজ্ঞ, তারা প্রায়ই এসব দূষিত চিন্তা-চেতনার দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। দায়িয়া যদি এসব বিষয়ে উদাসীন থাকেন তা হলে দাওয়াতি কার্যক্রম সফলতা লাভ করা কঠিন। বিশেষত শিক্ষিতমহলে, শিক্ষাঙ্গন-পরিবেশে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বিভিন্ন মাদরাসা, জামিয়া, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় দাওয়াতের কাজ চালু রাখতে হবে। মুসলিম মেয়েদের ঈমান আকীদার হেফাজতের জন্য দায়িয়াদের অবিরাম সাধনার প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাগুলো সব সময় তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এটাকে কোনো মৌসুমি কাজ বানানো যাবে না। এটা সব সময়ের কাজ। নির্দিষ্ট কোনো সময়ে দাওয়াতের কাজ হলো, অন্য সময় বন্ধ থাকল এমনটা হলে চলবে না। সবকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ সব সময় সবখানে থাকতে হবে।

বিভিন্ন মুসলিম ও আরব দেশে দেখা যায়, শুধু নির্বাচনী সময় ও এলাকাতে দাওয়াতী কাজ হয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দাওয়াত সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপর থেমে যায়। যেন দাওয়াত শুধু ওই সময় ও ওই এলাকার সাথে সীমাবদ্ধ। দাওয়াতের জন্য সার্বক্ষণিক তৎপরতা চাই। সাময়িক তৎপরতার সুফলও সাময়িক।

আপনি যদি দাওয়াতের কাজে সফল হতে চান, তা হলে অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তী দাইয়াদের সাথে কথা বলুন, সময় দিন। তাদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই আপনার উপকারে আসবে। বিশেষত উলামামহল ও ধর্মীয় স্কলারদের সাথে যোগাযোগ ও দিক-নির্দেশনা অবশ্যই কাম্য। সরাসরি তাদের দ্বারা পরিচালিত কোনো উদ্যোগ থাকলে তো খুবই ভালো। তা না হলে, অন্তত তাদের লিখিত দাওয়াত ও তাবলীগের উসুল ও আদাব সম্পর্কিত লেখাগুলোকে পাঠ করে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

আপনি যেসব ছাত্রীদের ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেবেন, তাদের প্রত্যেকের অন্তরে ঈমানী জাগ্রত ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা মুসলিম উম্মাহর সফলতার অপরিহার্য উপাদান। মহান আল্লাহ ইরশাদ করছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٠২﴾ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٠৩﴾ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ : হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো—সত্যিকারের ভয় করা। তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা আল্লাহ্র রজ্জুকে আকড়ে ধরো সকলে। তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। স্মরণ করো আল্লাহ্র অনুগ্রহের কথা, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তখন তিনিই তোমাদের মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করলেন। তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহে হয়ে গেলে পরস্পর ভাই ভাই। তোমরা ছিলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করেন। হয়তো তোমরা দিশা পাবে। তোমাদের মধ্য থেকে একটি দল যেন এমন থাকে যারা সৎ কাজের আদেশ করে, অসৎ কাজের নিষেধ করে। আর তারাই সফলকাম। —সূরা আলে ইমরান : ১০২-১০৪

তাহলে প্রথমে অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি ঈমান স্থাপন করতে হবে। তারপর আল্লাহ্র সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। তারপর মুমিনদের মধ্যে ঈমানের বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। এই তিনটি কাজ পূর্ণ হলে ন্যায় ও সত্যের ওপর এক অপরের সহযোগিতার ভিত্তিতে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। মুমিন মুমিনের জন্য মজবুত দুর্গের মতো। একে অপরকে শক্তি যোগাবে। এ বন্ধন অটুট থাকবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করার পরও। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আল্লাহ্র জন্য, যারা এক অপরকে ভালোবাসে তাদের অন্তরকে প্লাবিত রাখে। তাদের জন্য সময় ও স্থানের দূরত্ব কোনো বাধা হতে পারে না।

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় আল্লাহ্র বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নবীও নয় শহীদও নয়; কিন্তু নবী ও শহীদগণও তাদের মর্যাদার প্রতি ঈর্ষাবোধ করবে। বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমাদের বলুন, তারা কারা? আমরা যদি তাদেরকে ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন, এরা এমন কিছু মানুষ যারা একে অপরকে ভালোবাসে শুধু আল্লাহ্র জন্য। না আত্মীয়তার বন্ধন তাদের মধ্যে রাখে, না তাদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়। আল্লাহ্র কসম, এরা আলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। যখন মানুষ ভয়ে ভীত থাকবে তখনও এরা ভীত হবে না। যখন মানুষ দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকবে তখনও এরা চিন্তিত হবে না। অতঃপর তিনি এই এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ : শোনো, আল্লাহ্র বন্ধুদের না কোনো ভয় থাকবে, আর না তারা চিন্তিত হবে। —সূরা ইউনুস : ৬২' ১

টিকাঃ
১. তিরমিযী (হুসনাদ, সহীহ)।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ১০. চাই প্রিয় নেতৃত্ব

📄 ১০. চাই প্রিয় নেতৃত্ব


দায়িয়াকে হতে হবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সাধারণ নারীদের চাইতে আলাদা গুণ বিশিষ্ট। পরিচালনা, উদ্যম, সার্বক্ষণিক পরিশ্রম, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান, জাগতিক বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের ভাণ্ডার।

একজন সফল দায়িয়াকে ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। যথাস্থানে কথোপকথন ও প্রয়োজনে শালীন বিতর্কে পারদর্শিনী হতে হবে। দান খয়রাত ও সাহায্য সহযোগিতার হাতও হতে হবে প্রসারিত। তিনি হবেন সহনশীলতা, ক্ষমা-মার্জনা ও মহত্ত্বের প্রতিবিম্ব।

দায়িয়ার চরিত্র চিন্তা চেতনা ও কাজ কর্মে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। পর্যাক্রমতা ও গুরুত্বপূর্ণতা অনুসারে। সুতরাং তার কর্তব্যের সূচিপত্রে প্রথমেই আসবে স্বামীর আনুগত্য ও দাম্পত্যজীবনের অধিকার আদায়ের বিষয়টি। তারপর আসবে সন্তান-লালনপালন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনের বিষয়টি। এরপর আসবে দাওয়াতি কাজ।

সফল দায়িয়াকে অনুসরণ করতে হবে একটি যৌক্তিক, সমন্বিত কর্তব্যনীতি। এজন্য তিনি তাঁর মূল্যবান সময়গুলোকে ভাগ করে নেবেন। যাতে একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন গৃহিণী হিসেবে তাঁর ওপর যে মৌলিক দায়িত্বগুলো বর্তায় সেগুলোর মাঝে এবং দাওয়াতি কাজের মাঝে সমন্বয় করা হয় সম্ভবপর। তা না হলে, নারীর যে কোনো কাজই— চাই সেটা দাওয়াতের মতো মহৎ কর্মই হোক বা আজকালকার চাকরিবাকরিই হোক— পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্যজীবনের মূলে গিয়ে আঘাত করে বসবে। যার অনিবার্য ফল হবে সন্তানদের অধিকার লঙ্ঘন। এমন চাকরিবাকরি কোনোভাবেই প্রশংসিত হতে পারে না।

যাই হোক, কথা বলছিলাম দায়িয়াত্বের নেতৃত্বগুণ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং পরবর্তী মুসলিম নারীগণের জীবনদর্শনে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করছি হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রাযি.। তাঁর সুন্দর বাগ্মিতার কারণে তাঁকে বলা হতো খতিবাতুন নিসা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতা বিশিষ্ট। আল্লাহ্র রাস্তার এক গর্বিত মুজাহিদা। ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নয়জন রোমানকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি নারী সাহাবীগণের মধ্যে পালন করতেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। তিনি নারী সাহাবীগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনে মুগ্ধতা প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী।

বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের মধ্যে বসা ছিলেন। হযরত আসমা রাযি. বললেন,
'আপনার প্রতি আমার মা বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার নারী সাহাবীগণের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে আমার পেছনে থাকা মুসলিম নারীদের প্রেরিত দূত। আমি যা বলছি, প্রত্যেকে তা-ই বলছে। আমার যা মত, প্রত্যেকেরও তা-ই মত। আল্লাহ আপনাকে নারী পুরুষের উভয় জন্যেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার অনুসরণ করেছি। আমরা নারীরা অন্তঃপুরবাসিনী, পর্দানশীন; গৃহিণী। স্বামীসেবা আমাদের কাজ, সন্তান-লালনপালন আমাদের কর্তব্য। পক্ষান্তরে পুরুষেরা আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে। জামাতে নামায পড়ে। রোগীদের দেখাশোনা করে। জানাযায় অংশগ্রহণ করে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। তারা যখন জিহাদে বের হয়, তখন আমরা শুধু তাদের ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করি। কাপড় বুনি, ধুই। ছেলেমেয়ে মানুষ করি। হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি পুরুষদের সমান আজর ও সওয়াব অর্জন করতে পারব?'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগ্ধ হয়ে সাহাবা কেরামের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন:
'আমার সাহাবীরা, এর আগে তোমরা কি কোনো নারীর মুখে ধর্মীয় বিষয়ে এরচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ?'

সাহাবীগণ আরজ করলেন:
'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা তো ভাবতেও পারিনি যে, কোনো নারী এভাবে ভাবতে পারে।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমাকে লক্ষ্য করে বললেন,
'আসমা, তুমি ফিরে যাও, তোমার পেছনে থাকা আমার নারী সাহাবীদের জানিয়ে দাও, জীবনসঙ্গীর হক আদায় করা, তার মন রক্ষা করে চলা এবং তার আনুগত্য করা—এ পর্যন্ত পুরুষদের যত মর্যাদার কথা তুমি বললে সবগুলো থেকে—(আজর, সওয়াব ও কল্যাণের দিক থেকে) কোনো অংশে কম নয়।'১

টিকাঃ
১. বানাতুস সাহাবা: ৭৭।

দায়িয়াকে হতে হবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সাধারণ নারীদের চাইতে আলাদা গুণ বিশিষ্ট। পরিচালনা, উদ্যম, সার্বক্ষণিক পরিশ্রম, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান, জাগতিক বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের ভাণ্ডার।

একজন সফল দায়িয়াকে ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। যথাস্থানে কথোপকথন ও প্রয়োজনে শালীন বিতর্কে পারদর্শিনী হতে হবে। দান খয়রাত ও সাহায্য সহযোগিতার হাতও হতে হবে প্রসারিত। তিনি হবেন সহনশীলতা, ক্ষমা-মার্জনা ও মহত্ত্বের প্রতিবিম্ব।

দায়িয়ার চরিত্র চিন্তা চেতনা ও কাজ কর্মে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। পর্যাক্রমতা ও গুরুত্বপূর্ণতা অনুসারে। সুতরাং তার কর্তব্যের সূচিপত্রে প্রথমেই আসবে স্বামীর আনুগত্য ও দাম্পত্যজীবনের অধিকার আদায়ের বিষয়টি। তারপর আসবে সন্তান-লালনপালন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনের বিষয়টি। এরপর আসবে দাওয়াতি কাজ।

সফল দায়িয়াকে অনুসরণ করতে হবে একটি যৌক্তিক, সমন্বিত কর্তব্যনীতি। এজন্য তিনি তাঁর মূল্যবান সময়গুলোকে ভাগ করে নেবেন। যাতে একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন গৃহিণী হিসেবে তাঁর ওপর যে মৌলিক দায়িত্বগুলো বর্তায় সেগুলোর মাঝে এবং দাওয়াতি কাজের মাঝে সমন্বয় করা হয় সম্ভবপর। তা না হলে, নারীর যে কোনো কাজই— চাই সেটা দাওয়াতের মতো মহৎ কর্মই হোক বা আজকালকার চাকরিবাকরিই হোক— পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্যজীবনের মূলে গিয়ে আঘাত করে বসবে। যার অনিবার্য ফল হবে সন্তানদের অধিকার লঙ্ঘন। এমন চাকরিবাকরি কোনোভাবেই প্রশংসিত হতে পারে না।

যাই হোক, কথা বলছিলাম দায়িয়াত্বের নেতৃত্বগুণ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং পরবর্তী মুসলিম নারীগণের জীবনদর্শনে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করছি হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রাযি.। তাঁর সুন্দর বাগ্মিতার কারণে তাঁকে বলা হতো খতিবাতুন নিসা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতা বিশিষ্ট। আল্লাহ্র রাস্তার এক গর্বিত মুজাহিদা। ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নয়জন রোমানকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি নারী সাহাবীগণের মধ্যে পালন করতেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। তিনি নারী সাহাবীগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনে মুগ্ধতা প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী।

বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের মধ্যে বসা ছিলেন। হযরত আসমা রাযি. বললেন,
'আপনার প্রতি আমার মা বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার নারী সাহাবীগণের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে আমার পেছনে থাকা মুসলিম নারীদের প্রেরিত দূত। আমি যা বলছি, প্রত্যেকে তা-ই বলছে। আমার যা মত, প্রত্যেকেরও তা-ই মত। আল্লাহ আপনাকে নারী পুরুষের উভয় জন্যেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার অনুসরণ করেছি। আমরা নারীরা অন্তঃপুরবাসিনী, পর্দানশীন; গৃহিণী। স্বামীসেবা আমাদের কাজ, সন্তান-লালনপালন আমাদের কর্তব্য। পক্ষান্তরে পুরুষেরা আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে। জামাতে নামায পড়ে। রোগীদের দেখাশোনা করে। জানাযায় অংশগ্রহণ করে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। তারা যখন জিহাদে বের হয়, তখন আমরা শুধু তাদের ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করি। কাপড় বুনি, ধুই। ছেলেমেয়ে মানুষ করি। হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি পুরুষদের সমান আজর ও সওয়াব অর্জন করতে পারব?'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগ্ধ হয়ে সাহাবা কেরামের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন:
'আমার সাহাবীরা, এর আগে তোমরা কি কোনো নারীর মুখে ধর্মীয় বিষয়ে এরচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ?'

সাহাবীগণ আরজ করলেন:
'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা তো ভাবতেও পারিনি যে, কোনো নারী এভাবে ভাবতে পারে।'

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমাকে লক্ষ্য করে বললেন,
'আসমা, তুমি ফিরে যাও, তোমার পেছনে থাকা আমার নারী সাহাবীদের জানিয়ে দাও, জীবনসঙ্গীর হক আদায় করা, তার মন রক্ষা করে চলা এবং তার আনুগত্য করা—এ পর্যন্ত পুরুষদের যত মর্যাদার কথা তুমি বললে সবগুলো থেকে—(আজর, সওয়াব ও কল্যাণের দিক থেকে) কোনো অংশে কম নয়।'১

টিকাঃ
১. বানাতুস সাহাবা: ৭৭।

দায়িয়াকে হতে হবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সাধারণ নারীদের চাইতে আলাদা গুণ বিশিষ্ট। পরিচালনা, উদ্যম, সার্বক্ষণিক পরিশ্রম, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান, জাগতিক বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যর ভাণ্ডার।

একজন সফল দায়িয়াকে ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। যথাস্থানে কথোপকথন ও প্রয়োজনে শালীন বিতর্কে পারদর্শিণী হতে হবে। দান খয়রাত ও সাহায্য সহযোগিতার হাতও হতে হবে প্রসারিত। তিনি হবেন সহনশীলতা, ক্ষমা-মার্জনা ও মহত্ত্বের প্রতিবিম্ব। দায়িয়ার চরিত্র চিন্তা চেতনা ও কাজ কর্মে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। পর্যাক্রমতা ও গুরুত্বপূর্ণতা অনুসারে। সুতরাং তার কর্তব্যের সুচিপ্রত্র প্রথমেই আসবে স্বামীর আনুগত্য ও দাম্পত্যজীবনের অধিকার আদায়ের বিষয়টি। তারপর আসবে সন্তান-লালনপালন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনের বিষয়টি। এরপর আসবে দাওয়াতী কাজ।

সফল দায়িয়াকে অনুসরণ করবেন একটি যৌক্তিক, সমন্বিত কর্তব্যনীতি। এজন্য তিনি তাঁর মূল্যবান সময়গুলোকে ভাগ করে নেবেন। যাতে একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন গৃহিণী হিসেবে তাঁর ওপর যে মৌলিক দায়িত্বগুলো বর্তায় সেগুলোর মাঝে এবং দাওয়াতী কাজের মাঝে সময়সমন্বয় হয় সম্ভবপর। তা না হলে, নারীর যে কোনো কাজই— চাই সেটা দাওয়াতের মতো মহৎ কর্মই হোক বা আজকালকার চাকরিবাকরিই হোক— পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্যজীবনের মূলে গিয়ে আঘাত করে বসবে। যার অনিবার্য ফল হবে সন্তানদের অধিকার লাঙ্ঘন। এমন চাকরিবাকরি কোনোভাবেই প্রশংসিত হতে পারে না।

যাই হোক, কথা বলছিলাম দায়িয়াত্বের নেতৃত্বগুণ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং পরবর্তী মুসলিম নারীগণের জীবনদর্শনে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করছি হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রাযি.। তাঁর সুন্দর বাগ্মিতার কারণে তাঁকে বলা হতো খতিবাতুল নিসা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতাবিশিষ্ট। আল্লাহ্র রাস্তার এক গর্বিত মুজাহিদা। ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নয়জন রোমানকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি নারী সাহাবীগণের মধ্যে পালন করতেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। তিনি নারী সাহাবীগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনে মুগ্ধতা প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী।

বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের মধ্যে বসা ছিলেন। হযরত আসমা রাযি. বললেন,
'আপনার প্রতি আমার মা বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার নারী সাহাবীগণের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে আমার পেছনে থাকা মুসলিম নারীদের প্রেরিত দূত। আমি যা বলছি, প্রত্যেকে তা-ই বলছে। আমার যা মত, প্রত্যেকেরও তা-ই মত। আল্লাহ আপনাকে নারী পুরুষের উভয় জন্যেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার অনুসরণ করেছি। আমরা নারীরা অন্তঃপুরবাসিনী, পর্দানশীন; গৃহিণী। স্বামীসেবা আমাদের কাজ, সন্তান-লালনপালন আমাদের কর্তব্য। পক্ষান্তরে পুরুষেরা আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে। জামাতে নামায পড়ে। রোগীদের দেখাশোনা করে। জানাযায় অংশগ্রহণ করে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। তারা যখন জিহাদ বের হয়, তখন আমরা শুধু তাদের ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করি। কাপড় বুনি, ধুই। ছেলেমেয়ে মানুষ করি। হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি পুরুষদের সমান আজর ও সওয়াব অর্জন করতে পারব?'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগ্ধ হয়ে সাহাবা কেরামের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন:
'আমার সাহাবীরা, এর আগে তোমরা কি কোনো নারীর মুখে ধর্মীয় বিষয়ে এরচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ?'

সাহাবীগণ আরজ করলেন:
'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা তো ভাবতেও পারিনি যে, কোনো নারী এভাবে ভাবতে পারে।'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমাকে লক্ষ্য করে বললেন,
'আসমা, তুমি ফিরে যাও, তোমার পেছনে থাকা আমার নারী সাহাবীদের জানিয়ে দাও, জীবনসঙ্গীর হক আদায় করা, তার মন রক্ষা করে চলা এবং তার আনুগত্য করা—এ পর্যন্ত পুরুষদের যত মর্যাদার কথা তুমি বললে সবগুলো থেকে—(আজর, সওয়াব ও কল্যাণের দিক থেকে) কোনো অংশে কম নয়।'

দায়িয়াকে হতে হবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সাধারণ নারীদের চাইতে আলাদা গুণ বিশিষ্ট। পরিচালনা, উদ্যম, সার্বক্ষণিক পরিশ্রম, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান, জাগতিক বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যর ভাণ্ডার।

একজন সফল দায়িয়াকে ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। যথাস্থানে কথোপকথন ও প্রয়োজনে শালীন বিতর্কে পারদর্শিণী হতে হবে। দান খয়রাত ও সাহায্য সহযোগিতার হাতও হতে হবে প্রসারিত। তিনি হবেন সহনশীলতা, ক্ষমা-মার্জনা ও মহত্ত্বের প্রতিবিম্ব। দায়িয়ার চরিত্র চিন্তা চেতনা ও কাজ কর্মে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। পর্যাক্রমতা ও গুরুত্বপূর্ণতা অনুসারে। সুতরাং তার কর্তব্যের সুচিপ্রত্র প্রথমেই আসবে স্বামীর আনুগত্য ও দাম্পত্যজীবনের অধিকার আদায়ের বিষয়টি। তারপর আসবে সন্তান-লালনপালন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনের বিষয়টি। এরপর আসবে দাওয়াতী কাজ।

সফল দায়িয়াকে অনুসরণ করবেন একটি যৌক্তিক, সমন্বিত কর্তব্যনীতি। এজন্য তিনি তাঁর মূল্যবান সময়গুলোকে ভাগ করে নেবেন। যাতে একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন গৃহিণী হিসেবে তাঁর ওপর যে মৌলিক দায়িত্বগুলো বর্তায় সেগুলোর মাঝে এবং দাওয়াতী কাজের মাঝে সময়সমন্বয় হয় সম্ভবপর। তা না হলে, নারীর যে কোনো কাজই— চাই সেটা দাওয়াতের মতো মহৎ কর্মই হোক বা আজকালকার চাকরিবাকরিই হোক— পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্যজীবনের মূলে গিয়ে আঘাত করে বসবে। যার অনিবার্য ফল হবে সন্তানদের অধিকার লাঙ্ঘন। এমন চাকরিবাকরি কোনোভাবেই প্রশংসিত হতে পারে না।

যাই হোক, কথা বলছিলাম দায়িয়াত্বের নেতৃত্বগুণ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং পরবর্তী মুসলিম নারীগণের জীবনদর্শনে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করছি হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রাযি.। তাঁর সুন্দর বাগ্মিতার কারণে তাঁকে বলা হতো খতিবাতুল নিসা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতাবিশিষ্ট। আল্লাহ্র রাস্তার এক গর্বিত মুজাহিদা। ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নয়জন রোমানকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি নারী সাহাবীগণের মধ্যে পালন করতেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। তিনি নারী সাহাবীগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনে মুগ্ধতা প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী।

বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের মধ্যে বসা ছিলেন। হযরত আসমা রাযি. বললেন,
'আপনার প্রতি আমার মা বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার নারী সাহাবীগণের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে আমার পেছনে থাকা মুসলিম নারীদের প্রেরিত দূত। আমি যা বলছি, প্রত্যেকে তা-ই বলছে। আমার যা মত, প্রত্যেকেরও তা-ই মত। আল্লাহ আপনাকে নারী পুরুষের উভয় জন্যেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার অনুসরণ করেছি। আমরা নারীরা অন্তঃপুরবাসিনী, পর্দানশীন; গৃহিণী। স্বামীসেবা আমাদের কাজ, সন্তান-লালনপালন আমাদের কর্তব্য। পক্ষান্তরে পুরুষেরা আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে। জামাতে নামায পড়ে। রোগীদের দেখাশোনা করে। জানাযায় অংশগ্রহণ করে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। তারা যখন জিহাদ বের হয়, তখন আমরা শুধু তাদের ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করি। কাপড় বুনি, ধুই। ছেলেমেয়ে মানুষ করি। হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি পুরুষদের সমান আজর ও সওয়াব অর্জন করতে পারব?'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগ্ধ হয়ে সাহাবা কেরামের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন:
'আমার সাহাবীরা, এর আগে তোমরা কি কোনো নারীর মুখে ধর্মীয় বিষয়ে এরচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ?'

সাহাবীগণ আরজ করলেন:
'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা তো ভাবতেও পারিনি যে, কোনো নারী এভাবে ভাবতে পারে।'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমাকে লক্ষ্য করে বললেন,
'আসমা, তুমি ফিরে যাও, তোমার পেছনে থাকা আমার নারী সাহাবীদের জানিয়ে দাও, জীবনসঙ্গীর হক আদায় করা, তার মন রক্ষা করে চলা এবং তার আনুগত্য করা—এ পর্যন্ত পুরুষদের যত মর্যাদার কথা তুমি বললে সবগুলো থেকে—(আজর, সওয়াব ও কল্যাণের দিক থেকে) কোনো অংশে কম নয়।'

দায়িয়াকে হতে হবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সাধারণ নারীদের চাইতে আলাদা গুণ বিশিষ্ট। পরিচালনা, উদ্যম, সার্বক্ষণিক পরিশ্রম, কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান, জাগতিক বিষয়ে সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যর ভাণ্ডার।

একজন সফল দায়িয়াকে ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। যথাস্থানে কথোপকথন ও প্রয়োজনে শালীন বিতর্কে পারদর্শিণী হতে হবে। দান খয়রাত ও সাহায্য সহযোগিতার হাতও হতে হবে প্রসারিত। তিনি হবেন সহনশীলতা, ক্ষমা-মার্জনা ও মহত্ত্বের প্রতিবিম্ব। দায়িয়ার চরিত্র চিন্তা চেতনা ও কাজ কর্মে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। পর্যাক্রমতা ও গুরুত্বপূর্ণতা অনুসারে। সুতরাং তার কর্তব্যের সুচিপ্রত্র প্রথমেই আসবে স্বামীর আনুগত্য ও দাম্পত্যজীবনের অধিকার আদায়ের বিষয়টি। তারপর আসবে সন্তান-লালনপালন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনের বিষয়টি। এরপর আসবে দাওয়াতী কাজ।

সফল দায়িয়াকে অনুসরণ করবেন একটি যৌক্তিক, সমন্বিত কর্তব্যনীতি। এজন্য তিনি তাঁর মূল্যবান সময়গুলোকে ভাগ করে নেবেন। যাতে একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন গৃহিণী হিসেবে তাঁর ওপর যে মৌলিক দায়িত্বগুলো বর্তায় সেগুলোর মাঝে এবং দাওয়াতী কাজের মাঝে সময়সমন্বয় হয় সম্ভবপর। তা না হলে, নারীর যে কোনো কাজই— চাই সেটা দাওয়াতের মতো মহৎ কর্মই হোক বা আজকালকার চাকরিবাকরিই হোক— পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্যজীবনের মূলে গিয়ে আঘাত করে বসবে। যার অনিবার্য ফল হবে সন্তানদের অধিকার লাঙ্ঘন। এমন চাকরিবাকরি কোনোভাবেই প্রশংসিত হতে পারে না।

যাই হোক, কথা বলছিলাম দায়িয়াত্বের নেতৃত্বগুণ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং পরবর্তী মুসলিম নারীগণের জীবনদর্শনে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করছি হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ বিন সাকান রাযি.। তাঁর সুন্দর বাগ্মিতার কারণে তাঁকে বলা হতো খতিবাতুল নিসা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতাবিশিষ্ট। আল্লাহ্র রাস্তার এক গর্বিত মুজাহিদা। ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নয়জন রোমানকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি নারী সাহাবীগণের মধ্যে পালন করতেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। তিনি নারী সাহাবীগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যেতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনে মুগ্ধতা প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী।

বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের মধ্যে বসা ছিলেন। হযরত আসমা রাযি. বললেন,
'আপনার প্রতি আমার মা বাবা কুরবান হোক, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার নারী সাহাবীগণের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। আমি এই মুহূর্তে আমার পেছনে থাকা মুসলিম নারীদের প্রেরিত দূত। আমি যা বলছি, প্রত্যেকে তা-ই বলছে। আমার যা মত, প্রত্যেকেরও তা-ই মত। আল্লাহ আপনাকে নারী পুরুষের উভয় জন্যেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার অনুসরণ করেছি। আমরা নারীরা অন্তঃপুরবাসিনী, পর্দানশীন; গৃহিণী। স্বামীসেবা আমাদের কাজ, সন্তান-লালনপালন আমাদের কর্তব্য। পক্ষান্তরে পুরুষেরা আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে। জামাতে নামায পড়ে। রোগীদের দেখাশোনা করে। জানাযায় অংশগ্রহণ করে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। তারা যখন জিহাদ বের হয়, তখন আমরা শুধু তাদের ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করি। কাপড় বুনি, ধুই। ছেলেমেয়ে মানুষ করি। হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি পুরুষদের সমান আজর ও সওয়াব অর্জন করতে পারব?'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুগ্ধ হয়ে সাহাবা কেরামের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন:
'আমার সাহাবীরা, এর আগে তোমরা কি কোনো নারীর মুখে ধর্মীয় বিষয়ে এরচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ?'

সাহাবীগণ আরজ করলেন:
'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা তো ভাবতেও পারিনি যে, কোনো নারী এভাবে ভাবতে পারে।'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আসমাকে লক্ষ্য করে বললেন,
'আসমা, তুমি ফিরে যাও, তোমার পেছনে থাকা আমার নারী সাহাবীদের জানিয়ে দাও, জীবনসঙ্গীর হক আদায় করা, তার মন রক্ষা করে চলা এবং তার আনুগত্য করা—এ পর্যন্ত পুরুষদের যত মর্যাদার কথা তুমি বললে সবগুলো থেকে—(আজর, সওয়াব ও কল্যাণের দিক থেকে) কোনো অংশে কম নয়।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px