📄 ঘ. আত্মপ্রতারণা
মানুষের নেক আমল বরবাদ করার জন্য শয়তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আত্ম-অহংকার ও আত্মপ্রতারণা। বিষয়টি, বিশেষ করে দাহ'র পক্ষে খুবই নাজুক। ধরুন, আপনি আজকে একটি দাওয়াতি কাজে সফল হলেন। এতে যেন আপনার এমন আত্মপ্রতারণা না হয় যে, এটা আপনার কৃতিত্ব। মনে রাখবেন, অন্তরে কৃতিত্বের আনন্দানুভূতি এবং সফলতা লাভের কৃতজ্ঞতাবোধ —এসবের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমা আছে। একজন দাহ'কে এই সীমার ব্যাপারে অবশ্যই সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ نَفْسُكَ
অর্থ : যখন যার যার স্বার্থের আনুগত্য, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং নিজ নিজ মত নিয়ে প্রত্যেককে আত্মপ্রসাদিতে ভুগতে দেখবে, তখন নিজেকে রক্ষা করো।১
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
মানুষের নেক আমল বরবাদ করার জন্য শয়তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আত্ম-অহংকার ও আত্মপ্রতারণা। বিষয়টি, বিশেষ করে দাহ'র পক্ষে খুবই নাজুক। ধরুন, আপনি আজকে একটি দাওয়াতি কাজে সফল হলেন। এতে যেন আপনার এমন আত্মপ্রতারণা না হয় যে, এটা আপনার কৃতিত্ব। মনে রাখবেন, অন্তরে কৃতিত্বের আনন্দানুভূতি এবং সফলতা লাভের কৃতজ্ঞতাবোধ —এসবের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমা আছে। একজন দাহ'কে এই সীমার ব্যাপারে অবশ্যই সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ نَفْسُكَ
অর্থ : যখন যার যার স্বার্থের আনুগত্য, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং নিজ নিজ মত নিয়ে প্রত্যেককে আত্মপ্রসাদিতে ভুগতে দেখবে, তখন নিজেকে রক্ষা করো।১
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
মানুষের নেক আমল বরবাদ করার জন্য শয়তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আত্ম-অহংকার ও আত্মপ্রতারণা। বিষয়টি, বিশেষ করে দাহ'র পক্ষে খুবই নাজুক। ধরুন, আপনি আজকে একটি দাওয়াতি কাজে সফল হলেন। এতে যেন আপনার এমন আত্মপ্রতারণা না হয় যে, এটা আপনার কৃতিত্ব। মনে রাখবেন, অন্তরে কৃতিত্বের আনন্দানুভূতি এবং সফলতা লাভের কৃতজ্ঞতাবোধ —এসবের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমা আছে। একজন দাহ'কে এই সীমার ব্যাপারে অবশ্যই সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ نَفْسُكَ
অর্থ : যখন যার যার স্বার্থের আনুগত্য, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং নিজ নিজ মত নিয়ে প্রত্যেককে আত্মপ্রসাদিতে ভুগতে দেখবে, তখন নিজেকে রক্ষা করো।১
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
📄 ঙ. অহংকার
অহংকারের অকল্যাণ ব্যাখ্যা করার অপেক্ষা রাখে না। এর নেতিবাচকতা ও অসুন্দরতা সুস্পষ্ট। একজন দাহ'র পক্ষে এটা আরও অনেক বেশি মারাত্মক এবং অশোভন। নিজেকে বড় মনে করা, অন্যকে ছোট মনে করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা —এগুলোর নিকৃষ্টতা তো কল্পনাও করা যায় না। এমন প্রবণতা দাহ'কে অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْশِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَখُورٍ
অর্থ : মানুষকে হেয় জ্ঞান কোরো না। জমিনে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। —সূরা লুকমান : ১৮
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِيْ وَالْعَظَمَةُ إِزَارِيْ فَمَنْ نَازَعَنِيْ فִيهِمَا قَصَمْتُهُ وَلَا أُبَالِيْ
অর্থ : অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার পরিধেয়। সুতরাং যে এ দুটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, তাকে ধ্বংস করে দেব—পরোয়া করব না।
অহংকার থেকে আত্মরক্ষার জন্য সবসময় আল্লাহর বড়ত্ব ও তার সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ভাবা যেতে পারে নিজের সৃষ্টি নিয়েও। আমার সৃষ্টি-উপাদান আর কী? মাটি! পরিণতি আর কী? বিনাশ! তাই তো রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন,
قُتِلَ الْإِنْسَانُ مَا أَكْفَرَهُ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ، مِنْ نُطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ، ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ، ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ، ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنْشَرَهُ
অর্থ : অভিশাপ মানুষের প্রতি! কিসে তাকে অস্বীকার করালো, আল্লাহ তাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন! সে জানে না, এক বিন্দু শুক্র হতে! তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার দেহের সবকিছুর পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতঃপর সহজ করে দিয়েছেন তার চলার পথ। অতঃপর তাকে অচিরেই মৃত্যু দান করবেন এবং সমাহিত করবেন। —সূরা আবাসা : ১৭-২১
অহংকারের অকল্যাণ ব্যাখ্যা করার অপেক্ষা রাখে না। এর নেতিবাচকতা ও অসুন্দরতা সুস্পষ্ট। একজন দাহ'র পক্ষে এটা আরও অনেক বেশি মারাত্মক এবং অশোভন। নিজেকে বড় মনে করা, অন্যকে ছোট মনে করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা —এগুলোর নিকৃষ্টতা তো কল্পনাও করা যায় না। এমন প্রবণতা দাহ'কে অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْশِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَখُورٍ
অর্থ : মানুষকে হেয় জ্ঞান কোরো না। জমিনে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। —সূরা লুকমান : ১৮
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِيْ وَالْعَظَمَةُ إِزَارِيْ فَمَنْ نَازَعَنِيْ فִيهِمَا قَصَمْتُهُ وَلَا أُبَالِيْ
অর্থ : অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার পরিধেয়। সুতরাং যে এ দুটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, তাকে ধ্বংস করে দেব—পরোয়া করব না।
অহংকার থেকে আত্মরক্ষার জন্য সবসময় আল্লাহর বড়ত্ব ও তার সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ভাবা যেতে পারে নিজের সৃষ্টি নিয়েও। আমার সৃষ্টি-উপাদান আর কী? মাটি! পরিণতি আর কী? বিনাশ! তাই তো রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন,
قُتِلَ الْإِنْسَانُ مَا أَكْفَرَهُ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ، مِنْ نُطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ، ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ، ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ، ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنْشَرَهُ
অর্থ : অভিশাপ মানুষের প্রতি! কিসে তাকে অস্বীকার করালো, আল্লাহ তাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন! সে জানে না, এক বিন্দু শুক্র হতে! তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার দেহের সবকিছুর পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতঃপর সহজ করে দিয়েছেন তার চলার পথ। অতঃপর তাকে অচিরেই মৃত্যু দান করবেন এবং সমাহিত করবেন। —সূরা আবাসা : ১৭-২১
অহংকারের অকল্যাণ ব্যাখ্যা করার অপেক্ষা রাখে না। এর নেতিবাচকতা ও অসুন্দরতা সুস্পষ্ট। একজন দাহ'র পক্ষে এটা আরও অনেক বেশি মারাত্মক এবং অশোভন। নিজেকে বড় মনে করা, অন্যকে ছোট মনে করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা —এগুলোর নিকৃষ্টতা তো কল্পনাও করা যায় না। এমন প্রবণতা দাহ'কে অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْশِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَখُورٍ
অর্থ : মানুষকে হেয় জ্ঞান কোরো না। জমিনে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। —সূরা লুকমান : ১৮
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِيْ وَالْعَظَمَةُ إِزَارِيْ فَمَنْ نَازَعَنِيْ فִيهِمَا قَصَمْتُهُ وَلَا أُبَالِيْ
অর্থ : অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার পরিধেয়। সুতরাং যে এ দুটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, তাকে ধ্বংস করে দেব—পরোয়া করব না।
অহংকার থেকে আত্মরক্ষার জন্য সবসময় আল্লাহর বড়ত্ব ও তার সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ভাবা যেতে পারে নিজের সৃষ্টি নিয়েও। আমার সৃষ্টি-উপাদান আর কী? মাটি! পরিণতি আর কী? বিনাশ! তাই তো রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন,
قُتِلَ الْإِنْسَانُ مَا أَكْفَرَهُ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ، مِنْ نُطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ، ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ، ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ، ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنْشَرَهُ
অর্থ : অভিশাপ মানুষের প্রতি! কিসে তাকে অস্বীকার করালো, আল্লাহ তাকে কী থেকে সৃষ্টি করেছেন! সে জানে না, এক বিন্দু শুক্র হতে! তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার দেহের সবকিছুর পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতঃপর সহজ করে দিয়েছেন তার চলার পথ। অতঃপর তাকে অচিরেই মৃত্যু দান করবেন এবং সমাহিত করবেন। —সূরা আবাসা : ১৭-২১
📄 চ. শিরকে আসগার
শিরকে আসগার বলতে রিয়া বোঝায়। অর্থাৎ সুনাম সুখ্যাতির জন্য কোনো আমল করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয় এমন লোকদেখানো আমলের পরিণতি বড় ভয়াবহ। খুবই মর্মন্তুদ ও দুঃখজনক। এটা বড় থেকে বড় নেক আমলকেও বদ আসরয়স্ত করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, একজন সাচ্চাদিল মুসলিমের শান কেমন হওয়া উচিত তার স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তুলে ধরেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে–
قُلْ إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থ : বলুন, নিশ্চয় আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। —সূরা আনআম : ১৬২
শিরকে আসগার বলতে রিয়া বোঝায়। অর্থাৎ সুনাম সুখ্যাতির জন্য কোনো আমল করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয় এমন লোকদেখানো আমলের পরিণতি বড় ভয়াবহ। খুবই মর্মন্তুদ ও দুঃখজনক। এটা বড় থেকে বড় নেক আমলকেও বদ আসরয়স্ত করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, একজন সাচ্চাদিল মুসলিমের শান কেমন হওয়া উচিত তার স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তুলে ধরেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে–
قُلْ إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থ : বলুন, নিশ্চয় আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। —সূরা আনআম : ১৬২
শিরকে আসগার বলতে রিয়া বোঝায়। অর্থাৎ সুনাম সুখ্যাতির জন্য কোনো আমল করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয় এমন লোকদেখানো আমলের পরিণতি বড় ভয়াবহ। খুবই মর্মন্তুদ ও দুঃখজনক। এটা বড় থেকে বড় নেক আমলকেও বদ আসরয়স্ত করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, একজন সাচ্চাদিল মুসলিমের শান কেমন হওয়া উচিত তার স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তুলে ধরেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে–
قُلْ إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থ : বলুন, নিশ্চয় আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। —সূরা আনআম : ১৬২