📄 ২. মা-বাবার মধ্যে অতিরিক্ত ঝগড়া-বিবাদ
ছেলেমেয়েকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার একটা বড় কারণ এই যে, অনেক মা বাবারাই অতিরিক্ত দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে পড়েন। একসময় ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে আড়াল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝগড়া-বিবাদ ও মনোমালিন্য সীমা ছাড়িয়ে যায়। ছেলেমেয়ের মানসিকতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। বিশেষত যখন ভাঙনের আশঙ্কা হয়, জীবনে ভয়ংকর এক হতাশা ছেয়ে যায়।
অনেক সময় মা বাবার ঝগড়া বিবাদ সন্তানকে অতিষ্ঠ করে তোলে। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অধিকাংশ সময় তারা বাড়ির বাইরেই কাটানো শুরু করে। কচি মনের ছেলেমেয়েদের পক্ষে এটা খুবই গুরুতর। এর পরিণতি বড় ভয়াবহ। এ পর্যায়ে প্রায়ই ছেলেমেয়েরা অপসংস্কৃতির শিকার হয়। মা বাবা ব্যস্ত থাকেন বিবাদ নিয়ে, আর ছেলেমেয়েরা গা ভাসায় অজানা স্রোতে। এক সময় অবশ্য মা বাবার টনক নড়ে, কিন্তু অনেক পরে। ততদিনে এমন মুহূর্তটি এসে যায় যা আক্ষেপের, যা অনুশোচনার।
মা বাবার মধ্যকার বিবাদমানতা থেকে সন্তানের শিষ্টাচার যে পরস্পর পরিপূরকতামূলক এক ও অভিন্ন রীতিনীতি ও কলাকৌশল অবলম্বনের অনিবার্যতা ছিল, তাও বিনষ্ট হয়। মা একভাবে সন্তানকে লালনপালন করতে থাকেন, তো বাবা আরেকভাবে। বাবা একদিকে সন্তানকে পরিচালিত করতে চান, তো মা আরেক দিকে। এর ফলও বড় মন্দ। এভাবে মা বাবার টানাপোড়েনের বলি হয় সন্তান। আল্লাহ সকলকে ভালো রাখুন। আমীন।
ছেলেমেয়েকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার একটা বড় কারণ এই যে, অনেক মা বাবারাই অতিরিক্ত দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে পড়েন। একসময় ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে আড়াল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝগড়া-বিবাদ ও মনোমালিন্য সীমা ছাড়িয়ে যায়। ছেলেমেয়ের মানসিকতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। বিশেষত যখন ভাঙনের আশঙ্কা হয়, জীবনে ভয়ংকর এক হতাশা ছেয়ে যায়।
অনেক সময় মা বাবার ঝগড়া বিবাদ সন্তানকে অতিষ্ঠ করে তোলে। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অধিকাংশ সময় তারা বাড়ির বাইরেই কাটানো শুরু করে। কচি মনের ছেলেমেয়েদের পক্ষে এটা খুবই গুরুতর। এর পরিণতি বড় ভয়াবহ। এ পর্যায়ে প্রায়ই ছেলেমেয়েরা অপসংস্কৃতির শিকার হয়। মা বাবা ব্যস্ত থাকেন বিবাদ নিয়ে, আর ছেলেমেয়েরা গা ভাসায় অজানা স্রোতে। এক সময় অবশ্য মা বাবার টনক নড়ে, কিন্তু অনেক পরে। ততদিনে এমন মুহূর্তটি এসে যায় যা আক্ষেপের, যা অনুশোচনার।
মা বাবার মধ্যকার বিবাদমানতা থেকে সন্তানের শিষ্টাচার যে পরস্পর পরিপূরকতামূলক এক ও অভিন্ন রীতিনীতি ও কলাকৌশল অবলম্বনের অনিবার্যতা ছিল, তাও বিনষ্ট হয়। মা একভাবে সন্তানকে লালনপালন করতে থাকেন, তো বাবা আরেকভাবে। বাবা একদিকে সন্তানকে পরিচালিত করতে চান, তো মা আরেক দিকে। এর ফলও বড় মন্দ। এভাবে মা বাবার টানাপোড়েনের বলি হয় সন্তান। আল্লাহ সকলকে ভালো রাখুন। আমীন।
📄 ৩. অতিরিক্ত আদর-আহ্লাদ ও আরাম-আয়েশ
মা-বাবা অনেক সময় সন্তানকে অতিরিক্ত আদর ও আহ্লাদ দিয়ে নষ্ট করে দেন। যদিও তাদের কল্যাণকামিতা অনস্বীকার্য; কিন্তু এমন কল্যাণকামিতা কখনোই কাম্য নয়। এটা সন্তানের চরম ক্ষতি সাধন করে। মা বাবা নিঃসন্দেহে সন্তানের ভালোবাসায়ই এমনটা করেন। ভাবেন, সন্তান যা চায়, তা-ই পূরণ করব; তার কোনো আশা অপূর্ণ রাখব না। এই মানসিকতাটা অনেকের পক্ষে উন্মাদনার সৃষ্টি করে। ফল যা হবার তা-ই হয়। মা বাবা ভুলে যান যে, অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ, অতিরিক্ত আদব-কায়দা সন্তানকে দুর্বল করে ফেলে, অকর্মণ্য করে তোলে, ফাঁপা বানিয়ে ছাড়ে। এমন সন্তান পরাশ্রয়ী পরনির্ভরশীল হয়। ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীলতার অভাব জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তোলে।
এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ইয়্যাকুম ওয়াত তানাউম; ফা ইন্না ইবাদাল্লাহি লাইসু বিতাল মুতানাউইমীন।'
অর্থ : তোমরা বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশ থেকে দূরে থাকো। কেননা, যারা আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারা বিলাসী হয় না।১
কবি বলেন, 'বেকার বসে বসে বিলাসিতা করা যুবসমাজের ধ্বংস সাধন করে।'
টিকাঃ
১. আহমাদ।
মা-বাবা অনেক সময় সন্তানকে অতিরিক্ত আদর ও আহ্লাদ দিয়ে নষ্ট করে দেন। যদিও তাদের কল্যাণকামিতা অনস্বীকার্য; কিন্তু এমন কল্যাণকামিতা কখনোই কাম্য নয়। এটা সন্তানের চরম ক্ষতি সাধন করে। মা বাবা নিঃসন্দেহে সন্তানের ভালোবাসায়ই এমনটা করেন। ভাবেন, সন্তান যা চায়, তা-ই পূরণ করব; তার কোনো আশা অপূর্ণ রাখব না। এই মানসিকতাটা অনেকের পক্ষে উন্মাদনার সৃষ্টি করে। ফল যা হবার তা-ই হয়। মা বাবা ভুলে যান যে, অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ, অতিরিক্ত আদব-কায়দা সন্তানকে দুর্বল করে ফেলে, অকর্মণ্য করে তোলে, ফাঁপা বানিয়ে ছাড়ে। এমন সন্তান পরাশ্রয়ী পরনির্ভরশীল হয়। ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীলতার অভাব জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তোলে।
এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ইয়্যাকুম ওয়াত তানাউম; ফা ইন্না ইবাদাল্লাহি লাইসু বিতাল মুতানাউইমীন।'
অর্থ : তোমরা বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশ থেকে দূরে থাকো। কেননা, যারা আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারা বিলাসী হয় না।১
কবি বলেন, 'বেকার বসে বসে বিলাসিতা করা যুবসমাজের ধ্বংস সাধন করে।'
টিকাঃ
১. আহমাদ।
📄 ৪. ছেলেমেয়েকে অনর্থক বসিয়ে রাখা
মনে রাখা চাই, মানুষের মধ্যে নফস নামের যে প্রবৃত্তিটি আছে, তাকে সব সময় ভালো কাজে লাগিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে নফসকে মানুষ মন্দ কাজে লাগিয়ে দেয়। এই চরম ও পরম সত্যটিকে কোনো মা-বাবারই ভুলে থাকা উচিত নয়। অলসতা থেকে যে ফল আসে তা সুফল নয়; কুফল। সন্তান আপনার নয়নতারা নয়, অথবা সুপুত্র নয়, বরং আদরের বাঁদর হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে তাকে ব্যস্ত রাখুন। তার মেধা-প্রতিভাকে কাজে লাগান। লেখাপড়ার পাশাপাশি শরীরচর্চা, ভাষা ও সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রাখুন। এভাবে যেমনি সে কর্মশূন্যতা থেকে দূরে থাকবে, তেমনি লাভ করবে নানামুখী যোগ্যতা। বিভিন্ন ভাষা শিখবে, তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে, ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞানগত উৎকর্ষ সাধন করবে ইত্যাদি।
লেখাপড়া চর্চা করানো; কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে সম্ভাব্য আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো; সেলাই-ফোঁড়া, ফুলতোলা ইত্যাদি সাধারণ হাতের কাজ শেখানো। শুধু এগুলোই নয়, রান্নাবান্না, ঘর সাজানো, গোছানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ইত্যাদি ঘরের কাজ শেখার প্রয়োজনীয়তাও মেয়ের আছে। তা ছাড়া সমাজে মানুষের সাথে আচার-ব্যবহারের ব্যাপারেও মেয়েকে সম্যক অবগত করানো জরুরি। যেন সে দূর ভবিষ্যতে অনেক কিছুর সাথে সাথে একজন ভালো গৃহিণীও হতে পারে। বিশেষত মেয়ের এ ধরনের অনেক বিষয় মায়ের ওপর নির্ভর করে। এগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতা কোনো মায়েরই উচিত নয়।
মনে রাখা চাই, মানুষের মধ্যে নফস নামের যে প্রবৃত্তিটি আছে, তাকে সব সময় ভালো কাজে লাগিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে নফসকে মানুষ মন্দ কাজে লাগিয়ে দেয়। এই চরম ও পরম সত্যটিকে কোনো মা-বাবারই ভুলে থাকা উচিত নয়। অলসতা থেকে যে ফল আসে তা সুফল নয়; কুফল। সন্তান আপনার নয়নতারা নয়, অথবা সুপুত্র নয়, বরং আদরের বাঁদর হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে তাকে ব্যস্ত রাখুন। তার মেধা-প্রতিভাকে কাজে লাগান। লেখাপড়ার পাশাপাশি শরীরচর্চা, ভাষা ও সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রাখুন। এভাবে যেমনি সে কর্মশূন্যতা থেকে দূরে থাকবে, তেমনি লাভ করবে নানামুখী যোগ্যতা। বিভিন্ন ভাষা শিখবে, তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে, ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞানগত উৎকর্ষ সাধন করবে ইত্যাদি।
লেখাপড়া চর্চা করানো; কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে সম্ভাব্য আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো; সেলাই-ফোঁড়া, ফুলতোলা ইত্যাদি সাধারণ হাতের কাজ শেখানো। শুধু এগুলোই নয়, রান্নাবান্না, ঘর সাজানো, গোছানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ইত্যাদি ঘরের কাজ শেখার প্রয়োজনীয়তাও মেয়ের আছে। তা ছাড়া সমাজে মানুষের সাথে আচার-ব্যবহারের ব্যাপারেও মেয়েকে সম্যক অবগত করানো জরুরি। যেন সে দূর ভবিষ্যতে অনেক কিছুর সাথে সাথে একজন ভালো গৃহিণীও হতে পারে। বিশেষত মেয়ের এ ধরনের অনেক বিষয় মায়ের ওপর নির্ভর করে। এগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতা কোনো মায়েরই উচিত নয়।
📄 ৫. বৈষম্য
ছেলেমেয়েদের আদর-যত্নে, পার্থিব-অপার্থিব ভালোবাসায় বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধতা লঙ্ঘন করার ফলেও অনেক ছেলেমেয়ে বিপথে চলে যায়। বিপদে পা বাড়ায়। এজন্য মা বাবার উচিত প্রত্যেকটি সন্তানকে সমান নজরে দেখা। একজনের তুলনায় কারও প্রতি যেন বেশি নজর না হয়, এতে অন্যেরা তার প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে, তারা তাকে ঘৃণা করে, তার থেকে নিষ্কৃতি পেতে চায়; অথবা কারও প্রতি যেন নজরে কমতি না থাকে, এতে সে হীনম্মন্য হয়ে যায়, অনেক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা খুব ভালো করে মনে রাখা চাই। তিনি বলেছেন, 'তোমরা দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখো।'১
তিনি আরও বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মধ্যে ন্যায় ও সাম্য রক্ষা করো।'২
টিকাঃ
১. তাবারানী।
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ছেলেমেয়েদের আদর-যত্নে, পার্থিব-অপার্থিব ভালোবাসায় বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধতা লঙ্ঘন করার ফলেও অনেক ছেলেমেয়ে বিপথে চলে যায়। বিপদে পা বাড়ায়। এজন্য মা বাবার উচিত প্রত্যেকটি সন্তানকে সমান নজরে দেখা। একজনের তুলনায় কারও প্রতি যেন বেশি নজর না হয়, এতে অন্যেরা তার প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে, তারা তাকে ঘৃণা করে, তার থেকে নিষ্কৃতি পেতে চায়; অথবা কারও প্রতি যেন নজরে কমতি না থাকে, এতে সে হীনম্মন্য হয়ে যায়, অনেক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা খুব ভালো করে মনে রাখা চাই। তিনি বলেছেন, 'তোমরা দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখো।'১
তিনি আরও বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মধ্যে ন্যায় ও সাম্য রক্ষা করো।'২
টিকাঃ
১. তাবারানী।
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।