📄 ১. আকীদা বিশ্বাস
এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আসতে পারে তাকওয়া। ক্ষুদ্র অর্থে আল্লাহর ভয় ও সেই ভয়ের প্রভাব। আমরা শিশুর অন্তরে এখন থেকেই আল্লাহর ভয় জাগ্রত করতে সচেষ্ট হব। মনে রাখব, শুধু মুখে শিশুকে এসব বুঝিয়ে লাভ হবে না। এগুলো তাকে দেখাতে হবে, বোঝাতে হবে — নিজেদের আমলের মাধ্যমে, নিজেদের আলোচনার মাধ্যমে। আমরা আমাদের সন্তানকে বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন-পুনরুনশীলন, চর্চা-পুনচর্চা দেখাব। শিশু আমাদের দ্বারাই প্রভাবিত হবে। আমাদের আমলের মাধ্যমেই সে আল্লাহর অস্তিত্ব কল্পনা করতে শিখবে এবং আল্লাহর প্রতি ভীতি বোধ করতে সক্ষম হবে।
এই একটি বিষয়ই ব্যক্তিকে সারা জীবন পাপ বর্জন ও পুণ্য অর্জনে উৎসাহিত করে। ব্যক্তির জীবনে তাকওয়ার প্রভাব কত বেশি তা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
التَّقْوَى هَهُنَا وَأَشَارَ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثًا
অর্থ: তাকওয়া এখানে। তিনি প্রায় তিনবার কথাটি বললেন এবং প্রতিবারই নিজের বুকের দিকে ইশারা করলেন।
তা হলে, তাকওয়ার সম্পর্ক মনের সঙ্গে। মন নষ্ট হয়ে গেলে সব নষ্ট। মন ঠিক থাকলে সব ঠিক। সুতরাং আমরা আমাদের কোমলমতি শিশুর মন-মানসের প্রতি যত্নশীল হব সবচেয়ে বেশি। তার কোমল হৃদয়েই আমরা তাকওয়ার বীজ বপন করব। আমরা এই বিষয়গুলোর সৌন্দর্য তার সামনে তুলে ধরব। এভাবে আল্লাহর মহত্ব-বড়ত্ব তুলে ধরব। তাকে বোঝাব, এগুলোর একমাত্র স্রষ্টা হলেন আল্লাহ। তিনিই এগুলো সৃষ্টি করেছেন। এভাবে আমরা আমাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের সহজ সহজ ও মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি এখন থেকেই তাকে উৎসাহী করে তুলব। আল্লাহ আমাদের প্রতি দিক দান করুন। আমীন।
📄 ২. পিতামাতার আনুগত্য
আমাদের সন্তানদের এই কচি বয়স থেকেই পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত করে তোলার প্রাণান্ত চেষ্টা করব। এর ফল খুবই ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। এজন্য খুব বেশি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব এবং নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করব। আমরা আমাদের শিশুর প্রতি এমন হব, যেন সে এখন থেকেই আমাদের কথা শোনার জন্য, মানার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। সে যেন আমাদের সামনে গলা উঁচু করে কথা বলতেও লজ্জা বোধ করে; বরং ভীতি বোধ করে। আমাদের উপদেশে বিরক্তি প্রকাশ করার মতো মানসিকতা যেন তার না আসে। এ ব্যাপারে একটুও গড়িমসি করব না। যদি কখনো এমন হয় তা হলে খুব বেশি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করব। কুরআনে কারীমের এই আয়াতটির মর্মবস্তু তার অন্তরে বদ্ধমূল করার চেষ্টা করব,
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوٓا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
অর্থ: তোমার আল্লাহ তোমার জন্য এই ফায়সালা করেছেন যে, তুমি শুধু তাঁরই ইবাদত করবে। পিতামাতার প্রতি সদাচারী হবে ... তাদের কারও প্রতি কখনো উফ শব্দটিও উচ্চারণ করবে না। তাদের সাথে গলা উঁচু করে কথা বলবে না। তাদের সাথে কথা বলবে বড় সম্মানের সাথে।১
টিকাঃ
১ সুরা বনী ইসরাঈল : ২৩-২৪।