📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ড. সানা আল বান্নার বক্তব্য

📄 ড. সানা আল বান্নার বক্তব্য


এ হলো একজন পিতার প্রতি পুত্রের মূল্যায়ন। এবার দেখা যাক, মেয়ে কী বলেন। হ্যাঁ, তাঁরই বিদুষী কন্যা ডক্টর সানা আল বান্না বলেন,

لَقَدْ كَانَ رَحِمَهُ اللّٰهُ هَادِيَ الطَّبْعِ وَاسِعَ الصَّدْرِ هَيِّنًا لَيِّنًا لَمْ أَذْكُرْ أَنَّ صَوْتَهُ اِرْتَفَعَ عَلَى أَحَدٍ فِي الْبَيْتِ لِأَيِّ سَبَبٍ مِنَ الْأَسْبَابِ ... كَانَ يُعَاوِنُ وَالِدَتِيْ فِيْ بَعْضِ أَعْبَاءِ الْبَيْتِ رَغْمَ اِنْشِغَالِهِ فِيْ أَعْبَاءِ الدَّعْوَةِ لَقَدْ كَانَ مُلِمًا بِكُلِّ صَغِيْرَةٍ وَكَبِيْرَةٍ فِي الْبَيْتِ فَكَانَ يَعْرِفُ كُلَّ شَيْءٍ بِخَصَّ الْبَيْتِ لِدَرَجَةِ أَنَّهُ كَانَ يَعْرِفُ مَوْعِدَ تَخْزِيْنِ الْأَشْيَاءِ كَالْبَصَلِ وَالثَّوْمِ ...

অর্থ : আমার পিতা হাসান আল বান্না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো সদালাপী ও কোমলহৃদয় ছিলেন। তিনি কখনো কোনো কারণে পরিবারের কারও সাথে গলা উঁচু করে কথা বলেছেন আমার মনে পড়ে না। দাওয়াতি কাজে এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি আমার মাতাকে খুবই সহযোগিতা করতেন। ঘরের ছোট বড় সব কাজেই হাত দিতেন। একদম যেগুলো ঘরের কাজ সেগুলোতেও পটু ছিলেন। এমনকি রান্নাঘরের জিনিসপাতি—যেমন: পেঁয়াজ, রসুন, তেল, ঘি—কোথায় কী, তাও তার জানা থাকত।

ড. সানা আরও বলেন,

لَقَدْ كَانَ عَطُوْفًا رَحِيْمًا بِنَا كُنَّا لَا نُحِسُّ فِيْهِ الْغِلَظَةَ أَبَدًا بَلْ كَانَ يَغْمُرُنَا بِالْمَوَدَّةِ وَالْعَطَفِ وَكَانَ يَدْخُلُ الْبَيْتِ مُتَأَخِّرًا فِي اللَّيْلِ وَيَكِلُّ لِمْدَوْعٍ حَتَّى لَا يُزْعِجَ أَحَدًا مِنَ النَّائِمِيْنَ وَكَانَ يَدْخُلُ فَيَطْمَئِنُّ عَلَى غِطَاءِ كُلِّ الْأَبْنَاءِ

অর্থ : তিনি আমাদের প্রতি খুবই স্নেহশীল ছিলেন। তার মাঝে কখনোই রূঢ়তা অনুভব করিনি। তার ভালোবাসা সবসময়ই আমাদের ঘিরে থাকত। মাঝে মধ্যে রাতে ঘরে ফিরতে বিলম্ব হতো তাঁর। কিন্তু এত সতর্কভাবে আসতেন যে, ঘুমন্ত কারও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটত না। তিনি ঘরে ঢুকে প্রথমে ছেলেমেয়েদের ঘরে যেতেন এবং তাদের গায়ে কম্বল-কাঁথা ঠিকমতো আছে কি না দেখে নিতেন।১

এ হলো ইমাম হাসান আল বান্নার জীবনগাথা। যিনি কোনো অতিপ্রাকৃত মানুষ ছিলেন না। তিনি ওহির দ্বার বন্ধ হওয়ার এক দিন দু দিন নয়, দেড় হাজার বছর পর পৃথিবীতে এসেছিলেন। যার দ্বীন দাওয়াতের ব্যাপকতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাকে বিশ শতকের দাওয়াতী মুজাদ্দিদ ও সংস্কারক মনে করা হয়। নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এমন একজন মানুষের কর্মব্যস্ততা কতটা ব্যাপক হতে পারে। তারপরও দেখলেন তো, তিনি পরিবারের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন।

আমার মুসলিম ভাইয়েরা, ইমাম হাসান আল বান্নাকে জানুন, নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ খুঁজে পাবেন তাঁর মাঝে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও যে নববী আদর্শে উজ্জীবিত হওয়া যায়, তার বাস্তব প্রমাণ এরকম অসংখ্য মানুষ দেখিয়ে গেছেন, দেখিয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে জানুন, আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করুন।

আরও ভাববার বিষয়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত। তিনিই যখন নারীর মর্যাদা ও অবস্থানকে উচ্চে তুলে ধরেছেন, তাদের প্রতি সদাচারের নির্দেশ দিয়েছেন, মুসলমানদের বিষয়ে স্ত্রীর সাথেও পরামর্শ করেছেন; তখন তাঁর অনুসারী হলে মুসলিম পুরুষদের উচিত নারীর যথার্থ মূল্যায়ন করা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু প্রদান করা। তিক্ত হলেও সত্য, এ ব্যাপারে জাতিগতভাবে আমাদের অনেক শিথিলতা হয়ে গেছে। এখনই সময় সঠিক পথে ফিরে আসার।

টিকাঃ
১. আল জাওয়াহেরুল মুসলিমাও ওয়া দিনাউল উসরাতিস ফুরকানিয়্যাহ : ২৯৩-২৯৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px