📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 স্ত্রীর মনোরঞ্জন

📄 স্ত্রীর মনোরঞ্জন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর প্রতি একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গী ছিলেন। এমনকি তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.- এর সাথে হালকা দুষ্টুমি করতেন। তাঁর সাথে দৌড়প্রতিযোগিতা করতেন। গল্প বলতেন। সাথে নিয়ে পানাহার করতেন। সাথে নিয়ে সফর করতেন। একটি বর্ণনায় আছে, মসজিদপ্রাঙ্গণে হাবশিদের পালোয়ানি দেখানোর জন্য হযরত আয়েশা রাযি.-কে তিনি গায়ের চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 সন্তানদের প্রতি স্নেহ

📄 সন্তানদের প্রতি স্নেহ


তিনি সন্তানদের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল। তিনি হযরত ফাতেমা রাযি.-কে বলতেন 'আমার আখি'। তিনি নাতি হাসান হুসাইনকে কী ভালোবাসাই না বাসতেন। তাদের পিঠে নিয়ে বলতেন, 'তোমাদের উটটি অনেক ভালো, তাই না!' যায়নাব রাযি.-এর মেয়ে হযরত উমামা রাযি.-কেও কোলে নিয়ে নামায় পড়তেন। যখন সিজদায় যেতেন, তখন নামিয়ে রাখতেন। যখন দাঁড়াতেন, তখন আবার কোলে উঠিয়ে নিতেন।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 স্ত্রীর সাথে পরামর্শ

📄 স্ত্রীর সাথে পরামর্শ


খুব ভালোবাসাই নয়, স্ত্রীর মতামতকেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। সুলহে হুদায়বিয়া কাফেরদের সব দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বছর উমরা না করেই মক্কা থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। সাহাবা কেরামকে কথাটি হৃদয়ে স্থান না পাওয়ায় নির্দেশ দিয়ে বললেন,

'তোমরা নহর করে নাও, তারপর হলক করে ফেলো।'

তিনি প্রায় তিনবার কথাটি বললেন। কিন্তু সাহাবা কেরাম তখন মনঃকষ্টে আচ্ছন্ন। সবাই স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। কারো কোনো সাড়া না পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে পড়লেন। তখন উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযি.-এর ঘরে গেলেন এবং দুঃখের সাথে মুসলমানদের অবস্থা তুলে ধরলেন। হযরত উম্মে সালামা রাযি. বললেন,

হে আল্লাহর রাসূল, আপনি বিচলিত হবেন না; তারা আসলে এখনো মেনে নিতে পারছেন না যে, আপনি সত্যি সত্যিই তাদের এমনটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি বরং যান এবং কারও সাথে কোনো কথা না বলে আপনার উট নহর করুন, এরপর হলককারীকে ডেকে হলক করিয়ে নিন। দেখবেন, তারা আপনাকে অনুসরণ করবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বের হলেন এবং কারো সাথে কোনো কথা না বলে নিজের উট নহর করলেন এবং হলককারীকে ডেকে হলক করিয়ে নিলেন। সাহাবা কেরাম যখন দেখলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিই এমনটি করলেন, তখন তারাও উঠে যার যার উট নহর করলেন এবং একে অপরকে হলক করিয়ে দিলেন।৩

টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 এখনো কি সম্ভব?

📄 এখনো কি সম্ভব?


অনেক ভাবতে পারেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ওহীপ্রাপ্ত ছিলেন। জীবনের সর্বক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা তার পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে আমাদের মতো মানুষের পক্ষে এসব কী করে সম্ভব? জীবনের এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে কখন স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করব, আর কখন অন্যান্য কাজগুলো করব? আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে একই সাথে জীবনের বিভিন্নমুখী দায়িত্বগুলো সমানভাবে পালন করা এখনো কি সম্ভব?

ফন্ট সাইজ
15px
17px