📄 স্ত্রীর সাথে আমোদপ্রমোদ অনর্থক নয়
প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অনেক কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন, যেগুলোর অনুসরণ করলে খুব সহজেই একজন মুসলিম নারীর অন্তরের চরম ও পরম সুখানুভূতিতে জাগ্রত করা যায়। খুব সহজেই একজন কৃতজ্ঞ-কৃতার্থ নারীর মন জয় করা যায়। দেখুন না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّمَا وَأَرْجُوا أَنْ تُزْمَمُوا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ تُرْكُوا وَإِنَّ كُلَّ شَيْءٍ يُلْهَوَ بِهِ الرَّجُلُ بَاطِلٌ إِلَّا رَمْيَةُ الرَّجُلِ بِقَوْسِهِ وَمُلاَعَبَتِهِ فَرَسَهُ وَمُلَاعَبَتَهُ امْرَأَتَهُ فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ وَمَنْ نَسِيَ الرَّمْيَ بَعْدَمَا عَلِمَهُ فَقَدْ كَفَرَ الَّذِي عَلَمَهُ
অর্থ : তোমরা তিরন্দাজি শেখো, ঘোড়সওয়ারি শেখো। তবে তিরন্দাজি শেখা আমার কাছে ঘোড়সওয়ারি শেখা থেকে উত্তম। মনে রেখো, মানুষ যত খেলাধুলা করে সবাই অনর্থক। তবে তীর নিক্ষেপ করা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ করানো এবং স্ত্রীর সাথে আনন্দ-বিনোদন করা অনর্থক নয়। এগুলো যথার্থ। যে তিরন্দাজি রপ্ত করার পর ভুলে গেল, সে তার প্রশিক্ষকের সাথে অকৃতজ্ঞের আচরণ করল।১
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
📄 পরিবারের জন্য খরচ করলে অধিক সওয়াব
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَ دِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَ دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ
অর্থ : ধরো, তিনটি দিনার—একটি তুমি দান করলে আল্লাহর রাস্তায়, একটি ব্যয় করলে কোনো গোলাম আজাদ করতে, বা সদকা করলে কোনো ফকির-মিসকিনের জন্য, আর একটি খরচ করলে তোমার পরিবারের জন্য; এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিদান পাবে ওই দিনারটির জন্য, যা তুমি খরচ করলে তোমার পরিবারের জন্য।২
টিকাঃ
২. সহীহ মুসলিম।
📄 স্ত্রীর মনোরঞ্জন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর প্রতি একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গী ছিলেন। এমনকি তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.- এর সাথে হালকা দুষ্টুমি করতেন। তাঁর সাথে দৌড়প্রতিযোগিতা করতেন। গল্প বলতেন। সাথে নিয়ে পানাহার করতেন। সাথে নিয়ে সফর করতেন। একটি বর্ণনায় আছে, মসজিদপ্রাঙ্গণে হাবশিদের পালোয়ানি দেখানোর জন্য হযরত আয়েশা রাযি.-কে তিনি গায়ের চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন।
📄 সন্তানদের প্রতি স্নেহ
তিনি সন্তানদের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল। তিনি হযরত ফাতেমা রাযি.-কে বলতেন 'আমার আখি'। তিনি নাতি হাসান হুসাইনকে কী ভালোবাসাই না বাসতেন। তাদের পিঠে নিয়ে বলতেন, 'তোমাদের উটটি অনেক ভালো, তাই না!' যায়নাব রাযি.-এর মেয়ে হযরত উমামা রাযি.-কেও কোলে নিয়ে নামায় পড়তেন। যখন সিজদায় যেতেন, তখন নামিয়ে রাখতেন। যখন দাঁড়াতেন, তখন আবার কোলে উঠিয়ে নিতেন।