📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 জ. স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কৃতার্থতা

📄 জ. স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কৃতার্থতা


এভাবে ন্যায্যসঙ্গত আচরণের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্ত্রীর প্রতি ওয়াফাদারি, অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা ও কৃতার্থতা—শুধু জীবদ্দশায়ই নয়, মৃত্যুর পরও। আমরা জানি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রাযি.-এর মৃত্যুর পরও তাঁর প্রশংসা করতেন। শুধু প্রশংসাই নয়, শ্রদ্ধাও করতেন। এমনকি, হযরত আয়েশা রাযি. বলতেন, হযরত খাদীজা রাযি.-এর প্রতি আমার যে ঈর্ষাবোধ হতো, তা আর কোনো নারীর প্রতি হতো না। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে খুবই বেশি স্মরণ করতেন। বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত খাদীজা রাযি.-এর আলোচনা করতেন, তখন বারবার তাঁর প্রশংসা ও তাঁর জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে থাকতেন। একটুও বিরক্তি বোধ করতেন না। এভাবেই একদিন তিনি তাঁর আলোচনা শুরু করলেন। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, এভাবে বারবার তাঁর প্রশংসা করায় আমার অভিমান হলো। আমি বললাম, আল্লাহ তো আপনাকে ও এই বুড়ির চেয়েও ভালো স্ত্রী দান করেছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম আমার এ কথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, আল্লাহ, দয়া করে আপনার রাসূলকে মনোকষ্ট দূর করে দিন, আর কখনো এমন করব না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অনুতপ্ত বুঝতে পেরে বললেন, তুমি কীভাবে এমন কথা বলতে পারলে? আল্লাহর কসম, যখন লোকে আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তখন সে-ই আমাকে সত্যবাদী বলেছিল। যখন লোকে আমাকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিল, তখন সে-ই আমাকে আশ্রয় দিয়েছিল। তার মাধ্যমেই আমি সন্তানপ্রাপ্ত হয়েছিলাম; কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রেও বঞ্চিতও আছি।১

সুতরাং বুদ্ধিমান পুরুষের কর্তব্য হলো ধৈর্য, সহনশীলতা ও উদারতার অনুশীলন করা। সুন্দর ব্যবহার ও সুন্দর সহনশীলতার মাধ্যমেই স্ত্রীর প্রতি তিনি যথার্থ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন এবং বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ আদর্শের কল্যাণে তার ‘হাক্বুল ক্বাওয়ামা’ বা অভিভাবকত্বের মর্যাদা যথার্থতা লাভ করবে।

টিকাঃ
১. আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবা : ১২/২১৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px