📄 হযরত ওমরের ধৈর্য ও উদারতার দৃষ্টান্ত
একটি বর্ণনায় এসেছে, জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর রাযি.-এর কাছে এলেন আপন স্ত্রীর মন্দ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে। লোকটি দরজায় দাঁড়ালেন। হঠাৎ শুনতে পেলেন, হযরত উমর রাযি.-এর স্ত্রীও হযরতকে কড়া কড়া কথা শোনাচ্ছেন; আর হযরত চুপচাপ; কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। লোকটি এ অবস্থা দেখে যেতে চাইছিলেন না। আর মনে মনে বললেন,
হযরত উমর রাযি.-এর মতো মানুষেরই এই দশা, তা হলে আমার আর কী হতে পারে?
হযরত উমর রাযি. ঘর থেকে বের হয়ে লোকটিকে চলে যেতে দেখে বললেন,
ভাই, আপনার কি কিছু বলার ছিল?
লোকটি বললেন,
হে আমীরুল মুমিনীন, আমি এসেছিলাম আমার স্ত্রীর মন্দ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু যা দেখলাম, তাতে...
হযরত উমর রাযি. মৃদু হাসলেন, বললেন,
ভাইয়ের, ধৈর্য ধরব না তো কী করব? আমার ওপর আমার স্ত্রীর কত অধিকার! অথচ কত কিছুতে তিনি ছাড় দেন! আমার জন্য কত কিছু করেন! আমার খাবার রান্না করেন! আমার কাপড়চোপড় পরিষ্কার করেন! আমার ছেলেমেয়েকে পেলেপুষে বড় করেন! অথচ এগুলো তার দায়িত্ব নয়!
লোকটি বললেন,
আমীরুল মুমিনীন, আমার স্ত্রীও তো তা-ই। তা হলে তো আমারও ধৈর্য ধরা উচিত!... যাক, জীবনটা আর কতই দীর্ঘ।
আমার মুসলিম ভাই,
মনে রাখবেন, ছোটখাটো কিছু বিষয়ে একটু উদারতার পরিচয় দিলে দাম্পত্যজীবনের ভিত্তিটা অনেক মজবুত হয়। পরিবারে একতা ও বন্ধন তৈরি হয়।