📄 গালিগালাজ, মারধর পরিহার করুন
প্রকৃত প্রস্তাবে, কোনো পুরুষেরই এই অধিকার নেই যে, তিনি তার স্ত্রীকে গালিগালাজ করবেন, স্ত্রীর সাথে কঠোর আচরণ করবেন। স্ত্রীর যদি কোনো দোষ থাকে, তাই তার সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তা হলে যতক্ষণ পর্যন্ত কথায় কাজ হবে, উপদেশ উপকার দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই বৈধ নয়।
যদি কখনো স্ত্রীর পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন হয়, উপদেশ, অভিমান কোনো কাজে না আসে, সেজন্য গায়ে হাত তোলা ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তা হলে সেই প্রহারটা কোন পর্যায়ের হবে তার সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন দিক-নির্দেশনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়ে গেছেন। হযরত আবদুুল্লাহ ইবনে জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিবসে নারীদের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللَّهِ ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ ...
অর্থ : তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। কেননা, তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ—আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তার অধীনে; এমনকি তাদের নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ—আল্লাহর নাম ব্যবহার করে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা তোমাদের বিছানায় অন্য কাউকে জায়গা দেবে না, যা তোমরা অপছন্দ কর। তারা যদি কখনো এমন কিছু করে, তা হলে তাদের প্রহার করবে, তবে তা যেন বেদম পিটুনী না হয়।১
এক্ষেত্রে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীসটিও মাথায় রাখা চাই, তিনি বলেছেন,
مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ وَلَا امْرَأَةً وَلَا خَادِمًا إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ فَيَنْتَقِمَ
অর্থ : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদের ময়দানে ছাড়া কখনো কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে—চাই সে স্ত্রী হোক বা সেবক হোক, নিজ হাতে আঘাত করেননি। কখনো এমন হয়নি যে, তাঁর সাথে কোনো অন্যায় করা হয়েছে, আর তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। তবে আল্লাহর সম্মানে আঘাত এলে তিনি ছাড় দেননি।১
ইমাম শাবী রহ. এক প্রতিবেশীকে স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করতে দেখলেন। তখন আক্ষেপ করে বললেন,
رَأَيْتُ رِجَالًا يَضْرِبُونَ نِسَائِهِمْ أَضْرَبُهَا مِنْ غَيْرِ ذَنْبٍ أَنْتَ بِهِ فَيَزْعَبُ غُمْسٍ وَالنِّسَاءِ كَوَاكِبُ فَظَلَّتْ يَجِيُّنِي يَوْمَ تَضْرِبُ زَيْنَبُ فَمَا الْعَدْلُ مِنْ ضَرْبٍ مَنْ لَيْسَ يَذْيُبُ إِذَا ظَلَلْتُ لَمْ بَدْ مِنهُنَّ كَوَاكِبُ
কিছু লোক দেখি স্ত্রীকে মারধর করে। কেউ স্ত্রীকে আঘাত করতে পারে? আমার যায়নাব তো আকাশের চাঁদ, নারী তো নক্ষত্র। যায়নাবকে যদি কখনো আঘাত করি, তবে আমার হাত যেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। যার জ্যোতিতে চাঁদের আলো ম্লান হয়ে আসে, তাকে কি আঘাত করা যায়?
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।