📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 স্ত্রীকে সহযোগিতা করলে পুরুষের অসম্মান হয় না

📄 স্ত্রীকে সহযোগিতা করলে পুরুষের অসম্মান হয় না


সুতরাং ঘরের কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করাটা সদ্বপুরুষের সম্মান একটুও কমে না। পৃথিবীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো মহৎ ও শ্রেষ্ঠ মানুষ দ্বিতীয়টি নেই। তিনিই যখন ঘরের কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করতে পেরেছেন, তখন তাতে অসম্মান বোধ করা কোনো সম্মানী পুরুষের পক্ষেই উচিত নয়।

তা ছাড়া সন্তান লালনপালনেও অংশগ্রহণ করা পুরুষের ওপর ওয়াজিব। তিনি যদি সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল হন তবেই তো প্রাপ্য মর্যাদাটুকু পাবেন। বিশেষত আল্লাহ যেখানে নারীকেই বাইরের দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত রেখেছেন সেখানে (যেমনটি বর্তমানে ঘটছে) বাইরের দায়-দায়িত্বও নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া; সেই সাথে ঘরের দায়দায়িত্বও একা নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া—একে অন্যায় ছাড়া আর কী বলা যায়? কোনো বিবেকবান পুরুষকেই এটা বলে করে বোঝানোর প্রয়োজন আছে, বোধ করি না।

তাদের উচিত, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীকে বাইরের দায়দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছেন। তারপরও ঘরের কাজে সহযোগিতা করেছেন।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 নারীর দেবারও আছে, নেবারও আছে

📄 নারীর দেবারও আছে, নেবারও আছে


এক এক প্রকার এক বোবা স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া, সেই সাথে কোনো ত্রুটি পেলে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠা—খুবই অমানবিক, অশোভন, অমার্জনীয়। প্রতিটি পুরুষের মাথায় রাখা চাই, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
অর্থ : আর নারীদের যেমন কর্তব্য আছে, তেমনি আছে অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের আছে একটি বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়। —সূরা বাকারা : ২২৮

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, পুরুষের প্রতি নারীর যেমন অনেক কর্তব্য আছে, তেমনই তার অনেক অধিকারও আছে। নারীকে যেমন স্বামীর আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে, তেমনই স্বামীকে তার সাথে সদাচারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিক্ত হলেও সত্য, এ ব্যাপারে মুসলিম পুরুষগণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে আজকের ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলিম বোনদের ফাঁসাতে এতটা সফলতা পেত না।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 নারীর ওপর পুরুষের একটি বিশেষ মর্যাদা

📄 নারীর ওপর পুরুষের একটি বিশেষ মর্যাদা


আলোচ্য আয়াতে যে বলা হয়েছে, ‘আর নারীদের ওপর পুরুষদের আছে একটি বিশেষ মর্যাদা’—এর ব্যাখ্যায় অনেক মুফাস্সির বলেছেন, সেই মর্যাদা হলো জিহাদ ও মিরাসের মর্যাদা। অনেকে এটাকে ব্যাখ্যা করেছেন আনুগত্য বলা।

এক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর ব্যাখ্যাটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন ইমাম তাবারি রাহ.। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بَعْضُ الْوَاجِبِ الَّذِي لَهُ عَلَيَّ الزَّوْجَةُ وَإِغْضَاؤُهُ عَنْهُ فَإِنَّا مَا أَحَبُّ أَنْ أَسْتَوْفِيَ جَمِيعَ حَقِّي عَلَيْهَا﴾
অর্থ : ‘আর নারীদের ওপর পুরুষদের আছে একটি বিশেষ মর্যাদা’— এই কথাটির অর্থ এই যে, নারীর ওপর পুরুষের যত অধিকার আছে, তার সবটাই পুরুষ গুণে গুণে আদায় করবে না। বরং অনেক বিষয়ে ছাড় দেবে। যেমন আমিই, আমার স্ত্রীর কাছ থেকে সকল অধিকার গুণে গুণে আদায় করাটা পছন্দ করি না।

পশ্চাৎতবে কমাহ বা অভিভাবকত্বের বিষয়টি পুরুষের হাতেই। এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 দোষগুণ মিলেই নারী

📄 দোষগুণ মিলেই নারী


যাই হোক, যদি কখনো পুরুষ তার স্ত্রীর মাঝে কোনো দোষ-ত্রুটি দেখতে পান, তা হলে তার মোটেই এমনটি ভাবা উচিত নয় যে, এই নারী দাম্পত্যজীবনের যোগ্য নয়। কেননা, দোষ-গুণ মিলেই নারী। পুরুষের ক্ষেত্রেও কথাটি সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ তাআলার প্রাজ্ঞ নীতিই এই যে, তিনি মানুষের হাতে পূর্ণতা ও পূর্ণাঙ্গতা রূপ রাখেননি। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يَفْرَكُ – لَا يُبْغِضُ – مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ
অর্থ : মুমিন নারী প্রতি মুমিন পুরুষের বিদ্বেষী হওয়াটা উচিত নয়। তার কোনো একটা বিষয় খারাপ লাগবে; আবার অন্য একটি বিষয় ভালো লাগবে—সেটাই স্বাভাবিক।১

কবি বড় সুন্দর বলেছেন,
مَنْ ذَا الَّذِي مَا سَاءَ قَطُّ وَمَنْ لَهُ الْحُسْنَى فَقَطُّ
কে আছে এমন যে দোষ করেনি কভু? কে আছে এমন যার গুণই আছে শুধু?

টিকাঃ
১. মুসলিম, আহমাদ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px