📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ২. আলাদা ও আরামদায়ক বাসস্থান

📄 ২. আলাদা ও আরামদায়ক বাসস্থান


আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
অর্থ : তোমরা সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেরা যেমন ঘরে থাক, তেমন ঘরে তাদেরও থাকার ব্যবস্থা করো। তাদের ওপর সংকট সৃষ্টি করার জন্য তাদের কষ্ট দিয়ো না। -সূরা ত্বালাক : ০৬

একটি আলাদা ও আরামদায়ক বাসস্থান নারীর জীবনে সুখকর করে। অনেক সময়, স্বামীর অন্য পরিবার-পরিজনদের সাথে থাকতে যদি বনবনা না হয়, জীবন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, তা হলে একটি আলাদা বাসস্থান নারীর জন্য আবশ্যক। সাথে সাথে সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও থাকতে হবে। যেন তার জীবন ধারণ কষ্টকর ও সংকীর্ণ হয়ে না ওঠে।

হযরত মুআবিয়া ইবনে হায়াদা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের ওপর আমাদের স্ত্রীদের অধিকার কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، وَلَا تُقَبِّحُ الْوَجْهَ، وَلَا تَضْرِبُ
অর্থ : সামর্থ্য অনুযায়ী খাওয়ানো, পরানো; গালিগালাজ না করা, মারধর না করা।

এরপর আর একটি বর্ণনা আছে,
وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ
অর্থ : তাকে ঘরে রাখা ... ১

টিকাঃ
১. আবূ দাউদ।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 মায়ের ভূমিকা এক, বাবার ভূমিকা অন্য

📄 মায়ের ভূমিকা এক, বাবার ভূমিকা অন্য


বলবেন, পিতাকেই যদি একদিকে মনোযোগী হতে হয়, তা হলে মায়ের ভূমিকা কী? সন্তানের লালনপালন, ব্যক্তিগঠনে তাকেই তো ব্রতী হতে হবে! তিনিই তো সন্তানের প্রতিনিধি!

বলব, বাস্তবতা হলো মা যতই যোগ্য হন, অভিজ্ঞ হন, শিক্ষিতা হন, দীক্ষিতা হন; কখনোই পিতার অভাব পূরণ করতে পারেন না। সন্তানের মানুষ ও ব্যক্তি-জীবনে মাতৃত্বের ভালোবাসার যেমন বিকল্প নেই, পিতার ভালোবাসা ও কোনো পরিপূরক নেই। এখানে মায়ের ভূমিকা এক, পিতার ভূমিকা অন্য। পরিবারের মাথা হয়ে সন্তানের প্রতি একজন পিতার উপস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ, অভিভাবকত্ব, পরিচালনা ও দিক-নির্দেশনা যে কাজে আসবে সে‌টা অন্য কোনোভাবে আসবে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মনমানসিকতা, একটি সুন্দর সমাজ-গঠনে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা একজন যোগ্য পিতার যোগ্য তত্ত্বাবধানের ওপরই নির্ভর করে। এখানে মায়ের ভূমিকা ও অবশ্যই অপরিসীম। কেননা, মায়ের অংশগ্রহণ ছাড়া শুধু পিতার পক্ষে এগুলোকে অফুরন্ত কিছুরই যথার্থ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যেমন পিতার তত্ত্বাবধান ছাড়া অনেক কিছুরই মায়ের পক্ষে দুষ্কর।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 স্ত্রীর অবমূল্যায়ন করবেন না

📄 স্ত্রীর অবমূল্যায়ন করবেন না


প্রায়ই এমন হয়, বেচারা নারী সব কষ্টই স্বীকার করে। নিজের আশা, ভাষা, ভরসা সবকিছুই বিসর্জন দেয়। বিনিময়ে কিছুই চায় না। একটু উৎসাহ চায়, প্রেরণা চায়, প্রোদানা চায়। স্বামীকে সুখী করতে, সন্তানকে সফল করতে সে যত কিছু করে, যতভাবে করে, কোনো কিছুরই বিনিময় চায় না। চায় শুধু একটু মূল্যায়ন। সে যা করছে, সে জন্য তাকে ভাষায় কৃতজ্ঞতা জানানো হোক না-হোক, শুধু ভালোবাসায় মূল্যায়ন দেখানো হোক, সেটাই চায়।

অথচ কী পায়? —লাঞ্ছনা, বঞ্চনা। এও কিছু করে ও সে যেন কিছুই করে না। পরিবারের সদস্যদের সফলতা, উত্তর-উত্তর উন্নতির পেছনে যে তারও অবদান আছে—যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল অবদান তারই সে‌টা‌ই যেন কিছু মানুষ স্বীকার করতে চায় না।

এটা কে না বোঝে, একজন কোমলমতি নারী এভাবে অবমূল্যায়নের যন্ত্রণা সইতে সইতে তার মমতাময়ী কোমল রূপটি হারিয়ে ফেলে। একসময় শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, বরং শক্ত পাথরে পরিণত হয়; স্বামীর প্রতি আবেগ, অনুভূতিও লোপ পেয়ে যায়। সংসারে সুখ বলে কিছু আছে, তাও বিস্মৃত হয়।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 মুসলিম ভাই, একটু ভাবুন

📄 মুসলিম ভাই, একটু ভাবুন


হে মুসলিম ভাই, এভাবে জীবনের সুখানুভূতি, সৌভাগ্যনুভূতি থেকে কেন নিজেকে বঞ্চিত হবেন এবং স্ত্রীকেও বঞ্চিত করবেন? একটু ভালোভাবে তো দাম্পত্যজীবনের মূলধন। একটু হাস্যোজ্জ্বলতাই তো প্রাণের স্পন্দন, হৃদয়ের বন্ধন। স্ত্রী-সন্তানের সাথে একটু বললে কি আপনার সুখ ক্ষতি হয়ে যাবে? তাদের সাথে একটু বসা, তাদের একটু সময় দেওয়া, সুখ-দুঃখগুলো ভাগাভাগি করা, স্বপ্নের কথাগুলো বলা, প্রত্যাশার কথাগুলো বলা—এতে কত শত নয়? অথচ একটি জীবনকে সুখকর করতে এগুলোর কত প্রয়োজন?

এমন প্রাচুর্যের পাহাড় গড়ে কী লাভ, যা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে, ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে এক অপূরণীয় ঘাটতি, এক অপ্রত্যাশিত দূরত্ব সৃষ্টি করে? আরে, একটি সফল দাম্পত্যজীবন অনেক অর্থব্যর্থের চেয়েও দামি। একে অপরের মন বোঝা, ভালোলাগা-মন্দলাগার শেয়ার করা, এভাবে একটি প্রীতি ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবার গঠন করা ইসলামে বিরাট পুণ্যের কাজ। এ প্রতিদানও বিরাট।

ফন্ট সাইজ
15px
17px