📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৮. কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততা

📄 ৮. কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততা


একজন কৃতজ্ঞ, বিশ্বস্ত নারী প্রতিটি মুসলিম পুরুষের লালিত স্বপ্ন। কোনো মুসলিম পুরুষ কখনোই চান না যে, তিনি চোখ খুলবেন তার স্ত্রী অন্য কারও বুকে। প্রতিটি মুসলিম পুরুষই কামনা করেন, সুখে দুখে সদাসর্বদা তার জীবনসঙ্গিনী আমৃত্যু তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকুক। খেয়ে থাকুক, না খেয়ে থাকুক; তারই থাকুক। তার যা আছে, তা নিয়েই গর্ব করুক। তার যা নেই, তাতেও ধৈর্য ধরুক। এমনকি, সে কামনা করে, তার মৃত্যুর পরও তার স্ত্রী তার দাম্পত্যজীবনের স্মৃতিকে বুকে লালন করুক কৃতজ্ঞতার সাথে, কৃতার্থতার সাথে。

একক্ষেত্রে আমাদের জন্য আদর্শ রেখে গেছেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রাযি.-এর জীবনসঙ্গিনী নায়েলা। শত্রুরা যখন হযরত উসমান রাযি.কে হত্যা করার জন্য হামলা চালাল তখন এই নায়েলা নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে ছুটে গেলেন। স্বামীর ওপর আঘাতকে প্রতিহত করতে হাত দিয়ে চেপে ধরলেন তরবারি। কেটে পড়ে গেল হাতের আঙুলগুলো。

শহীদ জীবনসঙ্গীর মরদেহ নিয়ে শোকে কাঠ হয়ে রইলেন তিনি। গভীর রজনী। দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো দাফনকার্য。

প্রিয়তম জীবনসঙ্গীর স্মৃতিরক্ষার ধারণ করে থেকে গেলেন নায়েলা। কত নামী দামী লোক বিবাহের প্রস্তাব পাঠাল। মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানও প্রস্তাব পাঠালেন। তিনি যাকে পাঠিয়েছিলেন, নায়েলা তাকে বলেন, ‘কীসে মুআবিয়াকে আমার প্রতি আকৃষ্ট করেছে?’ লোকটি বললেন, ‘আপনার যা সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁর সামনের পাটির দাঁতগুলো। তিনি সাথে সাথে ভেতরে গেলেন এবং সজোরে আঘাত করে দাঁতগুলো উপড়ে ফেললেন। এরপর লোকটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাও, আমি উসমানের স্ত্রী; আর যেন কেউ আমার প্রতি আগ্রহবোধ না করে।’১

টিকাঃ
১. আল আলাম লিজিরিকলী : ৭/৩৮৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px