📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ১. উত্তম আনুগত্য

📄 ১. উত্তম আনুগত্য


ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য একজন আদর্শ মুসলিম নারীর অপরিহার্য গুণ। তবে অবশ্যই তা হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত ভক্তি ও ভালোবাসার তাগিদে হতে হবে। সাথে সাথে সেই আনুগত্যের মানদণ্ড হবে আল্লাহর রেজামন্দি। আল্লাহর নাফরমানিতে স্বামীর আনুগত্য কখনোই কাম্য নয়। সে জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لَا طَاعَةَ فِيْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوْفِ

অর্থ : আল্লাহর নাফরমানিতে কোনো আনুগত্য হতে পারে না। আনুগত্য শুধু ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে।১

দাম্পত্যজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর অপরিহার্য কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে শিথিলতা দূষণীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَمْرِتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا كُلَّهُ لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعْهُ

অর্থ : যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করার অনুমতি দিতাম, তা হলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম স্বামীকে সেজদা করতে। ওই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, নারী তার রবের হক পুরোপুরি আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ না তার স্বামীর হক পুরোপুরি আদায় করে। এমনকি, সে হাওদায় থাকা অবস্থায়ও যদি স্বামী তাকে চায় তা হলেও তারে বাধা না দেওয়া উচিত।২

এই হাদীসটি প্রমাণ করে, স্বামীর আনুগত্য করা নারীর ওপর ওয়াজিব। সুতরাং সে স্বামীর আনুগত্য করে আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবে। কেননা, স্বামীর আনুগত্য করা আল্লাহর আনুগত্যেরই অন্তর্ভুক্ত।

স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ করা, সম্পদের দেখাশোনা করা—এগুলোও স্বামীর আনুগত্যেরই মধ্যে পড়ে। তার সম্পদের অপচয়-অপব্যয় না করাও এর শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ

অর্থ : সতীসাধ্বী নারীগণ অনুগতা, আল্লাহ যা রক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন অসাক্ষাতেও তার রক্ষাকারিণী... –সূরা নিসা : ৩৪

সুতরাং মুসলিম নারী স্বামীর অনুগতা হবে। এতে সে সওয়াবও পাবে, সোহাগও পাবে। কেননা, আনুগত্য ভালোবাসার সৃষ্টি করে। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনকে মজবুত করে। পক্ষান্তরে অন্যায় অবাধ্যতা আল্লাহর কাছে তো অপরাধী করেই, স্বামীর মনেও অপছন্দের সৃষ্টি করে। রাগ, অভিযোগ, বিবাদ, অভিযোগ ইত্যাদি জন্ম নেয়। দাম্পত্যজীবনের সুখ বিনষ্ট হয়। অনেক সময় পরিণতি হয় বিচ্ছেদ।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. আহমাদ।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ২. পারিপাট্য ও সৌন্দর্য

📄 ২. পারিপাট্য ও সৌন্দর্য


সৌন্দর্যপ্রীতি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। সৌন্দর্য অবলম্বনের প্রথম ক্ষেত্রই বলা যায় নর ও নারী। উপস্থিতি, আত্মপ্রকাশ, জীবনের শৈলী ছন্দ সবকিছুরতেই। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, লোকে চায় তার পোশাকটি সুন্দর হোক, জুতো জোড়া সুন্দর হোক। তার মন্তব্য শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ

অর্থ : তা-ই তো, আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।১

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বললেন, তিনি বলেছেন,

خَيْرُ النِّسَاءِ مَنْ تَسُرُّكَ إِذَا أَبْصَرْتَ

অর্থ : উত্তম স্ত্রী সে, যার প্রতি তুমি দৃষ্টিপাত করলে তোমার ভালো লাগে...।২

সৌন্দর্য বলতে কিন্তু রূপ-লাবণ্যের কথা বলা হচ্ছে না। এগুলো বংশগত ব্যাপার। চেহারা ও দেহের সৌন্দর্য নারীর মুখ্য বিষয় নয়। যেমনটা আজকালকার মেয়েদের মাথায় ঢুকতে শুরু করেছে। নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য হচ্ছে তার ধর্ম, কর্মে; আচরণে, ব্যবহারে; স্বভাবে, চরিত্রে এবং পারিপাট্যে। সুতরাং সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্র কিন্তু আমরা যেমনটা ভাবি তারচেয়ে ব্যাপক। বুদ্ধিমতী মেয়ে স্বামীর চিত্তজয়ে অনেক কিছু করতে পারে।

তাই বলে এমনটা ভাবারও দরকার নেই যে, সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে পুরুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি ধর্ম ও চরিত্রের সৌন্দর্যের সাথে চেহারার সৌন্দর্যও পাওয়া যায় তা হলে ক্ষতি কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرَبَتْ يَدَاكَ

অর্থ : নারীকে বিবাহ করা হয় সাধারণত চারটি বিষয় দেখে : অর্থ দেখে, বংশ দেখে, সৌন্দর্য দেখে, ধার্মিকতা দেখে। তুমি কিন্তু ধার্মিক মেয়ে বেছে নাও। বুঝলে, হে!৩

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. তিরমিযী।
৩. সহীহ বুখারী।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৩. স্বামীর ভালোবাসা অর্জন

📄 ৩. স্বামীর ভালোবাসা অর্জন


স্বামীর ভালোবাসা একটি বড় গুণ। এজন্য একজন বুদ্ধিমতী নারী অনেক কিছু করতে পারেন। ভক্তি-শ্রদ্ধা করা, মন যুগিয়ে চলা, আনন্দ দেওয়া, মিষ্টি করে কথা বলা, সান্ত্বনা দেওয়া ইত্যাদি। স্বামী যখন ঘরে আসেন, তখন তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা, সম্মানমূলক সুন্দরতম বাক্য উচ্চারণ করা, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার প্রশংসা করা, তার ভালোবাসা-মমতাগাঢ় ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখা—এগুলোও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। স্বামীর ভালোবাসা অর্জনে এগুলো খুবই কাজে আসে। বরং স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করাটাই তাকে ভালোবাসার বড় প্রকাশ। স্বামী যদি খুব ছোট কিছুও উপহার দেন, তাতেও অনেক আনন্দ প্রকাশ করা, কৃতজ্ঞতা জানানো স্বামীকে খুবই মুগ্ধ করে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়。

স্বামীর ভালোবাসা অর্জনে নারীর পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহপ্রদত্ত ফিতরাতেরও লক্ষ্য রাখা উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مِنَ الْفِطْرَةِ حَلْقُ الْعَانَةِ، وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ

অর্থ : তলপেটের লোম ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম তোলা, গোঁফ ছাঁটা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।১

স্বামী যদি রাগ করেন, তা হলে স্ত্রীর কর্তব্য তার রাগ তাড়ানো। এভাবেই স্বামীর ভালোবাসা অর্জন করা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِنِسَائِكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ الْوَدُودُ، الْوَلُودُ، الْعَوْدُ، الَّتِي إِذَا ظُلِمَتْ قَالَتْ هَذِهِ يَدِي فِي يَدِكَ لَا أَذُوقُ غُمْضًا حَتَّى تَرْضَى

অর্থ : আমি কি তোমাদের জানাবো জান্নাতী স্ত্রীদিগের কথা? প্রেমময়ী, সন্তানপ্রসবিনী; যদি তার প্রতি রাগ করা হয় এবং তার দোষ নাও থাকে, তবু বলে, এই আপনার হাতে হাত রেখে বলছি, আপনার রাগ না ভাঙলে একটি দানাও মুখে দেব না।২

আসলে আমরা যাবতীয়ভাবে স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের পথ ও পন্থা ব্যাখ্যা করি না কেন, একজন মা হিসেবে উমামা বিনতে হারেস যেভাবে বুঝিয়েছিলেন, সেভাবে বোঝানো সম্ভব হবে না। তিনি তার মেয়েকে বাসর রাতে স্বামীর কাছে পাঠানোর সময় উপদেশ দিয়েছিলেন,

أَيْ بُنَيَّةُ : إِنَّكِ فَارَقْتِ الْجَوَّ الَّذِيْ مِنْهُ خَرَجْتِ، وَخَلَفْتِ الْعُشَّ الَّذِيْ فِيهِ دَرَجْتِ، وَإِلَىٰ وَكْرٍ لَّمْ تَعْرِفِيهِ، وَقَرِيْنٍ لَّمْ تَأْلَفِيْهِ فَأَصْبَحَ بِمِلْكِهِ رَقِيقًا وَمَمْلُوْكًا، فَكُوْنِيْ لَهُ أَمَةً يَكُنْ لَّكِ عَبْدًا وَشَرِيكًا. يَا بُنَيَّةُ: إِنَّ لِيْ عَنْكِ عَشْرَ خِصَالٍ تَكُوْنُ لَكِ ذُخْرًا وَذِكْرًا: الصُّحْبَةُ بِالْقِنَاعَةِ وَالْمُعَاشَرَةُ بِحُسْنِ الطَّاعَةِ، وَالتَّعَهُّدُ لِمَوْضِعِ أَنْفِهِ، فَلَا تَقَعْ عَيْنُهُ مِنْكِ عَلَىٰ قَبِيْحٍ، وَلَا يَشَمَّ مِنْكِ إِلَّا أَطْيَبَ رِيْحٍ، وَالْكَحْلُ أَحْسَنُ الْحُسْنِ، وَالْمَاءُ أَطْيَبُ الطِّيْبِ الْمَفْقُوْدِ، وَالتَّعَهُّدُ لِوَقْتِ طَعَامِهِ، وَالْهُدُوْءُ عِنْدَ مَنَامِهِ، فَإِنَّ حَرَارَةَ الْجُوْعِ مَلْهَبَةٌ، وَتَنْغِيْصُ النَّوْمِ مُنْفِضَةٌ، وَالْاِحْتِفَاظُ بَيْنَهُ وَمَالِهِ، وَالْإِرْعَاءُ عَلَىٰ نَفْسِهِ وَحَشْمِهِ، فَإِنَّ الِاحْتِفَاظَ بِالْمَالِ حُسْنُ التَّقْدِيرِ وَالْإِرْعَاءَ عَلَى الْعِيَالِ وَالْحَشْمِ حُسْنُ التَّدْبِيرِ، وَلَا تُفْشِيْ لَهُ سِرًّا وَلَا تَعْصِيْ لَهُ أَمْرًا فَإِنَّكِ إِنْ أَفْشَيْتِ سِرَّهُ لَمْ تَأْمَنِيْ غَدْرَهُ، وَإِنْ عَصَيْتِ أَمْرَهُ أَوْغَرْتِ صَدْرَهُ وَاعْلَمِيْ أَنَّكِ لَنْ تَصِلِيْ إِلَىٰ مَا تُحِبِّيْنَ حَتَّىٰ تُؤْثِرِيْ رِضَاهُ عَلَىٰ رِضَاكِ وَهَوَاهُ عَلَىٰ هَوَاكِ...

অর্থ : আমার ময়না, এই উদার আকাশ, এই উন্মুক্ত বাতাস, এই অনুকূল পরিবেশ আজ তোমার অতীত হতে চলেছে। এগুলোকে পেছনে ফেলে তুমি আজ এক অজানা জায়গায় যাচ্ছ। এক অচেনা মানুষের কাছে যাচ্ছ। আজ সে-ই তোমার সব। তুমি তার দাসী হয়ে থাকবে। দেখবে, তাকে জয় করে ফেলেছ, দেখবে, সে তোমার একটা অংশ হয়ে গেছে।

আমার মেয়ে, এই নতুন জীবনের পথে তোমাকে কিছু পাথেয় দিচ্ছি। এগুলো যত্ন করে দেখো :
সাথে থেকো, খুশি থেকো; অনুগত থেকো। চোখের নড়াচড়া, নাকের নিঃশ্বাস আমলে নেবে; চোখ যেন সুন্দর কিছু দেখে, নাক যেন সুন্দর কিছু শোঁকে; সুরমা সবচেয়ে সুন্দর, জল সবচেয়ে সুগন্ধ। খাবার সময়ের খেয়াল রাখবে, ঘুমের ঘর শান্ত রাখবে; ক্ষুধার উত্তাপ আগুন ধরায়, ঘুমের ব্যাঘাত রাগ ধরায়। ঘর দেখাশোনা করবে, সম্পদ রক্ষা করবে। তাকেও খাওয়াবে, পরিজনকেও খাওয়াবে। সম্পদ রক্ষা করলে মান বাড়বে, পরিবার-পরিজনকেও খাওয়ালে দাম বাড়বে। ঘরের কথা পরের কাছে বলবে না, কোনো কথার অবাধ্য হবে না; ঘরের কথা পরের কাছে বললে রেহাই পাবে না। অবাধ্য হলে সুখ পাবে না। মনে রেখো, তুমি যা চাও তা কখনোই পাবে না যদি তার চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য না দাও।৩

বোল আমার, তোমার দাম্পত্যজীবন হোক সুখে ভরা, সোহাগে ভরা। সারাজীবন স্বামীসংসার করে চুল পাকানো দাদিমার উপদেশগুলো হোক তোমার পাথেয়। তুমি পাও একটি শান্তি-সুখের নীড়।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।
২. নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা।
৩. আহকামুন নিসা লিবনিল জাওযী : ৩১৫-৩১৬।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৪. অল্পেতুষ্টি

📄 ৪. অল্পেতুষ্টি


মুসলিম নারী জানেন, রিজিক আল্লাহর দান। আর দাম্পত্যজীবন একটি শেয়ার। এই শেয়ারের মূলধন কিন্তু পার্থিব ধন নয়, এই শেয়ারের মূলধন হলো আল্লাহর একত্বে একে অপরকে ভালোবাসা। স্বামী যখন আল্লাহর একত্বে স্ত্রীকে ভালোবাসবে, তখন তার সবকিছুই হবে স্ত্রীর জন্য। তার সকল শ্রম সাধনা স্ত্রীর জন্য, পরিবারের জন্য। তার সকল অর্জন-উপার্জন স্ত্রীর জন্য, পরিবারের জন্য। অনুরূপ স্ত্রীও যখন আল্লাহর একত্বে স্বামীকে ভালোবাসবে, তখন সেই ভালোবাসা তাকেও স্বামীর প্রতি আন্তরিক হতে উৎসাহ যোগাবে। স্বামীর যা আছে, তা নিয়েই খুশি থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে。

নিজের সব আল্লাহর বশবর্তী হয়ে কখনোই স্বামীর কাছে বড় বড় আবদার ও বেশি বেশি আবদার করবে না। বলবে না যে, আমার এটা লাগবে, ওটা লাগবে; ঘরে এই নেই, সেই নেই ইত্যাদি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِرْضَ بِمَا قَسَمَ اللّٰهُ لَكِ تَكُنْ أَسْعَدَ النَّاسِ

অর্থ : আল্লাহ্ তোমার কপালে যা রেখেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থেকো। দেখবে, সবচে সুখী মানুষ তুমি।১

একজন যোগ্য, আদর্শ স্ত্রী যেমন রবের প্রতি কৃতজ্ঞ, তেমনই বর এর প্রতিও কৃতজ্ঞ। অভিযোগ নেই, আপত্তি নেই। আক্ষেপ নেই, অতৃপ্তি নেই। যদি কখনো কোনো কারণে একটু মনোমালিন্য হয়ও, তা হলে চুপ থাকে; তর্ক করে না, কথা ধরে না। ফলে সহজেই সবকিছু মিটে যায়。

কবি বলেন,

عَذْلِي الْمُفْتُو مَتَى تَسْتَدْمِينَ مُؤْذِي وَلَا تَذْرَبِي تَذَرُكِ الْقَوْلُ مَرَّةً وَلَا تَكْثَرِى الشَّكْوَى فَتَذْهَبَ بِالْفَوَى فَإِنِّي رَأَيْتُ الْحُبَّ فِى الْقَلْبِ وَالْأَدْوَى وَلَا تَنْطِقِي فِي صَوْرَتِي حِينَ أَغْضَبُ فَإِنَّكِ لَا تَدْرِينَ كَيْفَ الْمُثِيبُ وَبِالْكَ قَلْبِي
وَالْقُلُوبِ تَقْلِبُ إِذَا اجْتَمَعَا لَمْ يَلْبَثِ الْحُبُّ يَذْهَبُ

আমার প্রিয়তমা, আজ নয় প্রেমলাপ, নয় ইনিয়ে বিনিয়ে বলা; যদি চাও ভালোবাসা শোনো, আমার ভালো ভাষা— ধৈর্য ধরো, সহনশীল হও তোমার আমার পথ চলা রবে চিরদিন, রবে অমলিন; চোরের মতো বাজিয়ো না আমায়, কোরো না বেশি অভিযোগ; প্রেমের শক্তি মিশে যাবে হাওয়ায়, বেড়ে যাবে অভিমান, অভিরোষ। ভালোবাসা হৃদয়ে, দহনে। যদি রাগ করি, তর্ক কোরো না; নিন্দা কোরো না গোপনে। এ কত কঠিন তুমি জানো না— মন থেকে মুছে যাবে নিমিষেই; মন যে এমনই—রং বদলায় পলকেই। ভালোবাসা তলিয়ে যায় অভিমানের অতলে。

পার্থিব বিলাসিতার প্রতি মুসলিমা নারী কখনোই ঝুঁকে যেতে পারে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত স্ত্রীগণ যখন ভরণপোষণ প্রশ্নে প্রবৃত্তির আবেদন করেছিলেন, তখন পবিত্র কুরআনে নাযিল হয়েছিল,

يَأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَوَةَ الدُّنْيَا وَزِيْنَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأَسْرَحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا

অর্থ : হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি দুনিয়ার জীবন এবং দুনিয়ার ভোগবিলাস কামনা কর, তা হলে চল তোমাদেরকে তোমাদের সাধ্যানুপাতি দিয়ে সীলজয়সকারক মুক্ত করে দিই; আর যদি তোমরা আল্লাহ্, রাসূল ও আখিরাত চাও তা হলে তো তোমাদের মতো সদাচারী নারীদের জন্য আল্লাহ্ প্রস্তুত করে রেখেছেন বিরাট প্রতিদান। –সূরা আহযাব : ২৮-২৯

এভাবে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র স্ত্রীগণকে তাঁকে অথবা পার্থিব সুখকে বেছে দেওয়ার ইচ্ছাধিকার দিয়েছিলেন তখন উম্মাহাতুল মুমিনিন অকুণ্ঠচিত্তে তাঁকেই বেছে নিয়েছিলেন। পার্থিব জীবনের বিলাসিতা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন। নবীপরিবারের অভাব-অনটন, টানা-হেঁচড়া, টানাপোড়েনকেই বরণ করে নিয়েছিলেন। ভাবুন তো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত আনন্দিত হয়েছিলেন! তাঁর কত গর্ব হয়েছিল! আমাদের প্রকৃত আদর্শ এই মহীয়সী নারীগণই। তাঁদেরই অনুসারী আমরা। যে মহাত্যাগ তাঁরা পদচুম্বন করেছে, তা আমাদেরও প্রাপ্য। আমরা কেন অন্যদের কথা শুনব। কেন আলো ভেবে আলোর পেছনে ছুটব。

টিকাঃ
১. তিরমিযী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px