📄 পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকে না
আদি ইসলামের পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকেনি। ইসলাম কখনোই তাদের বন্দিশালায় ফেলে রাখেনি। সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষা করে, ইসলামী বিধান মেনে, শরঈ পর্দার পরিধি ধরে, নারী কর্মমুখর জীবনে অবতীর্ণ হতে পারে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে সবকিছুতেই সতর্কতার প্রয়োজন। যেন তার কারণে সমাজে ফেতনা না ছড়ায়। শরীয়াতের বিধান লঙ্ঘিত না হয়। এই সতর্কতা তার নিজের কল্যাণেও ও সমাজের কল্যাণেও।
নামাযগাহে, ঈদগাহে মুসলিম নারীগণ বের হতে পারতেন। কেননা, তারা এসব পর্বের পূর্ব পারদর্শিতা করতেন। শিক্ষার জন্য, শিষ্টাচারের জন্য, নিজ নিজ প্রয়োজনে বের হতেন। কখনোই ইসলামী বিধান, শরঈ পর্দা লঙ্ঘন করতেন না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,
لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ
অর্থ : তোমরা আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর ঘর থেকে বাধা প্রদান করো না।১
কারণ আল্লাহর ঘর প্রথমত আল্লাহর ইবাদতখানা। দ্বিতীয়ত দ্বীনি ইলম হাসিলের মারকায। আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশেরও কেন্দ্রবিন্দু। নববী যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে সমানভাবে ছিলেন আল্লাহর ঘরমুখী, মসজিদমুখী।
মুসলিম নারী নববী যুগে জিহাদেও পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পবিত্র স্ত্রীগণও বিভিন্ন বিজয়অভিযানে বের হয়েছেন। ইতিহাসেপ্রসিদ্ধ জিহাদ ও ধর্মযুদ্ধে মুসলিম নারীদের অবদান অক্ষুণ্ণ আছে। উম্মে আম্মারা রাযি., উম্মে সুলাইম রাযি., সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. প্রমুখের মতো না জানা অসংখ্য নারী আছেন জিহাদে যার যার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেছেন। আয়েশা রাযি.-এর মতো আরও অনেক মহীয়সী আছেন যারা যুদ্ধের দাবানলে ও নিজ নিজ দায়িত্বপালনে পিছপা হননি। রাফীদা রাযি.-এর মতো অনেক সাহাবিয়া আছেন যারা আহত সৈন্যদের সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকেছেন দিনের পর দিন।
ইসলাম নারীকে অনুমতি দিয়েছে, সে শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হতে পারে। তবে ইসলামী হিজাব ও ইসলামী স্বভাবকে বুকে লালন করে। যদি মুসলিম নারী-ডাক্তার না থাকে, তা হলে পুরুষ-ডাক্তারেরও শরণাপন্ন হতে পারে। বেচাকেনা করতে পারে। ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সাক্ষী হয়ে আদালতে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় কাজ করার কেউ না থাকলে কর্মক্ষেত্রেও নামতে পারে। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় আমরা কী শিক্ষা পাই? মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ ۖ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتّٰى يُصْدِرَ الرِّعَآءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
فَسَقٰى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلّٰى اِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ اِنِّيْ لِمَآ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
فَجَآءَتْهُ إِحْدٰٮهُمَا تَمْشِيْ عَلَى اسْتِحْيَآءٍ قَالَتْ اِنَّ اَبِيْ يَدْعُوْكَ لِيَجْزِيَكَ اَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ؕ فَلَمَّا جَآءَهٗ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ ۙ قَالَ لَا تَخَفْ ۙ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِيْنَ
অর্থ : মূসা মাদায়ানের জলাশয়ে পৌঁছে কিছু লোককে দেখলেন গবাদি পশুকে পানি পান করাতে। সবার পেছনে দেখলেন দুজন নারী। তারা তাদের পশুকে আটকোনোর চেষ্টা করছিল। মূসা জিজ্ঞেস করলেন, কী বিষয় আপনাদের? তারা বলল, রাখালরা না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পান করাতে পারব না। আমাদের আব্বা বয়োবৃদ্ধ। তখন মূসা তাদের পশুকে পান করালেন। তারপর একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে বসলেন, আল্লাহ, তোমার করুণার আমার এখন বড় প্রয়োজন। তখন সেই দুজনার একজন এল লজ্জাজড়িত চরনে। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন আপনি যে আমাদের পশুকে পান করিয়েছেন তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য। মূসা শুআইবের কাছে গেলেন এবং তাকে নিজের বৃত্তান্ত জানালেন। শুআইব বললেন, ভয় পেয়ো না, তুমি জালেম কওম থেকে নাজাত পেয়েছ। –সূরা কাসাস : ২৩-২৫
সুতরাং যদি জনজীবনে নারীকে আসতে হয় এবং সেজন্য তাকে ঘর থেকে বের হতে হয়, তা হলে তার করণীয় হলো শরীয়াতের যাবতীয় শিষ্টাচারে আঁকড়ে ধরা; পোশাকপরিচ্ছদ, দৃষ্টির হেফাজত, কথাবার্তার শরীয়াতনির্দেশিত দিক-নির্দেশনাগুলো সামনে রাখা। কথায় নমনীয়তা পরিহার করা, কণ্ঠে কৃত্রিমতা পরিত্যাগ করা, পথ চলতে গিয়ে এমন ভঙ্গিমা বর্জন করা যা পুরুষের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে। তাকে মনে রাখতে হবে, তার আল্লাহ তাকে কী বলেছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ : আর তোমরা তোমাদের ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। –সূরা আহযাব : ৩৩
সর্বোপরি, যত দূর সম্ভব, পরপুরুষ থেকে দূরে থাকা। অপ্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলা, তাদের সাথে কাজ করা থেকে বেঁচে থাকা।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।
আদি ইসলামের পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকেনি। ইসলাম কখনোই তাদের বন্দিশালায় ফেলে রাখেনি। সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষা করে, ইসলামী বিধান মেনে, শরঈ পর্দার পরিধি ধরে, নারী কর্মমুখর জীবনে অবতীর্ণ হতে পারে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে সবকিছুতেই সতর্কতার প্রয়োজন। যেন তার কারণে সমাজে ফেতনা না ছড়ায়। শরীয়াতের বিধান লঙ্ঘিত না হয়। এই সতর্কতা তার নিজের কল্যাণেও ও সমাজের কল্যাণেও।
নামাযগাহে, ঈদগাহে মুসলিম নারীগণ বের হতে পারতেন। কেননা, তারা এসব পর্বের পূর্ব পারদর্শিতা করতেন। শিক্ষার জন্য, শিষ্টাচারের জন্য, নিজ নিজ প্রয়োজনে বের হতেন। কখনোই ইসলামী বিধান, শরঈ পর্দা লঙ্ঘন করতেন না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,
لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ
অর্থ : তোমরা আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর ঘর থেকে বাধা প্রদান করো না।১
কারণ আল্লাহর ঘর প্রথমত আল্লাহর ইবাদতখানা। দ্বিতীয়ত দ্বীনি ইলম হাসিলের মারকায। আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশেরও কেন্দ্রবিন্দু। নববী যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে সমানভাবে ছিলেন আল্লাহর ঘরমুখী, মসজিদমুখী।
মুসলিম নারী নববী যুগে জিহাদেও পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পবিত্র স্ত্রীগণও বিভিন্ন বিজয়অভিযানে বের হয়েছেন। ইতিহাসেপ্রসিদ্ধ জিহাদ ও ধর্মযুদ্ধে মুসলিম নারীদের অবদান অক্ষুণ্ণ আছে। উম্মে আম্মারা রাযি., উম্মে সুলাইম রাযি., সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. প্রমুখের মতো না জানা অসংখ্য নারী আছেন জিহাদে যার যার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেছেন। আয়েশা রাযি.-এর মতো আরও অনেক মহীয়সী আছেন যারা যুদ্ধের দাবানলে ও নিজ নিজ দায়িত্বপালনে পিছপা হননি। রাফীদা রাযি.-এর মতো অনেক সাহাবিয়া আছেন যারা আহত সৈন্যদের সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকেছেন দিনের পর দিন।
ইসলাম নারীকে অনুমতি দিয়েছে, সে শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হতে পারে। তবে ইসলামী হিজাব ও ইসলামী স্বভাবকে বুকে লালন করে। যদি মুসলিম নারী-ডাক্তার না থাকে, তা হলে পুরুষ-ডাক্তারেরও শরণাপন্ন হতে পারে। বেচাকেনা করতে পারে। ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সাক্ষী হয়ে আদালতে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় কাজ করার কেউ না থাকলে কর্মক্ষেত্রেও নামতে পারে। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় আমরা কী শিক্ষা পাই? মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ ۖ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتّٰى يُصْدِرَ الرِّعَآءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
فَسَقٰى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلّٰى اِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ اِنِّيْ لِمَآ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
فَجَآءَتْهُ إِحْدٰٮهُمَا تَمْشِيْ عَلَى اسْتِحْيَآءٍ قَالَتْ اِنَّ اَبِيْ يَدْعُوْكَ لِيَجْزِيَكَ اَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ؕ فَلَمَّا جَآءَهٗ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ ۙ قَالَ لَا تَخَفْ ۙ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِيْنَ
অর্থ : মূসা মাদায়ানের জলাশয়ে পৌঁছে কিছু লোককে দেখলেন গবাদি পশুকে পানি পান করাতে। সবার পেছনে দেখলেন দুজন নারী। তারা তাদের পশুকে আটকোনোর চেষ্টা করছিল। মূসা জিজ্ঞেস করলেন, কী বিষয় আপনাদের? তারা বলল, রাখালরা না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পান করাতে পারব না। আমাদের আব্বা বয়োবৃদ্ধ। তখন মূসা তাদের পশুকে পান করালেন। তারপর একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে বসলেন, আল্লাহ, তোমার করুণার আমার এখন বড় প্রয়োজন। তখন সেই দুজনার একজন এল লজ্জাজড়িত চরনে। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন আপনি যে আমাদের পশুকে পান করিয়েছেন তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য। মূসা শুআইবের কাছে গেলেন এবং তাকে নিজের বৃত্তান্ত জানালেন। শুআইব বললেন, ভয় পেয়ো না, তুমি জালেম কওম থেকে নাজাত পেয়েছ। –সূরা কাসাস : ২৩-২৫
সুতরাং যদি জনজীবনে নারীকে আসতে হয় এবং সেজন্য তাকে ঘর থেকে বের হতে হয়, তা হলে তার করণীয় হলো শরীয়াতের যাবতীয় শিষ্টাচারে আঁকড়ে ধরা; পোশাকপরিচ্ছদ, দৃষ্টির হেফাজত, কথাবার্তার শরীয়াতনির্দেশিত দিক-নির্দেশনাগুলো সামনে রাখা। কথায় নমনীয়তা পরিহার করা, কণ্ঠে কৃত্রিমতা পরিত্যাগ করা, পথ চলতে গিয়ে এমন ভঙ্গিমা বর্জন করা যা পুরুষের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে। তাকে মনে রাখতে হবে, তার আল্লাহ তাকে কী বলেছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ : আর তোমরা তোমাদের ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। –সূরা আহযাব : ৩৩
সর্বোপরি, যত দূর সম্ভব, পরপুরুষ থেকে দূরে থাকা। অপ্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলা, তাদের সাথে কাজ করা থেকে বেঁচে থাকা।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।
📄 দাম্পত্যজীবন
নর-নারীর মিলনের পথে যখন শরীয়াতের যাবতীয় বিধান অনুসৃত হবে, তখন নিঃসন্দেহে একটি পূত-পবিত্র, অনিন্দ্যসুন্দর, আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হবে। ইসলামের শীতল ছায়ায় গড়ে ওঠা এরূপ একটি পরিবারে প্রয়োজন হবে একটি সর্বতোসুন্দর, আনন্দমুখর, মধুর দাম্পত্যজীবন। এজন্য ইসলামের বিধান নর-নারী উভয়কে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়। তারা উভয়ই এখন একে অপরের তরে। উভয়ই সর্বস্ব উজাড় করে দেবে উভয়কে সুখী করার জন্য। উভয়ের মনপ্রাণ আনন্দে ভরিয়ে দেবার জন্য। উভয়ের জীবনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবার জন্য। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্লঙ্ঘ দুর্গের মতো। জীবন ও জগতের কোনো আঁচ তার গায়ে লাগতে দেবে না। নারী পাবে একটি বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসী জীবনসঙ্গী। নারীকে সে গ্রহণ করবে একটি প্রস্ফুটিত লাল টুকটুকে বা ধবধবে সাদা গোলাপের মতো ভালোবেসে। যার সুবাসে তার জীবন হতে পারে সুবাসিত। ভাগ্যাকাশে উদিত চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অসীম বিস্ময়ে যার আলোয় তার জীবন হতে পারে আলোকিত। প্রেমের উদ্যানে ফুলবতী-ফলবতী বৃক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতভাবে যার ফুলে-ফলে তার জীবন হতে পারে সুশোভিত। এভাবে নারী হবে পুরুষের জীবনে গানে গানে মুখরিত সবুজ শ্যামল উদ্যান। যেখানে সে ছায়া পাবে, মায়া পাবে, শান্তি পাবে, প্রশান্তি পাবে। রোগনিরাময়কারী বনলতার মতো হৃদয়ের ক্ষতকে নিরাময় করবে। সান্ত্বনার শীতল প্রলেপ বুলিয়ে অশান্তির আগুন নির্বাপিত করবে। স্বচ্ছ, সুপেয় নির্ঝরের মতো প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে। স্পষ্ট, উজ্জ্বল আলোর মতো জীবনের ঝঞ্ঝাটে পথ দেখাবে। সে উপলব্ধি করবে এক স্বর্গীয় সুখ। কেননা, সে পেয়েছে এক প্রেমময়ী জীবনসঙ্গিনী। সুখে দুঃখে পাশে থাকার মতো, আশায় হতাশায় প্রেরণা যোগাবার মতো একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গিনী।
নর-নারীর মিলনের পথে যখন শরীয়াতের যাবতীয় বিধান অনুসৃত হবে, তখন নিঃসন্দেহে একটি পূত-পবিত্র, অনিন্দ্যসুন্দর, আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হবে। ইসলামের শীতল ছায়ায় গড়ে ওঠা এরূপ একটি পরিবারে প্রয়োজন হবে একটি সর্বতোসুন্দর, আনন্দমুখর, মধুর দাম্পত্যজীবন। এজন্য ইসলামের বিধান নর-নারী উভয়কে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়। তারা উভয়ই এখন একে অপরের তরে। উভয়ই সর্বস্ব উজাড় করে দেবে উভয়কে সুখী করার জন্য। উভয়ের মনপ্রাণ আনন্দে ভরিয়ে দেবার জন্য। উভয়ের জীবনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবার জন্য। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্লঙ্ঘ দুর্গের মতো। জীবন ও জগতের কোনো আঁচ তার গায়ে লাগতে দেবে না। নারী পাবে একটি বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসী জীবনসঙ্গী। নারীকে সে গ্রহণ করবে একটি প্রস্ফুটিত লাল টুকটুকে বা ধবধবে সাদা গোলাপের মতো ভালোবেসে। যার সুবাসে তার জীবন হতে পারে সুবাসিত। ভাগ্যাকাশে উদিত চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অসীম বিস্ময়ে যার আলোয় তার জীবন হতে পারে আলোকিত। প্রেমের উদ্যানে ফুলবতী-ফলবতী বৃক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতভাবে যার ফুলে-ফলে তার জীবন হতে পারে সুশোভিত। এভাবে নারী হবে পুরুষের জীবনে গানে গানে মুখরিত সবুজ শ্যামল উদ্যান। যেখানে সে ছায়া পাবে, মায়া পাবে, শান্তি পাবে, প্রশান্তি পাবে। রোগনিরাময়কারী বনলতার মতো হৃদয়ের ক্ষতকে নিরাময় করবে। সান্ত্বনার শীতল প্রলেপ বুলিয়ে অশান্তির আগুন নির্বাপিত করবে। স্বচ্ছ, সুপেয় নির্ঝরের মতো প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে। স্পষ্ট, উজ্জ্বল আলোর মতো জীবনের ঝঞ্ঝাটে পথ দেখাবে। সে উপলব্ধি করবে এক স্বর্গীয় সুখ। কেননা, সে পেয়েছে এক প্রেমময়ী জীবনসঙ্গিনী। সুখে দুঃখে পাশে থাকার মতো, আশায় হতাশায় প্রেরণা যোগাবার মতো একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গিনী।