📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 বিবাহপূর্ব প্রেম : একটি ভুল পথ

📄 বিবাহপূর্ব প্রেম : একটি ভুল পথ


বর্তমানে অনেক ছেলেমেয়ে বলতে চায়, বিবাহের পূর্বে একে অপরকে জানার প্রয়োজন আছে, যাতে উভয়ের মধ্যে বনিবনা ভালো হয়, এজন্য পরিবারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অথবা পরিবারের অনুমতিতে তারা একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে, ঘোরাঘুরি করে, গল্পগুজব করে। তারা এগুলোকে বলে, পূর্বপরিচয় বা বিবাহপূর্ব প্রেম।

ইসলামী শরীআতে এর কোনো ভিত্তি নেই। এটা অবলা নারীর আবেগ অনুভূতির সাথে শুধুই প্রতারণা। তার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এ ধরনের বিবাহ ও বিরহকে কখনোই ধর্মীয় ভিত্তি দান করা যাবে না। এটা শুধুই প্ররোচনা, ঠকাকারিয়া। প্রায়ই এর পরিণতি হয় ব্যর্থতা। কেননা, এমন সম্পর্ক সত্যিকারের শান্তিরটুকু থাকে না যে, হৃদয়ের গভীরে স্থিতি লাভ করবে।

মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ভালোলাগা, ভালোবাসা ইত্যাদি অপার্থিব বিষয়গুলো মূলত যথাস্থানে যথাসময়ের জন্য সঞ্চিত থাকে। কিন্তু এ ধরনের অপ্রত্যাশী মিলন ও সাক্ষাৎ এগুলোকে গলা টিপে হত্যা করে। এভাবে চলতে থাকলে যুবকরা অবৈধভাবে তাদের শারীরিক সুযোগ পেয়ে যায়। সুতরাং তাদের কাছে এমন বিবাহের প্রয়োজনীয়তা থাকে না, যা তাদেরেক স্ত্রীর ভরণপোষণার্থে বাধ্য করে, দাম্পত্যজীবনের হাজারও অনিবার্য্যতা তুলে ধরে। অবশেষে বৈধ পন্থায় বিবাহের দাবি তাদের কাছে হয়ে পড়ে অর্থহীন।

হে মেয়ে,
সুতরাং সতর্ক হও। আলো ভেবে আলোকের পেছনে ছুটে যা পাও, তা শুধুই প্রতারণা। একটি পুত-পবিত্র, নির্দোষ-নিষ্কলুষ জীবনের সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করো না। কবি যাদের প্রতি করুণা করে বলেছেন তুমি তাদের মতো হয়ো না :

حَذَرُوا بِفِرْهِمْ حِسْنَاءَ وَالْنُوْرُ بَفْرَهُمْ أَلْفَاءَ

বাঁদরেরা ধোঁকা দিল সুন্দরী বলে। অবলারা ধোঁকা খেল প্রশংসা-ছলে।

মা আমার,
বামখেয়ালিতে গা ভাসিয়ো না। নিজের মর্যাদা ও আভিজাত্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে কী পাবে? জেনে শুনে একটি পঁচানো ফাঁদে পা দেবে? এতটুকু আত্মসম্মানবোধ তোমার নেই? এই যে অনৈসলামিক বিবাহগুলো, এর পরিণতি কী তুমি জানো?

মনে রাখবে, যাদের সুরে সুর মিলিয়ে গড্ডলিকা-প্রবাহে গা ভাসাবে, তারা তোমার সাথে থাকবে না। এসবের মন্দ পরিণতি একা নারীকেই পোহাতে হয়—শুধু একা পোহাতে হয়।

অত্যাচারিতা নারী অধিকার চায়, স্ত্রীদের সম্মান চায়, সন্তানের স্বীকৃতি চায়; অর্থ চায়, বস্ত্র চায়, আবাস চায়; কিন্তু লাভ হয় না। এ ধরনের বিবাহগুলো কোনো ধর্মীয় রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষিত থাকে না। সত্যিকারের মানুষ যারা, তাদের কাছে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। যাদের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তারা মানুষই না। তারা পশু, বরং পশুর চেয়েও খারাপ।

বাধ্য হয়ে নারী লাঞ্ছনার জীবন বেছে নেয়। হয়তো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বিদ্রোহ করে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটে—বিচরণের রাগ গিয়ে পড়ে শুঁটকির ওপর।

বর্তমানে অনেক ছেলেমেয়ে বলতে চায়, বিবাহের পূর্বে একে অপরকে জানার প্রয়োজন আছে, যাতে উভয়ের মধ্যে বনিবনা ভালো হয়, এজন্য পরিবারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অথবা পরিবারের অনুমতিতে তারা একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে, ঘোরাঘুরি করে, গল্পগুজব করে। তারা এগুলোকে বলে, পূর্বপরিচয় বা বিবাহপূর্ব প্রেম।

ইসলামী শরীআতে এর কোনো ভিত্তি নেই। এটা অবলা নারীর আবেগ অনুভূতির সাথে শুধুই প্রতারণা। তার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এ ধরনের বিবাহ ও বিরহকে কখনোই ধর্মীয় ভিত্তি দান করা যাবে না। এটা শুধুই প্ররোচনা, ঠকাকারিয়া। প্রায়ই এর পরিণতি হয় ব্যর্থতা। কেননা, এমন সম্পর্ক সত্যিকারের শান্তিরটুকু থাকে না যে, হৃদয়ের গভীরে স্থিতি লাভ করবে।

মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ভালোলাগা, ভালোবাসা ইত্যাদি অপার্থিব বিষয়গুলো মূলত যথাস্থানে যথাসময়ের জন্য সঞ্চিত থাকে। কিন্তু এ ধরনের অপ্রত্যাশী মিলন ও সাক্ষাৎ এগুলোকে গলা টিপে হত্যা করে। এভাবে চলতে থাকলে যুবকরা অবৈধভাবে তাদের শারীরিক সুযোগ পেয়ে যায়। সুতরাং তাদের কাছে এমন বিবাহের প্রয়োজনীয়তা থাকে না, যা তাদেরেক স্ত্রীর ভরণপোষণার্থে বাধ্য করে, দাম্পত্যজীবনের হাজারও অনিবার্য্যতা তুলে ধরে। অবশেষে বৈধ পন্থায় বিবাহের দাবি তাদের কাছে হয়ে পড়ে অর্থহীন।

হে মেয়ে,
সুতরাং সতর্ক হও। আলো ভেবে আলোকের পেছনে ছুটে যা পাও, তা শুধুই প্রতারণা। একটি পুত-পবিত্র, নির্দোষ-নিষ্কলুষ জীবনের সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করো না। কবি যাদের প্রতি করুণা করে বলেছেন তুমি তাদের মতো হয়ো না :

حَذَرُوا بِفِرْهِمْ حِسْنَاءَ وَالْنُوْرُ بَفْرَهُمْ أَلْفَاءَ

বাঁদরেরা ধোঁকা দিল সুন্দরী বলে। অবলারা ধোঁকা খেল প্রশংসা-ছলে।

মা আমার,
বামখেয়ালিতে গা ভাসিয়ো না। নিজের মর্যাদা ও আভিজাত্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে কী পাবে? জেনে শুনে একটি পঁচানো ফাঁদে পা দেবে? এতটুকু আত্মসম্মানবোধ তোমার নেই? এই যে অনৈসলামিক বিবাহগুলো, এর পরিণতি কী তুমি জানো?

মনে রাখবে, যাদের সুরে সুর মিলিয়ে গড্ডলিকা-প্রবাহে গা ভাসাবে, তারা তোমার সাথে থাকবে না। এসবের মন্দ পরিণতি একা নারীকেই পোহাতে হয়—শুধু একা পোহাতে হয়।

অত্যাচারিতা নারী অধিকার চায়, স্ত্রীদের সম্মান চায়, সন্তানের স্বীকৃতি চায়; অর্থ চায়, বস্ত্র চায়, আবাস চায়; কিন্তু লাভ হয় না। এ ধরনের বিবাহগুলো কোনো ধর্মীয় রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষিত থাকে না। সত্যিকারের মানুষ যারা, তাদের কাছে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। যাদের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তারা মানুষই না। তারা পশু, বরং পশুর চেয়েও খারাপ।

বাধ্য হয়ে নারী লাঞ্ছনার জীবন বেছে নেয়। হয়তো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বিদ্রোহ করে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটে—বিচরণের রাগ গিয়ে পড়ে শুঁটকির ওপর।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 একটি আক্ষেপ, একটি আকুতি

📄 একটি আক্ষেপ, একটি আকুতি


আজ অনেক মুসলিম নারীর পোশাক দেখে হতভম্ব হতে হয়। আত্মমর্যাদাবোধ আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে? শাড়ি, শর্ট কামিজ, জিন্স প্যান্ট, টাইটস প্যান্ট, ঘাগরা, লেহেঙ্গা যত সব বিজাতীয় বেশর্মী পোশাকে বাইরে বের হচ্ছে। অনেকের পাশ্চাত্যপ্রীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মনে হয় মুসলিম হওয়াকে সে নিজের জন্য আপদ মনে করছে। কারণ, এটা এখন উল্টো স্রোত।

অনেকেও তো ধর্মীয় পোশাকের প্রতি বিদ্বেষ-বিদ্বাদনে উঠে পড়ে লেগেছেন। কীসের মোহ তাদের এত উৎসাহ যোগাচ্ছে জানি না; কিন্তু তারা নিজেদেরও ক্ষতি করছেন, জনকেও ক্ষতি করছেন; নিজেরাও ধোঁকা খাচ্ছেন, অন্যকেও ধোঁকা খাওয়াচ্ছেন।

অনেকের পক্ষে সরল মনে ইসলামনির্দেশিত পথকে আঁকড়ে থাকতে বিহার সৃষ্টি হচ্ছে। আধুনিক অনেক মডেল আকৃষ্ট করছে; আবার ইসলামী পোশাক বলেও গ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু মন দিয়ে বুঝে নিন, উপযুক্ত শর্তাবলির বাইরে যত জাত-পাতের পোশাক আমদানি হচ্ছে, কোনোটা ইসলামী পোশাক নয়। এগুলোর সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পর্কও নেই।

আর কৃত্রিম সজ্জা—মেকআপ, প্রসাধক, নখ লাগানো, চুল লাগানো, উল্কি দেওয়া—এগুলো নাকি আপ টু ডেট! মুসলিম নারী যেন ভুলে যাচ্ছে, সে মুসলিম। তার জীবন অনেক অর্থবহ। তার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মহৎ। সে মহান স্রষ্টার পথনির্দেশনে পরিচালিত। তার আছে উন্নত জীবনবিধান, আছে উন্নত জীবনদর্শন।

প্রিয় বোন,
তুমি ভুলে যেয়ো না তুমি মুসলিম, তুমি মুমিন। তুমি আল্লাহয় বিশ্বাসী, রাসূলে বিশ্বাসী। যারা লক্ষ্যহীন জীবনযাপন করে, ভোগ বিলাস আর আরাম আয়েশেই যাদের চরম ও পরম পাওনা, তুমি তাদের মধ্যে যেয়ো না। যারা মনে করে, সবকিছুই এমনি এমনি, তুমি তাদের মধ্যে নও। যারা বিপথে চলে গেছে, যারা আল্লাহর ক্রোধনলে পড়ে গেছে, তুমি তাদের পথে চলো না। মনে রেখো, তোমার আল্লাহ তোমাকে বলছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

অর্থ : আর তোমরা ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্যপ্রদর্শন করে বের হয়ো না। সালাত কায়েম করো। যাকাত আদায় করো। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে আহলে বাইত, আল্লাহ তোমাদের থেকে অনিষ্ট রোধ করতে চান এবং চান তোমাদের পবিত্র রাখতে। —সূরা আহযাব : ৩৩

প্রিয় বোন,
ভালো করে মনে রেখো, দুনিয়ার নায়িকা-গায়িকার অনুকরণ তোমার জন্য নয়। তোমার মতো কেউ কৃত্রিম সাজ গ্রহণ করবে, কৃত্রিম বেশ ধারণ করবে, কৃত্রিম নখ লাগাবে, কৃত্রিম চুল লাগাবে, ভ্রুভঙ্গ করবে, উল্কি দেবে—এটা হতে পারে না।

তোমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এগুলো যারা করবে, তাদের অভিশাপ করে গেছেন। দ্যাখো, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীস দ্যাখো, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেছেন,

لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ وَالنَّامِصَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ ﷺ

অর্থ : যে নারী উল্কি দাগ লাগিয়ে দেয় আর যে দাগ লাগিয়ে দেয়, যে নারী ভ্রু উপড়িয়ে নেয় আর যে উপড়িয়ে দেয়, যে নারী কৃত্রিম সৌন্দর্য গ্রহণ করে, যে নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ করুন।

(ইবনে মাসউদ রাযি. বলেছেন,) স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে অভিশাপ করেছেন, আমার কী হলো যে, আমি তাকে অভিশাপ করব না?১

প্রিয় বোন,
সুতরাং নিজের সৌন্দর্যকে রক্ষা করো, গোপন করো। একটি সমাজকে নষ্ট করার কাজে ব্যবহৃত হয়ো না। নয়তো, যত পুরুষের দৃষ্টি তোমার ওপর পড়বে, সকলের পাপের ভাগী তুমি হবে। একটু ভেবে দ্যাখো, ঈমানের একটি সাধারণ শৃঙ্খলা হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। তবে দ্যাখো, পথে ঘাটে থাকা কষ্টদায়ক বস্তুর কী এমন ক্ষতি হয়? কিন্তু তুমি যদি বেপর্দা চলো, তাতে একজন মুসলিমের কত বড় সর্বনাশ হতে পারে? তবে ভেবে দ্যাখো, একজন বেপর্দা নারীর কারণে একটি সমাজ নষ্ট হয়, একটি জাতি ধ্বংস হয়।

তবে এসো, কবি আয়েশা তাইমুরিয়ার সুরে সুর মিলিয়ে বলি,

يَدِ الْعِقَابِ أَصَوْنُ عِزَّ جَحَابِي مَا ضَرَّنِي أَدَنِي وَحُسْنُ تَعَلُّمِي مَا غَاضَنِي أَدْنِي عَنِ الْعَلْمَاءِ وَيُوضَعُنِي أَسْقُو عَلَى أَتْرَابِي أَلاَ يَكُونُ زَفَرَةِ الأَلْبَابِ وَلَا سَدُّلَ الْخِمَارِ يَلْمَعُنِي وَنِقَابِي

পর্দা আমার গর্ব, সতীত্ব অহংকার; করে না তা ব্যর্থ—সুশিক্ষা, শিষ্টাচার। আমার এ মতি, করে না ক্ষতি প্রগতির; পবিত্রতার জ্যোতি, ছাড়িয়ে যায় গতি—প্রভৃতির। আমি নই ক্ষণিকের ফুল, খেলার পুতুল; আমি তো সমাজের মূল, জাতির মুকুল। আমি সবাইকে যাই ছাড়িয়ে—পর্দা করেও; আমি সবাইকে যাই পেরিয়ে ওড়না নেকাব পরেও।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

আজ অনেক মুসলিম নারীর পোশাক দেখে হতভম্ব হতে হয়। আত্মমর্যাদাবোধ আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে? শাড়ি, শর্ট কামিজ, জিন্স প্যান্ট, টাইটস প্যান্ট, ঘাগরা, লেহেঙ্গা যত সব বিজাতীয় বেশর্মী পোশাকে বাইরে বের হচ্ছে। অনেকের পাশ্চাত্যপ্রীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মনে হয় মুসলিম হওয়াকে সে নিজের জন্য আপদ মনে করছে। কারণ, এটা এখন উল্টো স্রোত।

অনেকেও তো ধর্মীয় পোশাকের প্রতি বিদ্বেষ-বিদ্বাদনে উঠে পড়ে লেগেছেন। কীসের মোহ তাদের এত উৎসাহ যোগাচ্ছে জানি না; কিন্তু তারা নিজেদেরও ক্ষতি করছেন, জনকেও ক্ষতি করছেন; নিজেরাও ধোঁকা খাচ্ছেন, অন্যকেও ধোঁকা খাওয়াচ্ছেন।

অনেকের পক্ষে সরল মনে ইসলামনির্দেশিত পথকে আঁকড়ে থাকতে বিহার সৃষ্টি হচ্ছে। আধুনিক অনেক মডেল আকৃষ্ট করছে; আবার ইসলামী পোশাক বলেও গ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু মন দিয়ে বুঝে নিন, উপযুক্ত শর্তাবলির বাইরে যত জাত-পাতের পোশাক আমদানি হচ্ছে, কোনোটা ইসলামী পোশাক নয়। এগুলোর সাথে ইসলামের ন্যূনতম সম্পর্কও নেই।

আর কৃত্রিম সজ্জা—মেকআপ, প্রসাধক, নখ লাগানো, চুল লাগানো, উল্কি দেওয়া—এগুলো নাকি আপ টু ডেট! মুসলিম নারী যেন ভুলে যাচ্ছে, সে মুসলিম। তার জীবন অনেক অর্থবহ। তার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মহৎ। সে মহান স্রষ্টার পথনির্দেশনে পরিচালিত। তার আছে উন্নত জীবনবিধান, আছে উন্নত জীবনদর্শন।

প্রিয় বোন,
তুমি ভুলে যেয়ো না তুমি মুসলিম, তুমি মুমিন। তুমি আল্লাহয় বিশ্বাসী, রাসূলে বিশ্বাসী। যারা লক্ষ্যহীন জীবনযাপন করে, ভোগ বিলাস আর আরাম আয়েশেই যাদের চরম ও পরম পাওনা, তুমি তাদের মধ্যে যেয়ো না। যারা মনে করে, সবকিছুই এমনি এমনি, তুমি তাদের মধ্যে নও। যারা বিপথে চলে গেছে, যারা আল্লাহর ক্রোধনলে পড়ে গেছে, তুমি তাদের পথে চলো না। মনে রেখো, তোমার আল্লাহ তোমাকে বলছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

অর্থ : আর তোমরা ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্যপ্রদর্শন করে বের হয়ো না। সালাত কায়েম করো। যাকাত আদায় করো। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে আহলে বাইত, আল্লাহ তোমাদের থেকে অনিষ্ট রোধ করতে চান এবং চান তোমাদের পবিত্র রাখতে। —সূরা আহযাব : ৩৩

প্রিয় বোন,
ভালো করে মনে রেখো, দুনিয়ার নায়িকা-গায়িকার অনুকরণ তোমার জন্য নয়। তোমার মতো কেউ কৃত্রিম সাজ গ্রহণ করবে, কৃত্রিম বেশ ধারণ করবে, কৃত্রিম নখ লাগাবে, কৃত্রিম চুল লাগাবে, ভ্রুভঙ্গ করবে, উল্কি দেবে—এটা হতে পারে না।

তোমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এগুলো যারা করবে, তাদের অভিশাপ করে গেছেন। দ্যাখো, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীস দ্যাখো, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেছেন,

لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ وَالنَّامِصَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ ﷺ

অর্থ : যে নারী উল্কি দাগ লাগিয়ে দেয় আর যে দাগ লাগিয়ে দেয়, যে নারী ভ্রু উপড়িয়ে নেয় আর যে উপড়িয়ে দেয়, যে নারী কৃত্রিম সৌন্দর্য গ্রহণ করে, যে নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ করুন।

(ইবনে মাসউদ রাযি. বলেছেন,) স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে অভিশাপ করেছেন, আমার কী হলো যে, আমি তাকে অভিশাপ করব না?১

প্রিয় বোন,
সুতরাং নিজের সৌন্দর্যকে রক্ষা করো, গোপন করো। একটি সমাজকে নষ্ট করার কাজে ব্যবহৃত হয়ো না। নয়তো, যত পুরুষের দৃষ্টি তোমার ওপর পড়বে, সকলের পাপের ভাগী তুমি হবে। একটু ভেবে দ্যাখো, ঈমানের একটি সাধারণ শৃঙ্খলা হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা। তবে দ্যাখো, পথে ঘাটে থাকা কষ্টদায়ক বস্তুর কী এমন ক্ষতি হয়? কিন্তু তুমি যদি বেপর্দা চলো, তাতে একজন মুসলিমের কত বড় সর্বনাশ হতে পারে? তবে ভেবে দ্যাখো, একজন বেপর্দা নারীর কারণে একটি সমাজ নষ্ট হয়, একটি জাতি ধ্বংস হয়।

তবে এসো, কবি আয়েশা তাইমুরিয়ার সুরে সুর মিলিয়ে বলি,

يَدِ الْعِقَابِ أَصَوْنُ عِزَّ جَحَابِي مَا ضَرَّنِي أَدَنِي وَحُسْنُ تَعَلُّمِي مَا غَاضَنِي أَدْنِي عَنِ الْعَلْمَاءِ وَيُوضَعُنِي أَسْقُو عَلَى أَتْرَابِي أَلاَ يَكُونُ زَفَرَةِ الأَلْبَابِ وَلَا سَدُّلَ الْخِمَارِ يَلْمَعُنِي وَنِقَابِي

পর্দা আমার গর্ব, সতীত্ব অহংকার; করে না তা ব্যর্থ—সুশিক্ষা, শিষ্টাচার। আমার এ মতি, করে না ক্ষতি প্রগতির; পবিত্রতার জ্যোতি, ছাড়িয়ে যায় গতি—প্রভৃতির। আমি নই ক্ষণিকের ফুল, খেলার পুতুল; আমি তো সমাজের মূল, জাতির মুকুল। আমি সবাইকে যাই ছাড়িয়ে—পর্দা করেও; আমি সবাইকে যাই পেরিয়ে ওড়না নেকাব পরেও।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকে না

📄 পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকে না


আদি ইসলামের পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকেনি। ইসলাম কখনোই তাদের বন্দিশালায় ফেলে রাখেনি। সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষা করে, ইসলামী বিধান মেনে, শরঈ পর্দার পরিধি ধরে, নারী কর্মমুখর জীবনে অবতীর্ণ হতে পারে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে সবকিছুতেই সতর্কতার প্রয়োজন। যেন তার কারণে সমাজে ফেতনা না ছড়ায়। শরীয়াতের বিধান লঙ্ঘিত না হয়। এই সতর্কতা তার নিজের কল্যাণেও ও সমাজের কল্যাণেও।

নামাযগাহে, ঈদগাহে মুসলিম নারীগণ বের হতে পারতেন। কেননা, তারা এসব পর্বের পূর্ব পারদর্শিতা করতেন। শিক্ষার জন্য, শিষ্টাচারের জন্য, নিজ নিজ প্রয়োজনে বের হতেন। কখনোই ইসলামী বিধান, শরঈ পর্দা লঙ্ঘন করতেন না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ

অর্থ : তোমরা আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর ঘর থেকে বাধা প্রদান করো না।১

কারণ আল্লাহর ঘর প্রথমত আল্লাহর ইবাদতখানা। দ্বিতীয়ত দ্বীনি ইলম হাসিলের মারকায। আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশেরও কেন্দ্রবিন্দু। নববী যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে সমানভাবে ছিলেন আল্লাহর ঘরমুখী, মসজিদমুখী।

মুসলিম নারী নববী যুগে জিহাদেও পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পবিত্র স্ত্রীগণও বিভিন্ন বিজয়অভিযানে বের হয়েছেন। ইতিহাসেপ্রসিদ্ধ জিহাদ ও ধর্মযুদ্ধে মুসলিম নারীদের অবদান অক্ষুণ্ণ আছে। উম্মে আম্মারা রাযি., উম্মে সুলাইম রাযি., সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. প্রমুখের মতো না জানা অসংখ্য নারী আছেন জিহাদে যার যার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেছেন। আয়েশা রাযি.-এর মতো আরও অনেক মহীয়সী আছেন যারা যুদ্ধের দাবানলে ও নিজ নিজ দায়িত্বপালনে পিছপা হননি। রাফীদা রাযি.-এর মতো অনেক সাহাবিয়া আছেন যারা আহত সৈন্যদের সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকেছেন দিনের পর দিন।

ইসলাম নারীকে অনুমতি দিয়েছে, সে শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হতে পারে। তবে ইসলামী হিজাব ও ইসলামী স্বভাবকে বুকে লালন করে। যদি মুসলিম নারী-ডাক্তার না থাকে, তা হলে পুরুষ-ডাক্তারেরও শরণাপন্ন হতে পারে। বেচাকেনা করতে পারে। ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সাক্ষী হয়ে আদালতে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় কাজ করার কেউ না থাকলে কর্মক্ষেত্রেও নামতে পারে। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় আমরা কী শিক্ষা পাই? মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ ۖ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتّٰى يُصْدِرَ الرِّعَآءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
فَسَقٰى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلّٰى اِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ اِنِّيْ لِمَآ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
فَجَآءَتْهُ إِحْدٰٮهُمَا تَمْشِيْ عَلَى اسْتِحْيَآءٍ قَالَتْ اِنَّ اَبِيْ يَدْعُوْكَ لِيَجْزِيَكَ اَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ؕ فَلَمَّا جَآءَهٗ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ ۙ قَالَ لَا تَخَفْ ۙ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِيْنَ

অর্থ : মূসা মাদায়ানের জলাশয়ে পৌঁছে কিছু লোককে দেখলেন গবাদি পশুকে পানি পান করাতে। সবার পেছনে দেখলেন দুজন নারী। তারা তাদের পশুকে আটকোনোর চেষ্টা করছিল। মূসা জিজ্ঞেস করলেন, কী বিষয় আপনাদের? তারা বলল, রাখালরা না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পান করাতে পারব না। আমাদের আব্বা বয়োবৃদ্ধ। তখন মূসা তাদের পশুকে পান করালেন। তারপর একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে বসলেন, আল্লাহ, তোমার করুণার আমার এখন বড় প্রয়োজন। তখন সেই দুজনার একজন এল লজ্জাজড়িত চরনে। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন আপনি যে আমাদের পশুকে পান করিয়েছেন তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য। মূসা শুআইবের কাছে গেলেন এবং তাকে নিজের বৃত্তান্ত জানালেন। শুআইব বললেন, ভয় পেয়ো না, তুমি জালেম কওম থেকে নাজাত পেয়েছ। –সূরা কাসাস : ২৩-২৫

সুতরাং যদি জনজীবনে নারীকে আসতে হয় এবং সেজন্য তাকে ঘর থেকে বের হতে হয়, তা হলে তার করণীয় হলো শরীয়াতের যাবতীয় শিষ্টাচারে আঁকড়ে ধরা; পোশাকপরিচ্ছদ, দৃষ্টির হেফাজত, কথাবার্তার শরীয়াতনির্দেশিত দিক-নির্দেশনাগুলো সামনে রাখা। কথায় নমনীয়তা পরিহার করা, কণ্ঠে কৃত্রিমতা পরিত্যাগ করা, পথ চলতে গিয়ে এমন ভঙ্গিমা বর্জন করা যা পুরুষের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে। তাকে মনে রাখতে হবে, তার আল্লাহ তাকে কী বলেছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ

অর্থ : আর তোমরা তোমাদের ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। –সূরা আহযাব : ৩৩

সর্বোপরি, যত দূর সম্ভব, পরপুরুষ থেকে দূরে থাকা। অপ্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলা, তাদের সাথে কাজ করা থেকে বেঁচে থাকা।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।

আদি ইসলামের পর্দানশীনরা পিছিয়ে থাকেনি। ইসলাম কখনোই তাদের বন্দিশালায় ফেলে রাখেনি। সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষা করে, ইসলামী বিধান মেনে, শরঈ পর্দার পরিধি ধরে, নারী কর্মমুখর জীবনে অবতীর্ণ হতে পারে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে সবকিছুতেই সতর্কতার প্রয়োজন। যেন তার কারণে সমাজে ফেতনা না ছড়ায়। শরীয়াতের বিধান লঙ্ঘিত না হয়। এই সতর্কতা তার নিজের কল্যাণেও ও সমাজের কল্যাণেও।

নামাযগাহে, ঈদগাহে মুসলিম নারীগণ বের হতে পারতেন। কেননা, তারা এসব পর্বের পূর্ব পারদর্শিতা করতেন। শিক্ষার জন্য, শিষ্টাচারের জন্য, নিজ নিজ প্রয়োজনে বের হতেন। কখনোই ইসলামী বিধান, শরঈ পর্দা লঙ্ঘন করতেন না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ

অর্থ : তোমরা আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর ঘর থেকে বাধা প্রদান করো না।১

কারণ আল্লাহর ঘর প্রথমত আল্লাহর ইবাদতখানা। দ্বিতীয়ত দ্বীনি ইলম হাসিলের মারকায। আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশেরও কেন্দ্রবিন্দু। নববী যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে সমানভাবে ছিলেন আল্লাহর ঘরমুখী, মসজিদমুখী।

মুসলিম নারী নববী যুগে জিহাদেও পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পবিত্র স্ত্রীগণও বিভিন্ন বিজয়অভিযানে বের হয়েছেন। ইতিহাসেপ্রসিদ্ধ জিহাদ ও ধর্মযুদ্ধে মুসলিম নারীদের অবদান অক্ষুণ্ণ আছে। উম্মে আম্মারা রাযি., উম্মে সুলাইম রাযি., সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. প্রমুখের মতো না জানা অসংখ্য নারী আছেন জিহাদে যার যার সাধ্যমতো ভূমিকা পালন করেছেন। আয়েশা রাযি.-এর মতো আরও অনেক মহীয়সী আছেন যারা যুদ্ধের দাবানলে ও নিজ নিজ দায়িত্বপালনে পিছপা হননি। রাফীদা রাযি.-এর মতো অনেক সাহাবিয়া আছেন যারা আহত সৈন্যদের সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকেছেন দিনের পর দিন।

ইসলাম নারীকে অনুমতি দিয়েছে, সে শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হতে পারে। তবে ইসলামী হিজাব ও ইসলামী স্বভাবকে বুকে লালন করে। যদি মুসলিম নারী-ডাক্তার না থাকে, তা হলে পুরুষ-ডাক্তারেরও শরণাপন্ন হতে পারে। বেচাকেনা করতে পারে। ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সাক্ষী হয়ে আদালতে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় কাজ করার কেউ না থাকলে কর্মক্ষেত্রেও নামতে পারে। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় আমরা কী শিক্ষা পাই? মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَمَّا وَرَدَ مَآءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ ۖ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتّٰى يُصْدِرَ الرِّعَآءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
فَسَقٰى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلّٰى اِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ اِنِّيْ لِمَآ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
فَجَآءَتْهُ إِحْدٰٮهُمَا تَمْشِيْ عَلَى اسْتِحْيَآءٍ قَالَتْ اِنَّ اَبِيْ يَدْعُوْكَ لِيَجْزِيَكَ اَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ؕ فَلَمَّا جَآءَهٗ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ ۙ قَالَ لَا تَخَفْ ۙ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِيْنَ

অর্থ : মূসা মাদায়ানের জলাশয়ে পৌঁছে কিছু লোককে দেখলেন গবাদি পশুকে পানি পান করাতে। সবার পেছনে দেখলেন দুজন নারী। তারা তাদের পশুকে আটকোনোর চেষ্টা করছিল। মূসা জিজ্ঞেস করলেন, কী বিষয় আপনাদের? তারা বলল, রাখালরা না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পান করাতে পারব না। আমাদের আব্বা বয়োবৃদ্ধ। তখন মূসা তাদের পশুকে পান করালেন। তারপর একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে বসলেন, আল্লাহ, তোমার করুণার আমার এখন বড় প্রয়োজন। তখন সেই দুজনার একজন এল লজ্জাজড়িত চরনে। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন আপনি যে আমাদের পশুকে পান করিয়েছেন তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য। মূসা শুআইবের কাছে গেলেন এবং তাকে নিজের বৃত্তান্ত জানালেন। শুআইব বললেন, ভয় পেয়ো না, তুমি জালেম কওম থেকে নাজাত পেয়েছ। –সূরা কাসাস : ২৩-২৫

সুতরাং যদি জনজীবনে নারীকে আসতে হয় এবং সেজন্য তাকে ঘর থেকে বের হতে হয়, তা হলে তার করণীয় হলো শরীয়াতের যাবতীয় শিষ্টাচারে আঁকড়ে ধরা; পোশাকপরিচ্ছদ, দৃষ্টির হেফাজত, কথাবার্তার শরীয়াতনির্দেশিত দিক-নির্দেশনাগুলো সামনে রাখা। কথায় নমনীয়তা পরিহার করা, কণ্ঠে কৃত্রিমতা পরিত্যাগ করা, পথ চলতে গিয়ে এমন ভঙ্গিমা বর্জন করা যা পুরুষের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করে। তাকে মনে রাখতে হবে, তার আল্লাহ তাকে কী বলেছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ

অর্থ : আর তোমরা তোমাদের ঘরেই অবস্থান করো। প্রাচীন বর্বর যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। –সূরা আহযাব : ৩৩

সর্বোপরি, যত দূর সম্ভব, পরপুরুষ থেকে দূরে থাকা। অপ্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলা, তাদের সাথে কাজ করা থেকে বেঁচে থাকা।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 দাম্পত্যজীবন

📄 দাম্পত্যজীবন


নর-নারীর মিলনের পথে যখন শরীয়াতের যাবতীয় বিধান অনুসৃত হবে, তখন নিঃসন্দেহে একটি পূত-পবিত্র, অনিন্দ্যসুন্দর, আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হবে। ইসলামের শীতল ছায়ায় গড়ে ওঠা এরূপ একটি পরিবারে প্রয়োজন হবে একটি সর্বতোসুন্দর, আনন্দমুখর, মধুর দাম্পত্যজীবন। এজন্য ইসলামের বিধান নর-নারী উভয়কে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়। তারা উভয়ই এখন একে অপরের তরে। উভয়ই সর্বস্ব উজাড় করে দেবে উভয়কে সুখী করার জন্য। উভয়ের মনপ্রাণ আনন্দে ভরিয়ে দেবার জন্য। উভয়ের জীবনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবার জন্য। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্লঙ্ঘ দুর্গের মতো। জীবন ও জগতের কোনো আঁচ তার গায়ে লাগতে দেবে না। নারী পাবে একটি বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসী জীবনসঙ্গী। নারীকে সে গ্রহণ করবে একটি প্রস্ফুটিত লাল টুকটুকে বা ধবধবে সাদা গোলাপের মতো ভালোবেসে। যার সুবাসে তার জীবন হতে পারে সুবাসিত। ভাগ্যাকাশে উদিত চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অসীম বিস্ময়ে যার আলোয় তার জীবন হতে পারে আলোকিত। প্রেমের উদ্যানে ফুলবতী-ফলবতী বৃক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতভাবে যার ফুলে-ফলে তার জীবন হতে পারে সুশোভিত। এভাবে নারী হবে পুরুষের জীবনে গানে গানে মুখরিত সবুজ শ্যামল উদ্যান। যেখানে সে ছায়া পাবে, মায়া পাবে, শান্তি পাবে, প্রশান্তি পাবে। রোগনিরাময়কারী বনলতার মতো হৃদয়ের ক্ষতকে নিরাময় করবে। সান্ত্বনার শীতল প্রলেপ বুলিয়ে অশান্তির আগুন নির্বাপিত করবে। স্বচ্ছ, সুপেয় নির্ঝরের মতো প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে। স্পষ্ট, উজ্জ্বল আলোর মতো জীবনের ঝঞ্ঝাটে পথ দেখাবে। সে উপলব্ধি করবে এক স্বর্গীয় সুখ। কেননা, সে পেয়েছে এক প্রেমময়ী জীবনসঙ্গিনী। সুখে দুঃখে পাশে থাকার মতো, আশায় হতাশায় প্রেরণা যোগাবার মতো একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গিনী।

নর-নারীর মিলনের পথে যখন শরীয়াতের যাবতীয় বিধান অনুসৃত হবে, তখন নিঃসন্দেহে একটি পূত-পবিত্র, অনিন্দ্যসুন্দর, আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হবে। ইসলামের শীতল ছায়ায় গড়ে ওঠা এরূপ একটি পরিবারে প্রয়োজন হবে একটি সর্বতোসুন্দর, আনন্দমুখর, মধুর দাম্পত্যজীবন। এজন্য ইসলামের বিধান নর-নারী উভয়কে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়। তারা উভয়ই এখন একে অপরের তরে। উভয়ই সর্বস্ব উজাড় করে দেবে উভয়কে সুখী করার জন্য। উভয়ের মনপ্রাণ আনন্দে ভরিয়ে দেবার জন্য। উভয়ের জীবনের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবার জন্য। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্লঙ্ঘ দুর্গের মতো। জীবন ও জগতের কোনো আঁচ তার গায়ে লাগতে দেবে না। নারী পাবে একটি বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসী জীবনসঙ্গী। নারীকে সে গ্রহণ করবে একটি প্রস্ফুটিত লাল টুকটুকে বা ধবধবে সাদা গোলাপের মতো ভালোবেসে। যার সুবাসে তার জীবন হতে পারে সুবাসিত। ভাগ্যাকাশে উদিত চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অসীম বিস্ময়ে যার আলোয় তার জীবন হতে পারে আলোকিত। প্রেমের উদ্যানে ফুলবতী-ফলবতী বৃক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতভাবে যার ফুলে-ফলে তার জীবন হতে পারে সুশোভিত। এভাবে নারী হবে পুরুষের জীবনে গানে গানে মুখরিত সবুজ শ্যামল উদ্যান। যেখানে সে ছায়া পাবে, মায়া পাবে, শান্তি পাবে, প্রশান্তি পাবে। রোগনিরাময়কারী বনলতার মতো হৃদয়ের ক্ষতকে নিরাময় করবে। সান্ত্বনার শীতল প্রলেপ বুলিয়ে অশান্তির আগুন নির্বাপিত করবে। স্বচ্ছ, সুপেয় নির্ঝরের মতো প্রাণের তৃষ্ণা মেটাবে। স্পষ্ট, উজ্জ্বল আলোর মতো জীবনের ঝঞ্ঝাটে পথ দেখাবে। সে উপলব্ধি করবে এক স্বর্গীয় সুখ। কেননা, সে পেয়েছে এক প্রেমময়ী জীবনসঙ্গিনী। সুখে দুঃখে পাশে থাকার মতো, আশায় হতাশায় প্রেরণা যোগাবার মতো একজন অন্তরঙ্গ জীবনসঙ্গিনী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px