📄 ক. প্রাথমিক প্রস্তাব
প্রথম পদক্ষেপ হলো, বিবাহের বিষয়ে কথা বলা। এক্ষেত্রে প্রস্তাবকারী পুরুষের জন্য অভিভাবকদের উপস্থিতিতে নারীর মুখমণ্ডল ও করতলায় দৃষ্টিপাত করা বৈধ। হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন জনৈকা নারীকে বিবাহ করতে চাইলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন,
انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا - رواه الترمذى
অর্থ : তুমি তাকে দেখে নেবে। সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য এটাই ফলপ্রসূ।১
বিবাহের কথাবার্তা যেহেতু নিছক একটা প্রতিজ্ঞাতমা, সেহেতু নির্জনে নারীর সাথে দেখা করা বৈধ হবে না। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ لَا تَحِلُّ لَهُ فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ رواه أحمد
অর্থ : বৈধ নয় এমন নারীর সঙ্গে কোনো পুরুষ যেন নির্জনে সাক্ষাৎ না করে; কেননা, তাদের তৃতীয়জন হবে শয়তান।২
টিকাঃ
১. তিরমিযী।
২. মুসনাদে আহমাদ।
📄 খ. বিবাহচুক্তি
উভয় পক্ষ থেকে ইজাব ও কবুলও পেতে হবে। এগুলো বিবাহ চুক্তির মূল রুকন বা ভিত্তি। নারীর ইচ্ছা ও সম্মতি অনিবার্য। সুতরাং অভিভাবক নারীর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার অপছন্দের কারও সাথে তাকে বিবাহে বাধ্য করতে পারবেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ وَلَا الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرْ
অর্থ : কুমারী মেয়ের বিবাহের জন্য তার অনুমতি নিতে হবে। আর অকুমারী নারীর বিবাহের জন্য তার নির্দেশ পেতে হবে।১
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।
📄 গ. বিবাহচুক্তির সাক্ষী
বিবাহচুক্তি সম্পাদনে শরীআতের নির্ধারিত শর্ত ও সংখ্যা অনুসারে নির্ধারণ সাক্ষী আবশ্যক। এতে এই পবিত্র বন্ধনটি সুসংহত হবে। নারীর অধিকারের সংরক্ষণ হবে।
📄 ঘ. অভিভাবকের উপস্থিতি ও একাত্মতা
বিবাহে অভিভাবকের উপস্থিতি ও সম্মতি বা একাগ্রতাও কর্তব্য। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ...
অর্থ : অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া যে নারী বিবাহ বসে, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।১
তিনি আরও বলেছেন,
لَا يُنْكَاحُ إِلَّا بِوَلِيِّ
অর্থ : অভিভাবক ছাড়া বিবাহ হতে পারে না।২
বিবাহচুক্তিতে অভিভাবকের শর্ত আরোপ করার কল্যাণটি বলাই বাহুল্য। এতে মেয়ের অবস্থানগত বিচার-বিবেচনা ও সার্বিক কল্যাণের দিকটি রক্ষিত হয়। তার সম্মান ও সম্ভ্রমের অধিক নিশ্চয়তা-বিধান হয়। যে কেউ তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে যে প্রতারণা করবে সেই আশঙ্কা কম থাকে। দাম্পত্যজীবনে সংহতি ও বিবেচনা পায়। কেননা, পুরুষরাই পুরুষদের চলাচল ভালোবাসেন। পক্ষান্তরে মেয়েরা অনেক সময়ই আবেগে তাড়িত হয়। প্রস্তাবকারী পুরুষের অনুমতিও সঠিকভাবে উপলব্ধি করার সক্ষমতা তার খুব কম থাকে। বাহ্যিক বেশভূষা ও মিষ্টি কথাবার্তায় প্রতারিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। একজন বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ, স্নেহশীল অভিভাবক বুঝতে পারেন, তার মেয়ের জন্য লোকটি ভালো হবে কি না। তবে অভিভাবকের শর্ত আরোপ করার অর্থ এই নয় যে, শরীআতের নির্দেশিত কোনো কল্যাণ-অপেক্ষা বিবেচনায় ছাড়া শুধু শুধু মেয়ের বিবাহে বাধা সৃষ্টি করবেন। যদি যোগ্য পাত্র পাওয়া যায় এবং তিনি ধার্মিক, চরিত্রবান হন তা হলে শুধু শুধু অভিভাবকের বাধা হওয়া উচিত নয়। এতে তিনি গোনাহগার হবেন।
টিকাঃ
১. আবু দাউদ।
২. আবু দাউদ।