📄 ইহুদিদের আরোপিত অভিশাপ থেকে মুক্তি
সেই সাথে ইহুদিদের আরোপিত অভিশাপ থেকেও নারীকে মুক্তি দিয়েছে ইসলাম। কেননা, মহান আল্লাহ্ হযরত আদম আলাইহিস সালামের জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার দায় নারীর ওপর চাপাননি। বরং বলেছেন,
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ
অর্থ : তখন শয়তান আদম ও হাওয়াকে কুমন্ত্রণা দিল তাদের কাছে তাদের গোপন অঙ্গকে প্রকাশ করে দেওয়ার দূরভিসন্ধি নিয়ে। সে বলল, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর এই বৃক্ষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন শুধু এজন্য যে, তোমরা না ফেরেশতা হয়ে যাও; কিংবা না হয়ে পড় চিরঞ্জীব। -সূরা আ'রাফ: ২০
📄 বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন সম্মান
আল্লাহ্ তাআলা নারীকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। মা হিসেবে এক ধরনের মর্যাদা। মেয়ে হিসেবে এক ধরনের মর্যাদা। বোন হিসেবে এক ধরনের মর্যাদা। জীবনসঙ্গিনী হিসেবে এক ধরনের মর্যাদা। এভাবে আল্লাহ্ তাআলা বিভিন্নভাবে নারীকে সম্মান ও মর্যাদায় আসীন করেছেন。
মহান আল্লাহ্ মা হিসেবে একজন নারীর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন এভাবে,
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَ أَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
অর্থ : আর আমি মানুষকে আদেশ দিয়েছি পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের। কেননা, তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন কষ্ট সহ্য করে, তাকে প্রসব করেছেন কষ্ট সহ্য করে; তার গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানো আর এর সমকাল ত্রিশটি মাস। একসময় সে পরিণত বয়সে উপনীত হয়, চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে। সে বলে, আয় রব, আমাকে তাওফীক দান করুন, আমি যেন আমাকে এবং আমার মা বাবাকে আপনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে পারি; আমি যেন আপনার পছন্দসই আমলে সালেহ করতে পারি। আয় রব, আপনি আমার বংশধরদের মাঝে সংশোধন দান করুন। আমি তো আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি। নিশ্চয়ই আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। -সূরা আহকাফ: ১৫
এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِهَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
অর্থ : দুনিয়া সামান্য উপকরণ। কিন্তু এ সামান্য উপকরণের শ্রেষ্ঠ বস্তুটি হলো সতী নারী।১
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا
অর্থ : তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো।২
এভাবে একদিকে মেয়ে হিসেবেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন,
مَنْ يَلِي مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ شَيْئًا فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ
অর্থ : যদি কেউ এই মেয়েদের কোনো কিছূর দায়িত্ব গ্রহণ করে, সাথে সাথে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করে, তা হলে এই মেয়েরা তার পক্ষে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার কারণ হবে।৩
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৩. সহীহ বুখারী।