📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ১. বেঁচে থাকার অধিকার

📄 ১. বেঁচে থাকার অধিকার


জাহেলী আরবে কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। বন্য-বর্বররা অভাব ও অপবাদের দোহাই দিয়ে মেয়েদের মেরে ফেলত। শিশুকন্যাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলত। তাদের এই কঠিন পাশবিকতাকে কঠিনভাবে লাগামবদ্ধ করে মহান আল্লাহ ঘোষণা দিলেন,

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ

অর্থ: যাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল, জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? —সুরা তাক্বীর: ৮-৯

কন্যাসন্তানের জন্মায় তারা লজ্জায় গড়িয়ে যেত। মহান আল্লাহ এই ঘৃণ্য মানসিকতার সমালোচনা করলেন এভাবে,

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُوْنٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ

অর্থ: যখন কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তার মুখ ক্রোধে কালো হয়ে যায়। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তা তার কাছে এতই অপ্রিয় যে, সে সমাজ থেকে মুখ লুকানোর জায়গা খোঁজে। ভাবে, অপমান সয়ে নিয়ে একে রেখে দেবে, নাকি (এ জঞ্জাল) মাটিতে পুঁতে ফেলবে? দ্যাখো, কত নিকৃষ্ট ছিল তাদের বিচার! —সুরা নাহল : ৫৮-৫৯

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ২. স্বত্বাধিকার ও হস্তক্ষেপ

📄 ২. স্বত্বাধিকার ও হস্তক্ষেপ


ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকারও দান করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ

অর্থ : আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দান করছেন সন্তানদের ব্যাপারে। পুরুষ পাবে দুজন নারীর সমান। —সুরা নিসা : ১১

শুধু যে নামকাওয়াস্তে অধিকার দিয়ে রেখেছে তা নয়। হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত ক্ষমতাও দান করেছে। সে তার সম্পত্তি কেনা-বেচা করতে পারে। দান-সদকা করতে পারে। এতে তার ইচ্ছাই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। সুতরাং স্বত্ব ও মালিকানায় ইসলামে সে স্বয়ংসম্পন্ন। সে চাইলে শরীআতনুযায়ী নিষ্পাপ নিজস্ব সম্পদে যে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৩. বিবাহপ্রস্তাব গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান

📄 ৩. বিবাহপ্রস্তাব গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান


নারী ও পুরুষের মতো মুমিন, বিশ্বাসী, সৎ জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কারও সাথে তাকে জুড়ে দেওয়া হবে এমন অধিকার কারও নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ وَإِذْنُهَا صَمْتُهَا

অর্থ : নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধবাই অধিক হকদার। এ ব্যাপারে অভিভাবকের কোনো কর্তৃত্ব নেই। কুমারীকে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। তার নীরবতা সম্মতি নির্দেশ করবে।১

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,

لَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، فَقِيلَ لَهُ : إِنَّ الْبِكْرَ تَسْتَحْيِيْ فَقَالَ : إِذْنُهَا صَمْتُهَا

অর্থ : কুমারীকে বিবাহ দিতে হলে তার অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। আর বিধবাকে বিবাহ দিতে হলে তার নির্দেশপ্রাপ্ত হতে হবে। বলা হলো, কুমারী তো লজ্জা করবে। তিনি বললেন, তার নীরবতা তার সম্মতি নির্দেশ করবে।২

একবার হযরত খানসা রাদিয়াল্লাহু আনহা এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে। মিনতি করলেন, তিনি একজন অকুমারী নারী; তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিবাহ দিয়েছেন। ঘটনাটি যাচাই করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহটি ভেঙে দিলেন।৩

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. সহীহ বুখারী।
৩. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

📘 ফিরে এসো নীড়ে 📄 ৪. শিক্ষা অর্জনের অধিকার

📄 ৪. শিক্ষা অর্জনের অধিকার


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্র ছিল মসজিদ। কিন্তু এখন পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্র হচ্ছে বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। যাই হোক, জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের অধিকার ইসলাম নারীকে দিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيْبَهَا وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا ... إِلَى آخِرِهِ

অর্থ : যদি কারও কোনো কন্যাশিশু থাকে, আর সে তার জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা করে, (নামে নয়, বরং) উত্তমভাবে; এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, (নামে নয়, বরং) উত্তমভাবে, তার জন্য থাকছে দ্বিগুণ প্রাপ্তি।১

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবীদের জন্যও একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করেছিলেন তাদের হিতোপদেশ ও আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধ শিক্ষা দান করার জন্য।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px