📄 খ্রিস্ট ধর্মে নারী
রোমক সভ্যতায় যে চারিত্রিক ধ্বংস ও মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দিয়েছিল, খ্রিস্টধর্মের ধর্মগুরুরা ধীরে ধীরে সেদিকেই ধাবিত হয়েছিলেন। খ্রিস্টানরা ধরে নিয়েছিল যত অনিষ্টের মূল নারীই, যত দায় নারীরই। তারা মনে করেছিল, বিবাহ একটি গর্হিত কাজ, একে পরিহার করতে হবে। নারী—টারটুলিয়ানের ভাষ্যমতে—শয়তানের দ্বার, ইবলিসের হাতিয়ার, আল্লাহর বিধানের ক্ষতিসাধনকারী; আল্লাহর প্রকৃতিতে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী。
পাঁচশো বিরাশি খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে একটি সেমিনার হয়। আলোচ্য বিষয় ছিল—নারী কি মানুষ না অন্য কিছু? আলোচনা পর্যালোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, নারী সৃষ্টি পুরুষের সেবা-শুশ্রূষার জন্য। সে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; স্বামী ও অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া অর্থসম্পদে হস্তক্ষেপের অধিকার তার নেই。
ইংল্যান্ডের সংবিধান স্ত্রীকে বেচে দেওয়ার অধিকার স্বামীকে দিয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবের সময় জোরেশোরে নারীস্বাধীনতা ঘোষিত হলেও নারী কী পেয়েছিল? ফরাসি সংবিধানে বলা হয়েছিল—অবিবাহিতা নারী অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো চুক্তিই সম্পাদন করতে পারবে না।
📄 প্রাক-ইসলামী আরবে নারী
প্রাক-ইসলামী আরবে নারীর অধিকার বলতে কিছুই ছিল না; উত্তরাধিকার তো দূরের কথা। স্বামীর ওপর তার কোনো জোর কল্পনাও করা যেত না। স্বামী তাকে তালাক দিতে পারত—যখন খুশি, যত খুশি। অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে পারত—যখন খুশি, যত খুশি। কন্যাসন্তান জন্ম হলে লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গা পেত না। বিষয়টি এত দূর গড়িয়েছিল যে, তারা অভাব ও কলঙ্কের ভয়ে মেয়েদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলত।১
টিকাঃ
১. সুরা বাক্বারাঃ ৮-৯।