📄 বিদায়ী তাওয়াফ করার পর মক্কায় অবস্থান করার বিধান?
প্রশ্ন: (৫৩৪) জনৈক ব্যক্তি সকালে বিদায়ী তাওয়াফ করে ঘুমিয়ে পড়ে এবং আছরের পর সফর করার ইচ্ছা করে। তাকে কী কিছু করতে হবে?
উত্তর: হজ ও উমরা উভয় ক্ষেত্রে তাকে পুনরায় বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «لاَ يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ».
"সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।" ⁴⁰ একথাটি নবীজি বিদায় হজে বলেছেন। সুতরাং বিদায়ী তাওয়াফের বিধান সেই সময় থেকে শুরু হয়েছে। একথা বলা ঠিক হবে না যে, নবী তো বিদায় হজের পূর্বে উমরা করেছেন কিন্তু বিদায়ী তাওয়াফ তো করেন নি। কেননা বিদায়ী তাওয়াফের আবশ্যকতার নির্দেশ তো বিদায় হজে পাওয়া গেছে। আর তিনি বলেছেন: وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ».
"হজে যেভাবে কাজ করে থাক উমরাতেও সেভাবে করো।"⁴¹ এ নির্দেশটি ব্যাপক অর্থবোধক। কিন্তু তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে 'আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। কেননা সর্বসম্মতিক্রমে একাজগুলো হজের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো ছাড়া বাকী কাজ উক্ত হাদীসের আওতাধীন থাকবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাকে ছোট হজরূপে আখ্যা দিয়েছেন। ⁴² যেমনটি আমর ইবন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি মুরসাল।৪৩ কিন্তু আলেমগণ সাধারণভাবে হাদীসটি গ্রহণ করেছেন।
তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ কর।” বিদায়ী তাওয়াফ যদি হজের পূর্ণতার অংশ হয়, তবে তা উমরারও পূর্ণতার অংশ হবে।
উমরাকারী মসজিদে হারামের তাহিয়্যাত হিসেবে তাওয়াফের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করেছে। সুতরাং কোনো তাহিয়্যাত ছাড়া চলে যাওয়াও উচিৎ হবে না। তাই সে বিদায়ী তাওয়াফ করবে।
অতএব, এ ভিত্তিতে হজের ন্যায় উমরাতেও বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। তিরমিযীতে একটি হাদীস পাওয়া যায়: বলা হয়েছে, “কোনো লোক যদি হজ বা উমরা করে, সে আল্লাহর ঘরের বিদায়ী তাওয়াফ না করে যেন বের না হয়।” কিন্তু এ হাদীসটি য'ঈফ বা দুর্বল। কেননা এর সনদে হাজ্জাজ ইবন আরত্বাত নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। সে দুর্বল। এ হাদীসটি দুর্বল না হলে এ মাসআলার সুস্পষ্ট দলীল হিসেবে বিবেচিত হত এবং সকল মতভেদ বিদূরীত হত। কিন্তু দুর্বল হওয়ার কারণে তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করার কোনো ভিত্তি নেই। তবে আমরা পূর্বে যে সমস্ত মূলনীতি, দলীল ও যুক্তি উপস্থাপন করেছি তার ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, উমরায় বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব।
তাছাড়া এ তাওয়াফ সতর্কতা ও যিম্মা মুক্তিস্বরূপও হয়ে যায়। কেননা উমরাতে আপনি বিদায়ী তাওয়াফ করলে তো কেউ আপনাকে বলবে না যে আপনি ভুল করছেন। কিন্তু তা না করলে তো যারা তা ওয়াজিব মনে করে তারা বলবে, আপনি ভুল করলেন। এ কারণে তাওয়াফ করাটাই সঠিক হবে। আর তাওয়াফ না করলে আশংকা রয়ে যাবে এবং বিদ্বানদের কারো মতে তা ভুল হবে। (আল্লাহই অধিক জ্ঞানী)
টিকাঃ
⁴⁰ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতীর জন্য উহা রহিত。
⁴¹ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: খালুক রং কাপড়ে লাগলে তা তিনবার ধৌত করতে হবে; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ ও উমরায় ইহরামকারীর জন্য যা বৈধ。
⁴² দারাকুতনী ২/২৮৫ হাদীস নং (১২২)
৪৩ যে হাদীসের সনদ হতে ছাহাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।
প্রশ্ন: (৫৩৪) জনৈক ব্যক্তি সকালে বিদায়ী তাওয়াফ করে ঘুমিয়ে পড়ে এবং আছরের পর সফর করার ইচ্ছা করে। তাকে কী কিছু করতে হবে?
উত্তর: হজ ও উমরা উভয় ক্ষেত্রে তাকে পুনরায় বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «لاَ يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ».
"সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।" ⁴⁰ একথাটি নবীজি বিদায় হজে বলেছেন। সুতরাং বিদায়ী তাওয়াফের বিধান সেই সময় থেকে শুরু হয়েছে। একথা বলা ঠিক হবে না যে, নবী তো বিদায় হজের পূর্বে উমরা করেছেন কিন্তু বিদায়ী তাওয়াফ তো করেন নি। কেননা বিদায়ী তাওয়াফের আবশ্যকতার নির্দেশ তো বিদায় হজে পাওয়া গেছে। আর তিনি বলেছেন: وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ».
"হজে যেভাবে কাজ করে থাক উমরাতেও সেভাবে করো।"⁴¹ এ নির্দেশটি ব্যাপক অর্থবোধক। কিন্তু তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে 'আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। কেননা সর্বসম্মতিক্রমে একাজগুলো হজের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো ছাড়া বাকী কাজ উক্ত হাদীসের আওতাধীন থাকবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাকে ছোট হজরূপে আখ্যা দিয়েছেন। ⁴² যেমনটি আমর ইবন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি মুরসাল।৪৩ কিন্তু আলেমগণ সাধারণভাবে হাদীসটি গ্রহণ করেছেন।
তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ কর।” বিদায়ী তাওয়াফ যদি হজের পূর্ণতার অংশ হয়, তবে তা উমরারও পূর্ণতার অংশ হবে।
উমরাকারী মসজিদে হারামের তাহিয়্যাত হিসেবে তাওয়াফের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করেছে। সুতরাং কোনো তাহিয়্যাত ছাড়া চলে যাওয়াও উচিৎ হবে না। তাই সে বিদায়ী তাওয়াফ করবে।
অতএব, এ ভিত্তিতে হজের ন্যায় উমরাতেও বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। তিরমিযীতে একটি হাদীস পাওয়া যায়: বলা হয়েছে, “কোনো লোক যদি হজ বা উমরা করে, সে আল্লাহর ঘরের বিদায়ী তাওয়াফ না করে যেন বের না হয়।” কিন্তু এ হাদীসটি য'ঈফ বা দুর্বল। কেননা এর সনদে হাজ্জাজ ইবন আরত্বাত নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। সে দুর্বল। এ হাদীসটি দুর্বল না হলে এ মাসআলার সুস্পষ্ট দলীল হিসেবে বিবেচিত হত এবং সকল মতভেদ বিদূরীত হত। কিন্তু দুর্বল হওয়ার কারণে তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করার কোনো ভিত্তি নেই। তবে আমরা পূর্বে যে সমস্ত মূলনীতি, দলীল ও যুক্তি উপস্থাপন করেছি তার ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, উমরায় বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব।
তাছাড়া এ তাওয়াফ সতর্কতা ও যিম্মা মুক্তিস্বরূপও হয়ে যায়। কেননা উমরাতে আপনি বিদায়ী তাওয়াফ করলে তো কেউ আপনাকে বলবে না যে আপনি ভুল করছেন। কিন্তু তা না করলে তো যারা তা ওয়াজিব মনে করে তারা বলবে, আপনি ভুল করলেন। এ কারণে তাওয়াফ করাটাই সঠিক হবে। আর তাওয়াফ না করলে আশংকা রয়ে যাবে এবং বিদ্বানদের কারো মতে তা ভুল হবে। (আল্লাহই অধিক জ্ঞানী)
টিকাঃ
⁴⁰ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতীর জন্য উহা রহিত。
⁴¹ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: খালুক রং কাপড়ে লাগলে তা তিনবার ধৌত করতে হবে; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ ও উমরায় ইহরামকারীর জন্য যা বৈধ。
⁴² দারাকুতনী ২/২৮৫ হাদীস নং (১২২)
৪৩ যে হাদীসের সনদ হতে ছাহাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।
📄 উমরাকারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৫৩৫) উমরাকারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করার বিধান কী?
উত্তর: উমরাকারী মক্কা আগমণ করার সময় যদি নিয়ত করে যে, তাওয়াফ, সা'ঈ ও মাথা মুণ্ডন তথা উমরার কার্যাদী সম্পন্ন করার সাথে সাথে ফেরত চলে যাবে, তবে তাকে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে না। কেননা তাওয়াফে কুদুমই তার জন্য উমরার তাওয়াফ ও বিদায়ী তাওয়াফ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু উমরা সম্পন্ন করার পর যদি মক্কায় অবস্থান করে তবে প্রাধান্যযোগ্য মত হচ্ছে, বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। একথার দীলল নিম্নরূপ:
প্রথমতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপক নির্দেশ: «لا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ».
"সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।"⁴⁴ এখানে أَحَدٌ বা ‘কেউ’ শব্দটি অস্পষ্ট। যে কেউ বের হলেই তার জন্য উক্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। অর্থাৎ তাওয়াফ না করে বের হবে না। সে হজকারী হোক বা উমরাকারী।
দ্বিতীয়তঃ উমরা হজের মতোই। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাকে হজরূপে আখ্যা দিয়েছেন। আমর ইবন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "উমরা হচ্ছে ছোট হজ্জ।"⁴⁵ হাদীসটি মুরসাল, কিন্তু আলেমগণ সাধারণভাবে হাদীসটি গ্রহণ করেছেন।
তৃতীয়তঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজের মধ্যে শামিল হয়ে গেছে। ⁴⁶ অর্থাৎ হজ করলে উমরাও আদায় হয়ে গেল।
চতুর্থতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ালা ইবন উমাইয়াকে বলেন,
«وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ»
"হজে যেভাবে কাজ করে থাক উমারাতেও সেভাবে করো। "⁴⁷ যদি তুমি হজে বিদায়ী তাওয়াফ করে থাক, তবে উমরাতেও তা কর। তবে বিদ্বানদের ঐকমত্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উক্ত নির্দেশের বাইরে থাকবেঃ আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। এগুলো উমরাতে করা শরী'আত সম্মত নয়। তাছাড়া সতর্কতার জন্য এবং যিম্মা মুক্ত হওয়ার জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করে নেওয়াই উচিৎ।
টিকাঃ
⁴⁴ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতীর জন্য উহা রহিত。
⁴⁵ দারাকুতনী ২/২৮৫ হাদীস নং (১২২)
⁴⁶ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজের মাসসমূহে উমরা করা জায়েয。
⁴⁷ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: খালুক রং কাপড়ে লাগলে তা তিনবার ধৌত করতে হবে সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ ও উমরায় ইহরামকারীর জন্য যা বৈধ。
প্রশ্ন: (৫৩৫) উমরাকারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করার বিধান কী?
উত্তর: উমরাকারী মক্কা আগমণ করার সময় যদি নিয়ত করে যে, তাওয়াফ, সা'ঈ ও মাথা মুণ্ডন তথা উমরার কার্যাদী সম্পন্ন করার সাথে সাথে ফেরত চলে যাবে, তবে তাকে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে না। কেননা তাওয়াফে কুদুমই তার জন্য উমরার তাওয়াফ ও বিদায়ী তাওয়াফ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু উমরা সম্পন্ন করার পর যদি মক্কায় অবস্থান করে তবে প্রাধান্যযোগ্য মত হচ্ছে, বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। একথার দীলল নিম্নরূপ:
প্রথমতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপক নির্দেশ: «لا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ».
"সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।"⁴⁴ এখানে أَحَدٌ বা ‘কেউ’ শব্দটি অস্পষ্ট। যে কেউ বের হলেই তার জন্য উক্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। অর্থাৎ তাওয়াফ না করে বের হবে না। সে হজকারী হোক বা উমরাকারী।
দ্বিতীয়তঃ উমরা হজের মতোই। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাকে হজরূপে আখ্যা দিয়েছেন। আমর ইবন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "উমরা হচ্ছে ছোট হজ্জ।"⁴⁵ হাদীসটি মুরসাল, কিন্তু আলেমগণ সাধারণভাবে হাদীসটি গ্রহণ করেছেন।
তৃতীয়তঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজের মধ্যে শামিল হয়ে গেছে। ⁴⁶ অর্থাৎ হজ করলে উমরাও আদায় হয়ে গেল।
চতুর্থতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ালা ইবন উমাইয়াকে বলেন,
«وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ»
"হজে যেভাবে কাজ করে থাক উমারাতেও সেভাবে করো। "⁴⁷ যদি তুমি হজে বিদায়ী তাওয়াফ করে থাক, তবে উমরাতেও তা কর। তবে বিদ্বানদের ঐকমত্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উক্ত নির্দেশের বাইরে থাকবেঃ আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। এগুলো উমরাতে করা শরী'আত সম্মত নয়। তাছাড়া সতর্কতার জন্য এবং যিম্মা মুক্ত হওয়ার জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করে নেওয়াই উচিৎ।
টিকাঃ
⁴⁴ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতীর জন্য উহা রহিত。
⁴⁵ দারাকুতনী ২/২৮৫ হাদীস নং (১২২)
⁴⁶ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজের মাসসমূহে উমরা করা জায়েয。
⁴⁷ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: খালুক রং কাপড়ে লাগলে তা তিনবার ধৌত করতে হবে সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ ও উমরায় ইহরামকারীর জন্য যা বৈধ。