📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ওযরায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার বিধান কী?

📄 ওযরায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার বিধান কী?


প্রশ্ন: (৫০৭) উমরায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার বিধান কী? এ দু'টির মধ্যে কোনটি উত্তম?
উত্তর: উমরায় মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা ওয়াজিব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে মক্কায় আগমণ করে তাওয়াফ ও সা'ঈ করার পর যারা কুরবানী সাথে নিয়ে আসেনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ আদেশ ওয়াজিবের অর্থ বহণ করে। অতএব, চুল ছোট করা আবশ্যক। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬ষ্ঠ হিজরীতে উমরা করার জন্য গমণ করলে হুদায়বিয়া নামক স্থানে কাফিরদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন, তখন তিনি সাহাবীগণকে সেখানেই মাথা মুণ্ডন করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নির্দেশ পালনে দ্বিধায় ভোগলে তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হন। আর মাথার চুল ছোট করার চাইতে মাথা মুণ্ডন করা উত্তম। ³¹ তবে তামাতু'কারী যদি শেষ সময়ে মক্কায় পৌঁছে, তবে উমরা করার পর চুল ছোট করাই ভালো, যাতে করে হজের সময় মুণ্ডন করার জন্য মাথায় চুল পাওয়া যায়。

টিকাঃ
³¹ কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার দো'আ করেছেন এবং চুল ছোটকারীদের জন্য একবার দো'আ করেছেন; সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, হাদীস নং ১৬১৩; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, হাদীস নং ২২৯৫।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 উমরা করে নিজ দেশে গিয়ে মাথা মুণ্ডন করা

📄 উমরা করে নিজ দেশে গিয়ে মাথা মুণ্ডন করা


প্রশ্ন: (৫১১) উমরা করে জনৈক লোক নিজ দেশে গিয়ে মাথা মুণ্ডন করেছে। তার উমরার বিধান কী?
উত্তর: বিদ্বানগণ বলেন, মাথা মুণ্ডন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। মক্কা বা মক্কা ছাড়া অন্য কোনো স্থানে মুণ্ডন করলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মাথা মুণ্ডন করার উপর ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া নির্ভর করছে। তাছাড়া মুণ্ডন করার পর বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। উমরার কাজগুলোর ধারাবাহিকতা এ রকম: ইহরাম, তাওয়াফ, সা'ঈ, মাথা মুণ্ডন বা ছোট করা এবং উমরার কাজ শেষ করার পর মক্কায় অবস্থান করলে বিদায়ী তাওয়াফ করা। কিন্তু উমরার কাজ শেষ করে মক্কায় অবস্থান না করলে বিদায়ী তাওয়াফের দরকার নেই। অতএব, মক্কায় অবস্থান করতে চাইলে উমরার কাজ শেষ করে মক্কাতেই তাকে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করতে হবে। কারণ, তাকে এরপর বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে। কিন্তু তাওয়াফ-সাঈ শেষ করার সাথে সাথেই যদি মক্কা থেকে বের হয়ে থাকে, তবে নিজ দেশে বা শহরে গিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল খাটো করতে পারে। কিন্তু সেই সময় পর্যন্ত তাকে ইহরাম অবস্থাতেই থাকতে হবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 আরাফাত থেকে ফেরার পথে মুযদালিফার রাস্তা হারিয়ে ফেলা

📄 আরাফাত থেকে ফেরার পথে মুযদালিফার রাস্তা হারিয়ে ফেলা


প্রশ্ন: (৫১৪) আরাফাত থেকে ফেরার পথে একদল লোক মুযদালিফার রাস্তা হারিয়ে ফেলে। রাত একটার দিকে তারা মাগরিব ও এশা সালাত আদায় করে। মুযদালিফা পৌঁছার সময় ফজরের আযান হয়ে যায়। সেখানে তারা ফজর সালাত আদায় করে। এখন তাদেরকে কি কোনো জরিমানা দিতে হবে?
উত্তর: এদেরকে কোনো ফিদইয়া বা জরিমানা দিতে হবেনা। কেননা তারা ফজরের আযানের সময় মুযদালিফায় প্রবেশ করেছে এবং সেখানে অন্ধকার থাকতেই ফজর সালাত আদায় করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে। তিনি বলেন,
مَنْ شَهِدَ صَلَاتَنَا هَذِهِ وَوَقَفَ مَعَنَا حَتَّى نَدْفَعَ وَقَدْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَقَدْ أَتَمَّ حَجَّهُ وَقَضَى تَفَثَهُ».
"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে এ সালাতে উপস্থিত হয়েছে এবং প্রস্থান করা পর্যন্ত আমাদের সাথে অবস্থান করেছে। আর এর পূর্বে আরাফাতে রাতে বা দিনে অবস্থান করেছে, সে তার হজ পূর্ণ করে নিয়েছে এবং তার অবিন্যস্ত অবস্থা দূর করে নিয়েছে।"³²
কিন্তু এরা মধ্যরাত্রির পর মাগরিব-এশা সালাত আদায় করে ভুল করেছে। কেননা এশা সালাতের শেষ সময় মধ্যরাত্রি। যেমনটি সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন 'আছ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীসে প্রমাণিত আছে。

টিকাঃ
³² তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, হাদীস নং ৮১৫।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 মুযদালিফার সীমা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বাইরে অবস্থান করলে করণীয় কী?

📄 মুযদালিফার সীমা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বাইরে অবস্থান করলে করণীয় কী?


প্রশ্ন: (৫২৬) মুযদালিফার সীমা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বাইরে অবস্থান করলে করণীয় কী?
উত্তর: বিদ্বানদের মতে তাকে ফিদইয়াস্বরূপ একটি দম দিতে হবে অর্থাৎ একটি কুরবানী শুদ্ধ হওয়ার মত প্রাণী যবেহ করতে হবে এবং তা মক্কার ফক্বীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। কেননা সে হজের একটি ওয়াজিব পরিত্যাগ করেছে।
এ উপলক্ষে আমি সম্মানিত হাজী ভাইদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, হজে এসে আরাফাত ও মুযদালিফার সীমানা সম্পর্কে আপনারা সতর্ক থাকবেন। দেখা যায়, অনেক হাজী আরাফাতের সীমানার বাইরে অবস্থান করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই থাকেন। তারপর আরাফাতের সীমানার মধ্যে প্রবেশ না করে সেখান থেকেই ফিরে আসেন। এদের হজ বিশুদ্ধ হবে না। তারা হজ না করেই ফিরে এলেন। এজন্য এ বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। আলহামদু লিল্লাহ এ সীমানা জানার জন্য 'আরাফাত ময়দানের চতুর্পাশ্বে বিশাল বিশাল বোর্ডের ব্যবস্থা আছে। তার প্রতি খেয়াল করলেই কোনো সমস্যা থাকবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00