📄 তামাত্তু’ হজ্জের ইহরাম বেঁধে উমরা করে কোনো কারণবশতঃ হজ্জের ইচ্ছা পরিত্যাগ করা
প্রশ্ন: (৫১২) তামাতু' হজের ইহরাম বেঁধে উমরা করে কোনো কারণবশতঃ হজের ইচ্ছা পরিত্যাগ করেছে। তাকে কি কোনো কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর: তাকে কোনো কাফফারা দিতে হবে না। কেননা তামাতু'কারী উমরার ইহরাম বাঁধার পর উমরা পূর্ণ করে যদি হজের ইচ্ছা পরিত্যাগ করে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা দু'টি কাজ আলাদা আলাদা ইহরামে সম্পাদন করতে হয়। হ্যাঁ, সে যদি মানত করে থাকে যে এ বছরই হজ করবে তবে মানত পূর্ণ করা অবশ্য কর্তব্য।
প্রশ্ন: (৫১২) তামাতু' হজের ইহরাম বেঁধে উমরা করে কোনো কারণবশতঃ হজের ইচ্ছা পরিত্যাগ করেছে। তাকে কি কোনো কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর: তাকে কোনো কাফফারা দিতে হবে না। কেননা তামাতু'কারী উমরার ইহরাম বাঁধার পর উমরা পূর্ণ করে যদি হজের ইচ্ছা পরিত্যাগ করে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা দু'টি কাজ আলাদা আলাদা ইহরামে সম্পাদন করতে হয়। হ্যাঁ, সে যদি মানত করে থাকে যে এ বছরই হজ করবে তবে মানত পূর্ণ করা অবশ্য কর্তব্য।
📄 তামাত্তু’ হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর উমরা শেষ করে অজ্ঞতাবশতঃ হালাল না হওয়া
প্রশ্ন: (৫১৩) তামাতু' হজের ইহরাম বাঁধার পর উমরা শেষ করে অজ্ঞতাবশতঃ হালাল হয় নি। এভাবে হজের কাজ শেষ করে কুরবানী করেছে। তার করণীয় কী? তার হজ কি বিশুদ্ধ?
উত্তর: জানা আবশ্যক যে, কোনো মানুষ তামাতু' হজের ইহরাম বাঁধলে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, তাওয়াফ, সা'ঈ শেষ করে মাথার চুল খাটো করে হালাল হয়ে যাওয়া। কিন্তু উমরার তাওয়াফ শুরু করার পূর্বে যদি হজের নিয়ত করে ফেলে এবং ইহরাম খোলার ইচ্ছা না করে, তবে কোনো অসুবিধা নেই। এ অবস্থায় তার হজ ক্বিরان হজে পরিণত হবে। তার হাদঈও হবে ক্বিরান হজের হাদঈ।
কিন্তু যদি উমরার নিয়তেই থাকে এমনকি তাওয়াফ-সাঈ শেষ করে ফেলে, তবে অধিকাংশ বিদ্বান বলেন, তার হজের ইহরাম বিশুদ্ধ নয়। কেননা উমরার তাওয়াফ শুরু করার পর উমরাকে হজে প্রবেশ করানো বিশুদ্ধ নয়।
বিদ্বানদের মধ্যে অন্যদের মত হচ্ছে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা সে ছিল অজ্ঞ। আমি মনে করি তাকে কোনো কিছু দিতে হবে না। তার হজ বিশুদ্ধ ইনশাআল্লাহ্। (আল্লাহই তাওফীক দাতা)।
প্রশ্ন: (৫১৩) তামাতু' হজের ইহরাম বাঁধার পর উমরা শেষ করে অজ্ঞতাবশতঃ হালাল হয় নি। এভাবে হজের কাজ শেষ করে কুরবানী করেছে। তার করণীয় কী? তার হজ কি বিশুদ্ধ?
উত্তর: জানা আবশ্যক যে, কোনো মানুষ তামাতু' হজের ইহরাম বাঁধলে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, তাওয়াফ, সা'ঈ শেষ করে মাথার চুল খাটো করে হালাল হয়ে যাওয়া। কিন্তু উমরার তাওয়াফ শুরু করার পূর্বে যদি হজের নিয়ত করে ফেলে এবং ইহরাম খোলার ইচ্ছা না করে, তবে কোনো অসুবিধা নেই। এ অবস্থায় তার হজ ক্বিরان হজে পরিণত হবে। তার হাদঈও হবে ক্বিরান হজের হাদঈ।
কিন্তু যদি উমরার নিয়তেই থাকে এমনকি তাওয়াফ-সাঈ শেষ করে ফেলে, তবে অধিকাংশ বিদ্বান বলেন, তার হজের ইহরাম বিশুদ্ধ নয়। কেননা উমরার তাওয়াফ শুরু করার পর উমরাকে হজে প্রবেশ করানো বিশুদ্ধ নয়।
বিদ্বানদের মধ্যে অন্যদের মত হচ্ছে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা সে ছিল অজ্ঞ। আমি মনে করি তাকে কোনো কিছু দিতে হবে না। তার হজ বিশুদ্ধ ইনশাআল্লাহ্। (আল্লাহই তাওফীক দাতা)।
📄 ইফরাদ হজকারী যদি তাওয়াফে কুদুমের সাথে সাঈ করে নেয়
প্রশ্ন: (৫২৭) ইফরাদ হজকারী যদি তাওয়াফে কুদূমের সাথে সা'ঈ করে নেয়, তবে তাওয়াফে ইফাদ্বার পর তাকে কি আবার সা'ঈ করতে হবে?
উত্তর: তাওয়াফে ইফাদ্বার পর তাকে আর সা'ঈ করতে হবে না। কেননা তার উমরা নেই। সুতরাং তাওয়াফে কুদূমের সাথে সে যদি সা'ঈ করে থাকে, তবে এটাই হজের সা'ঈ হিসেবে গণ্য হবে। পরে আর সা'ঈ করতে হবে না।
প্রশ্ন: (৫২৭) ইফরাদ হজকারী যদি তাওয়াফে কুদূমের সাথে সা'ঈ করে নেয়, তবে তাওয়াফে ইফাদ্বার পর তাকে কি আবার সা'ঈ করতে হবে?
উত্তর: তাওয়াফে ইফাদ্বার পর তাকে আর সা'ঈ করতে হবে না। কেননা তার উমরা নেই। সুতরাং তাওয়াফে কুদূমের সাথে সে যদি সা'ঈ করে থাকে, তবে এটাই হজের সা'ঈ হিসেবে গণ্য হবে। পরে আর সা'ঈ করতে হবে না।
📄 কিরানকারীর জন্য একটি তাওয়াফ ও একটি সা‘ঈ যথেষ্ট হবে?
প্রশ্ন: (৫২৮) কিরানকারীর জন্য একটি তাওয়াফ ও একটি সা'ঈ যথেষ্ট হবে?
উত্তর: কোনো মানুষ যদি ক্বিরান হজ করতে চায়, তবে তার তাওয়াফে ইফাদ্বা বা হজের তাওয়াফ ও হজের সা'ঈ উমরা ও হজ উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে। তখন তাওয়াফে কুদুম তার জন্য সুন্নাত। সে ইচ্ছা করলে হজের সা'ঈ তাওয়াফে কুদূমের পরপরই আদায় করে নিতে পারে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। ইচ্ছা করলে সা'ঈ বাকী রেখে তাওয়াফে ইফাদ্বার পর করতে পারে। কিন্তু পূর্বেই করে নেওয়া উত্তম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছিলেন। অতঃপর ঈদের দিন শুধুমাত্র তাওয়াফে ইফাদ্বা করবে। সা'ঈ করবে না। ক্বিরানকারীর হজ ও উমরার জন্য একটি মাত্র তাওয়াফ ও সা'ঈ যথেষ্ট হওয়ার দলীল হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহাকে বলেন,
﴿طَوَافُكِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ يَكْفِيكِ لِحَجَّتِكِ وَعُمْرَتِكِ﴾
"আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা'ঈ তোমার হজ ও উমরার জন্য যথেষ্ট হবে।"³⁸ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ছিলেন ক্বিরান হজকারীনী। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করে দিলেন যে, ক্বিরানকারীর তাওয়াফ ও সা'ঈ হজ ও উমরা উভয়টির জন্য যথেষ্ট।
টিকাঃ
³⁸ আবু দাউদ, অধ্যায়: হজ-উমরা, অনুচ্ছেদ: ক্বিরাণকারীর তওয়াফ। এ হাদীসটির মূল সহীহ মুসলিমে রয়েছে।
প্রশ্ন: (৫২৮) কিরানকারীর জন্য একটি তাওয়াফ ও একটি সা'ঈ যথেষ্ট হবে?
উত্তর: কোনো মানুষ যদি ক্বিরান হজ করতে চায়, তবে তার তাওয়াফে ইফাদ্বা বা হজের তাওয়াফ ও হজের সা'ঈ উমরা ও হজ উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে। তখন তাওয়াফে কুদুম তার জন্য সুন্নাত। সে ইচ্ছা করলে হজের সা'ঈ তাওয়াফে কুদূমের পরপরই আদায় করে নিতে পারে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। ইচ্ছা করলে সা'ঈ বাকী রেখে তাওয়াফে ইফাদ্বার পর করতে পারে। কিন্তু পূর্বেই করে নেওয়া উত্তম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছিলেন। অতঃপর ঈদের দিন শুধুমাত্র তাওয়াফে ইফাদ্বা করবে। সা'ঈ করবে না। ক্বিরানকারীর হজ ও উমরার জন্য একটি মাত্র তাওয়াফ ও সা'ঈ যথেষ্ট হওয়ার দলীল হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহাকে বলেন,
﴿طَوَافُكِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ يَكْفِيكِ لِحَجَّتِكِ وَعُمْرَتِكِ﴾
"আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা'ঈ তোমার হজ ও উমরার জন্য যথেষ্ট হবে।"³⁸ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ছিলেন ক্বিরান হজকারীনী। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করে দিলেন যে, ক্বিরানকারীর তাওয়াফ ও সা'ঈ হজ ও উমরা উভয়টির জন্য যথেষ্ট।
টিকাঃ
³⁸ আবু দাউদ, অধ্যায়: হজ-উমরা, অনুচ্ছেদ: ক্বিরাণকারীর তওয়াফ। এ হাদীসটির মূল সহীহ মুসলিমে রয়েছে।