📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 মাকামে ইবরাহীমের পদচিহ্ন কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন

📄 মাকামে ইবরাহীমের পদচিহ্ন কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন


প্রশ্ন: (৫০৫) মাক্কামে ইবরাহীমে যে পদচিহ্ন দেখা যায়, তা কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পায়ের চিহ্ন?
উত্তর: সন্দেহ নেই মাক্কামে ইবরাহীম সুপ্রমাণিত। কাঁচে ঘেরা স্থানটিই মাক্কামে ইবরাহীম। কিন্তু এর মধ্যে যে গর্ত দেখা যায় তাতে পায়ের কোনো চিহ্ন প্রকাশিত নয়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বহুকাল পর্যন্ত পাথরের উপর দু'পায়ের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বর্তমানের এ গর্তটি শুধুমাত্র পরিচয়ের জন্য করা হয়েছে। একথা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এ গর্তই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদদ্বয়ের চিহ্ন।
এ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অনেক উমরাকারী ও হজ পালনকারী মাক্কামে ইবরাহীমের পাশে এসে এমন কিছু দো'আ পাঠ করে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। কখনো এরা উঁচু কন্ঠে দো'আ পাঠ করে এবং মুসল্লী বা তাওয়াফকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। মাক্কামে ইবরাহীমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দো'আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই। মানুষ যা পাঠ করে তা মৌলবীদের তৈরিকৃত। সুন্নাত হচ্ছে তাওয়াফ শেষ করে (মাক্কামে ইবরাহীমের) পিছনে এসে হালকা করে দু'রাকাত সালাত আদায় করা। (বেশি ভীড় থাকলে সেখানে সালাত না পড়ে আরো পিছনে বা যে কোনো স্থানে সালাত পড়া যাবে।) তারপর সালাত হয়ে গেলেই সেখানে বসে থাকবে না; যারা সালাত পড়তে চায় তাদের জন্য জায়গা খালি করে দিবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 কা‘বা শরীফের গিলাফ ধরে দো‘আ বা কান্নাকাটি করা জায়েয কী?

📄 কা‘বা শরীফের গিলাফ ধরে দো‘আ বা কান্নাকাটি করা জায়েয কী?


প্রশ্ন: (৫০৬) কা'বা শরীফের গিলাফ ধরে দো'আ বা কান্নাকাটি করা জায়েয কী?
উত্তর: কা'বা শরীফের গিলাফ ধরে বরকত কামনা করা বা দো'আ বা কান্নাকাটি করা বিদ'আত। কেননা এ কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই। মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাওয়াফ করার সময় যখন কা'বা ঘরের প্রতিটি কোণ স্পর্শ করছিলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা প্রতিবাদ করেছেন। মুআবিয়া বললেন, 'কা'বা ঘরের কোনো অংশই ছাড়ার নয়।' তখন ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু জবাবে বললেন, "নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। আমি দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু মাত্র দু'টি কর্নার স্পর্শ করেছেন। অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী। অতএব, আমাদের ওপর আবশ্যক হচ্ছে কা'বা ঘরকে ছোঁয়া বা স্পর্শ করার ব্যাপারে শুধুমাত্র सुন্নাত থেকে প্রমাণিত দলীলেরই অনুসরণ করব। কেননা এতেই আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আদর্শকে আঁকড়ে থাকতে পারব।
অবশ্য মুলতাযিম অর্থাৎ কা'বা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান স্পর্শ করে দো'আ করা, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহুম থেকে প্রমাণিত হয়েছে। (আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন)

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 তাওয়াফের পর কি সরাসরি সা‘ঈ করতে হবে? নাকি বিলম্ব করা যাবে?

📄 তাওয়াফের পর কি সরাসরি সা‘ঈ করতে হবে? নাকি বিলম্ব করা যাবে?


প্রশ্ন: (৫২২) সা'ঈ আবশ্যক ছিল কিন্তু তাওয়াফ করার পর সরাসরি সা'ঈ না করে বাইরে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে বিষয়টি জানানো হলো, সে কি এখন শুধু সা'ঈ করবে? নাকি পুনরায় তাওয়াফ করার পর সরাসরি সা'ঈ করবে?
উত্তর: কোনো মানুষ যদি তাওয়াফ করে এ বিশ্বাসে যে তাকে সা'ঈ করতে হবে না। কিন্তু পরে তাকে জানানো হলো যে, তাকে অবশ্যই সা'ঈ করতে হবে। তখন সে শুধুমাত্র সা'ঈ করলেই হয়ে যাবে। পুনরায় তাওয়াফ করার দরকার নেই। কেননা তাওয়াফের পর পরই সা'ঈ করতে এরকম কোনো শর্ত নেই।
এমনকি কোনো মানুষ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সা'ঈ করতে বিলম্ব করে- তবুও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু উত্তম হচ্ছে তাওয়াফ শেষ করার পর পরই বিলম্ব না করে সা'ঈ করে নেয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00