📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ না করলে উমরা হবে না

📄 পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ না করলে উমরা হবে না


প্রশ্ন: (৫০১) জনৈক নারী স্বামীর সাথে তামাত্তু' হজ করতে এসেছে। তারা উমরার তাওয়াফ করার সময় ৬ষ্ঠ চক্করে স্বামী বললেন, এটাই সপ্তম চক্কর এবং তিনি নিজ মতের উপর অটল ছিলেন। এখন স্ত্রীর করণীয় কী?
উত্তর: উক্ত নারী যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে সে ৬ চক্কর দিয়েছে এবং তাওয়াফ পূর্ণ করে নি। তবে এখন পর্যন্ত তার উক্ত উমরা পূর্ণ হয় নি। কেননা উমরার অন্যতম রুকন হচ্ছে পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ করা। এরপর যদি হজের ইহরাম করে থাকে, তখন সে ক্বিরানকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা উমরা শেষ করার আগেই সে উমরাকে হজের মধ্যে প্রবেশ করে নিয়েছে।
কিন্তু স্বামীর অটলতা দেখে যদি স্ত্রী সন্দেহের মধ্যে পড়ে যায়, তবে কোনো অসুবিধা নেই। তখন তার উমরা পূর্ণ হয়ে যাবে। কেননা তার সন্দেহ, আর স্বামীর নিশ্চয়তা এ অবস্থায় স্বামীর কথায় ফিরে আসবে এবং সেটাকেই প্রাধান্য দিবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 হজ্জ-উমরায় নিজের ভাষায় দো‘আ করাই উত্তম

📄 হজ্জ-উমরায় নিজের ভাষায় দো‘আ করাই উত্তম


প্রশ্ন: (৫০২) উমরা বা হজকারী যদি দো'আ না জানে, তবে তাওয়াফ, সা'ঈ প্রভৃতির সময় কি কোনো বই হাতে নিয়ে দেখে দেখে দো'আ পাঠ করা জায়েয হবে?
উত্তর: হজ বা উমরাকারী যে সমস্ত দো'আ জানে এগুলোই তার জন্যে যথেষ্ট। কেননা সাধারণতঃ সে যা জানে তা সে বুঝে। আর বুঝে-শুনেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিৎ। কিন্তু যদি কোনো বই হাতে নিয়ে দো'আ পড়ে বা কাউকে ভাড়া নিয়ে তার শিখিয়ে দেওয়া দো'আ পড়ে- যার কিছুই সে বুঝে না, তবে তাতে কোনই উপকার হবে না। তাছাড়া বাজারের এ বইগুলোতে তাওয়াফ-সাঈর জন্য যে দো'আ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা বিদ'আত এবং বিভ্রান্তি। কোনো মুসলিমের জন্য এগুলো পাঠ করা জায়েয নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে প্রত্যেক চক্করের জন্য আলাদা ও বিশেষ কোনো দো'আ শিক্ষা দেন নি। সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْيُ الْجِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ».
“আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সা'ঈ ও জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ প্রভৃতির লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করা।”²⁷
তাই সকল মুমিনের ওপর ওয়াজিব হচ্ছে এ ধরণের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক থাকা। আর নিজের দরকারের কথা আল্লাহর কাছে এমন ভাষায় পেশ করা যার অর্থ সে নিজে অনুধাবন করে। সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর যিকির করা। অর্থ বুঝে না এমন শব্দ ব্যবহার করার চাইতে এটাই তার জন্য উত্তম। অনেকে এমনও আছে যে অর্থ বুঝা তো দূরের কথা বইয়ের শব্দ বা বাক্যগুলোই ভালোভাবে পড়তে পারে না。

টিকাঃ
²⁷ আবু দাউদ, অধ্যায়: মানসেক, অনুচ্ছেদ: রমল করা; তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কীভাবে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 তাওয়াফ-সা‘ঈতে কি বিশেষ কোনো দো‘আ আছে?

📄 তাওয়াফ-সা‘ঈতে কি বিশেষ কোনো দো‘আ আছে?


প্রশ্ন: (৫০৩) তাওয়াফ-সা'ঈতে কি বিশেষ কোনো দো'আ আছে?
উত্তর: হজ-উমরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দো'আ নেই। মানুষ জানা যে কোনো দো'আ পাঠ করতে পারবে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত দো'আসমূহ পাঠ করা উত্তম। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে এ দো'আ পাঠ করা সুন্নাত: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুন্‌ন্নয়া হাসানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ্, ওয়াক্বিনা আযাবান্নার।" অনুরূপভাবে সাফা-মারওয়ায় ও 'আরাফার দিবসের প্রমাণিত দো'আ পাঠ করতে পারে। সুন্নাত থেকে প্রমাণিত যে সমস্ত দো'আ জানা আছে তাই পাঠ করা উচিৎ। কিন্তু জানা না থাকলে তার মাথায় যে দো'আই আসে তাই পাঠ করা যাবে। কেননা এ দো'আ পাঠ করা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা মুস্তাহাব।
এ উপলক্ষে আমি বলতে চাই, হজ-উমরার জন্য ছোট ছোট পুস্তিকা হাজীদের হাতে দেখা যায়। তাতে তাওয়াফ-সাঈর প্রত্যেক চক্করের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দো'আ নির্দিষ্ট করা থাকে। এটা বিদ'আত। এতে নিশ্চিতভাবে অনেক ধরণের বিপদ আছে। যেমন,
১) যারা এটা পাঠ করে, তারা ধারণা করে যে, বইয়ের দো'আগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। অথচ তা সাব্যস্ত নয়।
২) তারা এ দো'আর প্রত্যেকটি শব্দ পাঠ করা ইবাদত মনে করে।
৩) কোনো মর্ম বা অর্থ না বুঝেই তা পাঠ করে।
৪) প্রত্যেক চক্করের জন্য আলাদা আলাদা দো'আ নির্দিষ্ট করে।
৫) ভীড়ের কারণে চক্কর পূর্ণ হওয়ার আগেই দো'আ পড়া শেষ হয়ে গেলে চুপ করে থাকে।
৬) আর দো'আ শেষ হওয়ার আগে চক্কর শেষ হয়ে গেলে দো'আ পড়া ছেড়ে দেয়। এ বিদ'আতী আমলের কারণে এতগুলো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
অনুরূপভাবে মাক্কামে ইবরাহীমের কাছে পাঠ করার জন্য ঐ বইয়ে যে দো'আ পাওয়া যায়, তাও বিদ'আত। কেননা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। বরং তিনি সেখানে গিয়ে পাঠ করেছেন, ﴿وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِمَ مُصَلَّى﴾ [البقرة: ١٢٥] “তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৫] এবং তিনি এর পিছনে দু'রাকাত সালাত আদায় করেছেন। অতএব, যারা এখানে এসে অতিরিক্ত দো'আ পাঠ করে এবং অন্যান্য মুসল্লী ও তাওয়াফকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তাদের এ কাজ দু'টি কারণে গর্হিত ও বিদ'আত:
(ক) এ সমস্ত দো'আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত না হওয়ার কারণে তা বিদ'আত।
(খ) যারা মাক্কামে ইবরাহীমের পিছনে সালাত আদায় করে তাদের সালাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 মাকামে ইবরাহীমের পদচিহ্ন কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন

📄 মাকামে ইবরাহীমের পদচিহ্ন কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন


প্রশ্ন: (৫০৫) মাক্কামে ইবরাহীমে যে পদচিহ্ন দেখা যায়, তা কি প্রকৃতই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পায়ের চিহ্ন?
উত্তর: সন্দেহ নেই মাক্কামে ইবরাহীম সুপ্রমাণিত। কাঁচে ঘেরা স্থানটিই মাক্কামে ইবরাহীম। কিন্তু এর মধ্যে যে গর্ত দেখা যায় তাতে পায়ের কোনো চিহ্ন প্রকাশিত নয়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বহুকাল পর্যন্ত পাথরের উপর দু'পায়ের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বর্তমানের এ গর্তটি শুধুমাত্র পরিচয়ের জন্য করা হয়েছে। একথা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এ গর্তই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পদদ্বয়ের চিহ্ন।
এ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অনেক উমরাকারী ও হজ পালনকারী মাক্কামে ইবরাহীমের পাশে এসে এমন কিছু দো'আ পাঠ করে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। কখনো এরা উঁচু কন্ঠে দো'আ পাঠ করে এবং মুসল্লী বা তাওয়াফকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। মাক্কামে ইবরাহীমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দো'আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই। মানুষ যা পাঠ করে তা মৌলবীদের তৈরিকৃত। সুন্নাত হচ্ছে তাওয়াফ শেষ করে (মাক্কামে ইবরাহীমের) পিছনে এসে হালকা করে দু'রাকাত সালাত আদায় করা। (বেশি ভীড় থাকলে সেখানে সালাত না পড়ে আরো পিছনে বা যে কোনো স্থানে সালাত পড়া যাবে।) তারপর সালাত হয়ে গেলেই সেখানে বসে থাকবে না; যারা সালাত পড়তে চায় তাদের জন্য জায়গা খালি করে দিবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00