📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 অজ্ঞতাবশতঃ তাওয়াফে ইফাযা ছেড়ে দিলে করণীয় কী?

📄 অজ্ঞতাবশতঃ তাওয়াফে ইফাযা ছেড়ে দিলে করণীয় কী?


প্রশ্ন: (৪৯৯) অজ্ঞতাবশতঃ তাওয়াফে ইফাদ্বা ছেড়ে দিলে করণীয় কী?
উত্তর: তাওয়াফে ইফাদ্বা (হজের তাওয়াফ) হজের অন্যতম রুকন। ইহা আদায় না করলে হজ সম্পন্ন হবে না। কোনো মানুষ তা ছেড়ে দিলে তার হজ পূর্ণ হলো না। তা অবশ্যই আদায় করতে হবে- যদিও এজন্য তাকে নিজ দেশ থেকে ফিরে আসতে হয়। এ অবস্থায় যেহেতু সে হজের তাওয়াফ করে নি, তাই তার জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়। কেননা সে এখনো পূর্ণ হালাল হয় নি। তাওয়াফে ইফাদার সাথে যদি সা'ঈও ছেড়ে থাকে, তবে তামাত্তু'কারীকে তাওয়াফে ইফাদা এবং সা'ঈ করতে হবে এবং ক্বিরান ও ইফরাদকারী তাওয়াফে কুদূমের সাথে সা'ঈ না করে থাকলে, তাদেরকেও তাওয়াফে ইফাদার সাথে সা'ঈ করতে হবে, তবেই তারা পূর্ণ হালাল হবে এবং হজ বিশুদ্ধ হবে।

প্রশ্ন: (৪৯৯) অজ্ঞতাবশতঃ তাওয়াফে ইফাদ্বা ছেড়ে দিলে করণীয় কী?
উত্তর: তাওয়াফে ইফাদ্বা (হজের তাওয়াফ) হজের অন্যতম রুকন। ইহা আদায় না করলে হজ সম্পন্ন হবে না। কোনো মানুষ তা ছেড়ে দিলে তার হজ পূর্ণ হলো না। তা অবশ্যই আদায় করতে হবে- যদিও এজন্য তাকে নিজ দেশ থেকে ফিরে আসতে হয়। এ অবস্থায় যেহেতু সে হজের তাওয়াফ করে নি, তাই তার জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়। কেননা সে এখনো পূর্ণ হালাল হয় নি। তাওয়াফে ইফাদার সাথে যদি সা'ঈও ছেড়ে থাকে, তবে তামাত্তু'কারীকে তাওয়াফে ইফাদা এবং সা'ঈ করতে হবে এবং ক্বিরান ও ইফরাদকারী তাওয়াফে কুদূমের সাথে সা'ঈ না করে থাকলে, তাদেরকেও তাওয়াফে ইফাদার সাথে সা'ঈ করতে হবে, তবেই তারা পূর্ণ হালাল হবে এবং হজ বিশুদ্ধ হবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 তাওয়াফের সময় হজ্জরে আসওয়াদকে চুম্বন করা আবশ্যক নয়

📄 তাওয়াফের সময় হজ্জরে আসওয়াদকে চুম্বন করা আবশ্যক নয়


প্রশ্ন: (৫০০) অনেক তাওয়াফকারীকে দেখা যায় ভীড়ের মধ্যে ঠেলে তাদের নারীদেরকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য পাঠায়। তাদের জন্য কোনটি উত্তম হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা? নাকি পুরুষদের ভীড় থেকে দূরে অবস্থান করা।
উত্তর: প্রশ্নকারী যখন এ আশ্চর্য বিষয় দেখেছে, আমি এর চাইতে অধিক আশ্চর্যজনক বিষয় দেখেছি। আমি দেখেছি কিছু লোক ফরয নামাযান্তে এক দিকে সালাম ফেরানো হলে দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার জন্য দৌড় দেয়। এতে তো তার ফরয সালাতই বাতিল হয়ে গেল। যে সালাত কিনা ইসলামের অন্যতম প্রধান রুকন। অথচ সে এমন একটি কাজ করতে ছুটেছে যা ওয়াজিব নয়। এমনকি তাওয়াফ অবস্থায় না থাকলে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরী'আতসম্মতও নয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট ধরণের দুঃখজনক অজ্ঞতা। তাওয়াফ ছাড়া হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা সুন্নাত নয়। এব্যাপারে আমার কোনো দলীল জানা নেই। আমি এ স্থান থেকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমার জ্ঞানের বাইরে যদি কারো কাছে এমন কোনো দীলল জানা থাকে যে, তাওয়াফ না করলেও হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরী'আতসম্মত, তবে সে যেন আমাদের কাছে তা পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন।
অতএব, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা তাওয়াফের সুন্নাতের অন্তর্গত। তাছাড়া এটা তখনই সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত হবে যখন তা চুম্বন করতে গিয়ে তাওয়াফকারী কষ্ট পাবে না বা অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া হবে না। যদি তাওয়াফকারীর কষ্ট হয় বা অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করবে এবং তা হাত দ্বারা স্পর্শ করে হাতকে চুম্বন করবে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন। যদি একাজও কষ্ট করা ও কষ্ট দেওয়া ছাড়া আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা তৃতীয় স্তরে উপনীত হয়ে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদকে এক হাত দ্বারা ইশারা করব। কিন্তু সে হাতকে চুম্বন করব না। এটাই হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার সুন্নাতী পদ্ধতি।
হাজরে আসওয়াদকে চুম্বনের বিষয়টি আরো জটিল ও কঠিন হবে- যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন- নারীদেরকে পাথর চুম্বন করার জন্য ঠেলে দেওয়া, হতে পারে সে নারী গর্ভবতী বা বৃদ্ধা বা দুর্বল যুবতী অথবা শিশুকে উপরে উঠিয়ে চুম্বনের জন্য এগিয়ে দেওয়া, তবে এসব কাজ গর্হিত ও নাজায়েয। কেননা এতে দুর্বল লোকদেরকে ভয়ঙ্কর এক অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে আছে সংকীর্ণতা ও পুরুষদের ভীড়ের প্রচণ্ডতা। তাই বিষয়টি মাকরূহ অথবা হারামের অন্তর্গত। আল্লাহর রহমতে অন্য ব্যবস্থা থাকতে কোনো মানুষের পক্ষে এদিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ নয়। আপনি যদি কঠিনভাবে ইসলামের বিধান পালন করতে চান, তবে পরাজিত হবেন।

প্রশ্ন: (৫০০) অনেক তাওয়াফকারীকে দেখা যায় ভীড়ের মধ্যে ঠেলে তাদের নারীদেরকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য পাঠায়। তাদের জন্য কোনটি উত্তম হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা? নাকি পুরুষদের ভীড় থেকে দূরে অবস্থান করা।
উত্তর: প্রশ্নকারী যখন এ আশ্চর্য বিষয় দেখেছে, আমি এর চাইতে অধিক আশ্চর্যজনক বিষয় দেখেছি। আমি দেখেছি কিছু লোক ফরয নামাযান্তে এক দিকে সালাম ফেরানো হলে দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার জন্য দৌড় দেয়। এতে তো তার ফরয সালাতই বাতিল হয়ে গেল। যে সালাত কিনা ইসলামের অন্যতম প্রধান রুকন। অথচ সে এমন একটি কাজ করতে ছুটেছে যা ওয়াজিব নয়। এমনকি তাওয়াফ অবস্থায় না থাকলে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরী'আতসম্মতও নয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট ধরণের দুঃখজনক অজ্ঞতা। তাওয়াফ ছাড়া হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা সুন্নাত নয়। এব্যাপারে আমার কোনো দলীল জানা নেই। আমি এ স্থান থেকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমার জ্ঞানের বাইরে যদি কারো কাছে এমন কোনো দীলল জানা থাকে যে, তাওয়াফ না করলেও হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরী'আতসম্মত, তবে সে যেন আমাদের কাছে তা পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন।
অতএব, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা তাওয়াফের সুন্নাতের অন্তর্গত। তাছাড়া এটা তখনই সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত হবে যখন তা চুম্বন করতে গিয়ে তাওয়াফকারী কষ্ট পাবে না বা অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া হবে না। যদি তাওয়াফকারীর কষ্ট হয় বা অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করবে এবং তা হাত দ্বারা স্পর্শ করে হাতকে চুম্বন করবে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন। যদি একাজও কষ্ট করা ও কষ্ট দেওয়া ছাড়া আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা তৃতীয় স্তরে উপনীত হয়ে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদকে এক হাত দ্বারা ইশারা করব। কিন্তু সে হাতকে চুম্বন করব না। এটাই হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার সুন্নাতী পদ্ধতি।
হাজরে আসওয়াদকে চুম্বনের বিষয়টি আরো জটিল ও কঠিন হবে- যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন- নারীদেরকে পাথর চুম্বন করার জন্য ঠেলে দেওয়া, হতে পারে সে নারী গর্ভবতী বা বৃদ্ধা বা দুর্বল যুবতী অথবা শিশুকে উপরে উঠিয়ে চুম্বনের জন্য এগিয়ে দেওয়া, তবে এসব কাজ গর্হিত ও নাজায়েয। কেননা এতে দুর্বল লোকদেরকে ভয়ঙ্কর এক অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে আছে সংকীর্ণতা ও পুরুষদের ভীড়ের প্রচণ্ডতা। তাই বিষয়টি মাকরূহ অথবা হারামের অন্তর্গত। আল্লাহর রহমতে অন্য ব্যবস্থা থাকতে কোনো মানুষের পক্ষে এদিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ নয়। আপনি যদি কঠিনভাবে ইসলামের বিধান পালন করতে চান, তবে পরাজিত হবেন।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ না করলে উমরা হবে না

📄 পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ না করলে উমরা হবে না


প্রশ্ন: (৫০১) জনৈক নারী স্বামীর সাথে তামাত্তু' হজ করতে এসেছে। তারা উমরার তাওয়াফ করার সময় ৬ষ্ঠ চক্করে স্বামী বললেন, এটাই সপ্তম চক্কর এবং তিনি নিজ মতের উপর অটল ছিলেন। এখন স্ত্রীর করণীয় কী?
উত্তর: উক্ত নারী যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে সে ৬ চক্কর দিয়েছে এবং তাওয়াফ পূর্ণ করে নি। তবে এখন পর্যন্ত তার উক্ত উমরা পূর্ণ হয় নি। কেননা উমরার অন্যতম রুকন হচ্ছে পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ করা। এরপর যদি হজের ইহরাম করে থাকে, তখন সে ক্বিরানকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা উমরা শেষ করার আগেই সে উমরাকে হজের মধ্যে প্রবেশ করে নিয়েছে।
কিন্তু স্বামীর অটলতা দেখে যদি স্ত্রী সন্দেহের মধ্যে পড়ে যায়, তবে কোনো অসুবিধা নেই। তখন তার উমরা পূর্ণ হয়ে যাবে। কেননা তার সন্দেহ, আর স্বামীর নিশ্চয়তা এ অবস্থায় স্বামীর কথায় ফিরে আসবে এবং সেটাকেই প্রাধান্য দিবে।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 হজ্জ-উমরায় নিজের ভাষায় দো‘আ করাই উত্তম

📄 হজ্জ-উমরায় নিজের ভাষায় দো‘আ করাই উত্তম


প্রশ্ন: (৫০২) উমরা বা হজকারী যদি দো'আ না জানে, তবে তাওয়াফ, সা'ঈ প্রভৃতির সময় কি কোনো বই হাতে নিয়ে দেখে দেখে দো'আ পাঠ করা জায়েয হবে?
উত্তর: হজ বা উমরাকারী যে সমস্ত দো'আ জানে এগুলোই তার জন্যে যথেষ্ট। কেননা সাধারণতঃ সে যা জানে তা সে বুঝে। আর বুঝে-শুনেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিৎ। কিন্তু যদি কোনো বই হাতে নিয়ে দো'আ পড়ে বা কাউকে ভাড়া নিয়ে তার শিখিয়ে দেওয়া দো'আ পড়ে- যার কিছুই সে বুঝে না, তবে তাতে কোনই উপকার হবে না। তাছাড়া বাজারের এ বইগুলোতে তাওয়াফ-সাঈর জন্য যে দো'আ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা বিদ'আত এবং বিভ্রান্তি। কোনো মুসলিমের জন্য এগুলো পাঠ করা জায়েয নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে প্রত্যেক চক্করের জন্য আলাদা ও বিশেষ কোনো দো'আ শিক্ষা দেন নি। সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْيُ الْجِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ».
“আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সা'ঈ ও জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ প্রভৃতির লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করা।”²⁷
তাই সকল মুমিনের ওপর ওয়াজিব হচ্ছে এ ধরণের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক থাকা। আর নিজের দরকারের কথা আল্লাহর কাছে এমন ভাষায় পেশ করা যার অর্থ সে নিজে অনুধাবন করে। সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর যিকির করা। অর্থ বুঝে না এমন শব্দ ব্যবহার করার চাইতে এটাই তার জন্য উত্তম। অনেকে এমনও আছে যে অর্থ বুঝা তো দূরের কথা বইয়ের শব্দ বা বাক্যগুলোই ভালোভাবে পড়তে পারে না。

টিকাঃ
²⁷ আবু দাউদ, অধ্যায়: মানসেক, অনুচ্ছেদ: রমল করা; তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কীভাবে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00