📄 ইহরাম অবস্থায় ছাতা, বেল্ট ব্যবহার করার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৪৭৮) ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করার বিধান কী? অনুরূপভাবে সিলাইকৃত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কী?
উত্তর: সূর্যের তাপ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কোনো ক্ষতি নেই। একাজ হাদীসে পুরুষের মাথা ঢাকার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা মাথা ঢাকা নয়; বরং তা রৌদ্র প্রভৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছায়া গ্রহণ করা। সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, বিদায় হজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উসামা ইবন যায়েদ ও বেলাল রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ছিলেন। তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনির লাগাম ধরে ছিলেন। অপরজন একটি কাপড় উপরে উঠিয়ে তাঁকে ছায়া প্রদান করছিলেন, এভাবে চলতে চলতে তিনি জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন।¹⁷ এ হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় হালাল হওয়ার পূর্বে কাপড় দিয়ে ছায়া গ্রহণ করেছেন।
পরনের কাপড় বাঁধার জন্য যে কোনো ধরণের বেল্ট ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর 'সেলাইকৃত বেল্ট' প্রশ্নকারীর এ কথাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাদের ধারণা, যে কোনো প্রকারের সিলাই থাকলেই তা আর পরিধান করা যাবে না। কিন্তু কথাটি ভুল। 'সিলাইকৃত কাপড় পরিধান করা যাবে না' একথা দ্বারা বিদ্বানগণ বুঝিয়েছেন এমন সব কাপড় পরিধান করা যা শরীরের মাপে বানানো হয়েছে। সাধারণভাবে পোষাক হিসেবে যা পরিধান করা হয়। যেমন, জামা, পায়জামা, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া প্রভৃতি। একারণে কোনো মানুষ যদি এমন চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে যা জোড়া-তালি দেওয়া আছে, তবে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই- এমনকি যদি তার উভয় প্রান্ত সেলাই করা থাকে তাতেও কোনো ক্ষতি হবে না।
টিকাঃ
¹⁷ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কুরবানীর দিন আরোহী অবস্থায় জামরা আকাবায় কঙ্কর মারা মুস্তাহাব।
📄 শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে ইহরাম করবে?
প্রশ্ন: (৪৭৯) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে ইহরাম করবে?
উত্তর: কোনো মানুষ যদি ইহরামের কাপড় পরিধান করতে সক্ষম না হয়, তবে যে ধরণের কাপড় পরতে সক্ষম হবে তাই পরিধান করবে। তখন বিদ্বানদের মতেঃ
ক) তাকে ফিদইয়া হিসেবে একটি দম প্রদান করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
খ) অথবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। প্রত্যেককে অর্ধ ছা' তথা সোয়া কেজি পরিমাণ খাদ্য দিবে।
গ) অথবা তিনদিন সাওম পালন করবে।
রোগের কারণে মাথা মুণ্ডন করতে বাধ্য হলে যে বিধান প্রজোয্য হয়, তার ওপর কিয়াস করে বিদ্বানগণ উক্ত সমাধান দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ، فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ ﴾ [البقرة: ١٩٦]
"কোনো লোক যদি পীড়িত হয় বা তার মাথা যন্ত্রনাগ্রস্ত হয়, তবে সে সাওম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানী দ্বারা তার বিনিময় (ফিদইয়া) আদায় করবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]
আর সাওম ও সাদকার বিষয়টি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন।