📄 তালবিয়ার সুন্নাতী নিয়ম
প্রশ্ন: (৪৭৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কী? উমরা এবং হজের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপ:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ».
"লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক্, লা শারীকা লাক। "¹⁴ ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ক।" এর সনদ হাসান।
উমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।"¹⁵ ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আবু লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীস বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে পিছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে (উসামা ও ফাযল) বলেছেন, তিনি জামরা আকাবা বা বড় জামরায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন।¹⁶
ইমাম মালেকের মতে, হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহর কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে।
লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছে: আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি।
টিকাঃ
¹⁴ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া ও তার পদ্ধতি。
¹⁵ আবু দাউদ, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে; তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: উমরাতে কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতে হবে。
¹⁶ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজে আরোহণ করা একে অপরের পিছনে আরোহণ করা。
📄 ইহরাম অবস্থায় ছাতা, বেল্ট ব্যবহার করার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৪৭৮) ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করার বিধান কী? অনুরূপভাবে সিলাইকৃত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কী?
উত্তর: সূর্যের তাপ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কোনো ক্ষতি নেই। একাজ হাদীসে পুরুষের মাথা ঢাকার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা মাথা ঢাকা নয়; বরং তা রৌদ্র প্রভৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছায়া গ্রহণ করা। সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, বিদায় হজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উসামা ইবন যায়েদ ও বেলাল রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ছিলেন। তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনির লাগাম ধরে ছিলেন। অপরজন একটি কাপড় উপরে উঠিয়ে তাঁকে ছায়া প্রদান করছিলেন, এভাবে চলতে চলতে তিনি জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন।¹⁷ এ হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় হালাল হওয়ার পূর্বে কাপড় দিয়ে ছায়া গ্রহণ করেছেন।
পরনের কাপড় বাঁধার জন্য যে কোনো ধরণের বেল্ট ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর 'সেলাইকৃত বেল্ট' প্রশ্নকারীর এ কথাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাদের ধারণা, যে কোনো প্রকারের সিলাই থাকলেই তা আর পরিধান করা যাবে না। কিন্তু কথাটি ভুল। 'সিলাইকৃত কাপড় পরিধান করা যাবে না' একথা দ্বারা বিদ্বানগণ বুঝিয়েছেন এমন সব কাপড় পরিধান করা যা শরীরের মাপে বানানো হয়েছে। সাধারণভাবে পোষাক হিসেবে যা পরিধান করা হয়। যেমন, জামা, পায়জামা, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া প্রভৃতি। একারণে কোনো মানুষ যদি এমন চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে যা জোড়া-তালি দেওয়া আছে, তবে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই- এমনকি যদি তার উভয় প্রান্ত সেলাই করা থাকে তাতেও কোনো ক্ষতি হবে না।
টিকাঃ
¹⁷ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কুরবানীর দিন আরোহী অবস্থায় জামরা আকাবায় কঙ্কর মারা মুস্তাহাব।
📄 শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে ইহরাম করবে?
প্রশ্ন: (৪৭৯) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে ইহরাম করবে?
উত্তর: কোনো মানুষ যদি ইহরামের কাপড় পরিধান করতে সক্ষম না হয়, তবে যে ধরণের কাপড় পরতে সক্ষম হবে তাই পরিধান করবে। তখন বিদ্বানদের মতেঃ
ক) তাকে ফিদইয়া হিসেবে একটি দম প্রদান করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
খ) অথবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। প্রত্যেককে অর্ধ ছা' তথা সোয়া কেজি পরিমাণ খাদ্য দিবে।
গ) অথবা তিনদিন সাওম পালন করবে।
রোগের কারণে মাথা মুণ্ডন করতে বাধ্য হলে যে বিধান প্রজোয্য হয়, তার ওপর কিয়াস করে বিদ্বানগণ উক্ত সমাধান দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ، فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ ﴾ [البقرة: ١٩٦]
"কোনো লোক যদি পীড়িত হয় বা তার মাথা যন্ত্রনাগ্রস্ত হয়, তবে সে সাওম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানী দ্বারা তার বিনিময় (ফিদইয়া) আদায় করবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]
আর সাওম ও সাদকার বিষয়টি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন।