📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ‘লাববাইক’ বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?

📄 ‘লাববাইক’ বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?


প্রশ্ন: (৪৬৪) 'লাব্বাইক' বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?
উত্তর: হজ বা উমরার কাজে প্রবেশ করার জন্য অন্তরে নিয়ত (ইচ্ছা বা সংকল্প) করে পাঠ করবে: 'লাববাইকা উমরাতান' আর হজের জন্য বলবে, 'লাববাইকা হজ্জান'। কিন্তু এরূপ বলা জায়েয নয়: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা' অথবা 'উরীদুল হাজ্জা'। বা নাওয়াইতু আন আ'তামিরা উমরাতাম্। বা নাওয়াইতু আন আহুজ্জা হাজ্জা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এগুলো প্রমাণিত নেই।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো সালাত আছে কী?

📄 ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো সালাত আছে কী?


প্রশ্ন: (৪৭০) ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো সালাত আছে কী?
উত্তর: ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সালাত নেই। কিন্তু কোনো লোক যদি এমন সময় মীক্কাতে পৌঁছে যখন ফরয সালাতের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন তার জন্য উত্তম হচ্ছে ফরয সালাত সম্পাদন করার পর ইহরাম বাঁধা।
ফরয সালাতের সময় নয় কিন্তু চাশতের সালাতের (সালাতে দুহা) সময়ে মিক্কাতে পৌঁছলো, তাহলে প্রথমে পরিপূর্ণরূপে গোসল করবে, সুগন্ধি মাখবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করে চাশতের নিয়তে সালাত আদায় করবে তারপর ইহরামের নিয়ত করবে। চাশত সালাতের সময় না হলে তাহিয়্যাতুল অযুর নিয়ত করে দু'রাকাত সালাত পড়ে ইহরামে প্রবেশ করা উত্তম। কিন্তু ইহরামের নিয়তে সালাত আদায় করার কোনো দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কী?

📄 ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কী?


প্রশ্ন: (৪৬৮) ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কী?
উত্তর: ইহরামে প্রবেশ করার পর গোসল করতে কোনো বাধা নেই। কেননা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত রয়েছে। চাই একবার গোসল করুক বা দু'বার। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে জানাবাতের (নাপাকীর) গোসল করা ওয়াজিব। আর ইহরাম বাঁধার সময় গোসল করা সুন্নাত।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 তালবিয়ার সুন্নাতী নিয়ম

📄 তালবিয়ার সুন্নাতী নিয়ম


প্রশ্ন: (৪৭৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কী? উমরা এবং হজের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপ:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ».
"লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক্, লা শারীকা লাক। "¹⁴ ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ক।" এর সনদ হাসান।
উমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।"¹⁵ ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আবু লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীস বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে পিছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে (উসামা ও ফাযল) বলেছেন, তিনি জামরা আকাবা বা বড় জামরায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন।¹⁶
ইমাম মালেকের মতে, হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহর কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে।
লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছে: আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি।

টিকাঃ
¹⁴ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া ও তার পদ্ধতি。
¹⁵ আবু দাউদ, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে; তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: উমরাতে কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতে হবে。
¹⁶ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজে আরোহণ করা একে অপরের পিছনে আরোহণ করা。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00