📄 জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধার বিধান
প্রশ্ন: (৪৬৭) কোনো ব্যক্তি যদি নিজ দেশ থেকে জেদ্দা সফর করে অতঃপর উমরা আদায় করার ইচ্ছা করে। সে কি জেদ্দা থেকেই ইহরাম বাঁধবে?
উত্তর: এ মাসআলাটির দু'টি অবস্থা:
প্রথমঃ লোকটি উমরার নিয়ত না করে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা কাজে জেদ্দা সফর করেছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর উমরা করার ইচ্ছা হয়েছে, তবে সে জেদ্দা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুএর হাদীসে মীক্কাতের আলোচনায় বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি এ মীক্বাতসমূহের মধ্যে অবস্থান করে, সে যেখানে আছে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।"¹²
দ্বিতীয়ঃ দৃঢ়ভাবে উমরার নিয়ত করেই জেদ্দা সফর করেছে। তাহলে যে মীক্বাতের নিকট দিয়ে গমণ করবে তাকে অবশ্যই সেখান থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা জায়েয হবে না। কেননা জেদ্দার অবস্থান মীক্কাতের সীমানার মধ্যে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি মীক্বাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
هُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةِ
“এগুলো স্থান সেখানকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা এর বাইরে থাকে সেখান দিয়ে যেতে চায় তাদের জন্য ইহরাম বাঁধার মীক্বাত- যারা হজ ও উমরা করার ইচ্ছা পোষণ করে।”¹³
যদি জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধে এবং মক্কা প্রবেশ করে, তবে বিদ্বানদের মতে তাকে ফিদইয়াস্বরূপ মক্কায় একটি দম প্রদান করতে হবে এবং তার গোশত মক্কার ফক্বীর-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করে দিবে। তাহলেই তার উমরা বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।
জেদ্দা যাওয়ার আগে যদি উমরার নিয়ত করে থাকে এবং বিনা ইহরামে জেদ্দা প্রবেশ করে, তবে নিকটবর্তী কোনো মীকাতে ফেরত গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবে। এতে কোনো ফিদইয়া লাগবে না。
টিকাঃ
¹² সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ উমরার জন্য মক্কাবাসীর মীক্বাত。
¹³ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: মীক্বাতের ভিতরে যারা থাকে তাদের মীক্বাত। হাদীস নং ১৫২৯।
📄 ‘লাববাইক’ বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?
প্রশ্ন: (৪৬৪) 'লাব্বাইক' বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?
উত্তর: হজ বা উমরার কাজে প্রবেশ করার জন্য অন্তরে নিয়ত (ইচ্ছা বা সংকল্প) করে পাঠ করবে: 'লাববাইকা উমরাতান' আর হজের জন্য বলবে, 'লাববাইকা হজ্জান'। কিন্তু এরূপ বলা জায়েয নয়: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা' অথবা 'উরীদুল হাজ্জা'। বা নাওয়াইতু আন আ'তামিরা উমরাতাম্। বা নাওয়াইতু আন আহুজ্জা হাজ্জা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এগুলো প্রমাণিত নেই।
📄 ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো সালাত আছে কী?
প্রশ্ন: (৪৭০) ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো সালাত আছে কী?
উত্তর: ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সালাত নেই। কিন্তু কোনো লোক যদি এমন সময় মীক্কাতে পৌঁছে যখন ফরয সালাতের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন তার জন্য উত্তম হচ্ছে ফরয সালাত সম্পাদন করার পর ইহরাম বাঁধা।
ফরয সালাতের সময় নয় কিন্তু চাশতের সালাতের (সালাতে দুহা) সময়ে মিক্কাতে পৌঁছলো, তাহলে প্রথমে পরিপূর্ণরূপে গোসল করবে, সুগন্ধি মাখবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করে চাশতের নিয়তে সালাত আদায় করবে তারপর ইহরামের নিয়ত করবে। চাশত সালাতের সময় না হলে তাহিয়্যাতুল অযুর নিয়ত করে দু'রাকাত সালাত পড়ে ইহরামে প্রবেশ করা উত্তম। কিন্তু ইহরামের নিয়তে সালাত আদায় করার কোনো দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই।
📄 ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৪৬৮) ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কী?
উত্তর: ইহরামে প্রবেশ করার পর গোসল করতে কোনো বাধা নেই। কেননা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত রয়েছে। চাই একবার গোসল করুক বা দু'বার। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে জানাবাতের (নাপাকীর) গোসল করা ওয়াজিব। আর ইহরাম বাঁধার সময় গোসল করা সুন্নাত।