📄 আকাশপথে আগমনকারী কীভাবে ইহরাম বাঁধবে?
প্রশ্ন: (৪৬৫) আকাশপথে আগমণকারী কীভাবে ইহরাম বাঁধবে?
উত্তর: হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে আকাশ পথে আগমণকারী যে স্থানের উপর দিয়ে যাবে সে এলাকার মীকাতের বরাবর হলে ইহরাম বাঁধবে। তাই গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রথমে বাড়িতেই প্রস্তুতি নিবে। তারপর মীকাত পৌঁছার পূর্বে ইহরামের কাপড় পরিধান করবে। মীকাতের বরাবর পৌঁছলেই অন্তরে নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে ফেলবে। দেরী করবে না। কেননা এরোপ্লেন দ্রুত চলে। মিনিটেই অনেক পথ এগিয়ে যায়। অনেক মানুষ এক্ষেত্রে ভুল করে। পূর্ব প্রস্তুতি থাকে না। "আমরা মীকাতের বরাবর পৌঁছেছি” প্লেনের ক্রুর এ ঘোষণা শোনার পর তাড়াহুড়া শুরু করে। পরনের কাপড় খুলে ইহরামের কাপড় পরিধান করে। এটি মারাত্মক ভুল।
অবশ্য প্লেনের দায়িত্বশীল অফিসারের উচিৎ হচ্ছে, মীকাতের বরাবর পৌঁছার কমপক্ষে ১৫ মিনিট পূর্বে ঘোষণা দেওয়া। যাতে করে লোকেরা সতর্ক হয় এবং ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে হাজী সাহেবগণ যদি প্লেনে উঠার পূর্বে ইহরামের কাপড় পরিধান করে নেন, তাহলে এটা তাদের জন্য অতি উত্তম হয়। মীকাতের বরাবর হলে সংকেত বা ঘোষণা পাওয়ার সাথে সাথেই তারা ইহরামের দো'আ পড়ে ইহরাম বেঁধে ফেলবেন।
📄 উড়োজাহাজে কীভাবে সালাত আদায় করবে এবং ইহরাম বাঁধবে?
উত্তর: প্রথমতঃ উড়োজাহাজে সালাত পড়ার পদ্ধতি:
1) নফল সালাতের পদ্ধতি হচ্ছে, বিমানের সিটে বসে বসেই সালাত আদায় করবে। ইশারার মাধ্যমে রুকু-সাজদাহ করবে। সাজদাহর জন্য রুকুর চাইতে একটু বেশি মাথা ঝুকাবে।
2) সময় হলেই উড়োজহাজের উপর সালাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু সালাতের নির্দিষ্ট সময় বা দু'সালাত একত্রিত করার সময় শেষ হওয়ার আগেই যদি বিমান অবতরণ করার সম্ভাবনা থাকে, আর যমীনে থাকাবস্থায় যেভাবে সালাত আদায় করতে হয় সেভাবে যদি বিমানের উপর সম্ভব না হয়, (যেমন, কিবলামুখী হওয়া, রুকু', সাজদাহ, কওমা ও বসা প্রভৃতি করা যদি সম্ভব না হয়) তবে সেখানে ফরয সালাত আদায় করবে না, বরং অবতরণ করার পর যমীনে সালাত আদায় করবে। যেমন, জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে সূর্যাস্তের পূর্বে বিমান উড্ডয়ন করল। এখন আকাশে থাকাবস্থায় মাগরিব সালাত আদায় করবে না। পরবর্তী এয়ারপোর্টে বিমান অবতরণ করার পর সালাত পড়বে; কিন্তু যদি দেখে যে, মাগরিব সালাতের সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে, তবে এশা সালাতের সাথে মাগরিবকে একত্রিত করার নিয়ত করে নিবে। অতঃপর অবতরণ করে মাগরিব সালাতকে দেরী করে এশার সময়ে একত্রিত আদায় করবে। কিন্তু যদি বিমান চলতেই থাকে- অবতরণের সম্ভাবনা না থাকে এবং এশা সালাতেরও সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা হয়, তবে বিমানের উপরেই সময় অতিক্রম হওয়ার আগেই মাগরিব ও এশা সালাত একত্রিত আদায় করে নিবে।
3) বিমানের উপর ফরয সালাত পড়ার পদ্ধতি হচ্ছে, কিবলামুখী দণ্ডায়মান হয়ে তাকবীর দিবে। ছানা, সূরা আল-ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা বা আয়াত পাঠ করে রুকু করবে। রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদাহ করবে। নিয়ম মাফিক সাজদাহ করতে সক্ষম না হলে বসে পড়বে এবং বসাবস্থায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে সাজদাহ করবে। সালাত শেষ করা পর্যন্ত এরূপই করবে। আর পূর্ণ সময় কিবলামুখী হয়েই থাকবে। কিন্তু কিবলা চিনতে না পারলে বা নির্ভরযোগ্য কেউ তাকে কিবলার সন্ধান দিতে না পারলে নিজ অনুমান ও গবেষণা অনুযায়ী সালাত আদায় করলে কোনো অসুবিধা হবে না।
4) উড়োজাহাজে মুসাফির সালাত কসর করবে। চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত দু'রাকাত করে আদায় করবে।
দ্বিতীয়তঃ উড়োজাহাজে হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধার পদ্ধতি:
1) এয়ারপোর্টে আসার আগেই গোসল, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করবে এবং এয়ারপোর্টে এসে ইহরামের কাপড় পরিধান করবে।
2) প্লেন মীকাতের নিকটবর্তী হলে যদি ইহরামের কাপড় পরিধান না করে থাকে তবে পরিধান করবে।
3) মীকাতের বরাবর হলেই অন্তরে নিয়ত করে হজ বা উমরার জন্য তালবিয়া পড়ে ইহরামে প্রবেশ করবে。
৪) মীকাতের বরাবর হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বেই যদি সতর্কতাবশতঃ বা খেয়াল থাকবে না এ ভয়ে ইহরাম বেঁধে নেয়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
📄 জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধার বিধান
প্রশ্ন: (৪৬৭) কোনো ব্যক্তি যদি নিজ দেশ থেকে জেদ্দা সফর করে অতঃপর উমরা আদায় করার ইচ্ছা করে। সে কি জেদ্দা থেকেই ইহরাম বাঁধবে?
উত্তর: এ মাসআলাটির দু'টি অবস্থা:
প্রথমঃ লোকটি উমরার নিয়ত না করে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা কাজে জেদ্দা সফর করেছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর উমরা করার ইচ্ছা হয়েছে, তবে সে জেদ্দা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুএর হাদীসে মীক্কাতের আলোচনায় বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি এ মীক্বাতসমূহের মধ্যে অবস্থান করে, সে যেখানে আছে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।"¹²
দ্বিতীয়ঃ দৃঢ়ভাবে উমরার নিয়ত করেই জেদ্দা সফর করেছে। তাহলে যে মীক্বাতের নিকট দিয়ে গমণ করবে তাকে অবশ্যই সেখান থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা জায়েয হবে না। কেননা জেদ্দার অবস্থান মীক্কাতের সীমানার মধ্যে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি মীক্বাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
هُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةِ
“এগুলো স্থান সেখানকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা এর বাইরে থাকে সেখান দিয়ে যেতে চায় তাদের জন্য ইহরাম বাঁধার মীক্বাত- যারা হজ ও উমরা করার ইচ্ছা পোষণ করে।”¹³
যদি জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধে এবং মক্কা প্রবেশ করে, তবে বিদ্বানদের মতে তাকে ফিদইয়াস্বরূপ মক্কায় একটি দম প্রদান করতে হবে এবং তার গোশত মক্কার ফক্বীর-মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করে দিবে। তাহলেই তার উমরা বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।
জেদ্দা যাওয়ার আগে যদি উমরার নিয়ত করে থাকে এবং বিনা ইহরামে জেদ্দা প্রবেশ করে, তবে নিকটবর্তী কোনো মীকাতে ফেরত গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবে। এতে কোনো ফিদইয়া লাগবে না。
টিকাঃ
¹² সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ উমরার জন্য মক্কাবাসীর মীক্বাত。
¹³ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: মীক্বাতের ভিতরে যারা থাকে তাদের মীক্বাত। হাদীস নং ১৫২৯।
📄 ‘লাববাইক’ বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?
প্রশ্ন: (৪৬৪) 'লাব্বাইক' বলাটাই কি ইহরামে প্রবেশ করার নিয়ত?
উত্তর: হজ বা উমরার কাজে প্রবেশ করার জন্য অন্তরে নিয়ত (ইচ্ছা বা সংকল্প) করে পাঠ করবে: 'লাববাইকা উমরাতান' আর হজের জন্য বলবে, 'লাববাইকা হজ্জান'। কিন্তু এরূপ বলা জায়েয নয়: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা' অথবা 'উরীদুল হাজ্জা'। বা নাওয়াইতু আন আ'তামিরা উমরাতাম্। বা নাওয়াইতু আন আহুজ্জা হাজ্জা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এগুলো প্রমাণিত নেই।