📄 ঋতুবতী নারী বিলম্ব করে পবিত্র হওয়ার পর উমরা আদায় করবে
প্রশ্ন: (৪৮৮) জনৈক নারী ঋতু অবস্থায় মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধেছে। মক্কায় আগমণ করে বিলম্ব করে পবিত্র হওয়ার পর উমরা আদায় করেছে। তার এ উমরার বিধান কী?
উত্তর: তার উমরা বিশুদ্ধ। যদিও একদিন বা দু'দিন বা ততোধিক দিন বিলম্ব করে থাকে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু শর্ত হচ্ছে ঋতু থেকে পূর্ণ পবিত্র হওয়ার পরই উমরা আদায় করবে। কেননা ঋতুবতী নারীর জন্য আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা জায়েয নয়। এজন্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কায় আগমণ করলে ঋতুবতী হয়ে পড়েন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, "افْعَلِي كَمَا يَفْعَلُ الْحَاجُ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَظْهُرِي".
"হাজীগণ যা করে তুমিও তাই করে যাও, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করো না।”²³
যখন সাফিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ঋতুবতী হয়ে গেলন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে নাকি? তিনি ভেবেছিলেন সাফিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা তাওয়াফে ইফাদ্বা করেন নি। তারা বলল, তিনি তো তাওয়াফে ইফাদ্বা করে নিয়েছেন। একথা শুনে তিনি বললেন, 'তাহলে তোমরা বের হয়ে পড়'।²⁴
অতএব, ঋতুবতী নারীর জন্য আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা বৈধ নয়। মক্কায় এসে ঋতুবতী হয়ে পড়লে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ওয়াজিব। কিন্তু আল্লাহর ঘর তাওয়াফ শেষ করে সা'ঈ করার পূর্বে যদি ঋতু এসে যায়, তবে উমরা পূর্ণ করবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর সা'ঈ শেষ করার পর ঋতু আসলে তখন বিদায়ী তাওয়াফের আবশ্যকতা নেই। কেননা ঋতুবতীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ রহিত।
টিকাঃ
²³ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হায়েয, অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী তওয়াফ ছাড়া হজের যাবতীয় কাজ করবে。
²⁴ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজের তওয়াফের পর নারী ঋতুবতী হলে; সহীহ মুসলিম অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতী নারীর জন্য রহিত হওয়া。
📄 ঋতুবতী নারী ইহরামের পর পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করতে পারে
প্রশ্ন: (৪৮৯) মীকাত থেকে ঋতুবতী অবস্থায় জনৈক নারী ইহরাম বাঁধে। মক্কায় এসে পবিত্র হওয়ার পর পরিধেয় ইহরাম বস্ত্র সে খুলে ফেলে। এর বিধান কী?
উত্তর: ঋতুবতী অবস্থায় নারী যদি মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধে, তারপর মক্কায় এসে পবিত্র হওয়ার পর পরিধেয় ইহরাম বস্ত্র খুলে ফেলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, কাপড় পরিবর্তন করে ইচ্ছামত যে কোনো বৈধ পোষাক পরিধান করা জায়েয। অনুরূপভাবে পুরুষও পরিধেয় ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে অনুরূপ ইহরামের কাপড় পরিধান করতে পারে। কোনো অসুবিধা নেই।
📄 হজ্জের সময় নিকাব দিয়ে নারীর মুখ ঢাকার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৪৯০) হজের সময় নিকাব দিয়ে নারীর মুখ ঢাকার বিধান কী? আমি একটি হাদীস পড়েছি যার অর্থ হচ্ছেঃ "ইহরামকারী নারী নেকাব পরবে না এবং হাত মোজা পরিধান করবে না।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহার অন্য একটি কথা পড়েছি। তিনি বলেন, "আমাদের সামনে কোনো পুরুষ এলে আমরা মুখের উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। যখন আমরা ওদের সামনে চলে যেতাম, তখন মুখমণ্ডল খুলে রাখতাম" সে সময় তারা হজে ছিলেন। দু'টি হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য কী?
উত্তর: এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, হাদীসের মর্ম অনুযায়ী নারী ইহরাম অবস্থায় নেকাব পরবে না। পুরুষ তার সম্মুখে আসুক বা না আসুক কোনো অবস্থাতেই তার জন্য নেকাব ব্যবহার করা জায়েয নয়। সে হজে থাক বা উমরায়। নেকাব নারী সমাজে সুপরিচিত। আর তা হচ্ছে একটি পর্দা দিয়ে মুখন্ডল ঢেকে নেওয়া যাতে দু'চোখের জন্য আলাদা আলাদা দু'টি ছিদ্র থাকে। কিন্তু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহার হাদীস নেকাব নিষিদ্ধের হাদীসের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ নয়। কেননা আয়েশার হাদীসে একথা বলা হয় নি যে, তারা নেকাব পরতেন; বরং নেকাব না পরে মুখ ঢেকে ফেলতেন। আর পরপুরুষ সামনে এলে নারীদের মুখ ঢেকে ফেলা ওয়াজিব। কেননা মাহরাম নয় এমন পুরুষের সামনে নারীর মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
অতএব, ইহরামের ক্ষেত্রে সবসময় নেকাব পরিধান করা হারাম। আর পরপুরুষ সামনে না এলে মুখমণ্ডল খোলা রাখা ওয়াজিব। কিন্তু সামনে এলে ঢেকে ফেলা ওয়াজিব। তবে নেকাব ছাড়া অন্য কাপড় ঝুলিয়ে দিতে হবে।