📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 সহোদর বোন, তার স্বামী ও মায়ের সাথে উমরায় যাওয়া

📄 সহোদর বোন, তার স্বামী ও মায়ের সাথে উমরায় যাওয়া


প্রশ্ন: (৪৫৯) জনৈক নারীর কথা হচ্ছে, আমি রামদান মাসে উমরা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। কিন্তু আমার সাথে থাকছে আমার সহদোর বোন, তার স্বামী ও আমার মা। এ উমরায় যাওয়া কি আমার জন্য জায়েয হবে?
উত্তর: এদের সাথে উমরায় যাওয়া আপনার জন্য জায়েয হবেনা; কেননা বোনের স্বামী আপনার মাহরাম নয়। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বলেন,
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ وَلَا تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمُ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَخَرَجَتِ امْرَأَتِي حَاجَّةً قَالَ اذْهَبْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ».
"কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জন না হয়। মাহরাম ছাড়া কোনো নারী যেন সফর না করে।" তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমার স্ত্রী হজ আদায় করার জন্য বের হয়ে গেছে। আর আমি উমুক উমুক যুদ্ধের জন্য নাম লিখিয়েছি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ পালন কর।"⁵ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কোনো ব্যাখ্যা চাইলেন না তোমার স্ত্রীর সাথে কি অন্য কোনো নারী আছে না নেই? সে কি যুবতী না বৃদ্ধা? রাস্তায় সে কি নিরাপদ না নিরাপদ নয়?
প্রশ্নকারী এ নারী মাহরাম না থাকার কারণে যদি উমরায় না যায়, তবে তার কোনো গুনাহ্ হবে না। যদিও ইতোপূর্বে সে কখনো উমরা না করে থাকে। কেননা হজ-উমরা ফরয হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নারীর মাহরাম থাকা।

টিকাঃ
5 সহীহ বুখারী অধ্যায়: শিকারের জরিমানা, অনুচ্ছেদ: নারীর হজ; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজের সফরে নারীর সাথে মাহরাম থাকা।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 নারী বিদায়ী তাওয়াফ করার পূর্বে ঋতুবতী হয়ে পড়লে করণীয় কী?

📄 নারী বিদায়ী তাওয়াফ করার পূর্বে ঋতুবতী হয়ে পড়লে করণীয় কী?


প্রশ্ন: (৪৮২) নারী বিদায়ী তাওয়াফ করার পূর্বে ঋতুবতী হয়ে পড়লে করণীয় কী?
উত্তর: যদি সে তাওয়াফে ইফাদ্বাসহ হজের যাবতীয় কাজ পূর্ণ করে থাকে এবং শুধুমাত্র বিদায়ী তাওয়াফ বাকী থাকে, তারপর ঋতুবতী হয় তবে বিদায়ী তাওয়াফ রহিত হয়ে যাবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أُمِرَ النَّاسُ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِمْ بِالْبَيْتِ إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الْحَائِضِ».
"লোকদের আদেশ দেওয়া হয়েছে, কাবা ঘরের তাওয়াফ যেন তাদের সর্বশেষ কাজ হয়। তবে বিষয়টি ঋতুবতীদের জন্য হালকা করে দেওয়া হয়েছে।'¹⁹ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো যে, উম্মুল মু'মেনীন ছাফিয়া বিনতে হুওয়াই রাদিয়াল্লাহু 'আনহা ঋতুবতী হয়ে গেছেন। অবশ্য তিনি তাওয়াফে ইফাদ্বা বা হজের তাওয়াফ করে নিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে তোমরা বের হয়ে যাও।”²⁰ তিনি তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফকে রহিত করে দিলেন।
কিন্তু তাওয়াফে ইফাদ্বা বা হজের তাওয়াফ ঋতুবতীর জন্য রহিত হবে না। ঋতুবতী হয় মক্কায় থেকে অপেক্ষা করবে এবং পবিত্র হলে তাওয়াফে ইফাদ্বা করবে। অথবা সে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে কিন্তু ইহরাম অবস্থাতেই থাকবে এবং পবিত্র হলে মক্কায় ফিরে এসে শুধুমাত্র হজের তাওয়াফ করবে। যদি নিজ দেশে চলে গিয়ে আবার ফিরে আসে, তবে সুন্দর হয়- প্রথমে উমরা করে নিবে (তাওয়াফ করবে, সা'ঈ করবে এবং চুল খাট করবে) তারপর হজের তাওয়াফ করবে।
উল্লিখিত পন্থার কোনটিই যদি সম্ভব না হয়, তবে লজ্জাস্থানে প্যাড বা এজাতীয় কোনো কিছু দিয়ে বেঁধে দিবে যাতে করে স্রাবের রক্ত মসজিদে না পড়ে, তারপর হজের তাওয়াফ করে নিবে। কেননা বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এটা একান্ত জরুরী অবস্থা।

টিকাঃ
¹⁹ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতী নারীর জন্য রহিত হওয়া。
²⁰ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজ্জের তওয়াফের পর নারী ঋতুবতী হলে। মুসলিম অধ্যায়ঃ হজ, অনুচ্ছেদ: বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব এবং ঋতুবতী নারীর জন্য রহিত হওয়া।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ঋতুবতী নারী পবিত্রতার সন্দেহ হলে দ্বিতীয়বার উমরা করে নিবে

📄 ঋতুবতী নারী পবিত্রতার সন্দেহ হলে দ্বিতীয়বার উমরা করে নিবে


প্রশ্ন: (৪৮৩) জনৈক নারী স্বামীর সাথে ঋতু অবস্থাতেই ইহরাম বাঁধে। কিন্তু পবিত্র হওয়ার পর কোনো মাহরাম ছাড়াই সে উমরার কাজ সমাধা করে। কাজ শেষ হলে আবার রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর বিধান কী?
উত্তর: প্রশ্নের ধরণে বুঝা যায় এ নারী মাহরামের সাথে মক্কায় আগমন করেছে। কিন্তু ঋতু অবস্থাতেই সে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধে। ঋতু অবস্থায় তার এ ইহরাম বিশুদ্ধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে যুলহুলায়ফার মীকাতে আগমন করলে আসমা বিনতে উমাইস রাদিয়াল্লাহু 'আনহা প্রশ্ন করেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ঋতুবতী হয়ে গেছি। তিনি বললেন,
اغْتَسِلِي وَاسْتَتْشْفِرِي بِقَوْبٍ وَأَخْرِي».
“গোসল করে তোমার লজ্জাস্থানে কাপড় বা নেকড়া বেঁধে দাও এবং ইহরাম বাঁধ।”²¹
মক্কায় আসার পর পবিত্র হয়ে মাহরাম ছাড়া যদি উমরার কাজ সম্পাদন করে থাকে তবে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা সে শহরের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু উমরা সম্পাদন করার পর সে যে আবার রক্ত দেখেছে তাতে তার পবিত্রতার ব্যাপারে একটি প্রশ্ন দাঁড় করায়। আমরা বলব, যদি সে নিশ্চিতভাবে পবিত্রতা দেখে থাকে তবে তার উমরা বিশুদ্ধ। কিন্তু এ পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে সন্দেহের মধ্যে থাকলে নতুন করে উমরা করে নিবে। অবশ্য এর জন্য নতুন করে ইহরাম বাঁধার জন্য মীকাত যেতে হবে না। শুধুমাত্র তাওয়াফ, সা'ঈ ও চুল খাট করার কাজগুলো নতুন করে সম্পাদন করবে।

টিকাঃ
²¹ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 তাওয়াফে ইফাযার পূর্বে নারী ঋতুবতী হয়ে পড়লে কি করবে?

📄 তাওয়াফে ইফাযার পূর্বে নারী ঋতুবতী হয়ে পড়লে কি করবে?


প্রশ্ন: (৪৮৪) জনৈক নারী তাওয়াফে ইফাদ্বা করে নি। ইতোমধ্যে সে ঋতুবতী হয়ে গেছে। তার ঠিকানা সউদী আরবের বাইরে। হজ কাফেলাও চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, তাই দেরী করা সম্ভব হবে না এবং পরবর্তীতে মক্কা ফিরে আসাটাও তার জন্য দুরহ ব্যাপার। এখন সে কি করবে?
উত্তর: বিষয়টি যদি এরূপই হয় যেমন প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হজের তাওয়াফ না করেই নারী ঋতুবতী হয়ে গেছে। পবিত্র হয়ে তাওয়াফ করার জন্য মক্কায় থেকে যাওয়াটাও তার জন্য দুঃসাধ্য অথবা চলে গেলে আবার মক্কা ফেরত আসাটাও অসম্ভব, তবে এ অবস্থায় নিম্ন লিখিত দু'টি সমাধানের যে কোনো একটি সে গ্রহণ করতে পারে:
১। ঋতু বন্ধ করার জন্য ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করবে- যদি তাতে ক্ষতির আশংকা না থাকে- তারপর তাওয়াফ করবে।
২। লজ্জাস্থানে প্যাড বা কাপড় বেঁধে দিবে যাতে করে মসজিদে রক্ত না পড়ে। তারপর তাওয়াফ করবে। এটাই বিশুদ্ধ মত, যা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়া রহ, পছন্দ করেছেন।
এর বিপরীত সমাধান হচ্ছে, নিম্নলিখিত দু'টির যে কোনো একটি:
১। ইহরামের অবশিষ্ট যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা থেকে বিরত থেকে ইহরাম অবস্থাতেই থাকবে। অর্থাৎ স্বামী সহবাসে লিপ্ত হবে না। অবিবাহিতা হলে কোনো বিবাহের আকদ করবে না। তারপর পবিত্র হলে তাওয়াফ করবে।
২। অথবা নিজেকে হজের কর্মসমূহ সম্পন্ন করতে বাধাপ্রাপ্ত মনে করবে এবং হালাল হওয়া যাবে এবং ফিদইয়াস্বরূপ একটি কুরবানী করবে। কিন্তু এ অবস্থায় তার এ হজ্জটি হজ হিসেবে গণ্য হবে না।
সন্দেহ নেই যে, উল্লিখিত এ দু'টি বিষয়ের উভয়টিই কঠিন। কারণ, ইহরাম অবস্থায় থেকে যাওয়াটা যেমন কঠিন ব্যাপার, তেমনি হজ বাতিল করে দেওয়াটা আরো কঠিন। এ কারণে জরুরী অবস্থা হিসেবে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়া রহ.-এর মতটিই এখানে সঠিক।
আর আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ) [الحج: ٧٨]
"আল্লাহ তোমাদের জন্য দীনের মাঝে কোনো অসুবিধা রাখেননি।” [সূরা আল-হজ, আয়াত: ৭৮]
তিনি আরো বলেন,
يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ [البقرة: ١٨٥]
"আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজতা চান, তোমাদের জন্য কঠিন কিছু তিনি চান না।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]
কিন্তু এ নারীর জন্যে যদি সম্ভব হয় চলে গিয়ে পবিত্র হলে আবার ফেরত এসে হজের তাওয়াফ করা, তবে কোনো অসুবিধা নেই। তবে এ সময়ের মধ্যে স্বামী সহবাস জায়েয হবে না। কেননা তাওয়াফ না করলে হাজী সাহেব দ্বিতীয় হালাল বা পূর্ণ হালাল হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00