📄 বদলী হজ্জ করার পর কিছু অর্থ থেকে গেলে কি করবে?
প্রশ্ন: (৪৫৪) বদলী হজ করার পর যদি কিছু অর্থ থেকে গেলে কি করবে?
উত্তর: বদলী হজ করার জন্য যদি অর্থ নিয়ে থাকে, আর হজ সম্পাদন করার পর কিছু অর্থ তার কাছে রয়ে যায়, তবে তা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয়। তবে অর্থ দাতা প্রদান করার সময় যদি এরূপ বলে যে, 'এই অর্থ থেকে যা লাগে তা দিয়ে হজ করবেন।' তবে হজ শেষে কোনো কিছু বাকী থাকলে তা ফেরত দেওয়া আবশ্যক। সে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে তা ফেরত নাও নিতে পারে, ইচ্ছা করলে ফেরত নিতে পারে। কিন্তু অর্থ দেওয়ার সময় যদি এরূপ বলে, 'এই অর্থ দ্বারা আপনি হজ করবেন।' তাহলে যা বাকী থাকবে তা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয়। অবশ্য এভাবে প্রদান করার সময় প্রদানকারী যদি না জানে যে হজের খরচ কত লাগতে পারে তাই তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেয়, তখন তার পক্ষ থেকে হজ সম্পাদনকারীর একথা বলা ওয়াজিব যে, আপনার অর্থ দ্বারা আমি হজ সম্পাদন করেছি ঠিকই; কিন্তু তাতে এ পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। বাকীটা আমার কাছে রয়ে গেছে। এখন সে যদি তাকে সেটা গ্রহণ করার অনুমতি দেয়, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। অন্যথা তা ফেরত দিতে হবে।
📄 কারো পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরা করলে নিজের জন্য দো‘আ করা যাবে কী?
প্রশ্ন: (৪৫৫) পুত্র যদি পিতার পক্ষ থেকে হজ বা উমরা সম্পাদন করে, তবে নিজের জন্য দো'আ করতে পারবে কী?
উত্তর: হ্যাঁ, সে হজ বা উমরা অবস্থায় নিজের জন্য তার পিতার জন্য এবং সমস্ত মুসলিমদের জন্য দো'আ করতে পারবে। কেননা কারো পক্ষ থেকে হজ-উমরা আদায় করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তার পক্ষ থেকে নিয়ত করে বাহ্যিক ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাত কর্মসমূহ আদায় করা। কিন্তু দো'আর বিষয়টি হজ বা উমরার কোনো ফরয বা ওয়াজিব বা শর্ত নয়। তাই যার জন্য হজ বা উমরা করছে তার জন্য, নিজের জন্য, সমস্ত মুসলিমদের জন্য দো'আ করতে পারবে।
📄 হজ্জ বা উমরার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করার বিধান কী?
প্রশ্ন: (৪৫৬) হজ বা উমরা আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করার বিধান কী?
উত্তর: বদলী হজ বা উমরা করার দু'টি অবস্থা:
প্রথম অবস্থাঃ তার পক্ষ থেকে ফরয হজ বা উমরা আদায় করবে।
দ্বিতীয় অবস্থাঃ তার পক্ষ থেকে নফল হজ বা উমরা আদায় করবে।
ফরয হজ বা উমরা আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা জায়েয নয়। তবে কোনো বাধার কারণে যদি মক্কা পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব না হয়- যেমন, কঠিন অসুখ যা ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অথবা অতিবৃদ্ধ হয়ে গেছে ইত্যাদি, তাহলে তার পক্ষ থেকে কাউকে দিয়ে বদলী হজ করাবে। কিন্তু অসুস্থতা যদি এমন হয় যে তা থেকে আরোগ্য পাওয়ার আশা আছে, তবে অপেক্ষা করবে এবং সুস্থ হলে নিজেই নিজের হজ-উমরা সম্পাদন করবে। কেননা কোনো বাধা না থাকলে হজ বা উমরার ব্যাপারে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা জায়েয নয়। আল্লাহ বলেন,
﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا﴾ [آل عمران: ٩٧] "মানুষের ওপর আল্লাহর অধিকার এ যে, যারা এ ঘর পর্যন্ত আসার সমর্থ রাখে তারা সেটার হজ পালন করবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]
ইবাদতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ তা নিজে বাস্তবায়ন করবে; যাতে করে আল্লাহর জন্য তার দাসত্ব-গোলামী ও বিনয়ের পূর্ণতা লাভ করে। আর নিঃসন্দেহে অন্যকে দায়িত্ব দিলে ইবাদতের এ মহান উদ্দেশ্য সঠিকভাবে আদায় হবে না।
কিন্তু সে যদি নিজের ফরয হজ ও উমরা আদায় করে থাকে, অতঃপর আবার তার পক্ষ থেকে নফল হজ বা উমরা আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করে, তবে জায়েয হবে কি না? এক্ষেত্রে বিদ্বানগণ মতবিরোধ করেছেন। কেউ বলেছেন, জায়েয। কেউ বলেছেন, নাজায়েয। আমার মতে যেটা সঠিক মনে হয়, তা হচ্ছে নাজায়েয। অর্থাৎ নফল হজ আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা জায়েয নয়। কেননা ইবাদতের মূলনীতি হচ্ছে, ব্যক্তি নিজে তা আদায় করবে। যেমন করে নিজের পক্ষ থেকে সাওম আদায় করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না। অবশ্য ফরয সাওম কাযা রেখে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে, তবে তার পক্ষ থেকে পরিবারের যে কেউ তা আদায় করে দিবে। অনুরূপ হচ্ছে হজ। এটি এমন একটি ইবাদত যা আদায় করার জন্য শারিরীক পরিশ্রম আবশ্যক। এটা শুধু আর্থিক ইবাদত নয়। আর ইবাদত যদি শারিরীক হয়, তবে তা অন্যকে দিয়ে আদায় করলে বিশুদ্ধ হবে না। কিন্তু হাদীসের দলীলের ভিত্তিতে যেটুকু অনুমতি পাওয়া যায় তার কথা ভিন্ন।
আর বদলী নফল হজ আদায় করার ব্যাপারে হাদীসে কোনো দলীল পাওয়া যায় না। ইমাম আহমাদ থেকে এ ব্যাপারে দু'ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। তার একটি বর্ণনা আমাদের কথার সমর্থক। অর্থাৎ নফল হজ বা উমরা আদায় করার জন্য কাউকে নিয়োগ করা যাবে না। চাই তার সামর্থ্য থাক বা না থাক।
আমাদের এ মতানুযায়ী সম্পদশালী লোককে নিজেই নিজের হজ বা উমরা আদায় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কেননা অনেক মানুষ এমন আছে, বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে অথচ কখনো তারা মক্কা সফর করে নি। এ যুক্তিতে যে, সে তো প্রতি বছর তার পক্ষ থেকে হজ বা উমরা আদায় করার জন্য কাউকে না কাউকে প্রেরণ করে থাকে। অথচ তাদের জানা নেই যে, এ দ্বারা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য আদায় হয় না।
📄 মৃতের পক্ষ থেকে উমরার জন্য করা কি জায়েয?
প্রশ্ন: (৪৫৭) মৃতের পক্ষ থেকে উমরা আদায় করা কি জায়েয?
উত্তর: মৃতের পক্ষ থেকে হজ বা উমরা আদায় করা জায়েয। অনুরূপভাবে তাওয়াফ এবং যাবতীয় নেক আমল তার পক্ষ থেকে আদায় করা জায়েয।
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল রহ. বলেন, যে কোনো নৈকট্যপূর্ণ কর্ম সম্পাদন করে যদি তার ছাওয়াব জীবিত বা মৃতের জন্য দান করে দেয়, তবে সে উপকৃত হবে। কিন্তু সাওয়াব দান করার চাইতে মৃতের জন্য দো'আ করা বেশি উত্তম। দলীল হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, তিনি বলেন,
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.
"মানুষ মারা গেলে তিনটি আমল ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। ১) সাদকায়ে জারিয়া ২) উপকারী ইসলামী বিদ্যা ৩) সৎ সন্তান, যে তার জন্য দো'আ করবে।"³ এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলেন নি, সৎ সন্তান, যে তার জন্য ইবাদত করবে বা কুরআন পড়বে বা সালাত পড়বে বা উমরা করবে বা সাওম রাখবে ইত্যাদি। অথচ হাদীসটিতে প্রথমে দু'টি আমলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। যদি মৃতের জন্য আমল করা উদ্দেশ্য হত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই বলতেন, "এবং সৎ সন্তান, যে তার জন্য আমল করবে।"
কিন্তু মানুষ যদি কোনো নেক আমল করে তার ছাওয়াব কারো জন্য দান করে দেয়, তবে তা জায়েয।
টিকাঃ
৩ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ওসীয়ত, অনুচ্ছেদ: মৃত্যুর পর মানুষের কাছে যে সাওয়াব পৌঁছে থাকে তার বর্ণনা।