📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 বে-নামাযীর হজ্জের বিধান কী?

📄 বে-নামাযীর হজ্জের বিধান কী?


প্রশ্ন: (৪৪৯) বে-নামাযীর হজের বিধান কী? যদি এ ব্যক্তি তাওবা করে, তবে সমস্ত ইবাদত কি কাযা আদায় করতে হবে?
উত্তর: সালাত পরিত্যাগ করা কুফুরী। সালাত ছেড়ে দিলে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। একথার দলীল হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ্ ও সাহাবায়ে কেরামের উক্তি। অতএব, যে লোক সালাত পড়ে না তার জন্য মক্কা শরীফে প্রবেশ করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُواْ ٱلْمَسْجِدَ ٱلْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ) [التوبة: ٢٨]
"হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা হচ্ছে একেবারেই অপবিত্র, অতএব, তারা যেন এ বছরের পর মসজিদুল হারামের নিকটেও আসতে না পারে।" [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৮]
যে ব্যক্তি সালাত পড়ে না, তার হজ বিশুদ্ধ হবে না এবং কবুলও হবে না। কেননা কাফিরের কোনো ইবাদতই সঠিক নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَا مَنَعَهُمْ أَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَٰتُهُمْ إِلَّآ أَنَّهُمْ كَفَرُواْ بِٱللَّهِ وَبِرَسُولِهِۦ وَلَا يَأْتُونَ ٱلصَّلَوٰةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَىٰ وَلَا يُنفِقُونَ إِلَّاوَهُمْ كَٰرِهُونَ ﴾ [التوبة: ٥٤]
"আর তাদের দান-খায়রাত গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এজন্যে যে, তারা আল্লাহর সাথে ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফুরী করেছে, তারা শৈথিল্যের সাথে ছাড়া সালাত আদায় করে না। আর তারা দান করে না, কিন্তু অনিচ্ছার সাথে করে।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৫৪]
তবে যে সমস্ত আমল তারা পূর্বে পরিত্যাগ করেছে তা কাযা আদায় করা আবশ্যক নয়। কেননা আল্লাহ বলেন,
قُل لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ [الانفال: ٣٨]
“(হে নবী!) আপনি কাফিরদেরকে বলে দিন, তারা যদি অনাচার থেকে বিরত থাকে (এবং আল্লাহর দীনে ফিরে আসে) তবে পূর্বে যা হয়েছে তা আল্লাহ ক্ষমা করবেন।" [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৮]
সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ অন্যায় করেছে সে যেন আল্লাহর কাছে খাঁটিভাবে তাওবা করে। নেক কাজ চালিয়ে যায়। বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার ও অধিকহারে ভালো কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। আল্লাহ বলেন,
قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ) [الزمر: ٥٣]
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুণাহ্ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩]
যারা তাওবা করতে চায় আল্লাহ তাদের জন্য এ আয়াতগুলো নাযিল করেছেন। সুতরাং বান্দা যে পাপই করে না কেন- যদি শির্কও হয় এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
আল্লাহই সরল সঠিক পথে হিদায়াতদানকারী।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 হজ্জ ফরয হয়ে গেলে আদায় করতে বিলম্ব করা উচিৎ নয়

📄 হজ্জ ফরয হয়ে গেলে আদায় করতে বিলম্ব করা উচিৎ নয়


প্রশ্ন: (৪৫০) ব্যাপকভাবে দেখা যায় অনেক মুসলিম বিশেষ করে অনেক যুবক ফরয হজ আদায় করার ব্যাপারে শীথিলতা প্রদর্শন করে। এবছর নয় ঐ বছর এভাবে বিলম্ব করে। কখনো কর্ম ব্যস্ততার ওযর পেশ করে। এদেরকে আপনার নছীহত কী?
কখনো দেখা যায় কোনো কোনো পিতা যুবক ছেলেদেরকে ফরয হজ আদায় করতে বাধা দেয় এ যুক্তিতে যে, এখনো তাদের বয়স হয় নি, হজের ক্লান্তি সহ্য করতে পারবে না। অথচ হজের পূর্ণ শর্ত তাদের মধ্যে পাওয়া যায়। পিতার এ কাজের বিধান কী? এধরণের পিতার আনুগত্য করার বিধান কী?
উত্তর: একথা সর্বজন বিদিত যে, হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন এবং বিরাট একটি ভিত্তি। হজের শর্ত পাওয়া গেলে হজ আদায় না করলে মানুষের ইসলাম পূর্ণ হয় না। হজ ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ তাৎক্ষণিক আদায় করতে হবে। মানুষ জানে না ভবিষ্যতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে। হতে পারে অর্থ শেষ হয়ে যাবে বা অসুস্থ হয়ে যাবে বা মারা যেতে পারে।
হজ আদায় করার শর্ত পূর্ণ হলে এবং হজের সফরে ধর্মীয় ও চারিত্রিক দিক থেকে নির্ভরযোগ্য সাথী থাকলে, সন্তানদেরকে হজ আদায় করতে বাধা দেওয়া পিতা-মাতার জন্য জায়েয নয়।
হজ ওয়াজিব হলে, হজ ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার নির্দেশ মান্য করা চলবে না। কেননা আল্লাহর নাফরমানী করে সৃষ্টিকুলের আনুগত্য করা যাবে না। তবে বাবা-মা যদি তাদেরকে নিষেধের ব্যাপারে কোনো শর'ঈ কারণ উপস্থাপন করে, তখন তাদের আনুগত্য করা আবশ্যক।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কি হজ্জ করা আবশ্যক?

📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কি হজ্জ করা আবশ্যক?


প্রশ্ন: (৪৫১) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কি হজ করা আবশ্যক?
উত্তর: মানুষের উপর যদি এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার জন্য তার সমস্ত সম্পদ দরকার, তবে তার উপর হজ ফরয নয়। কেননা আল্লাহ তো শুধুমাত্র সামর্থবান মানুষের ওপর হজ ফরয করেছেন। তিনি বলেন,
﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ﴾ [آل عمران: ٩٧]
"মানুষের ওপর আল্লাহর অধিকার এ যে, যারা এ ঘর পর্যন্ত আসার সামর্থ্য রাখে তারা এর হজ পালন করবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]
সুতরাং ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি তো সামর্থবান নয়। অতএব, প্রথমে সে ঋণ পরিশোধ করবে তারপর সম্ভব হলে হজ আদায় করবে।
কিন্তু ঋণ যদি কম হয় এবং ঋণ পরিশোধ করে হজে গিয়ে প্রত্যাবর্তন করার সমান খরচ বিদ্যমান থাকে, তবে হজ করবে। হজ চাই ফরয হোক বা নফল। কিন্তু ফরয হজ আদায় করার ব্যাপারে বিলম্ব করা উচিৎ নয়। আর নফল হজ তো ইচ্ছাধীন। মন চাইলে করবে মন চাইলে করবে না, কোনো গুনাহ হবে না।

📘 ফাতওয়া আরকানুল ইসলামঃ হজ > 📄 হজ্জ করতে এসে পাপের কাজে লিপ্ত হলে কি হজ্জের ছাওয়াব কমে যাবে?

📄 হজ্জ করতে এসে পাপের কাজে লিপ্ত হলে কি হজ্জের ছাওয়াব কমে যাবে?


প্রশ্ন: (৫৩৮) হজ করতে এসে পাপের কাজে লিপ্ত হলে কি হজের ছাওয়াব কমে যাবে?
উত্তর: সাধারণভাবে সবধরণের পাপকাজ হজের সাওয়াব হ্রাস করে দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ﴾ [البقرة: ١٩٧]
"যে ব্যক্তি ঐ মাসগুলোর মধ্যে হজের সংকল্প করবে, সে স্ত্রী সহবাস, গর্হিত কাজ ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে পারবে না।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৭]
বরং বিদ্বানদের মধ্যে কেউ বলেছেন, হজ অবস্থায় পাপ কাজ করলে হজ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্বানদের নিকট প্রসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে: "হারাম কাজটি যদি ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তার কারণে ইবাদত বাতিল হবে না।” সাধারণ পাপসমূহ হজের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা তা হজের সময় যেমন হারাম অন্য সময়ও হারাম। এটাই বিশুদ্ধ মত। এ সমস্ত পাপকাজ হজ্জকে বাতিল করে দিবে না। কিন্তু তার সাওয়াব বিনষ্ট করে দিবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00