📄 বইয়ে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ
নুসুস : কুরআন ও হাদিসের শাব্দিক বর্ণনা।
করনুন : শতাব্দি।
ইজতিহাদ : যে বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না এবং যে বিষয়ে পূর্ববর্তী ইমাম ও ফকিহদের সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না, সে বিষয়ে দীনি বিধান বের করার জন্য শরয়ি নীতিমালার আলোকে যোগ্য ব্যক্তির গবেষণাকে ইজতিহাদ বলা হয়।
তাকলিফ : মুসলিমদের ওপর সুস্থসবল ও উপযুক্ত বয়সে শরয়ি বিধান পালনের যে দায়বদ্ধতা থাকে, তাকেই তাকলিফ বলা হয়।
তাদাব্বুর : চিন্তাভাবনা।
মাকাসিদে শরিয়াহ : শরিয়াহর উদ্দেশ্যসমূহ।
মাসলাহাত : আরবি শব্দ। এর বহুবচন হচ্ছে মাসালিহ। অর্থ : কল্যাণ।
ফন : শাস্ত্র।
জুমুদ : জড়তা, স্থবিরতা।
নাওয়াজেল : নব্য আপতিত বিষয় ও পরিস্থিতি।
মুখতালাফ ফিহি : যে বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে।
মানহাজ : পদ্ধতি।
সিলসিলা: ক্রমধারা।
ইসনাদ : কোনো বক্তব্যের উৎস পর্যন্ত পৌঁছার সূত্রধারাকে ইসনাদ বা সনদ বলা হয়।
মানসুস আলাইহি : যে বিষয়ের ওপর নসের সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়, তাকে মানসুস আলাইহি বলে।
জাওয়াবেত : নিয়মাবলি।
ইসতিমবাত : গভীর অনুসন্ধানপূর্বক আবিষ্কার।
ইলহাদ : সত্য ও সঠিক পথ থেকে সরে যাওয়ার নাম ইলহাদ। এজন্য সমস্ত কুফর, শিরক ও দীনের বিকৃতি ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত। বইটিতে ইলহাদ দ্বারা আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো, দীনের এমন বিকৃতি, যা কুফরের সীমায় চলে যায়।
যানদাকা : যানদাকার কয়েকটি মর্ম আছে— ১. আল্লাহ ও আখিরাতে অবিশ্বাস করা। ২. ভেতরে কুফর গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে ঈমান প্রকাশ করা তথা নিফাককেও যানদাকা বলা হয়।
আর এই ধরনের ব্যক্তিকে বলা হয় যিন্দিক।
মুতাজিলা : ইসলামি ইতিহাসের উমাইয়া আমলে জন্ম নেওয়া একটি ভ্রান্ত গোষ্ঠীর নাম। যারা ওহির ওপর আকলের মর্যাদা দেয়। তারা ঈমান ও কুফরের মাঝখানেও মানুষের আরেকটি অবস্থান দাবি করে। তারা মনে করে, বান্দার কর্ম বান্দার নিজেরই সৃষ্টি, এখানে আল্লাহর কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তারা আল্লাহর সিফাতগুলো বাতিল সাব্যস্ত করে। তারা আরও মনে করে, কবিরা গুনাহকে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন না। কবিরা গুনাহকারী নিশ্চিতভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে এবং সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এই মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াসিল বিন আতা হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহর শিক্ষা মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে এই ফিরকাটিকে মুতাজিলা (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
জাবরিয়া : জাবরিয়া ফিরকা বান্দার কর্মের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। তারা দাবি করে, বান্দার সকল কর্ম যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, তাই বান্দার সকল কর্মই আল্লাহর কর্ম। এজন্য তারা বিশ্বাস করে, বান্দা কুফর করুক কিংবা শিরক, সকল কাজের দায়ভার আল্লাহর। বান্দা কোনো কর্মের জন্য বিচারের সম্মুখীন হবে না।
কাদরিয়া : কাদরিয়া বলা হয়, যারা মূলত কদরকে অস্বীকার করে। অর্থাৎ তারা মনে করে মানুষের কাজকর্মে আল্লাহর কোনো হস্তক্ষেপ নেই। মানুষ নিজেই তার কাজের স্রষ্টা। এরা জাবরিয়া সম্প্রদায়ের বিপরীত গোষ্ঠী।
খারেজি : খারেজি ইসলামি ইতিহাসে ভ্রান্ত একটি গোষ্ঠীর নাম। খারেজিদের মূল ভ্রান্তি হলো, তারা কবিরা গুনাহকারীকে কাফের মনে করে। হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর জমানায় এই দলের উৎপত্তি হয়েছে।
রাফেজি : রাফেজি শিয়াদেরই আরেক নাম। যারা হজরত আবু বকর ও উমর রা.-এর খেলাফতকে অস্বীকার করে এবং আম্মাজান আয়েশা রা.-সহ অধিকাংশ সাহাবিদের গালমন্দ করে ও কাফের বলে। তারা মনে করে, আলি রা. ও তার বংশধররাই ছিলেন খেলাফতের একমাত্র হকদার ও উপযুক্ত। শায়খাইন তথা আবু বকর ও উমর রা.-এর খেলাফতকে অস্বীকার (রাফজ) করার কারণে এদেরকে রাফেজি বলা হয়। কারণ আরবিতে এর শাব্দিক অর্থ অস্বীকারকারী।
কাররামিয়া : কাররামিয়া গোষ্ঠীকে মুসাব্বিহাও বলা হয়। এই দলের মূল ভ্রান্ত বিশ্বাস হলো, তারা আল্লাহর গুণাবলিকে মানুষের গুণাবলির সদৃশ বলে দাবি করে।
জাহমিয়া : ইসলামি ইতিহাসে এরাও একটি ভ্রান্ত ফিরকা। এদের মূল ভ্রান্তি হলো, তারা মুসাব্বিহাদের বিপরীতে গিয়ে আল্লাহর সকল গুণাবলিকে অস্বীকার ও বাতিল করে দেয়।
ইখতিলাফ : গ্রহণযোগ্য দলিলের আলোকে ফুকাহায়ে কেরামের ভেতর শরিয়াতের শাখাগত বিষয় নিয়ে স্বীকৃত যে মতভিন্নতা তৈরি হয়, তাকেই ইখতিলাফ বলা হয়।
ইফতিরাক : যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতিরেকে নিছক খায়েশাত, শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো মন্দ প্রবণতায় যে বিরোধ তৈরি হয়, সেটাই হলো ইফতিরাক তথা মুসলিমদের ভেতর ফাটল সৃষ্টি।
আম : আম শব্দের শাব্দিক অর্থ ব্যাপক। পারিভাষিকভাবে আম বলা হয়, যে শব্দটি কোনো প্রকার সংখ্যা, ধরন ও অবস্থার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই অনেক সংখ্যক সদস্যকে শামিল করে নেয়।
খাস : খাস শব্দের শাব্দিক অর্থ নির্দিষ্ট। পারিভাষিকভাবে খাস বলা হয়, যে শব্দটি এককভাবে নির্দিষ্ট ধরন, নির্দিষ্ট অবস্থা ও নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যকে বুঝিয়ে থাকে।
মুতলাক : মুতলাক শব্দের শাব্দিক অর্থ মুক্ত, শর্তহীন। পারিভাষিকভাবে মুতলাক হলো, যা কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই সাধারণভাবে কোনো কিছুকে বোঝায়।